Sunday, May 17, 2020

আমার ব্লগ

০১)কুরবাণী এক বর্বর প্রথা!!!!!https://www.somewhereinblog.net/blog/Mehbub/30279275
আসুন প্রাকটিক্যাল ও ভার্চুয়াল লাইফে কৃতজ্ঞ হতে শিখি
https://www.somewhereinblog.net/blog/Mehbub/30288837

টেকটিউন্সে আমি
দুই ঘন্টায় শিখুন এসইও https://www.somewhereinblog.net/blog/Mehbub/30288766

Privacy Policy

1) We are not collect visitors personal information
2) Its only a personal blog . User registration is not available here .
3)You can send your query or send your opinion or writing for publish by using our contact form
এই সাইট একান্ত ব্যাক্তিগত ব্লগ সাইট , এখানে কোন ব্যবহারকারী নিবন্ধন সুবিধা নেই ।এই সাইট সম্পূর্ণভাবে ধর্মবিদ্বেষ,রাজনৈতিক ,অসামাজিক,অশ্লীল,সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী লেখা হতে মুক্ত।এটা কোন মিডিয়া বা নিউজ সাইট নয় ।একমাত্র আমার নিজস্ব শৌখিন ভাবনার লেখাযুক্ত ব্যাক্তিগত লেখালেখির ডায়েরী ব্লগ মাত্র ।



ধন্যবাদ সবাইকে ।

ABOUT

জন্ম ১৯৯০ ইং সালে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর যশোরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে । শৈশব থেকে ইতিহাস ও রহস্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কালোজাদু বইটি লেখা । টিনেজ এর শেষে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান নিয়ে বাংলাভাষার সর্ববৃহৎ দুটি কম্যুনিটি টি.টি ও সামুতে ভার্চুয়াল  লেখালেখি তে হাতেখড়ি এবং আগ্রহের শুরুটা হলেও কর্ম ব্যস্ততা আর সময়ের অভাবে বাস্তবিক লেখক হিসেবে আত্বপ্রকাশের সুযোগ হয়নি ।‘পাস্টফিকশন’’ ধরনের বই “কালোজাদু” লেখকের প্রথম বই ।পাঠকের ভালোবাসাতে সিক্ত হয়ে রচনা করতে চান আরো পাঠকপ্রিয় মাস্টারপিস ।অতি আগ্রহের পাঠ্য বিষয় কম্পিউটার , কৃষি , বিজ্ঞান , রহস্য  ও ইতিহাস । পাঠকের সুবিধার্থে সেপ্টেম্বর(২০১৮) এ প্রকাশিত বইটি বিনামূল্যে আমার ব্যাক্তিগত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হলো । হয়তো এ রকম ভাবে নতুন প্রকাশিত বই লাইব্রেরী বা বইমেলাতে বিক্রয় না করে সরাসরি ভার্চুয়াল জগতে পাঠকের সুবিধার্থে মুক্ত করে দেবার এটাই প্রথম উদ্যোগ , যেখানে বইটি সম্বন্ধে আপনাদের ভালো লাগা , খারাপ লাগা , উন্নতিকল্পে সুচিন্তিত মতামত আমার ফেসবুক প্রোফাইল মেসেজে অথবা ওয়েবসাইটের ফেসবুক কমেন্টে প্রদান করবেন আশা করি । আপনাদের সুন্দর ও গঠনমূলক মতামত ও উপদেশ পেলে পরবর্তীতে আমার লেখা সাহিত্যকর্ম গুলো সার্বক্ষণিক আমার সাইটে প্রকাশ করবো আশা করি । বইটি পড়বার আগে বইটি সম্বন্ধে আইডিয়া নিতে গ্রন্থপরিচিতি এবং ভূমিকা পড়ে নিন ।

Wednesday, April 22, 2020

করোনা মহামারী ?অভিশাপ ? না আল্লাহর সৈন্য?


করোনা covid-19 মহামারী ,অভিশাপ না আল্লাহর সৈন্য?




গত ০২ থেকে ০৩ মাস ধরে করোনা ভাইরাস নিয়ে ফেসবুকে অনেক পোস্ট পড়ে যাচ্ছি।সেখানে বলা হচ্ছে করোনা আল্লাহর সৈন্য ।জেনে রাখুন রোগ ব্যাধি ,বন্দুকের গুলি,বিদ্যুৎ কে কোন ধর্মের মানুষ এটা চেনেনা।আসুন পৃথিবীতে নানা সময় ঘটে যাওয়া কিছু পরিসংখ্যান দেখুন -

এই মন চায় যে মোটিভেশন


আমরা এখন আসলে খুবই প্রতিযোগিতার একটা জগতে বসবাস করছি।আমাদের এ প্রতিযোগিতার জগতে অনেক খাটুনি আর পরিশ্রমের পরও আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থ হই।আসলে এত খাটছি কিন্তু

Tuesday, April 21, 2020

অমরত্বের প্রয়োজনে


এই পৃথিবীতে মানুষ যে দিন থেকে এসেছে সেদিন থেকে জেনেছে এই পৃথিবী কত সুন্দর।এই পৃথিবীতে আসাটা যত সুখকর ,বেঁচে থাকাটা যত আনন্দের ,চলে যাওয়াটা ঠিক ততটা বিষাদের।সব মানুষের আর্থিক অবস্থা ,জীবনের পাওয়া না পাওয়ার হিসাব এক রকম থাকেনা।তবুও যত অপ্রাপ্তি আর অসুখ থাকুক না কেন পৃথিবী ছেড়ে কেউ যেতে

Monday, February 24, 2020

বানর থেকে হলো মানুষ এটাই সত্য !!!!!!


বিবর্তন শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বানর থেকে মানুষ হবার একটা কাহিনী ।সাথে সাথেই কিন্তু রেজাল্ট
আসে নানা পক্ষে বিপক্ষে মতামত।১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন এর অরিজিন অফ দা স্পিসিস বই
এর মাধ্যমে মানুষ সর্বপ্রথম বিবর্তন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের ধারনা

Thursday, January 30, 2020

টাইম মেশিন আর অমরত্ব আবিষ্কারের যত অসুবিধা


বিজ্ঞান তার আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের জীবন ব্যবস্থাকে করেছে অভূতপূর্ব সুবিধামন্ডিত ও সাফল্যমন্ডিত ।অভূতপূর্ব বললাম এ জন্য যে এই পৃথিবীতে আজ থেকে ৩০ বছর আগেও মানুষ যা আবিষ্কার হবে ভাবতোনা তা আবিষ্কার হয়েছে এবং মানুষ তা ব্যবহারও করছে ।১০০ বছর আগে যা আবিষ্কারের কল্পনা করাও ছিল অসম্ভব সেগুলো এখন আবিষ্কার হয়ে অলরেডি মানুষ ব্যবহার করছে ।এ প্রসঙ্গে একটা উদাহরণ বলি , আমার নানা ছিলেন বিজ্ঞান ,ইতিহাস,ধর্ম এসব বিষয়ে আগ্রহী । আমার সাথে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞান প্রসঙ্গে আলোচনাতে বসতেন আমারও সমান আগ্রহ এই বিষয়গুলোতে ।তো নানার একটা কথা সব সময়ই আমার মাথায় খেলে

Sunday, January 26, 2020

কি আমি ?

মেডিটেশন

এই পৃথিবীতে মানব হিসেবে আগমন ।তো এই পৃথিবীতে মানব হিসেবে তো ভালোই আছি । আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে স্থায়ী একটা কর্মে কর্মরত আছি ,বেশ আছি ।দিব্যি অবসরে আত্বীয় বাড়িতে ঘুরে ,ভালো মন্দ খেয়ে ,কর্মদিবস থেকে ছুটির দিন ভালোই কেটে যাচ্ছে । মোট কথা আমার পরিচয় হলো ছোটখাটো পদে কর্মরত একজন কর্মচারী মাত্র ।মাসশেষে বেতনের সামান্য অর্থে

পারমাণবিক বোমা অভিশাপ নয় আশীর্বাদ

বোমা

পারমাণবিক বোমা নামটি শুনলে ভেসে ওঠে ১৯৪৫ সালের ০৬ আগষ্ট জাপানের হিরোশিমাতে বিস্ফোরিত লিটল বয় এবং ০৯ ই আগষ্ট নাগাসাকিতে বিস্ফোরিত ফ্যাটম্যান নামের দুই বিভিষীকা দানবের কথা ।মানব ইতিহাস সব থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ে ধ্বংশলীলা প্রত্যক্ষ করেছিল সেদিন । যার শোকস্মৃতি আজো বিশ্ববাসীর কাছে

Saturday, December 21, 2019

ভূত এফ এম


আর জে রাসেল

ভূত এফ এম এর ২০১০-২০১৯ এর সকল পর্ব ডাউনলোড করুন এই লিংকে




ভূত এফ এম , দ্যা নাইট কামস দ্যা অ্যালাইভ , উইথ গ্রামীণফোন , অথবা হন্টেড বাই এয়ারটেল, সাথে হাড় হিম করা ভৌতিক আবহ সংগীত । উপস্থাপনার কন্ঠস্বর প্রিয় উপস্থাপক আরজে রাসেল ভাই ।আমরা যারা ভূতের গল্প প্রিয় আছি এবং ভূত এফ এম প্রেমী আছি তাদের কাছে শুক্রবার রাতে রেডিও ফুর্তি ৮৮.০ তে রাত ১২ টা মানে কাঙ্খিত এক অনন্য মুহুর্ত ।ভূত আছে কি নেই এই প্রশ্ন

Wednesday, December 11, 2019

বৈদ্যনাথতলা মেলা যশোর


বৈদ্যনাথতলা

মেলার স্থান - পাঁচবাড়িয়া কনেজপুর-কাছারিপাড়া ,বৈদ্যনাথতলা, সদর ,যশোর ।




তারিখ-প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ সোমবার




কিংবদন্তী ও মেলার উৎপত্তি

Monday, December 9, 2019

প্রিয় যশোর


সুপ্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের শহর যশোরে আমার জন্ম । গৌড়ের যশ হরণকারী যশোহর যেমন ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধশালী তেমনি এর প্রকৃতিও অপরূপা অপূর্ব রূপসী বাংলার প্রতিচ্ছবি । ছবিগুলো ইন্টারনেটে যশোরকে তুলে ধরার জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস

Saturday, November 30, 2019

পীর হযরত বাগানশাহ (রহঃ)এর মাজার









কয়েক শতাব্দী প্রাচীন কিংবদন্তীর পীর হযরত বাগানশাহ (রহঃ) এর মাজার শরীফ এর কথা কেন জানিনা যশোর র কোন ইন্টারনেট ডাটাবেজ এ বা গুগল সার্চ এ কোন তথ্য পেলাম না ।শৈশব এর ফেলে আসা গ্রামের স্মৃতিতে ভাস্বর এই মাজারটির নাম দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ দিলে নিচের চিত্রর মত দেখাবে তা হয়না ।










সেজন্য প্রথম বোধ হয় আমিই এ ব্যাপারে পোষ্ট করলাম । মূল যশোর শহর থেকে ৩.৫ কি.মি ভিতরে আড়পাড়া গ্রামে কিংবদন্তীর এই বুযুর্গ ও মহান সাধক পীর এর মাজার অবস্থিত ।ঠিক কতদিন আগে এ গ্রামে এ মহান সাধকের আগমণ ঘটেছিল সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য কারো কাছে নেই ।তবে, স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী আনুমানিক ৫০০ বছর আগে এ মহান সাধকের এ গ্রামে আগমন । এই কিংবদন্তী সাধক কে নিয়ে গ্রামে লোকমুখে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে ।সর্বশেষ হযরত বাগানশাহ রহঃ বংশধর হিসেবে তাঁর উত্তরপুরুষ জয়নাল ফকির রহঃ স্থানীয় পর্যায়ে তার কামালিয়াত দ্বারা চিকিৎসা ও ঝাড় ফুক এ বিশেষ সুনামের অধিকারী ছিলেন ।তিনিও ইন্তেকাল করেছেন আজ ১৩ বছর হলো । তবুও প্রতি বছর ০৫ ও ০৬ পৌষ ও ০৭ ই মাঘ ওরস শরীফ পালিত হয় এই মাজার শরীফে সাথে থাকে তাফসীর মাহফিল , অনেক সময় আয়োজনের খাতিরে তারিখ ও সময়সূচীর সামান্য পরিবর্তন হতে পারে । আজো এই গ্রামের মানুষ ও দুর দুরান্তের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ওরস মোবারকের দিন এবং বছরের বিভিন্ন সময় ভক্তিভরে এই মহান পীর বুযুর্গ সাধক হযরত বাগানশাহ রহঃ মাজার যিয়ারতে আসেন ।এই মাজার শরীফ বা পীরের ওরস শরীফ এ একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি যে , এখানে ওরসের দিনের তবারক এ তেমন জৌলুস লক্ষ্য করা যায়না , সামান্য মোটা চালের সাদা ভাত আর সুস্বাদু করে রান্না ডাল মানুষ ভক্তিভরে আহার করে , অনেক সময় আমরা বিভিন্ন যায়গাতে ওরস উপলক্ষ্যে যেমন পীরপূজা দেখি এখানে তেমনটা মোটেই দেখা যায়না , বসতবাড়িতেও নেই কোন জৌলুশের ছোয়া , এক কথায় সবকিছু একেবারে সাদামাটা ।






মাজার শরীফ













ওরসের পোষ্টার














ওরস উপলক্ষ্যে রান্না












তবারক পরিবেশন













পীরের বংশধরদের বর্তমান বসতঘর






পীর বাড়ির বাঁশ কাঠের নির্মিত মসজিদের সামনে ওরস উপলক্ষ্যে আয়োজিত তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের স্থান







এই গ্রামের পথ







পীর বাড়ির গ্রামের জলাভূমি







জলাভূমি বা বিল বা বাওড় যা খুশি বলতে পারেন









কালের আবর্তে নেই সেই জলপ্রবাহ , এখন শীতের সময়ে ধানের চাষ হয়






গ্রামের অখ্যাত এই মাদ্রাসাটির ছবি না দিলেও চলতো । ছবিটা দিলাম একটা গল্প বলার জন্য ।এই যে মাদ্রাসাটা এটার পিছনে শাহপুর(আড়পাড়া)এর বাওড়।এখানে ছিল দুইশত বছরের পুরাতন একটা শিমুল তুলা এর গাছ । স্থানীয় ভাষাতে যাকে বলে মান্দার গাছ ।গাছটি ছোটবেলাতে মানে ২০০০ সালের পর বেশ কবছর দেখেছি । গাছটি অনেক মোটা ছিল ।ধরুন কেউ এই গাছটাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে ০৫ থেকে ০৬ জন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে এটাকে ঘিরে হাতে হাত মেলাতে হতো । তো এই গাছটা কিভাবে এখানে এলো এই নিয়ে গ্রামে একটা জনশ্রুতি প্রচলিত ছিল ।২০০ বছর আগের তৎকালীন সময়ে এই জলাভূমি এরকম স্রোতহীন জলজবৃক্ষে আবৃত মৃত জলাভূমি ছিলোনা ,ছিল ভৈরব নদের অংশ ।তো সে সময় নাকি একটা ছোটখাটো ব্রিটিশ জাহাজ এখানে এসে ডুবে যায় ।তখন জাহাজের লোকজন সাতরে কুলে উঠে আশেপাশের কোথাও হতে একটা শিমুল গাছের ডাল যোগাড় করে পুতে যায় চিহ্ণ হিসেবে ,পরবর্তীতে উদ্ধারের জন্য।পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় এটা বিরাট মহীরুহতে রূপান্তরিত হয় ।শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়ে গেছে ,গল্পের সেই ইংরেজ সাহেবরা তাদের প্রমোদ ভ্রমণতরী হোক আর ছোটখাটো বাণিজ্য জাহাজই হোক তা উদ্ধারে আর ফিরে আসার প্রয়োজন হয়তো মনে করেনি । কালের আবর্তনে গ্রামের মানুষর লোককথায় আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গল্প হয়ে গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে । আজ সেই শিমুল গাছটাও নেই ।গ্রামে যাতায়াত ছিলোনা বেশ কয়বছর ।সম্ভবত ১০ থেকে ১২ বছর হলো গাছটি মারা গেছে।আসলেই কি ব্রিটিশ সাহেবদের এই কিংবদন্তীর গল্পটা সত্যি ????







বিক্রি করে চলে আসা গ্রামের বাড়ি ।বৃক্ষপ্রেমী বাবার হাতে রোপন করা সেই ছোট্ট চারা গুলো আজ পরিণত বৃক্ষ । চোখ বন্ধ করলে আজো নিউরনের সেলুলয়েডের ফিতাতে ভেসে ওঠে শৈশবের সেই রঙিন দিনগুলো, ,কান পাতলে শুনতে পাই ছোট ছোট ভাইবোদের সেই কোলাহল ,২১ বছর আগের এই গল্প । জীবনের প্রয়োজনে, যান্ত্রিকতাতে ও ব্যস্ততায় গ্রাম অনেক আগেই ছেড়েছি। আজ এখানে সেই ঘর ,উঠান, রান্নাঘর, টিউবওয়েল কিছুই নেই ।মাঝে মাঝে ভাবি পৃথিবীতে আসলে আমাদের আগমন এক দক্ষ ডিরেক্টরের সাজানো এক সিনেমা স্ক্রিপ্ট এ অভিনয়ের জন্য ।পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা ।অভিনয় শেষ হয়ে গেলে অজানা যে ঠিকানা থেকে এসেছিলাম সেখানে আবার ফিরে যাবো । না থাকবে বাঁশ , না বাজবে বাঁশরী ।




পড়ুন কালোজাদু





Tuesday, September 10, 2019

শিল্পীরা সারাজীবন নাচ গান করে আর শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করে


কয়টা দিন ধরে ফেসবুক এ ঢুকলেই খালি দেখি একটাই খবর , আর খবরটা হলো বাংলা গানের কিংবদন্তী শ্রদ্ধেয়  এন্ড্রু কিশোর স্যার মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য নিয়েছেন । এ নিয়ে ফেসবুকে বাংলার আমজনতা ,আমপাবলিক ,ফেসবুক বুদ্ধিজীবিদের সমালোচনা , তীর্যক কমেন্ট আর গালিগালাজ এর অন্ত নেই ।  তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেন সাহায্য করলেন সেটার জবাব হতে পারে যে তিনি শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক , গুণী ব্যাক্তিত্বের কদর তিনি জানেন ।এজন্য  সম্মানের খাতিরে এবং সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় থেকে সাহায্য পাবার নীতিমালাতে সুযোগ আছে তাই  প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে  হয়তো অবস্থাপন্ন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বরা সাহায্য পায় ।  এর বেশি কিছু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বলা অপ্রাসঙ্গিক ।আর আমাদের দেশে গুজবটা রটে বেশি । সারাজীবন এন্ড্রু কিশোর এত কিছু করলো , ওনার এত আছে , অত আছে এরকম কত কথা । কিন্তু ওনার মত অবস্থাপন্ন সাংস্কৃতি কর্মীর ও সাহায্য কেন প্রয়োজন হতে পারে সেটার উত্তরও এই লেখার ভিতর পাবেন ।  প্রাসঙ্গিক যে ব্যাপারটা সেটা হলো শুধু এন্ড্রু কিশোর নন এর আগে আমরা আহমেদ শরিফের মত কিংবদন্তি খল অভিনেতাকে ৩৫ লক্ষ টাকা সাহায্য নিতে দেখেছি ।তো প্রশ্ন হলো এনারা সারা জীবন এতো কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন করেন , কোন অনুষ্ঠান বা স্টেজ ফাংশনে গেলে ০২ থেকে ০৫ লাখ টাকার নিচে সাইন করেন না , তাহলে সে টাকা গুলো নিয়ে কি করেন ।হ্যা এটাই তো কোটি টাকার প্রশ্ন , এতো টাকা কি করেন ?

আসেন উত্তরগুলো দিয়ে দিচ্ছি ।আশা করি আমার এ লেখাটা পড়বার পর আর কোনদিন আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন না শিল্পীরা শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য হাত পাতেন কেন ?
আসলে শিল্পীদের এই সমস্যার মুলে হলো আমাদের সামাজিক  দৃষ্টিভঙ্গি ,যেখানে মুলত আমরা দায়ী।যদি বলেন কিভাবে তাহলে শুনুন , ধরুন আপনি একজন অতিসাধারন ঘরের ছেলে , নাম মাইকেল।বা মধ্যবিত্ত ঘরের একজন ছেলে আপনি বেকার চাকরি পাচ্ছেন না , বা চাকরি বাকরি করবার চিন্তা করবার আগেই প্রতিভা আছে বলে একজন শিল্পী হয়ে গেলেন ।একটা হিট গান ধরুন রচনা করে , মানে নিজেই লিখে , নিজেই সুরারোপ করে , নিজেয় কণ্ঠে ধারন করে বিখ্যাত হয়ে গেলেন , মানে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে গেলেন । এখন আপনার প্রচুর মেয়ে ভক্ত , প্রচুর ছেলে ভক্ত , আপনি যেখানেই যান আপনাকে নিয়ে মাতামাতি ,সেলফি তোলার হিড়িক । ধরুন এবার আপনার জনপ্রিয়তার চোটে আপনার বাড়ি লোকজন রাতদিন এসে বসে থাকে ।সারাদিনে একদণ্ড ঘুমাতে পারেন না । শুইতে বসতে পারেন না । খাবার সময় দূরে থাক বাথরুমে ও ঠিকমতো যেতে পারেন না ।বিরক্তির চরম শিখরে পৌছে গেছেন আপনি । কিন্তু না আপনি আর নতুন বৌয়ে এখন কোন পার্থক্য নেই ।যেমন নতুন বউ বিয়ে হবার পর স্বামীর বাড়ি পৌছাতেই (বিশেষ করে গ্রামের দিকে এটা বেশি হয় ,শহরে কম দেখা যায়) শুরু হয়ে যায় পুরো গ্রামের ভালো ,মন্দ ,চুল কালো , চুল পাকা কুটনি বুড়ীদের আগমন ।অমুক বিয়ে করে নিয়ে এলো বউটা কেমন চল দেখে আসি ।এই দেখা ,গুন বিচার ,তির্যক মন্তব্য নিম্নে ০২-০৫ দিন থেকে ০১ সপ্তাহ চলতে থাকে ।এর ভিতর অনেক কথা বউ এর একেবারে কলিজা ছিদ্র করে চলে যায়। কিন্তু কিছু বলা যাবেনা ,ক্ষুধা ,পিপাসা ,ক্লান্তি ,হোম সিকনেস এসব আমলেই আসবেনা ।বললে আবার পাড়া শুদ্ধ ,গ্রাম সহ চৌদ্দ গুষ্ঠি বলা শুরু করবে নতুন বউ ০১ দিন আসতে পারলোনা তাই এত কিছু , না জানি দুদিন বাদে কি দাজ্জালি না করবে ।এদিকে বউ কি খেলো , বাপের বাড়ি ছেড়ে এখানে কেমন লাগছে , গোসল বা টয়লেটে যাবার সময় পেলো কিনা এটা কারো মাথায় থাকেনা ।ঠিক তেমন আপনি একটা গান গেয়ে শিল্পী হয়েছেন অমনি এলাকার কুটনি বুড়া আর বুড়ীদের চুলকানি শুরু হয়ে গেলো এবার তো মাইকেল দের একতলা বাড়ি পাঁচতলা হবে , আপনার দোস্তরা বলা শুরু করলো দোস্ত ভালো দেখে একটা গাড়ি কিনবি কবে ?।এদিকে আপনার মা বাবা আর পথে ঘাটে ঠিকমতো চলতে পারেনা ,পথে চলতে গেলেই লোকজনের কথা ওই যায় মাইকেলের বাবা , ওই যায় মাইকেলের মা ,একটা শিল্পীর মা পথে পায়ে হেটে , পুরাতন শাড়ি পরে গেলে জাত থাকেনা , এখন মাইকেলের ভাই বোনটা সাধারন স্কুলে পড়তে পারেনা ,ভাই শিল্পী না , কিরে বাবা একটা গান রচনা করেছি , ভাইরাল হয়েছি , শিল্পী হয়েছি , সে জন্য কি আলাদিনের জাদুর চেরাগ পেয়েছি ? যে ঘসা দেবো আর টাকা পাবো ।ও আবার বাড়িতে দারোয়ান রাখতে , বাজার করার জন্য লোক লাগবে , কারন আবার বাজারে নিজে গেলে লোকজন তো আবার দেখবে যে আপনি শাক পাতা কিনছেন ,জনগনের ধারনা বড় বড় সেলেবস রা শাক পাতা খায়না , বাজারের বড় মাছটা কেনা তাদের জন্য উপযুক্ত ।এরকম অনেক ব্যাপার স্টারিজমের সাথে এসে যায় ।ফলে যেখানে একজন সাধারন মানুষ ২০ থেকে ত্রিশ হাজার টাকাতে মফস্বলের একটা জেলাতে সুন্দর ভাবে মাস অতিবাহিত করে , সেখানে একজন সেলেবস কে মাসে ০২ লাখ খরচ করতে হবে । অতি জনপ্রিয় হলে আবার বদিগার্ড লাগাটাও বিচিত্র কিছু নয় । তো এভাবে সারাজীবন তার খরচ চলতে থাকে । এখন কথা হল একটা মানুষ যত প্রতিভাবান হোন না কেন , সারাজীবন তার মার্কেট থাকেনা মানে তার বাজারে চাহিদা থাকেনা , মানে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী সময়টা চিরকাল কারো থাকেনা । আবার ধরুন আপনি একজন সিনেমা নায়ক হলেন হঠাৎ করে । তো এখন কি হবে যাই হোক পরিচালক সাহেবের হাতে পায়ে ধরে একটা সিনেমাতে নাম মাত্র পারিশ্রমিকে সুযোগ পেলেন , এবার কি হল আপনার নামের আগে নায়ক মাইকেল হয়ে গেলো ।দুদিন আগেও যে ছেলেটা সকাল বিকাল চালাতো সাইকেল সে হয়ে গেলো নায়ক মাইকেল । নায়ক হবার পর এখন চালানো যাবেনা সাইকেল । কোথাও যেতে গেলে  বাস এ যাওয়া যাবেনা , বিমানে যেতে হবে , বাড়ির আসেপাশে বাজারে তো বের হওয়া যাবেনা , বের হতে হলে কমপক্ষে মোটরসাইকেলে যেতে হবে । আর বাড়ি গাড়ি করা , বোনের বিয়ে উপর লেভেলে দেওয়ার খরচ তো বাদ দিলাম । আর যদি সিনেমার প্রয়োজনে সামান্য টাকার বিনিময়ে একটু খুল্লাম খুল্লা সিনে অভিনয় করেছেন তো আর পথেই বের হতে পারবেন না । পথে বাইরালে কেউ যে ধরে মারবেনা এটা বলা যাবেনা । এই যে সেলেবস হলে সমাজের সবার থেকে হাইফাই , বিলাসবহুল বা লাক্সারিয়াস জীবন যাপন করতে হবে এই ঘরানা কারা তৈরি করেছে বলুনতো ? উত্তরটা হলো অবশ্যই আমরা । কারণটা হলো আমরা সবকিছুকে টাকা দিয়ে পরিমাপ করতে শিখে গেছি ।গুনের থেকে টাকা আর ব্যাক্তি পূজা আমরা করতে পছন্দ করি বেশি ।প্রায় এই ধরণের একটা কথা কিছুদিন আগে একবার সোলাইমান সুখন ভাইয়ের কোন একটা মোটিভেশনাল ভিডিওতে শুনেছিলাম । আপনার ভাইপো একটা চাকরি পেয়েছে শুনেছি , তখনই আমরা উৎসাহ দিচ্ছি ওরে বাপু বাড়ি গাড়ি করা আল্লাহ চাহেতো অল্পদিনে হয়ে যাবে , এ যেন বিসমিল্লাহ বলে মদ খাবার মত ব্যাপার ।আপনার মেয়েদের উস্কানি দিচ্ছেন শ্বশুরবাড়ি গিয়ে রাজরানীর মত আচরন করতে , আবার দিনশেষে নিজের পুত্রবধুর হাতে ঝাড় খেয়ে , বিলাপ করছেন ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলাম না । আমরা বাঙালিরা হলাম সমালোচনার ওস্তাদ , আমরা ব্যারিস্টার সুমনকে সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বলি , কিন্তু উনি আপনার বা আমার পক্ষের একটা কথা বলতে এসে একটা বিপদে পড়লে এখনকার প্রেক্ষাপটে কেউ আমরা ওনাকে বিপদ্মুক্ত করতে এগোবনা এটা নিশ্চিত । এজন্য উনি উনার সামর্থ্যে বা ক্ষমতাতে যে টুকু কুলায় সেটুকু করেন ।এটুকুই বা আজকাল কে করে । আপনি ছেলের উপরি আয় কত না জেনে মেয়ে বিয়ে দিচ্ছেন না , আবার সেই আপনি কোথাও জমি রেজিস্ট্রি বা যে কোন কাজে গিয়ে ঘুষ দিতে গিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন দেশটা রসাতলে গেলো বলে । এই দোষটা কি আমাদের নয় ।একজন লোক হতে পারেন বড় শিল্পী , বা বড় গুনী বা প্রতিভাবান মানুষ(নায়ক –নায়িকা-গায়ক-গায়িকা-কবি সাহিত্যিক) তাই বলে , তার বাজার -ঘাট -চলাফেরা –হাসপাতালে ভর্তি সবকিছুতে আমরা তার কাছ থেকে বড় অংকের টাকা খরচ আশা করি , আমাদের এই যে ব্যাকডেটেড দৃষ্টিভঙ্গি,  এটাই শিল্পীদের শেষ বয়সের ভিক্ষার কারন , হাতপেতে  সাহায্য প্রার্থনার কারন । হ্যা এই দৃষ্টিভঙ্গি এক সময়ের জন্য প্রযোজ্য ছিল । সেটা ছিলো শ্রদ্ধেয় রাজ্জাক স্যার , শাবানা ম্যাডামদের আমলে । তখন কার যুগে একটা সিনেমা করলে সারা বাংলাদেশে অন্তত ১৫০০ হলে মুক্তি পেতো , দিনে চারটা শো হলেও টিকেট মিলত না । আর এখন জনসংখ্যা দিগুন , হল সংখ্যা কমে চলে এসেছে মাত্র ৪০০ তে । এখন একটা সিনেমা মুক্তি পেলে কেউ দেখেই না , সিনেমা হলে তেমন ভিড় থাকেনা , নাম মাত্র পারিশ্রমিকে নায়ক নায়িকারা কাজ করে । আগে হলে চালাতে পরিচালক প্রযোজক এর একটা সরাসরি লাভ এর ব্যাপার ছিল ।এই ধরুন বাংলাদেশের বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না আর কেয়ামত থেকে কেয়ামত এই দুটি চলচ্চিত্র এত পরিমান ব্যবসা সফল হয় যে বিনিয়োগের থেকে অন্তত ৫০ গুন টাকা লাভ হয় এই দুইটা সিনেমাতে ।যদিও কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার জন্য সালমান শাহ নামমাত্র পারিশ্রমিকে অভিনয় করে সফল হন । এই লাভটা এখনকার যুগ হলে সম্ভব হতো ? তখন তো যা হোক শিল্পী কলাকুশলিদের একটা লাভ লোকসানের ব্যাপার ছিল ।কিন্তু এখনকার কথা ভাবুন তো । আপনি সর্বশেষ কবে টিকেট কেটে সিনেমা হলে গেছেন ? আপনি সর্বশেষ কবে ৩০ টাকা খরচ করে একটা গানের অ্যালবাম কিনে গান শুনেছেন ?। আপনি আমি তো খালি ফাল পড়ি শিল্পী ব্যাটা সারাজীবন কি করছে ? শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করে ? সিনেমা আর গান তেনারা দু ছ মাস খেটে অর্থ লগ্নি করে তৈরি করে ছেড়ে দিচ্ছে আর আপনারা ইউটিউব এ গিয়ে বিনা পয়সাতে শুনে নিচ্ছেন । আগে কণ্ঠশিল্পীদের একটা অ্যালবাম বের হলেই সেটা যতদিন সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাজারে ছাড়তো , যতবার ছাড়তো একটা রয়্যালিটি পেতো । এখন সেটা আর হয়না । তাই এখন আর একজন শিল্পী মানে গুনি বা প্রতিভাবান মানুষ হতে পারেন , বাট অঢেল অর্থের মালিক এ ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । আমি একবার ২০০৬ সালে এস এস সি পরিক্ষার পর ভুতের গল্পের বই লিখে ফেলেছিলাম , ধরুন ১৩০ থেকে ১৪০ পাতার মত ।হঠাৎ করে আমাদের বাসাতে একজন আত্মীয় গুরুজন এলেন । তার একটা কথা ছিল লেখা লেখি বেকার । এই সব বাদ দে , এই গুলা করে পেটের ভাত হয় নাকি । তো অল্প বয়স , কনফিডেন্সের পারদ ও কম । প্রকাশকের সেই রকম টাকার চাহিদা আর গুরুজনের কাছে লজ্জাতে পড়ে বাদ দিলাম সেটা । বলুনতো টিপিক্যাল বাঙালী কাকে বলে , বলি কাজী নজরুল ইসলাম কয় টাকার মালিক হয়েছিলেন লিখে , গুণীদের গুণটাই একটি জাতির জন্য বড় প্রাপ্তি । এখনকার মত ফেসবুক ,ব্লগ বা ইন্টারনেটের সুবিধা তখন যশোরে কেন ঢাকাতেও ভাবাই যায়না । এ জন্য গল্পটা বললাম গুনের কদর টাকার বিচারে না হওয়াটা ভালো । টাকা দিয়ে গুন বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো উচিত । আবার একজন নামী শিল্পী কে যখন আপনি আপনার এলাকার একটা অনুষ্ঠানে ডাকবেন , তখন তার ডিমান্ড ০২ লাখ হলে ৫০ হাজারে সাধবেন , গান একটার যায়গাতে ০৩ টা গাইতে হবে , আবার দিনশেষে আশা করবেন তিনি হেটে চলতে পারেন না , তিনি বিমানে এসে নামবেন । সবই বাঙালীর সেন্টিমেন্ট আর রংচং সংবাদ শিরোনামের দোষ । এই যে দেখুন হঠাৎ করে একটিমাত্র গানের জন্য বিখ্যাত হয়ে যাওয়া শিল্পীটার নাম আরমান আলিফ । এই গানটি একবছরের ভিতর ইউটিউবে ভিউ ২৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে ।সারাবিশ্বের ভিতর ভিউয়ের দিক থেকে প্রথম দশের ভিতর আছে । কিন্তু আরমান আলিফ কয় টাকার মালিক ? না হয় ১০ লাখ টাকা । কিন্তু আজ যদি সে খোদা না করুক কথার কথা ,  কোন একটা রোগ শোকে পতিত হয় আর হাসপাতালে ০৫ লাখ টাকা খরচ  করতে হয় তবে তারও সাহায্য দরকার হবে ।আর আপনারা তো এক টাকা দেবেন না , বরং আরো বলবেন গান গাইয়া এত টাকা পাইলো কই রাখলো ? আর কেউ কেউ তো এক কাঠি এগিয়ে গিয়ে অপরাধি গানের ট্রল করবে ।এই হলাম আমরা বাঙালি ।আসুন না শিল্পীদের পথে ঘাটে দেখলে ছেকে না ধরি , অটোগ্রাফ সেলফির জন্য ঝামেলা না করি , তাদের করা নাচ , গান বা সিনেমা দৃশ্যের জন্য তীর্যক মন্তব্য না করি , নারী শিল্পী হলে আপনার আমার সাথে নিয়ত বসবাসের বাইরের জগতের নারী না মনে করি , কারন তার শরীর তাকে আর দশটা নারী থেকে ভিন্ন করেনি আপনার চোখে , তার শিল্প প্রতিভা আমাদের চোখে তাকে অসাধারণ করছে ।মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রীদের সাধারণ মানুষের মত বাসে বা হাসপাতালে দাড়ানোটা আমজনতা স্ট্যান্টবাজীর চোখে দেখলেও এটা বাঙালীর উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে নিঃসন্দেহে আশাব্যান্জক ও সঠিক পদক্ষেপ ।নিরাপত্তা রক্ষী বাদে , সেলফির ঝামেলা বাদে , বাকা ত্যাড়া মন্তব্য বাদে যখন এসব গুণী মানুষ পাবলিক প্লেসে চলতে পারবে তখন আমরা বলার মত হবো যে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষার কি দরকার ? এর সাথে সাথে গুনি মানুষগুলোর উচিত হবে তাদের সেলেবস পরিচয়ের পাসাপাশি নিজেদের কোন একটা চাকুরি বা ব্যবসা করা , শিল্প থেকে তেমন কিছু আর্থিক আশা না করা , এবং নিজেদেরকে দুর আকাশের তারা করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে থাকা , তারকা মানে মানুষ তাদের দর্শন লাইফে পাবেনা এই ধারণার দিন আর নেই , বাইরের দেশে অনেক তারকা ও ধনী মানুষ সরাসরি সেবামুলক কাজে সাধারন মানুষের সাথে গায়েগতরে খেটে ব্যস্ত সময় পার করেন । আমাদের আরো একটা দোষ আমরা ক্ষমতাধর মানুষদের কাছে পেলেই নিজের আবদার অনুরোধ আর স্বার্থসিদ্ধি  নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি , ধরুন আপনি নায়ক রিয়াজকে কাছে পেলেন আর নিজে নায়ক হবার সুযোগ চাইলেন , ক্ষেত্রবিশেষে ব্ল্যাকমেইল বা দুর্বল পয়েন্ট জেনে হুমকি বা কিডন্যাপ বাঙালি চরিত্রে বিচিত্র কিছু নয় । আবার ধরেন আপনি আকিজ গ্রুপের মালিক যদিও প্রয়াত তবুও তার উত্তরসূরী কাউকে হয়তো কাছে পেলেন আর শুরু করলেন আপনার ছেলে বা ভাইপোকে চাকরিতে ঢোকাবার তদবীর ।আরে ভাই আপনি আগে দেখুন নায়ক রিয়াজের মত হ্যান্ডসাম কিনা , সব ধরনের অভিনয় পারেন কিনা , হাজার খানেক মানুষের ভিতর বাপ মরছে সেই মরা বাপের জন্য হাজার মানুষের মধ্যে অভিনয় করতে গেলে হাটু কাপে কিনা , মেয়েদের সাথে সহজ ও সাবলীল ভাবে স্বাভাবিক নারী পুরুষের আকর্ষণ ও অনুভূতি বাদে  কথা বলতে পারেন কিনা   । দশ টাকা থেকে শুরু করে আকিজ সাহেব এত বড় হয়েছেন এ গল্প তো আপনি এ যুগে চলেনা বলে এক ফু দিয়ে উড়িয়ে দেবেন , কিন্তু এই যুগেও তো পেপার পত্রকা ফেসবুকে আমরা দেখি অনেক হতদরিদ্র একবেলা ভাত খায় এ রকম মানুষের পোলাপান একটি  টাকা ঘুষচক্রকে না দিয়েও পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিসিএস ক্যাডার পর্য্যন্ত হচ্ছে ।তাই শেষ বয়সে ভিক্ষা থেকে বাঁচতে সেলেব্রিটি ও ফ্যান দুই শ্রেণীরই দৃষ্টিভঙ্গি তে পরিবর্তন সময়ের দাবী মাত্র ।  আর আমাদের উচিত হবে সেলিব্রিটিদের তাদের গুণ বিচারে অর্থ প্রদানে কার্পণ্য না করা , কয়দিন আগে ইউটিউবে দেখলাম বর্তমান সময়ের একজন বিখ্যাত ইসলামী বক্তা আমির হামজা কে ওয়াজে একজন বিশিষ্ট সচেতন  মুমিন ওয়াজের মাঠেই লজ্জায় ফেলে দিলেন এই বলে যে আপনি ৮০ হাজার টাকা নিয়ে এখানে ওয়াজ করতে এসেছেন , ইসলামে কি ধর্মীয় বয়ানে টাকা নেওয়া যায়েজ নেই , আপনি এত টাকা নিছেন , ওয়াজের নামে ব্যবসা শুরু করছেন আপনারা ।আমি ইসলামী জ্ঞানে বা শাস্ত্রে তেমন বিশেষজ্ঞ নই , কিন্তু আমি ওনার যায়গাতে হলে কিই বা বলতাম সেটা ভাবতে নিজের কান লাল হয়ে যাচ্ছে ।এই হলো আমাদের বাঙালির চরিত্র ।বেশ কজন সেলিব্রিটির সাথে সেলফি বা কয়েক মুহুর্তের সান্নিধ্য পাবার সুযোগ হয়েছে । তার ভিতর আজ আমির হামজার গল্প বলি , এনার হয়তো নিজস্ব গাড়ি আছে কিনা জানিনা , একদিন আমি চুয়াডাঙা থেকে যশোর আসছিলাম লোকাল বাস ধরে    ।তো গাড়িতে দেখছি পিছনের এক সারিতে মোট ১০-১২ জন আলেম , অধিকাংশের বয়স ২০ এর কম বেশি ।তখন  ইউটিউবে কিছু ফানি ওয়াজ ক্লিপস  দেখে আমির হামজাকে চিনি ।তো হঠাৎ আমার পিছনে মুখে হাজী রুমাল বাধা ব্যাক্তিকে অনেকক্ষন ফোনে আলাপরত দেখছি ।মুখ থেকে হাজী রুমাল সরতেই দেখি উনি আমির হামজা ।তো কথা হল ওয়াজ করে টাকা নেওয়া ইসলামে যায়েজ হোক বা না হোক আমরা কি ভাবি একজন বক্তা ০২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা ইসলামিক কত কথা কোরআন হাদিসের আলোকে বলে থাকেন ?আপনার এলাকাতে এসে এত কথা বলতে তার কত পড়াশোনার প্রয়োজন হয়েছে ।আর সাথে হুজুর ১০-১২ টা পোলাপান মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসবেনা কেন ? কারন এই রকম অনেক সমাজ সচেতন মুমিনেরা সব সময় ভুল ধরতে ব্যস্ত থাকে , দেখা গেলো সেন্টিমেন্টাল হয়ে মারতে গেলে ঠেকাবে কে ? আর ছাত্রদের ও লাইভ স্টেজে বক্তা হবার প্রশিক্ষণও দরকার আছে ।তো ইসলামের খেদমতে যদি বছরে একবার হুজুররা দুই পয়সা পায় সমস্যা কোথায় , আপনারা  হুজুরের পেট চিকন দেখলে বলবেন হুজুর খেতে পায়না টাকার অভাবে , আবার পেটমোটা দেখলে বলবেন মানুষের বাড়ি দাওয়াত খেয়ে খেয়ে এ রকম হয়েছে । তাহলে হুজুররা যাবে কোথায় ।এটাও আমির হামজার কথা সম্ভবত ।তবে হ্যা মাহফিলের নামে ধর্মীয় উগ্রতা , অশ্লীলতা , দেশদ্রোহিতা ,  ধর্মবিদ্বেষ , ওয়াজের নামে ব্যবসা কে আমরা কেউই সমর্থন করিনা ।আপনার এলাকায় গানের জন্য শিল্পী আনবেন , সেখানে আপনি এমন একটা অংক বলবেন উনি আসতে চাইবেন না । আপনার কাছে  তথা আপনার দ্বারা শিল্পীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে ভেবে উনি চলে এলেন । তাহলে ভাবুন অর্থাভাব কত দিক থেকে ওনাদের হতে পারে ।   তাই যদি মানুষের মধ্যে  বাইরের দেশে যেমন মানুষ কোন সেলেবস কে ছেকে ধরেনা । তারা আমাদের সাথে বাসে চলুক , তারা আমাদের সাথে সাধারন মানের হোটেলে খাওয়া দাওয়া করুন । এ ক্ষেত্রে শাহীন আলম অনেকটা প্রেরণা । চলচ্চিত্র শেষে নিজের কাপড়ের দোকানে নিজে বসছেন । আবার কদিন আগে  ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেলকে দেখলাম ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে নিজের ফ্ল্যাট ৫৫ লাখ টাকাতে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিতে । ক্রিকেট অনেকে খেলে বিখ্যাত হয়েছেন , সবাই তো  আর সাকিবের মত সম্পদশালী খেলোয়াড় হয়না , চিত্রনায়ক অনেকে হন , সবাই তো আর শাকিব খানের মত একচ্ছত্র হতে পারেন না । আবার একজন মানুষ তার সেলিব্রিটি  ক্যারিয়ারে অনেক টাকা আয়ের পর অবসরে যাবার পর আরো ৪০ বছর বেঁচে থাকেন আর যদি তার একবার শুরু হয়ে যাওয়া বিলাসী জীবনযাপন এর সমানুপাতিক অন্য আয়ের সোর্স না তৈরি করতে পারেন তবে শেষ বয়সে সাহায্য নেওয়া অসম্ভব কিছুনা ।এক কালের দোর্দন্ড প্রতাপশালী মুঘল সম্রাটদের বংশধরদের আমরা পেয়েছি যারা কিনা , কলকাতার বস্তিতে বসবাস করেন , সাক্ষাৎকার নিতে যাওয়া সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছেন ঔষধ কোম্পানিতে মজুর এর কাজের জন্য যেন তারা সুপারিশ করেন ।এদের ই পূর্বপুরুষ ২২ হাজার শ্রমিক দিয়ে ২২ বছর ধরে রাজকোষের বেহিসেবী খরচ করে তাজমহল গড়েছিল। কালের আবর্তন মানুষকে কি কুৎসিৎ একটা বর্তমানের সামনে হাজির করতে পারে তাইনা । আজকের আপনি একটা যুবক আরো কত বছর পুরো একটা বুড়ো আপনাকে হতে হবে , সেটা আপনি অবাস্তবই ভাবছেন তাইনা ।
শেষে আরো একটা গল্প বলি , আমার এক বন্ধু ভারত থেকে ফিরে গল্প করছে ভারতীয় এক লোকের বাসাতে গিয়েছিলাম । লোকটা খুব ধনী । কিন্তু সকালে নাস্তা খাচ্ছে একমুঠো খই আর দুধ । আর এক কাপ চা । এখানেই আমাদের মেন্টালিটির ভুল । আমার বন্ধুটি আশা করছিল সকালে ০৫ টা তেল চপচপে পরোটার সহিত খাশির কলিজা খাবে হয়তো লোকটি । যদিও তিনি বন্ধুটির আতিথেয়তায় কম রাখেন নি । আসলে আমাদের সমস্যাটা হলো কারো একটু খ্যাতি বা টাকা হলেই ভাত তিনবেলা খেতে হবে মাছ মাংশ দিয়ে , দামি কোর্ট স্যুট বুট সবসময় পরতে হবে , পায়ে হেটে চললে জাত যাবে , ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে হবে,  লন্ডনে পড়াতে হবে ,কথার মাঝে মাঝে ইংলিশ বলতে হবে , কোন রকম একটা উৎসব বা উপলক্ষ্য অনর্থক লক্ষ লক্ষ টাকার আড়ম্বর করতে হবে  এই সব ট্রেন্ড বা চল চালু হয়ে যায় ।  আফসোস হয় বাঙালীর জন্য , পৃথিবীর একটামাত্র ভাষা যেটার জন্য মানুষ শহীদ হয়েছে সেটাকেই অমর্যাদা করি   আমরা । আবার নিজে নিজের ব্যবসা তদারকী করবে সে উপায়ও নেই একজন সেলিব্রিটি । রাখতে হবে ম্যানেজার । ম্যানেজার ব্যাটা আবার ব্যবসা আল্লাহর মাল মনে করলে তো হয়েছে । তো এ জন্য সেলিব্রিটিদের ও দায় আছে । তারকা মানে ধরাছোয়ার বাইরে কিছু , অদৃশ্য কিছু , সাধারণ মানুষ তাদের দেখা পাবেনা এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত । এতে আপনার জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমবেনা , বরং বাড়বে , আপনি তো আর সর্বক্ষণ সাধারণ মানুষের ভিতর থাকছেন না ।

প্রায় ৩০০০ শব্দের এই লেখাটি লিখলাম রাতের ঘুম নষ্ট করে । আটটার সময় আবার কর্মস্থলের দিকে রওনা দেবো ।শিল্প আর সাহিত্যের মূল্য টাকা নয় মানুষের সুনাম দিয়ে বিচার হয় ।একজন শিল্পীর গান বা একজন  লেখকের কষ্ট আমরা দেখতে পারিনা , উপলব্ধিও করতে পারিনা , ছুড়ে দিতে পারি ভালো বা মন্দ কমেন্ট মাত্র।  কমেন্টে অনেকে দালাল বলবতে পারেন , বাজে কমেন্ট আপনার অধিকার , তবে গঠনমুলক কমেন্ট লেখাকে সুন্দর করতে সাহায্য করবে । আর যারা  ধন্যবাদ দেবেন , ভালো লাগলে শেয়ার করবেন তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ।আপনারা হয়তো ভাইরাল করে দিলেন আমার লেখা আর আমি হলাম বিখ্যাত । কিন্তু টাকা কিছুই পাবোনা জানি এই লেখা থেকে ।

আশা করি শিল্পীরা কেন সারাজীবন নাচ গান  করে আর শেষ বয়সে চিকিৎসার জন্য ভিক্ষা করে এর উত্তর পেয়ে গেছেন । বুঝলে বুজপাতা না বুঝলে তেজপাতা ।
 
   ভিজিট করুন http://www.mehbub.net

Monday, August 19, 2019

কুরবাণী এক বর্বর প্রথা !!!

পশু কোরবানির ঈদ এর শুরু কোথা থেকে সে বিষয়ে কোন আলোচনাতে নতুন করে গেলাম না ।কারন আমরা মুসলমান মাত্রই সবাই জানি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত ইসমাইল (আঃ) আল্লাহর দেওয়া অগ্নি পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হবার কথা , যে ঘটনা থেকে পশু কুরবানির প্রচলন শুরু । তো আজকের আলোচনা বা পোস্ট এর কথা প্রসঙ্গ সেটা নয় ।প্রতি বছর যখন কোরবানির ঈদ কাছাকাছি চলে আসে তখন শুরু হয়ে যায় একশ্রেণীর মানবতাবাদীদের হায় হায় মাতম , আর কুরবানির পশুর প্রতি দরদ প্রকাশ , পশু হত্যা বন্ধে বা কুরবানি নামক এই বরবর প্রথা বন্ধে আইন পাশ করা যায় কিনা এরকম দাবির কোথাও উঠে আসে প্রতিবছর কুরবানির ঈদ এর সিজন এলেই ।আজকের এই পোস্ট এর প্রসঙ্গ হলো ,পশু কুরবানি বা কুরবানির ঈদ কি বর্বর প্রথা বা নিষ্ঠুরতার নামান্তর ??
[img|https://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/Mehbub/Mehbub-1566248323-751ac09_xlarge.jpg]
আসুন আজ আমাদের পবিত্র ঐশী গ্রন্থ আল কোরআন বা হাদিসের কোন রেফারেন্স দেবনা ।কারন যারা অবিশ্বাসী তাদের কে বিশ্বাস করানো বা বোঝানোর জন্য কোরআন বা হাদিস টানলে তারা একবাক্যে এটাকে কোরআনের অন্ধ বিশ্বাস বলে উড়িয়ে দেবে ।তো আসুন কোরবানি বিরোধী মানুষ দের একটু সাধারন জ্ঞান বা সাধারন বিবেক এর আলোকে, ইকোসিস্টেম আর পুষ্টি বিজ্ঞানের আলোকে কিছু প্রশ্ন রাখি , কিছু আলোচনা করি ।একটা মানুষের শারীরবৃত্তীয় দৈনন্দিন প্রোটিন এর চাহিদা ৫৬ গ্রাম ।মানে একজন মানুষ কে সুষম খাবার খেতে হলে শর্করা ,ভিটামিন এবং মিনারেল এর পাশাপাশি ৫৬ গ্রাম প্রোটিন রাখতে হবে ।তো দেখা যায় আমরা প্রতিদিন মাত্র ১০ গ্রাম প্রোটিন খেয়ে দিব্যি দিনাতিপাত করছি ।আমাদের শরীরের চুল ,নখ ,কোষকলার বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠন , হরমোন এবং এনজাইম ,তরুনাস্থি , মাংশপেশি তৈরিতে প্রোটিন এর বিকল্প কিছু নেই ।আচ্ছা প্রোটিন কিসে কিসে পাওয়া যায় এবং কতটুকু পাওয়া যায় একবার দেখে আসি ।বিভিন্ন প্রকার ডাল এ গড় ১০-১৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে প্রতি ১০০ গ্রাম এ , একটা ডিম এ ০৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে , আর মাংশে মানে গরু ,খাশি ,মুরগি আর মাছে গড় প্রতি ১০০ গ্রাম এ ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে ।তো এর থেকে বুঝে নিন আপনি প্রতিদিন কতটুকু প্রোটিন গ্রহন করছেন ।সব থেকে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায় সয়া নাগেটস এ ।প্রতি ১০০ গ্রাম সয়া নাগেটস এ আছে ৫০ গ্রাম প্রোটিন ।কিন্তু এই সয়া নাগেটস কিছু গবেষকদের কাছে বিতর্কিত , কারন এতে ফাইটোইস্ট্রোজেন নামে একটা হরমোন এর উপস্থিতি ।আমরা জানি ইস্ট্রোজেন হরমোন মূলত নারীদেহের হরমোন ।আর ফাইটোইস্ট্রোজেন মানে উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত ইস্ট্রোজেন ।যদিও আরেকদল গবেষকরা বলেছেন এতে থাকা সামান্য ফাইটোইস্ট্রোজেন পুরুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় ।
আচ্ছা ধরুন আজকে থেকে সারা পৃথিবীর মানুষ আমরা নিরামিশভোজী হয়ে গেলাম ।মানে আজ থেকে পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ আমরা কেউই এক টুকরো প্রাণী মাংশের স্বাদ গ্রহন করবোনা । আমরা হয়ে গেলাম তুখোড় জীবপ্রেমী ।তো পৃথিবীর কোন পশু পাখি না মারবার কারনে পশু পাখি গনহারে বৃদ্ধি পাবে ।তখন দেখা যাবে পথে ঘাটে গরু ছাগল এর প্রচুর সমাগম এ এবং আক্রমনে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাবে ।কি হবে পরিস্থিতিটা একবার কল্পনা করুন ।এরা সংখ্যাতে এত বৃদ্ধি পাবে যে আপনার বাসা বাড়ি দখল হয়ে যাবে ।জন্ম ,মৃত্যু ,খাদ্য শৃঙ্খল , বাস্তুসংস্থান  এর একটা চেইন দিয়ে মহান আল্লাহ ((বা যার যার ধর্ম থেকে স্রষ্ঠাকে যে নামে ডাকেন না কেন )) জগতের একটা ভারসাম্য এবং গতিশীলতা বজায় রেখেছেন ।ধরুন এখন মানুষ মারা যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।তাহলে কি হবে ,চক্রবৃদ্ধি আকারে মানুষের সংখ্যা বেড়ে অগনিত হয়ে যাবে । একসময় পৃথিবীটাই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে , এত জন্ম মৃত্যু থেকেও মানুষ এর সংঘাত আর পৃথিবীতে সৃষ্ট অশান্তি দূর করা যাচ্ছেনা ।মানুষ যত বাড়ছে মানুষ তত যান্ত্রিক হচ্ছে ।আবার ধরুন মানুষ অমরত্ব পেয়ে গেলো , এবার তারা আর বাচ্চা নিতে চাইলোনা ,আবার যদিও বা চাই তাহলে তো স্থায়ী ভাবে পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে গেলো । আবার আজ যদি আমরা সাপ না মারতাম তাহলে দেখা যেতো সাপের দাপটে সব প্রাণী জগত ধংশ হয়ে যেতো , আবার ধরুন সাপ যদি ইদুর না মারতো ,বিড়াল যদি ইদুর না মারতো তাহলে ইদুরের দাপটে সেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার কাহিনী তৈরি হতো ।যদি বন বনানী তে বাঘের সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি আকারে বাড়তো তাহলে বাঘের দাপটে অন্যান্য জীবের কি অবস্থাটা হতো ভাবুন তো । বাঘ যেমন বনে থাকবার কারণে বনে মানুষ ইচ্ছামত ধবংশলীলা চালাতে পারেনা ,হরিনের সংখ্যার ভারসাম্য থাকছে ঠিক তেমনি আবার শিকারিরা বাঘ মেরে বাঘের সংখ্যাতে সাম্য রাখছে । আমি পশু শিকার হালাল করছিনা এই উদাহরণ দিয়ে ।এটা বলছি শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে ।দেখুন পৃথিবীতে জীব জগতের ভারসাম্য সমানে ইচ্ছা বা অনিচ্ছা নানা কায়দাতে রক্ষিত হচ্ছে ।আমরা মানুষেরা সৃষ্টির সেরা জীব হওয়া সত্ত্বেও ইচ্চাহতে হোক বা অনিচ্ছাতে হোক , সড়ক দুর্ঘটনাতে হোক , দেশে দেশে যুদ্ধ বাধিয়ে হোক মানুষ মারছি ।নিজেও মরছি অন্যকেও মারছি । আবার বললে বলবেন আমি মানুষ হত্যার পক্ষে মত দিচ্ছি ।মানুষ হত্যা বৈধ করছি ।আরে ভাই আমি মানুষ হত্যা অবৈধ বললেও কি পৃথিবীতে মানুষ হত্যা ,যুদ্ধ ,সড়ক দুর্ঘটনা ,বিমান দুর্ঘটনা ,জাতিগত দাঙ্গা  থেমে যাবে ।আজ থেকে কুরবানি ঈদ মুসলিমদের উৎসবের তালিকা থেকে বাদ দিলে বা কুরবানির ঈদ পালন নিষিদ্ধ করে দিলে কি চাইনিজ বা ফাস্টফুডের চিকেন ফ্রাই , গ্রীল , মাছ খাওয়া , ডিম খাওয়া এগুলোও কি থেমে যাবে । গরু ছাগল কুরবানী বাদ দিলাম ।কিন্তু আমিষের চাহিদা পুরনে হাস ,মুরগী , মাছ  এগুলো খেতে হবেনা ? আর এগুলো খেতে গেলে এই প্রাণীগুলো হত্যা করতে হবেনা ,এই গুলো হত্যা কি নিষ্ঠুরতা নয় ।নাকি হাস ,মুরগী , মাছ এগুলোর জীবন নেই , এগুলো গাছের ফল নাকি ? ডিম খেলেন তার মানেও আপনি একটা প্রান কে পৃথিবীতে আসতে দিলেন না ।আসলে এগুলো পৃথিবীর খাদ্য শৃঙ্খলের খেলা ।আপাতত পৃথিবী অমুক প্রাণী অমুক প্রাণীকে খায় , তাকে আরেকজন খায় এরকম নিয়মে চলছে ।যদি আমিষের জন্য প্রাণী হত্যা না করতে হয় তাহলে কৃত্ত্বিম ভাবে বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে আমাদের কে ল্যাব এ স্বাদ ও গন্ধে অকৃত্বিম  মাংশ তৈরি করতে হবে ।আবার ডাল জাতীয় খাবার সবার হজমের ক্ষমতা থাকেনা। তারপর পৃথিবীর পশুপাখির জন্ম নিয়ন্ত্রন বা জন্ম সীমাবদ্ধ করতে হবে ।আবার মুসলিমদের এই কুরবানী ঈদ এর প্রতি পশুপ্রেমীদের দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারটা অনেকটা ঠাট্টা সুলভ , আলগা পিরীতি , ভন্ডামী আর মুসলমানদের প্রতি একচোখা দৃষ্টিভঙ্গীর বহিঃপ্রকাশ মনে হয় ।সম্রাট অশোক ,চেঙ্গিশ খান, জার্মানীর একনায়ক হিটলার , জোসেফ স্ট্যালিন , সার্বদের দ্বারা বসনিয়ার গণহত্যা , হুতু তুতশী গণহত্যা ,  মায়ানমারে রোহিঙ্গা , আমেরিকা কতৃক হিরোশিমা-নাগাসাকি, ভিয়েতনাম ,ইরা্‌ক ,আফগানিস্তান আ্ক্রমণে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যূ ইহাদের চোখে পড়েনা , মনে  বা চোখে কান্না আসেনা , আর কাশ্মির বা ফিলিস্তিনের প্রায় ৭০ বছরের সংগ্রাম তো এখনো চলছে ।((যদিও মুসলমানদের দ্বারাও সংঘটিত গণহত্যার ইতিহাসও আছে । এই যেমন ধরুন পাকিস্তানিরা ১৯৭১ এ আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছিল , অটোমানরা ১৮ লক্ষের মত আর্মেনীয়দের হত্যা করে ১৯১৫-১৯২৩ এর মাঝে )) ।আর তাদের কান্না আসে মুসলিম জাতির ঈদ উল আযহার পশু কোরবাণী দেখলে ।আবার ভারতের কিছু বর্বর এলাকাতে গোমাংশ ভক্ষণের অপরাধে কাউকে মেরে ফেললে কান্না আসেনা , আহা মানুষের থেকে গরুর প্রাণ দামী । মুসলমান কুরবানীর ঈদ পালন বাদ দিলে বুঝি কেএফসি বন্ধ হয়ে  যাবে , সারা বিশ্বে কেউ আর হাঁস , মুরগী,মাছ ,কাকড়া খাবেনা । এগুলোও তো খেতে গেলে হত্যা করতে হয় , এরাও তো প্রাণী । তাহলে কুরবাণী ঈদে আপত্তিটা কোথায় ।আপত্তিটা বা ব্যাপারটা হলো এমন যে সারাবিশ্বে এই দিন কত পশু হত্যাও নিষ্ঠুরতা , উফফ ভাবাই যায়না ।কিন্তু একবার ভাবুনতো প্রত্যেকদিন বাজারে গেলে গরু , খাসী ,মুরগী ,মাছ এই যে শুধু গরুটা বাদে বাকি সব কিছু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই কিনছি এগুলো কি হত্যা করে আনা হয়নি ?, অমানবিক নয় কি এটা ?মুসলমানদের কুরবাণী উৎসব এর সাথে একচোখা আচরণ নয় কি এটা ? সব রকম প্রাণী বাজার থেকে কিনে খেয়ে প্রাণী হত্যা বা কুরবাণীর বিরুদ্ধে বলা কথাটা হলো এমন কথার সাথে তুলনীয় যে , ধরুন আমি পশু হত্যা করতে ভয় পাই , আমার দ্বারা কোন পশু পাখি হত্যা অসম্ভব , কিন্তু পশু পাখির মাংসের তৈরি আইটেম আমার প্রিয় খাবার ,আমি পরের ছেলেকে আঘাত করতে মানুষ ভাবিনা , কিন্তু নিজের গায়ে আঘাত লাগলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই মানুষ কি অমানবিক ,অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আর কতদিন গুলি করবেন ? । মানবিকতা চাইলে বা মানবিকতার নামে শুধু মুসলমানদের কুরবানি উৎসব বন্ধ করলে হবেনা , মুসলমানদের কুরবাণী উৎসব দেখলেই মানবিকতার চেতনা জাগ্রত হলে হবেনা ,একদিনের জন্য হিসেব করে দেখুন সারা পৃথিবীতে প্রত্যেকটা দিন সকল ধর্মের মানুষ কত প্রজাতির কত প্রাণী হোটেল , রেস্টুরেন্ট , চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ বিভিন্ন রেসিপির জন্য জীবন দিচ্ছে , সারাবিশ্বের সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের সব রকম জীব হত্যা বা বলি বা উৎসর্গ করে খাওয়া বন্ধ করতে হবে । আপনি হিন্দু ভাই বলে গোহত্যা করেন না বলে গর্বিত হবার কিছু নেই , খাসি বা পাঠার মাংশ কষা , চিকেন এর ঝাল ঝাল কারি , চিংড়ির মালাইকারির নামে আপনিও জীব হত্যা করছেন ,আপনি বৌদ্ধ বলে আপনি গর্বিত আপনাদের ধর্মপ্রবক্তা গৌতমবুদ্ধ বলেছেন জীবহত্যা মহাপাপ , তাহলে বলুনতো মায়ানমারের লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা হত্যা , কম্বোডিয়ার খেমাররুজ আমলে ২০ লাখ মানুষ হত্যা , চীন ২৫ কোটি বৌদ্ধের দেশ বাট চাইনিজ চিংড়ি ও মুরগী নির্ভর খাবারের জন্য বিখ্যাত , আপনি খ্রিস্টান আপনার তো গরু বা শুকর বা সাপ  এ ভেদ নেই , আপনি যথেষ্ট উদারমনা ,বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জঙ্গী দমন করেন সেটাও ভালো , কিন্তু ইরাক,আফগানিস্তান,লিবিয়া,আফ্রিকা বিভিন্ন যায়গায়  তেল ও দাস ব্যবসার উপর প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠাতে কত নিরস্ত্র আর নিরপরাধ সাধারণ মানুষ মানুষ  হত্যা করেছেন তার ঠিক নেই , আবার নিজে মুসলিম বলে নিজের দোষ বলবোনা তা কিভাবে হয় , আমি গর্বিত আমার প্রাণপ্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  এর অনুসারী , আমার শ্রেষ্ঠ আর মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা আছে   ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩২) ,, কিন্তু যখন ইসলামের মহাঝান্ডাধারী পাকিস্তানী শুদ্ধ  মুসলিম হয়ে ১৯৭১ এ ৩০ লাখ নিরস্ত্র বাঙালী মেরেছিলেন আর অযথা ভারতের দোষ দেন , আপনি ইরান আপনি তুরস্ক আপনার সীমান্তে কি ইরাক নামে একটা দেশ কি ছিল ??? যখন সেখানে হামলা হলো আপনার অটোমান খিলাফত এর স্বপ্ন , শিয়া খিলাফতের স্বপ্ন এগুলো দিয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে রক্ষা করেননা কেন ,এই ইরাকের পাশ দিয়ে তো তুরস্ক,সৌদি,জর্ডান,কুয়েত,ইরান মানে সাচ্চা মুসলিম শরীয়তি দেশগুলো ছিল ।মানছি সাদ্দাম হোসেনের সাথে এদের সম্পর্ক ভালো ছিলোনা ,  আপনি সৌদি অযথা ইয়েমেনে তান্ডবের কি দরকার ??? ।আপনারা জীবহত্যা মহাপাপ মনে করেন , সবাই যার যার ধর্ম নিয়ে গর্বিত , কিন্তু  সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ , সেই মানুষ হত্যা মহাপাপ তো দুরে থাক , পাপই মনে হয়না । থাক এত কথা , এবার বলুনতো পশু পাখিগুলো না খেলে কি হতো , শুধু শুধু মরতো আর পচতো , আর ইকোসিস্টেমের ব্যালান্স নষ্ট হতো । তার থেকে পশুপাখিকে জৈব সার এ পরিণত করবার থেকে , পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের রসনা বিলাসে কাজে লাগাতে দোষের কিছু নেই ।তবে আমরা মানুষরা এদের প্রতি মানবিক হতে পারি ।ধরুণ একেবারে বাচ্চা পশু ,পাখি ,মাছ হত্যা না করে অপেক্ষাকৃত বয়স্ক প্রাণী খাবার জন্য হত্যা করতে পারি , বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হত্যা না করি , এদের আবাসস্থল ,বংশবিস্তার এর সময় ও পরিবেশকে ব্যহত না করে এদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি ,এদের মহামারী বা মড়ক রোধে ঔষধ প্রয়োগ করতে পারি , অবাধে পশুপাখি শিকার নিষিদ্ধ করতে পারি , মাংশ খাবার মাত্রা কমিয়ে আনতে  পারি ।এভাবে আমরা পশুপাখি ভক্ষণকারী হয়েও এদের প্রতি মানবিক হতে পারি ।আপনি যে ধর্মের হোননা কেন ,  পুরো লেখাটা পড়ে কি বুঝেছেন জানিনা , সবশেষে  কুরবাণী এক বর্বর প্রথা নামক শিরোনামের জন্য সকল মুসলিম ভাইবোনদের নিকট আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী ।

[link|https://www.issm.info/sexual-health-qa/does-consuming-soy-affect-a-mans-testosterone-levels/|https://www.issm.info/sexual-health-qa/does-consuming-soy-affect-a-mans-testosterone-levels/]

আমার ওয়েবসাইট এ আরো আকর্ষণীয় কনটেন্টের জন্য  http://www.mehbub.net 

Wednesday, February 13, 2019

কালোজাদু-ভূমিকা







ভূমিকা




পৃথিবীতে আর বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডে যে বিষয়গুলো রহস্যাবৃত আর অমিমাংসীত
সেগুলোর সন্তুষ্টিজনক উত্তর পেতে আমাদের মনে একটা আলাদা অব্যক্ত কৌতুহল জাগে ।আসলে
ভূত বলে কিছু কি আছে ? আমরা আধুনিক মানুষরাই কি শুধু উন্নত ? মানব সমাজ ক্রমশ
বিবর্তনে উন্নত নাকি মানুষ তার সৃষ্টি ও জন্মলগ্ন থেকেই উন্নত জ্ঞানের অধিকারী,
মানুষের পৃথিবীতে আগমনের শুরুটা ঠিক কত আগে থেকে ১০ লাখ বছর আগে থেকে নাকি ০৬
হাজার বছর আগে থেকে? কালোজাদু বাণ টোনা, জ্যোতিষ বাণী এ এগুলো কি সত্যি নাকি স্রেফ
ভন্ডামী?  স্রষ্ঠা ও তার
সৃষ্টি সম্বন্ধে অবারিত কৌতুহল, স্রষ্ঠা কে, তাকে কেন অনাদি অনন্ত বলা হয়?
এসব রহস্যঘেরা প্রশ্ন আমাদর মনে কখনো কখনো কোন ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে মনে প্রবল দোলা
দিয়ে যায় ।মন খোজে মন মানার মত প্রশ্নোত্তর । কিন্তু কোন উত্তরই কেন জানি মনকে
সন্তুষ্ট করতে পারেনা , জিজ্ঞাসু মনের তৃপ্তি বা পিপাসা  মেটাতে পারেনা । এ সব অতি জটিল প্রশ্নের উত্তর
নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে ও অতি স্বল্পজ্ঞানে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র, অকাট্য ও ১০০
ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত কোন মতবাদ দিইনি বা বলছিনা এগুলো ১০০ ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত
।শুধুমাত্র কিছু প্রচলিত প্রাচীন ও আধুনিক বই পত্র, উইকি, বিদেশী কিছু ওয়েবসাইট এর সামান্য সহায়তা,  জনশ্রুতি ,সাধারণের ভিতর অসাধারণ যে বিষয় আমাদের অজানা বা দৃষ্টির
আড়ালে থেকে যায় এবং  নিজ জ্ঞানে ও ভাবনাতে সকল
জাতি ও ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রেখে যেটুকু যৌক্তিক মনে হয়েছে সেটুকু লিখেছি ও
ব্যাখা দাড় করানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। মনে রাখবেন সবকিছুর উপর স্রষ্ঠা একমাত্র সত্য আর আপনি যে ধর্মের হোননা কেন জানবেন যে মানবতা আপনার
ধর্মের কেন সকল ধর্মেরই মূলভিত্তি । লেখার কোথাও কোথাও ছন্দহীন ও খাপছাড়া মনে হতে
পারে, এটা এ কারণে হতে পারে যে বইটা লেখা শুরু করেছি প্রায়  বছর তিনেক আগে থেকে ।সাথে অত্যাধিক
কর্মব্যস্ততা, পড়াশোনা, নানা কারণে মুড সুইং করার কারণে নিয়মিত লিখতে বসা হয়নি ।




(০৬)




পাঠক ও যে কোন ধর্মাবলম্বী জ্ঞানী ও গুণী মানুষের প্রতি অনুরোধ রইলো
লেখার কোন প্রকার ভুলে আমার প্রতি রুষ্ট  না হবার জন্য ।




আচ্ছা কোন কিছু কি নেই বললেই নেই হয়ে যায় ? প্রবাদ আছে যা রটে তা কিছুটা বটে ।পুরাকালবর্তমান কাল - ভবিষ্যত কাল এই তিনই কালোজাদু এর উপজীব্য ।বলতে পারেন এটা পাস্ট ফিকশন টাইপের বই । সায়েন্স ফিকশন নামটির সাথে আপনারা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ফ্যানরা পরিচিত ।তবে পাস্ট ফিকশন নামক আজগুবি নামটি হয়তো আমিই প্রথম কোথাও ব্যবহার করলাম এ জন্য যে আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে যতটা আগ্রহ আছে অতীত নিয়ে ততটা আগ্রহ আমাদের নেই ।এর যৌক্তিক কারণ ও আছে কারণ দিনতো চলে যাচ্ছেই ।যা অতীত হয়ে গেছে তাতো এক কায়দাতে গেছেই ।কিন্তু চিন্তা হলো ভবিষ্যত নিয়ে ।কারণ বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতকে ফেস করতে/মোকাবেলা করতে হবে আপনার ।বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ ।তবে অতীত নিয়ে যদি মানুষের আগ্রহ একেবারে না থাকতো তবে ইতিহাস(HISTORY) নামে কোন বিষয় (SUBJECT) থাকতোনা ।প্রত্নতত্ববিদ, নৃতত্ববিদ, ঐতিহাসিক এনারা থাকবার প্রশ্নই থাকতোনা ।আমি উচ্চমাধ্যমিক পর্য্যন্ত বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম ।পরবর্তী শিক্ষাজীবনটুকু মানবিক বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছি ।ইতিহাস বিষয়টা আমার বরাবরই প্রিয় । স্নাতকোত্তর এ ইসলামের ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে কেন জানি মনে হলো বিজ্ঞান আর ইতিহাসের(প্রাচীন হোক বা ইসঃ ইতিহাস হোক)মধ্যেও কেমন একটা সুনিবিড় সংযোগ আছে ।মানুষের অতীতের কাহিনী বা  সমাজ ব্যবস্থা যেমন ইতিহাসের আওতা বা অবদানের বাইরে  নয় তেমনি বিজ্ঞানের ও বাইরে নয় । অতীতের বা মহাকালের গর্ভে ডুব দেওয়ার ভিতর অদ্ভুত একটা রহস্যময়তা ও সাসপেন্স আছে, হয়তো অতীত কে অতীত ভেবে বা “পাস্ট ইজ পাস্ট” ভেবে এসব আমরা ভাবনাতে ও নিয়ে আসতে চাইনা। আচ্ছা আজ আমরা যে খ্রিস্টাব্দ অতিবাহিত করছি, তার থেকে অনেক অনেক শতাব্দী আগে ধরুন আজ থেকে দশ বা বিশ হাজার বছর আগেও তো এই পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করতো। অনেকের হয়তো জানতে ইচ্ছা করে তারা কি করতো, কেমন ছিল তাদের জীবন, আমরা যেমন পড়েছি আসলে কি তারা কতটা উন্নত বা অনুন্নত ছিলো এটা নিয়ে দন্দ -সন্দেহ - বিতর্ক চলে আসছে অনেক কাল




(০৭)




আগে থেকে। মানুষের জানার এই অপার আগ্রহ থেকেই বোধ হয় এইচ জি ওয়েলসের টাইম মেশিন, আর্থার সি ক্লার্ক এর সায়েন্স ফিকশন কালজয়ী হয়ে
যায় । অপার আগ্রহ, কৌতুহল, কল্পনা আছে
বলেই আধুনিক বিজ্ঞানের স্বর্ন যুগে আমরা বসবাস করছি ।কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা না থাকলে ও
অনর্থক অবাস্তব হলেও তা আমাদের কে এক প্রকার আনন্দ দেয়। এই যেমন ধরুন বিজ্ঞান বলে ভূত বলে কিছু নেই , কিন্তু
তারপরেও ভূতের বই আমাদের
অবসরে প্রিয়, সারা পৃথিবীর উন্নত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে, এফ এম রেডিও
গুলো তে, গুগল প্লে স্টোরে ভুতের পিডিএফ
বই, হরহামেশাই ভূত এফ এম, আহট, এলিয়েনের কাহিনী, তুমুল
দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে প্রচারিত হচ্ছে ।মানুষের
অজানাকে জানার দূর্বার ইচ্ছা, রহস্যের প্রতি দূর্নিবার আকর্ষন আছে
বলেই তো এই প্রোগ্রামগুলোর দর্শকেরও অভাব হয়না , হোকনা অবাস্তব, অযৌক্তিক আর
সামান্য বাস্তবের মিশেল, কিন্তু সিনেমা আর ভুতের গল্প মিথ্যা জেনেও অদ্ভুত
এক আকর্ষন কাজ করে আমাদের ভিতর !।  




এই বইটি পড়বার সময় আপনার মনে হতে পারে অনেক কথাই মন গড়া বা অযৌক্তিক অথবা স্রেফ আবহমান বাংলার গ্রাম ও শহরে চলে আসা জনশ্রুতি বা কুসংস্কার অথবা স্থানে স্থানে  স্রেফ ভূতের গল্পের বই  ।এটা এজন্য হতে পারে যে বইয়ের নামের সাথে বিষয়বস্তু ও কাহিনীর মিল রাখার জন্য এগুলো উদাহরণ এবং সাথে আমার লেখার মৌলিকত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টা ও কপি পেস্ট থেকে দুরে থাকা । স্রেফ পাঠক মনে কৌতুহল ও চমক জাগানো বইটির উদ্দেশ্য নয় । যুক্তিযুক্ত উদাহরন, যুক্তি, ও ইতিহাস দিয়ে আমরা ঘুরে আসবো অতীত –বর্তমান –ভবিষ্যত । সাথে সাথে দাড় করানোর চেষ্টা করবো অনেক অমিমাংসীত প্রশ্নের যুক্তিপূর্ন উত্তর । তবে বলবোনা যা লিখছি যা বলছি সবই ১০০ % সত্য, এটা হলো যুক্তি বিজ্ঞান - ইতিহাসের আলোকে অথবা শুধু আমার ছোট মাথায় স্বল্পজ্ঞানে কৌতুহল নিবৃত্তির প্রচেষ্টা মাত্র । হতে পারে ভারতের আদালত সিরিয়ালের সেই বিখ্যাত সংলাপের মত যেটা দেখা যায় সেটা হয়না , আর যেটা হয় সেটা দেখা যায়না । গতানুগতিক ভাবে সাধারণত একটা বইয়ের যে সূচীপত্রের সাথে লেখার যে মিল থাকে , আমার বইয়ে তা পাবেননা,দায়সারা গোছের একটা সূচীপত্র তৈরি করেছি মাত্র।মূলত এটা করেছি এ কারণে যে ,এই বইটির মূল থিম হলো বিজ্ঞান স্বীকার করেনা যে যাদু ,যার উদ্ভব প্রাচীন ব্যবিলন থেকে তা কি সত্যিই ছিলো নাকি এখনো আপনার আমার মাঝে স্বরূপে এই একাবিংশ শতাব্দীতে বিদ্যমান তার পক্ষে বিপক্ষে কথার পিঠে কথা বলে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছি বলে আলাদা আলাদা অধ্যয় সৃষ্টি সম্ভব হয়নি ,সূচীপত্র বিহীন এই বইটি পড়তে গেলে পুরোটাই পড়তে হবে । আমি যেহেতু অতি সামান্য একজন মানুষ তার উপর আহামারি জ্ঞান বা সার্টিফিকেট এর অধিকারী নই এবং যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল করে , সেহেতু আমার লেখার ভুল স্বাভাবিক ও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আবারো এ অনুরোধ রইলো ।




বিনীত




                                                   সৈয়দ মেহবুব রহমান




(০৮)