বানর থেকে হলো মানুষ এটাই সত্য !!!!!!

0Shares

বিবর্তন শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বানর থেকে মানুষ হবার একটা কাহিনী ।সাথে সাথেই কিন্তু রেজাল্ট আসে নানা পক্ষে বিপক্ষে মতামত।১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন এর অরিজিন অফ দা স্পিসিস বই এর মাধ্যমে মানুষ সর্বপ্রথম বিবর্তন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের ধারনা পায় ।

ইতিহাসে আরব দার্শনিক আল-যাহিজ(৭৭৬-৮৬৮) তার কিতাব আল হাইওয়ান এর মাধ্যমে মানুষ সর্বপ্রথম বিবর্তন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের ধারনা দেন।

আমি আজ এই বিবর্তন কে বা কারা বিশ্বাস করেন বা কারা বিশ্বাস করেননা সে ব্যাপারটা আমার আলোচ্য বিষয় নয় ।

আসলে বাংলা কথায় বিবর্তন বলতে বলতে বোঝায় কালের সাথে বা অবস্থাভেদে পরিবর্তন।

এই বিবর্তন ব্যাপারটা আসলে আছে ।বানর থেকে মানুষ হল কিনা সেটা ভুল হতে পারে ,মানুষ সরাসরি স্রস্ঠার মৌলিক সৃষ্টি হতে পারে , কিন্তু বিবর্তন হয় ,বিবর্তন হচ্ছে ,আপনার আমার আশেপাশে জীব জগতে আর পরিবেশে বিবর্তন হচ্ছে অনবরত ।কিন্তু সেটা আপনি আমি বুঝতে পারছিনা।বুঝতে পারা পর্যন্ত বেঁচে থাকবনা।

আজ অনেক নদী কালের গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে ,অনেক জীব প্রজাতি বিলীন হয়েছে ।কিন্তু সেটা কিন্ত যে সময় থেকে বিলোপ শুরু হয়েছে তখনকার মানুষ বুঝতে পারেনি।ধরুন আপনার এলাকাতে ছোটকালে দেখা অনেক ফাঁকা মাঠ ছিলো আজ থেকে ৩০ বছর আগে। প্রথম যখন সেখানে একটা বাড়ি বা কলকারখানা হলো তখন কিন্তু আপনি বুঝতে পারেননি এই যায়গাটা দখল হয়ে যাবে ।ভাবেননি একদিন ৫০ বিঘা জমির এই যায়গাটাতে আর হয়তো বাতাসে সবুজ ধানক্ষেতের তরঙ্গ দেখতে পাবোনা।বর্ষাকালে মাছ ধরতে পারবনা।আমাদের বাপ দাদাদের আমলে বর্ষার সময় উঠানে মাছ ধরার গল্প শুনেছি।আবার আমার বয়সেই ১৮-২০ বছর আগেও শীতকালে গ্রামে গেলে খুব ভোরে উঠে হাঁটলে দেখতাম ঘাসের উপর দিয়ে টাকি মাছ ,কই মাছ রাস্তা পার হচ্ছে ,মানে এক জলাশয় থেকে উঠে অন্য কোনও জলাশয়ে যাচ্ছে ঘাসের উপর দিয়ে ।ব্যাপারটা আমাদের কাছে সেইরকম মজার ছিলো ।

এখন আমরা সেটা দেখতে পারিনা ,এটাও একরকম বিবর্তন।

এই পৃথিবীতে অসংখ্যা প্রজাতির মানুষ রয়েছে।আমরা বাঙালি সহ বিশ্বে নিগ্রো ,চাইনিজ, সাদা চামড়া ,অ্যামাজনের নানা উপজাতি ,আমাদের দেশের উপজাতি ,আরবীয়,গ্রিক ,এরকম বহু জাতি আছে ।যাদের রয়েছে শরীর আর চেহারার গঠনে ভিন্নতা ।হতে পারে এদের আল্লাহ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সৃষ্টি করেছেন ।হতে পারে এরা নানা জাতির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার কারনেই এমনটা হয়েছে ।এই যে ভিন্নতা সেটাও কিন্তু বিবরতন।ধরুন একটা কালো চামড়ার ছেলে আর সাদা চামড়ার মেয়ে বা সাদা চামড়ার ছেলে বা কালো চামড়ার মেয়ের সাথে বিবাহের কারনে জন্ম নেওয়া ছেলেমেয়েদের ভিতর অবশ্যই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।আবার একজন মার্কিন ছেলের সাথে চাইনিজ মেয়ের বিবাহের পর জন্ম নেওয়া সন্তানের মুখশ্রী নতুন একটা ethnicity এর জন্ম দেয়।আপনার চেহারা ছোট থেকে দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে ।কিন্তু আপনি কিন্তু বুঝতে পারেন না , আসলে চেহারার পরিবর্তনটা কখন হচ্ছে।আপনি প্রত্যেক দিন নিজেকে আয়নাতে দেখছেন ,কিন্তু কোনও পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেননা ।একটানা ০৫ বছর প্রত্যেকদিন নিজে তিনবেলা আয়নাতে নিজেকে দেখলেও আপনি নিজে একটু পরিবর্তন হয়েছেন মোটেই বুঝতে পারবেননা ।কিন্তু এই পরিবর্তন ধরতে পারে আপনাকে যারা দেখছে তারা ,আর আপনার ০৫ বছর আগের তোলা ছবি ।এটাও একরকম বিবর্তন ।

ধরুন এই যে খচ্চর নামে একটা প্রাণী আছে সেটা কিন্তু ঘোড়া আর গাধার মিলনে সৃষ্টি।এটাও এক কায়দার বিবর্তন ।তবে এই খচ্চর আবার প্রজনন অক্ষম ।যদি কোনও খচ্চর প্রজননক্ষম হয়ে জন্ম গ্রহন করে তবে তো হয়ে যাবে সেটা একরকম অন্য জীব ।

আজকে আমরা যে পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে নানা প্রজাতির মুরগী,গরু,ছাগল সহ নানারকম পশুপাখি পাচ্ছি সেটাও কিন্তু একপ্রকার বিবর্তন ।BRRI ,IRRI এই সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গবেষণার ফলে নানা প্রজাতির ধানের সাথে নানা প্রজাতির ধান ,ফসল এর ক্রস এর ফলে আমরা উচ্চ ফলনশীল ফুল,ফসল,ফল পাচ্ছি।এটাও কিন্তু একরকম বিবর্তন ।

আপনার আমার গতানুগতিক গড়পড়তা শরীর থেকে একজন ব্যায়ামবিদ(bodybuilder)অথবা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের শরীর কিন্তু পেশীবহুল ভিন্ন গঠনের ।ব্যায়ামের সময় শরীর আস্তে আস্তে এটা ভেবে বিবর্তিত হয় যে আমাকে বেশি খাটতে হবে ,আর মনের অজান্তেই সে সাধারণের থেকে বেশি খাটবার উপযোগী দড়ির মত পেশি তৈরি করতে শুরু করে ।ফলে তাদের শরীর পেশীবহুল দেখায় ।এটাও ছোটখাটো একটা বিবর্তন ।

আপনি ভাবুন এই সুবিশাল পৃথিবীর সমুদ্রে ,অ্যামাজন ,আফ্রিকার মত বিশাল জঙ্গলে কি পরিবর্তন হচ্ছে ,নতুন কোনও প্রাণী বা মানবজাতির উদ্ভব রাতারাতি আল্লাহ এখানে ঘটালে আপনি আমি কি সেটা বুঝতে পারবো , বা যদি বিবর্তিত বা ভিন্ন প্রজাতির মিলনের মাধ্যমে কোনও নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয় তবুও কি বোঝা সম্ভব কিছু ?।

আমাদের দেশে বছর ৩০ আগেও শোনা যেতো ,আমরা শুনেছি বাবা মার মুখে ,যে স্থানীয় ঝোপঝাড়ে ,গাজরের খেত ,হলুদের মাঠে ছাগলের মত পায়ে খুর বিশিষ্ট খরগোশ পাওয়া যেতু।আর মুরব্বিরা বলেন এই খরগোশ খাওয়া হালাল ।বাজারে যত খরগোশ পাওয়া যায় সেগুলো হারাম ,কারন আমরা বাজারে দোকানে যেসব খরগোশ দেখি সেগুলোর সবার পায়েই বিড়ালের মত নখ আছে ।আসলে বাজারে এই বিড়ালের মত নখ আছে এমন খরগোশ খাওয়া হারাম নয় ।আসলে খরগোশ তো খরগোশই ,তার আবার পায়ে ছাগলের মত ক্ষুর হয়নাকি ??।কৌতূহল আমাকে চেপে বসলো। নিজেই খুরবিশিষ্ট খরগোশের সন্ধানে নামলাম ।কমবেশি কয়েকজন বনে ঝোপ ঝাড়ে নিয়মিত পাখি স্বীকার ,কৃষিকাজ এবং কবিরাজি প্রয়োজনে যারা বনে জঙ্গলে মোটামুটি ঘোরেন তাদের পিছনে ০৪-০৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি।শখ যদি দেখা মেলে ছাগল পা বিশিষ্ট খরগশের।কিন্তু মিললোনা তার দেখা। ০৭ থেকে ০৮ বছর মনে মনে খোজার পর গোপনে চলা আমার এই মিশনের কৌতূহল নিবৃত হলো দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর ১৬ই জানুয়ারি ২০২০ এর একটি আর্টিকেল থেকে ।সেখানে লেখাটা পড়ে বুঝলাম আমি আর আমাদের মুরব্বীরা যেটাকে ছাগল পা খরগোশ ভেবে এসেছি সেটাতো খরগোশই নয়।সেটা একপ্রজাতির হরিন ।বিজ্ঞানের ভাষাতে মাউস হরিণ ।সরকারি হিসাব মতে ১৯৮৫ সালে সর্বশেষ রংপুরে একে দেখা গিয়েছিল ।খরগোশের মত ছোট , ০৫ কেজি ওজনের এই হরিণ বসবাস করতো বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার মাঠে ঘাটে বনে জঙ্গলে।আমার বিশ্বাস ১৯৮৫ সালের পরেও প্রায় একযুগ এর বিচরন ছিল বাংলাদেশে।এটা এখন ভিয়েতনামে সশরীরে বিদ্যমান ।বাংলাদেশ প্রতিদিনের  লিংক https://www.bd-pratidin.com/last-page/2020/01/16/492664

এখন বুঝুন ব্যাপারটা।বিবর্তন রাতারাতি হবার জিনিষ নয়।আবার বানর থেকে মানুষ যদি হয় ,তাহলে এখন বানর থেকে মানুষ হচ্ছেনা কেন , এরকম বোকার মত প্রস্ন করবার জিনিষ নয় ।কারন এই পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ ।একটা বানর থেকে ভিন্ন কায়দার মানুষ হলেও ধরুন মানুষটার জিনোম এর গঠন পরিবর্তন হয়েই সে জন্ম গ্রহন করল।এখন শুধুমাত্র ওই মানুষটার জিন পরিবর্তন হয়েছে ,বানরটার হয়নি ।ফলে বানর থেকে তৈরি হয়েও মানুষ আর বানরে ফিরছেনা ।বলছিনা মানুষ বানর থেকে সৃষ্ট ।উদাহরণ প্রসঙ্গে একটা ব্যাপার বোঝালাম মাত্র ।

আসলে দেখুন ইদুর,খরগোশ,বেজি,ক্যাঙ্গারু,ছুঁচো,কাঠবিড়ালি একরকম দেখতে।কিন্তু সবগুলো আলাদা কিছু।

মানুষ ,বাদর ,গরিলা,সিম্পাঞ্জি,ভাল্লুক,হনুমান সবগুলোর ভিতর কিছুটা মিল আছে ।বিবর্তনবাদ সরাসরি বানর থেকে মানুষ সৃষ্টি এটা বলেনি।বলেছে প্রাইমেট জাতীয় প্রাণীর কথা ।মুলত মিল বা সাদৃশ্য থেকে বিবর্তন তত্বের উখ্খান।তবে বিবর্তনের সব অনুমান সত্যি হবে সেটা মনে করা ভুল ।যেমন আয়ুর্বেদিক বা কবিরাজি শাস্ত্রগুলো একটা থিম ব্যাবহার করে গাছড়া ঔষধ এর উদ্ভব করেছে।যেমন যে ফল বা ফসল গুলো মানুষের যে অঙ্গের মত দেখতে তা সেই অঙ্গের জন্য উপকারি।এজন্য লাউ আর পেপে পাকস্থলির জন্য ,আখরোট মস্তিষ্কের জন্য , গাজর কাটলে চোখের মনির মত সেজন্য এটা চোখের জন্য উপকারী ,জিনসেং মানব শরীরের মত দেখতে সেজন্য এটা যৌন শক্তি আর তারুণ্য ধরে রাখবার ঔষধ ,কলা পুরুষের জন্য বিশেষ উপকারী ।এই অনুমানে এগুলো সঠিক ও কার্যকর চিকিৎসার জন্ম দিয়েছে ।কিন্তু সবক্ষেত্রে এই থিম কার্যকর নয় । তেমনি বিবর্তনের এই থিম বা তত্ত্বও সর্বক্ষেত্রে কার্যকরী নয় ।বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির সৃষ্টি আগেও হয়েছে এখনো হচ্ছে।

তাহলে মানব সৃষ্টি কি বিবর্তনের মাধ্যমে ?? বানর থেকে ??

উত্তরটা হলো- আপনি আমি জীবনে উন্নতি বরকত এর জন্য কত খাটি ,জানি এই পৃথিবী থেকে আমরা একদিন চলে যাব বলছি কি ,যে কোনও সময় চলে যাবো ,তারপরেও একটু ভালো থাকবার আশাতে কত দৌড়াচ্ছি।তবুও সুখ অধরা থেকেই যায় ।আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটা মানুষ কে একটা সিস্টেমের ভিতর তৈরি করছেন ।আমরা পথে ঘাটে সমাজে টেলিভিশন এ যত মানুষ দেখি তা গড়পড়তা একরকম দেখতে ।কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু নারী কিছু পুরুষ কে দেখলে মনে হয়না আল্লাহ এদের নিজ হাতে গড়েছেন??।আরে ভাই সব মানুষই যদি আল্লাহ সৃষ্টি করবেন তাহলে , এদের আল্লাহ নিজহাতে গড়েছেন বলা হয় কেন ? বিবর্তন ব্যাপারটা ঠিক তাই।

আমরা মানুষেরা আল্লাহর নিজ হাতে সৃষ্টি ,আলাদা করে করা সৃষ্টি ,ধর্মগ্রন্থ আর আজকের বিজ্ঞান ভাবছে আমরা এই পৃথিবীর জিনিষ নই ,আমরা এলিয়েন । আমরা কেমনে এলিয়েন সেটা বলি , ধরুন স্বর্গ পৃথিবীর বাইরে ,আমাদের পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে ।সেই সুত্রে আমরা এলিয়েন ।

আবার বিজ্ঞানমতে আমরা যেভাবে এলিয়েন ,তা হলো দেখুন এই পৃথিবীতে যত পশু পাখি আছে এরা কিন্তু পৃথিবীর সব পরিবেশে কোনরকম বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়াই চলছে ,কি শীত ,কি রোদ ,কি বর্ষা ,কি ভেজা না শুকনা মাটি ,কিছুতেই এদের বাধেনা ।জামা কাপড় লাগেনা ,ছাতা লাগেনা ,এসি বা ফ্যান লাগেনা ,ঔষধ লাগেনা ,আরামের বিছানা লাগেনা ,বাচ্চা হবার জন্য কারো সাহায্য লাগেনা ।কিন্তু মানুষের সব লাগে ।

এই যে পৃথিবীতে মানুষ আগে জংলি ছিলো এটাও খুব একটা সঠিক মনে হয়না।কারন এখনো অ্যামাজন ,আফ্রিকা আর সাহারা মরুভুমিতে প্রচুর জংলি জাতি পাবেন যারা এই যুগেও জংলি হয়ে বেড়াই , এরা আধুনিক মানুষের সংস্পর্শে প্রায়ই আসে ।কিন্তু তারপরেও আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রার সৌন্দর্য এদের কাছে টানেনা।এরা জংলি জীবনযাপন করে থাকে ।

হতে পারে আমরা পৃথিবীতে পাঠানো আলাদা প্রজাতির সভ্য সৃষ্ট মানব অথবা মানুষকে বিভিন্ন প্রজাতিতে সৃষ্টি করে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।কোন জাতি উন্নত হয়েছে ,কোনও জাতি হয়নি ।

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!