Wednesday, February 13, 2019

কালোজাদু-ভূমিকা







ভূমিকা




পৃথিবীতে আর বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডে যে বিষয়গুলো রহস্যাবৃত আর অমিমাংসীত
সেগুলোর সন্তুষ্টিজনক উত্তর পেতে আমাদের মনে একটা আলাদা অব্যক্ত কৌতুহল জাগে ।আসলে
ভূত বলে কিছু কি আছে ? আমরা আধুনিক মানুষরাই কি শুধু উন্নত ? মানব সমাজ ক্রমশ
বিবর্তনে উন্নত নাকি মানুষ তার সৃষ্টি ও জন্মলগ্ন থেকেই উন্নত জ্ঞানের অধিকারী,
মানুষের পৃথিবীতে আগমনের শুরুটা ঠিক কত আগে থেকে ১০ লাখ বছর আগে থেকে নাকি ০৬
হাজার বছর আগে থেকে? কালোজাদু বাণ টোনা, জ্যোতিষ বাণী এ এগুলো কি সত্যি নাকি স্রেফ
ভন্ডামী?  স্রষ্ঠা ও তার
সৃষ্টি সম্বন্ধে অবারিত কৌতুহল, স্রষ্ঠা কে, তাকে কেন অনাদি অনন্ত বলা হয়?
এসব রহস্যঘেরা প্রশ্ন আমাদর মনে কখনো কখনো কোন ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে মনে প্রবল দোলা
দিয়ে যায় ।মন খোজে মন মানার মত প্রশ্নোত্তর । কিন্তু কোন উত্তরই কেন জানি মনকে
সন্তুষ্ট করতে পারেনা , জিজ্ঞাসু মনের তৃপ্তি বা পিপাসা  মেটাতে পারেনা । এ সব অতি জটিল প্রশ্নের উত্তর
নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে ও অতি স্বল্পজ্ঞানে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র, অকাট্য ও ১০০
ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত কোন মতবাদ দিইনি বা বলছিনা এগুলো ১০০ ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত
।শুধুমাত্র কিছু প্রচলিত প্রাচীন ও আধুনিক বই পত্র, উইকি, বিদেশী কিছু ওয়েবসাইট এর সামান্য সহায়তা,  জনশ্রুতি ,সাধারণের ভিতর অসাধারণ যে বিষয় আমাদের অজানা বা দৃষ্টির
আড়ালে থেকে যায় এবং  নিজ জ্ঞানে ও ভাবনাতে সকল
জাতি ও ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রেখে যেটুকু যৌক্তিক মনে হয়েছে সেটুকু লিখেছি ও
ব্যাখা দাড় করানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। মনে রাখবেন সবকিছুর উপর স্রষ্ঠা একমাত্র সত্য আর আপনি যে ধর্মের হোননা কেন জানবেন যে মানবতা আপনার
ধর্মের কেন সকল ধর্মেরই মূলভিত্তি । লেখার কোথাও কোথাও ছন্দহীন ও খাপছাড়া মনে হতে
পারে, এটা এ কারণে হতে পারে যে বইটা লেখা শুরু করেছি প্রায়  বছর তিনেক আগে থেকে ।সাথে অত্যাধিক
কর্মব্যস্ততা, পড়াশোনা, নানা কারণে মুড সুইং করার কারণে নিয়মিত লিখতে বসা হয়নি ।




(০৬)




পাঠক ও যে কোন ধর্মাবলম্বী জ্ঞানী ও গুণী মানুষের প্রতি অনুরোধ রইলো
লেখার কোন প্রকার ভুলে আমার প্রতি রুষ্ট  না হবার জন্য ।




আচ্ছা কোন কিছু কি নেই বললেই নেই হয়ে যায় ? প্রবাদ আছে যা রটে তা কিছুটা বটে ।পুরাকালবর্তমান কাল - ভবিষ্যত কাল এই তিনই কালোজাদু এর উপজীব্য ।বলতে পারেন এটা পাস্ট ফিকশন টাইপের বই । সায়েন্স ফিকশন নামটির সাথে আপনারা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ফ্যানরা পরিচিত ।তবে পাস্ট ফিকশন নামক আজগুবি নামটি হয়তো আমিই প্রথম কোথাও ব্যবহার করলাম এ জন্য যে আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে যতটা আগ্রহ আছে অতীত নিয়ে ততটা আগ্রহ আমাদের নেই ।এর যৌক্তিক কারণ ও আছে কারণ দিনতো চলে যাচ্ছেই ।যা অতীত হয়ে গেছে তাতো এক কায়দাতে গেছেই ।কিন্তু চিন্তা হলো ভবিষ্যত নিয়ে ।কারণ বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতকে ফেস করতে/মোকাবেলা করতে হবে আপনার ।বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ ।তবে অতীত নিয়ে যদি মানুষের আগ্রহ একেবারে না থাকতো তবে ইতিহাস(HISTORY) নামে কোন বিষয় (SUBJECT) থাকতোনা ।প্রত্নতত্ববিদ, নৃতত্ববিদ, ঐতিহাসিক এনারা থাকবার প্রশ্নই থাকতোনা ।আমি উচ্চমাধ্যমিক পর্য্যন্ত বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম ।পরবর্তী শিক্ষাজীবনটুকু মানবিক বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছি ।ইতিহাস বিষয়টা আমার বরাবরই প্রিয় । স্নাতকোত্তর এ ইসলামের ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে কেন জানি মনে হলো বিজ্ঞান আর ইতিহাসের(প্রাচীন হোক বা ইসঃ ইতিহাস হোক)মধ্যেও কেমন একটা সুনিবিড় সংযোগ আছে ।মানুষের অতীতের কাহিনী বা  সমাজ ব্যবস্থা যেমন ইতিহাসের আওতা বা অবদানের বাইরে  নয় তেমনি বিজ্ঞানের ও বাইরে নয় । অতীতের বা মহাকালের গর্ভে ডুব দেওয়ার ভিতর অদ্ভুত একটা রহস্যময়তা ও সাসপেন্স আছে, হয়তো অতীত কে অতীত ভেবে বা “পাস্ট ইজ পাস্ট” ভেবে এসব আমরা ভাবনাতে ও নিয়ে আসতে চাইনা। আচ্ছা আজ আমরা যে খ্রিস্টাব্দ অতিবাহিত করছি, তার থেকে অনেক অনেক শতাব্দী আগে ধরুন আজ থেকে দশ বা বিশ হাজার বছর আগেও তো এই পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করতো। অনেকের হয়তো জানতে ইচ্ছা করে তারা কি করতো, কেমন ছিল তাদের জীবন, আমরা যেমন পড়েছি আসলে কি তারা কতটা উন্নত বা অনুন্নত ছিলো এটা নিয়ে দন্দ -সন্দেহ - বিতর্ক চলে আসছে অনেক কাল




(০৭)




আগে থেকে। মানুষের জানার এই অপার আগ্রহ থেকেই বোধ হয় এইচ জি ওয়েলসের টাইম মেশিন, আর্থার সি ক্লার্ক এর সায়েন্স ফিকশন কালজয়ী হয়ে
যায় । অপার আগ্রহ, কৌতুহল, কল্পনা আছে
বলেই আধুনিক বিজ্ঞানের স্বর্ন যুগে আমরা বসবাস করছি ।কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা না থাকলে ও
অনর্থক অবাস্তব হলেও তা আমাদের কে এক প্রকার আনন্দ দেয়। এই যেমন ধরুন বিজ্ঞান বলে ভূত বলে কিছু নেই , কিন্তু
তারপরেও ভূতের বই আমাদের
অবসরে প্রিয়, সারা পৃথিবীর উন্নত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে, এফ এম রেডিও
গুলো তে, গুগল প্লে স্টোরে ভুতের পিডিএফ
বই, হরহামেশাই ভূত এফ এম, আহট, এলিয়েনের কাহিনী, তুমুল
দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে প্রচারিত হচ্ছে ।মানুষের
অজানাকে জানার দূর্বার ইচ্ছা, রহস্যের প্রতি দূর্নিবার আকর্ষন আছে
বলেই তো এই প্রোগ্রামগুলোর দর্শকেরও অভাব হয়না , হোকনা অবাস্তব, অযৌক্তিক আর
সামান্য বাস্তবের মিশেল, কিন্তু সিনেমা আর ভুতের গল্প মিথ্যা জেনেও অদ্ভুত
এক আকর্ষন কাজ করে আমাদের ভিতর !।  




এই বইটি পড়বার সময় আপনার মনে হতে পারে অনেক কথাই মন গড়া বা অযৌক্তিক অথবা স্রেফ আবহমান বাংলার গ্রাম ও শহরে চলে আসা জনশ্রুতি বা কুসংস্কার অথবা স্থানে স্থানে  স্রেফ ভূতের গল্পের বই  ।এটা এজন্য হতে পারে যে বইয়ের নামের সাথে বিষয়বস্তু ও কাহিনীর মিল রাখার জন্য এগুলো উদাহরণ এবং সাথে আমার লেখার মৌলিকত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টা ও কপি পেস্ট থেকে দুরে থাকা । স্রেফ পাঠক মনে কৌতুহল ও চমক জাগানো বইটির উদ্দেশ্য নয় । যুক্তিযুক্ত উদাহরন, যুক্তি, ও ইতিহাস দিয়ে আমরা ঘুরে আসবো অতীত –বর্তমান –ভবিষ্যত । সাথে সাথে দাড় করানোর চেষ্টা করবো অনেক অমিমাংসীত প্রশ্নের যুক্তিপূর্ন উত্তর । তবে বলবোনা যা লিখছি যা বলছি সবই ১০০ % সত্য, এটা হলো যুক্তি বিজ্ঞান - ইতিহাসের আলোকে অথবা শুধু আমার ছোট মাথায় স্বল্পজ্ঞানে কৌতুহল নিবৃত্তির প্রচেষ্টা মাত্র । হতে পারে ভারতের আদালত সিরিয়ালের সেই বিখ্যাত সংলাপের মত যেটা দেখা যায় সেটা হয়না , আর যেটা হয় সেটা দেখা যায়না । গতানুগতিক ভাবে সাধারণত একটা বইয়ের যে সূচীপত্রের সাথে লেখার যে মিল থাকে , আমার বইয়ে তা পাবেননা,দায়সারা গোছের একটা সূচীপত্র তৈরি করেছি মাত্র।মূলত এটা করেছি এ কারণে যে ,এই বইটির মূল থিম হলো বিজ্ঞান স্বীকার করেনা যে যাদু ,যার উদ্ভব প্রাচীন ব্যবিলন থেকে তা কি সত্যিই ছিলো নাকি এখনো আপনার আমার মাঝে স্বরূপে এই একাবিংশ শতাব্দীতে বিদ্যমান তার পক্ষে বিপক্ষে কথার পিঠে কথা বলে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছি বলে আলাদা আলাদা অধ্যয় সৃষ্টি সম্ভব হয়নি ,সূচীপত্র বিহীন এই বইটি পড়তে গেলে পুরোটাই পড়তে হবে । আমি যেহেতু অতি সামান্য একজন মানুষ তার উপর আহামারি জ্ঞান বা সার্টিফিকেট এর অধিকারী নই এবং যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল করে , সেহেতু আমার লেখার ভুল স্বাভাবিক ও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আবারো এ অনুরোধ রইলো ।




বিনীত




                                                   সৈয়দ মেহবুব রহমান




(০৮)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-০৯+১০ (আরম্ভ)




শুরুতেই বলে রাখি প্রথম দিকের কয়েকপাতার লেখাগুলো অকারন মনে হতে পারে
। মূল বিষয়বস্তু ও পরবর্তী লেখাগুলো বোঝবার সূবিধার্থে শুরুতে কয়েকপাতা সাধারণ ও
গতানুগতিক জানা ইতিহাস টাইপের লেখা।কিছু উল্লেখযোগ্য সভ্যতা ও তার পরিচিতি (সভ্যতাগুলোর
নাম –সর্বপ্রাচীন থেকে শুরু, সেই সভ্যতার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ,শাসক , ঘটনা )




মেসোপটেমিয় সভ্যতা – বর্তমান
ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল এই সভ্যতা ।
বর্তমান ইরাক, সিরিয়া , তুরস্কের উত্তরাংশ ও ইরানের খুযেস্তান প্রদেশ নিয়ে ছিলো এই সভ্যতা ।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে উন্মেষ ঘটেছিলো এই সভ্যতার ।রোমান,
পারসিয়ানদের মাঝে হাতবদল হতে হতে ৭০০ খ্রিস্টাব্দে এসে এখানে মুসলিম সভ্যতার
উন্মেষ ঘটে । মুসলিম খিলাফতের শাসনামলে পরবর্তীতে এই অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি লাভ
করে ।মেসোপটেমিয়া শব্দটি গ্রীক শব্দ । এর অর্থ হলো দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
।নলখাগড়ার জঙ্গল ও খেজুর গাছ ছিলো এই অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ । পরবর্তীতে টাইগ্রীস ও
ইউফ্রেটিস নদীর পলি জমে ভরাট হয়ে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ অব্দ থেকেই এখানে মানুষের
সমবেত হবার মাধ্যমে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে । দূর্বল প্রতিরক্ষার মাধ্যমে বারবার
বহিশত্রুর আক্রমনে বার বার আক্রান্ত হতে হতে এই সভ্যতা ভাগ হয়ে এর ভিতর বেশ কটি সভ্যতার
উন্মেষ ঘটে  ।উত্তরাংশে আসিরীয়
ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা । আর ব্যবিলনের উত্তরে আক্কাদ ও দক্ষিনে সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে
ওঠে ।




সভ্যতায় এদের অবদান t




০১) এদের
সভ্যতায় ধর্ম পালন, মন্দিরের উল্লেখ ও দেবতার পুজার উল্লেখ রয়েছে ।




০২) মাটির নিচে
জল রয়েছে এবং ভূপৃষ্ঠ পানির উপর ভাসমান এটা তারা মনে করতো ।




 (৯)




০৩) এরা
মন্দিরে ফসল জমা দেয়ার জন্য ও কে কতটুকু ফসল জমা দিলো সেই হিসাব রাখার সুবিধার্থে
গণিত শাস্ত্রের উদ্ভাবন করে । এদের গণণার সীমা ছিলো ষাট পর্যন্ত । এখান থেকেই
ষাট মিনিটে এক ঘন্টা ও ষাট সেকেন্ডে এক মিনিটের হিসাব আসে । তারাই প্রথমে ১২ মাসে
০১ বছর ও ৩০ দিনে এক মাস এই হিসাবের প্রচলন করে ।




০৪) তামা ও
টিনের সংমিশ্রনে ব্রোঞ্জ ধাতুর আবিষ্কার তারা করেছিলো ।




০৫) তারা
পৃথিবীকে ৩৬০ ডিগ্রীতে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, ১২ টি রাশিচক্র ও জলঘড়ির
আবিষ্কার তারাই করেছিলো ।




০৬) গিলগামেশ
নামে তাদের সেমেটিক ভাষায় সাহিত্য রচনা করেছিলো ।




   ০৭) সম্রাট
নেবুচাদনেজারের রহস্যময় ঝুলন্ত উদ্যান এখনো পৃথিবীর ০৭ টি প্রাচীন  সপ্তাশ্চার্যের একটি ।




এখন আপনি
দেখুন এই সভ্যতার আবিষ্কৃত সময়, রাশিচক্র, পদক দিতে গিয়ে ব্রোঞ্জের ব্যবহার আমরা
করছি না ?




মিশরীয় সভ্যতা -  খ্রিস্টপূর্ব
৫০০০ অব্দে মিশরে এ সভ্যতার সুচনা হয় ।ফারাও সাম্রাজ্যের সুচনা হয় খ্রিস্টপূর্ব
৪০০০ অব্দে ।এই রাজবংশের উত্তরাধিকারীরা বংশানুক্রমে ফারাও হিসেবে পরিচিতি লাভ করে
।খ্রিস্টপূর্ব ১০ম শতকে লিবিয়ার এক বর্বর জাতির হাতে পতন হয় ৩০০০ হাজার বছরের
প্রাচীন ফারাও রাজবংশের । সভ্যতায় মিশরীয়দের উল্লেখযোগ্য অবদান –




১) মিশরের
পিরামিড




২) মমি




৩) হায়ারোগ্লিফিকস




৪) জ্যোতির্বিদ্যা




(১০)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১১+১২


৫) বিভিন্ন
অজ্ঞাত রাসায়নিকের গুণ আবিষ্কার ।




৬) চিকিৎসা
শাস্ত্রের অস্ত্রোপচার,হাড় জোড়া লাগানো এ গুলো সম্বন্ধে তারা জানতো




যদিও যুক্তির
বাইরে হয়তো বা অবিশ্বাস্য বা সুপার ন্যাচারাল বলিনা কেন কিছু গুপ্তবিদ্যা বা
ব্যাখাতীত কিছু বিষয় এ সভ্যতায় ছিল (শুধুমাত্র এ সভ্যতাতে নয় , সমস্ত গুপ্তবিদ্যা
পুরাকালে বিভিন্ন
সভ্যতাতে  পূর্ণ শক্তিতে বিদ্যমান ছিল , কিন্তু পরবর্তীতে উপযুক্ত রক্ষনাবেক্ষন
,উপযুক্ত উত্তরাধিকার ,নির্দিষ্ট স্থানে চর্চার সীমাবদ্ধতা এবং গোপনীয়তা , যে কোন
কারণে চর্চার বা গুপ্তবিদ্যা উদ্ভাবনের সেই নগরী ধ্বংস হয়ে যাওয়া , নতুন সহজতর
বিদ্যার বা যন্ত্রের উদ্ভাবন ,এসব কারণে কথিত সব অতি ক্ষমতা বা গুপ্তবিদ্যা  হারিয়ে গেছে , বা হয়তো আপনার আমার এ সভ্যতাতে
অন্য কায়দাতে বা অন্য রুপে বিরাজমান থাকতেও পারে)যেটার
ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক  ভাবে তেমন স্বীকৃত
সত্যতা না থাকলেও , বা
সামান্য কিছুর উল্লেখ থাকলেও ; সেগুলোর ভাসা ভাসা
কিছু রেফারেন্স দিয়ে এই গ্রন্থের নামের স্বার্থকতা বোঝাতে সক্ষম হবো বলে
মনে করি ।




ভারতীয়
সভ্যতা –





বলতে গেলে যত সভ্যতা আছে তার ভিতর জ্ঞানে বিজ্ঞানে বৈচিত্রে ভারতীয়
সভ্যতার মত সভ্যতা বোধ হয় আর নেই । গণিত , জ্যোতিষবিদ্যা , শিল্প-সংস্কৃতি ,
আয়ুর্বেদ এর চরম উৎকর্ষ কি নেই এই সভ্যতায়। বলা যেতে পারে পৃথিবীর যত গুলো
আবিষ্কৃত সভ্যতা পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে ভারতীয় সভ্যতার মত ভেরিয়েশন কোন কিছুতেই
নেই । আমাদের বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারতকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কা , আফগানিস্তান
, পকিস্তান , নেপাল , ভুটান , এ রকম বিশাল এলাকা ছিলো এ সভ্যতার অন্তর্গত । চমক
হিসেবে ছড়িয়ে আছে ভারতীয় সভ্যতায় ছড়িয়ে থাকা নানা উপকথা , মিথ ।




(১১)




এ ছাড়াও
চীনা সভ্যতা , অ্যাজটেক , মায়ান সভ্যতা অনেক সভ্যতাই ছিলো পৃথিবীতে ।




এবার আসবো
আমাদের মূল ব্যাখ্যা বিশ্লেষন ও তর্কের বিপরতে বিতর্ক ও আলোচনায় ।




প্রসঙ্গ ,
আপেক্ষিকতা
t -




প্রাচীনকালের মানুষ ছিলো গুহাবাসী। তারা ঘর বাড়ি নির্মান করতে জানতো
না , আগুনের ব্যবহার জানতোনা, স্থায়ী ভাবে চাষ করতে জানতোনা, খাদ্যের জন্য ছিলো
শিকার ও যাযাবর জীবনের উপর নির্ভরশীল । পরিধানের জন্য কাপড় ছিলোনা ।গাছের পাতা,
ছাল বাকল ও পশুর চামড়া পরিধান করে লজ্জা নিবারন করতো ।টোটালি এটা বোঝানো হচ্ছে বা
চিরকালই  আমরা জেনে  বুঝে এসেছি যে প্রাচীন বা প্রাগৈতিহাসিক যুগের
মানুষ এ রকম ভাবনার অতীত অনুন্নত জীবন যাপন করতো । ছিলো খাদ্যের ও ফসলের জন্য
শিকার করা ও প্রকৃতির উপর নির্ভরতা, যেখানে ছিলো গ্রীষ্মের দুর্বিষহ গরম,
প্রতিকারে ছিলোনা এখনকার বৈদ্যুতিক ফ্যান বা এ.সি, ছিলো গন্তব্য স্থলের দুরত্ব,
ছিলোনা এখনকার মত বিমান , ট্রেন, ইন্জিন চালিত যান বাহন, পানিতে চলমান স্পিড বোট ।
এ রকমই যদি হয় তবে তা ছিলো আমাদেরও  চরম
অনুন্নত ভাবনারও অতীত অন্ধকার জীবন ।




আসলে অনুন্নত বা প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কি বুঝি । যীশু খ্রীষ্টের
জন্মের পূর্ববর্তী  পাঁচ-ছয় হাজার বছর বা
আজ থেকে সাত –আট হাজার বছর পূর্ব পর্যন্ত সময় কালকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়।
অর্থাৎ এই সময়ের আগের কোন ইতিহাস মানুষের কাছে নেই, তাই এটি প্রাগৈতিহাসিক যুগ , অর্থাৎ
ইতিহাসের আগের যুগ। মানব ইতিহাসে ওই সময়ের সুনির্দিষ্ট কোন ইতিহাস নেই  । তবে বিজ্ঞানীরা এই প্রাগৈতিহাসিক যুগকে ভাগ
করেছেন  প্রস্তর যুগ , ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ
যুগ এই কয়েকটা ভাগে। পৃথিবীর যত ইতিহাস পাই তার আবির্ভাব বা শুরু যুগ হলো লৌহ
যুগের শেষে ।




(১২)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩+১৪


প্রকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে বলা যেতে পারে ব্রিটেন এর লৌহযুগ শেষ হয়
রোমান বিজয় এর মাধ্যমে , এর পর হতে ব্রিটেন এর লিখিত ইতিহাস এর শুরু । এক লাখ
(১,০০,০০০) খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ থেকে শুরু করে চল্লিশ হাজার(৪০,০০০) বছর পূর্ব
পর্যন্ত সময়কাল এই প্রস্তর যুগ ।এই যুগের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো কৃষির উদ্ভাবন,
বন্যপ্রানীকে গৃহপালিত পশুতে রূপান্তর ও তামার আকরিক গলিয়ে তামার ব্যবহারের
মাধ্যমে ধাতুর ব্যবহার শুরু । কথাটা এখানেই কপার বা তামার গলনাংক ১০৮৫ ডিগ্রী
সেলসিয়াস । কাঠের চুলার আগুনের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৫৯৩ ডিগ্রী
সেলসিয়াস পর্য্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব ।তো সেই সময়ে (আমাদের ভাষাতে অনুন্নত যুগ)
তামা আকরিক সংগ্রহ থেকে শুরু করে তামার ১০৮৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস গলনাংকে পৌছে তামার
ধাতব বস্তু বা তৈজস তৈরি করাটা যে গল্প কথা নয় সেটা নবম শ্রেনীর একজন সায়েন্স
স্টুডেন্ট মাত্র খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবে




কিন্তু একটা জিনিস কি জানেন , আমার কিন্তু মনে হয় মানুষ তার আদিমতম
পর্যায় থেকেই চির উন্নত । মানুষের সমাজ ব্যবস্থা , খাদ্য , বাসস্থান চিরকালই এমন ।
যুগে যুগে তার জীবনযাত্রা ও সুযোগের রূপ পরিবর্তন হয়েছে মাত্র । যুগে যুগে  ভিন্ন রুপে ভিন্ন মাত্রাতে বিজ্ঞান ফিরে এসেছে
তার কাছে । বিজ্ঞান ছাড়া কোন যুগেই চলতে পারেনি মানুষ । মানুষ তার সৃষ্টির শুরু
হতে যত শতাব্দী অতিক্রম করেছে তার সাথে ছিলো বিজ্ঞান অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে ।




তাহলে প্রশ্ন এসে যায় তাই যদি হবে তাহলে আমরা অনুন্নত বিজ্ঞান বিহীন
মানুষের ইতিহাস পাই কি করে ? আসলে পৃথিবীর সব অংশে মানব সভ্যতার সমান পত্তন হয়নি
সকল কালে, সকল যুগে । প্রাচীন সভ্যতায় উল্লেখযোগ্য হিসেবে গ্রীক, রোমান, মিশরীয়,
ভারতীয়, ইনকা সভ্যতার উল্লেখ আমরা পাই । এই সভ্যতা গুলোর অবদান হিসেবে ইউনানী ঔষধ,
আয়ুর্বেদিক ঔষধ, মিসরের পিরামিড, অ্যাস্ট্রোলজি
উল্লেখযোগ্য । এ ছাড়া এই সভ্যতাগুলোর থেকে আমরা বিভিন্ন মহা কাহিনী আখ্যান
নির্ভর গ্রন্থ পাই ।




(১৩)




 মহাভারত, হোমারের ইলিয়ড ও ওডিসি উল্লেখযোগ্য (ইলিয়ড ও ওডিসির ট্রয় প্রসঙ্গে পরে আসছি ) | আসলে একটা সভ্যতা উন্নত না অনুন্নত ছিলো সেটার  রায় দিতে গেলে শুধু মাত্র বর্তমান যুগের মত আবিষ্কার গুলো ছিলো কিনা বা এখনকার যুগের মত সুযোগ সুবিধা ছিলো কিনা এটা দিয়ে সেই যুগকে বিবেচনা করা চলেনা । উন্নত এবং জীবনের সঙ্গা যায়গা এবং আবিষ্কার এবং আপেক্ষিকতা (আপেক্ষিকতা তত্ব মতে সার্বজনীন সত্য বলে কিছু নেই ,সত্য দৃষ্টি স্থান পরিবেশ ও ক্ষমতা ভেদে ভিন্ন হতে পারে ) ভেদে ভিন্ন হতে পারে । ধরুন আপনি একটা যায়গাতে স্থির ভাবে দাড়িয়ে আছেন, আপনার সামনে দিয়ে একটি ১৫০ কি.মি/ঘন্টা গতিবেগে একটি ট্রেন চলে যাচ্ছে । আপনি তখন ট্রেনটিকে আপনার সামনে দিয়ে আধা দৃশ্যমান ও দ্রুত ধাবমান একটি অবজেক্ট হিসাবে দেখছেন । ধরুন পাশাপাশি দুটি ট্রেন –ÔকÕ  ও ট্রেন – ÔখÕ  রাখা আছে  । এই দুইটি ট্রেন কে রাখা হলো নির্দিষ্ট একটা দুরত্ত্বে  । এই দুইটি ট্রেনের স্টার্টিং পয়েন্ট একেবারে এক দাগে রাখা হলো, এই দুইটি ট্রেনের গতি একই সেকেন্ড রাখা হলো । তখন আপনি ক অথবা খ যে ট্রেনের যাত্রীই হোন না কেন উভয় ট্রেনের যাত্রীরা পরষ্পরকে স্থির ও একই স্থানে স্থির দেখবে । শুধু মাত্র যদি কোন যাত্রী  ট্রেনের চাকার দিকে তাকান তবে তিনি দেখবেন চাকা গতিশীল ।এটাই আপেক্ষিকতা । জীব হতে হলেই যে আমাদের মানুষের বসবাসের মত উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে হবে এমন কথা নেই । কারন মানুষই একমাত্র জীব নয় । প্রত্যেকটি জীব এর ভিতর ভাষাগত ও জীবনযাত্রাতে রয়েছে  বিস্তর ফারাক , একটা দুর্বোধ্য দুরত্ব রয়েছে প্রাণীকুলের ভিতর । আমরা মানুষ হয়ে সকল প্রাণী জগতের ভাষা ও জীবনাচরন কি বুঝি ? । প্রাণীর কথা না হয় বাদ দিলাম । শুধুমাত্র আমরা মানব জাতির ভিতর কত বৈচিত্র , কত প্রকারভেদ প্রকরণ । মানব জাতির রয়েছে কত প্রকার ভাষা, এক জনের চেহারার সাথে আরেকজনের চেহারার মিল নেই । দু জন চাইনিজ বা তামিল যদি তাদের নিজস্ব ভাষাতে কথা বলে আর তার পাশে একজন বাঙালী যদি দাড়ানো থাকে তবে তখন কি কিছু বুঝতে পারবে ? চাইনিজ ও তামিল ভাষায় কথা বলা মানুষ দুটোর ভাষা বাঙালীর কাছে দুর্বোধ্য বা পাখির কিচিরমিচির ছাড়া আর কিছু মনে হবেনা ।




(১৪)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৫+১৬


 ঠিক পশু পাখিদের ভাষা বা ডাক
আমাদের কাছে শুধুই ডাক বা কিচিরমিচিরমনে হয় । কিন্তু না তাদের এই ধ্বনি (যেটা শুধু
আমাদের কাছে পাখির কিচিরমিচির ,কুকুরের ঘেউ , গরুর হাম্বা) শুধু অর্থহীন ধ্বনি নয়
। এর মাঝেই লুকিয়ে আছে মানব  জাতির জ্ঞানের
বাইরে প্রাণী জগতের  এক অজানা – দূর্বোধ্য
জগৎ । হতে পারে পশু পাখির সেই জগতে সেই দূর্বোধ্য ভাষাতে লুকিয়ে আছে মানবজাতির
অজানা বিষ্ময়কর জ্ঞানের এক জগৎ ।প্রাণী জগতের এই সব জ্ঞানগুলো যদি মানবজাতির
আয়ত্বে আসতো তবে নিঃসন্দেহে মানবজাতির বিজ্ঞান কয়েকধাপ এগিয়ে যেতো। এই কথাটার অর্থ
বোঝার আগে চলুন জেনে নেই এ পর্য্যন্ত যে যে
প্রাণীদের অত্যাশ্চর্য্য ক্ষমতা মানব চোখে আবিষ্কৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ের বিস্ময়কর কিছু
তথ্য  -




০১) মাছিরা খুব কম সময়
বাঁচে ,এদের জীবনকাল মাত্র ১৪ দিন ।




০২) বিড়ালের
প্রতি কানে রয়েছে ৩২ টি মাংশ পেশী । এদের শ্রবন ক্ষমতা প্রবল ।




০৩)
প্রতিটি মানুষের বিপরীতে রয়েছে এক মিলিয়ন পিপিলিকা । এরা কখনো ঘুমায়না এদের কোন
ফুসফুস নেই ।




০৪)
প্রজাপতির দুই চোখে এক হাজারের ও বেশি লেন্স রয়েছে ।




০৫) শামুক এমন এক প্রাণী যার চোখ নষ্ট হয়ে গেলে আবার নতুন চোখ গজায় ।




০৬)
কুকুরের নাকের প্রিন্ট ইউনিক, এই প্রিন্ট দিয়ে এক কুকুর থেকে আরেক কুকুর কে আলাদা
করা যায় ।




০৭) পেঁচা
নিজের ঘাড়কে ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরাতে পারে ।




০৮) নিশাচর
প্রাণীরা রাতের অন্ধকারে বা অতি স্বল্প আলোতে দেখতে পাই, এটা আমরা সবাই জানি ।
কিন্তু তারা এটা কিসের ভিত্তিতে দেখে জানেন ? আচ্ছা আপনি কোন বস্তুতে যদি তাপ থাকে
তা কি দেখতে পান ?




(১৫)




দেখতে
পাননা , কারন তাপকে দেখা যায়না  ছুয়ে অনুভব
করা যায় । কিন্তু নিশাচর প্রানীরা এই তাপকে দেখতে পাই ! সকল প্রাণীদের দেহে
প্রচন্ড তাপ উৎপন্ন হয়, কারন আমরা বা প্রাণীরা যে খাদ্য গ্রহন করে তা oxygen এর
সাথে জারিত হয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং সেই শর্করা রক্তে মিশে কোষে
পৌছায় ।




তখন দেহের
প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের প্রয়োজনে কোষের ভিতর শর্করা পুড়ে তাপ উৎপন্ন করে ।অর্থাৎ
তাপ বিকিরন করতে থাকে । এসব তাপ ultra-violet(অতি বেগুনী রশ্মি ) সংবেদী চোখে ধরা
পড়ে । এর ফলে দুর থেকে প্রাণী অথবা মানুষের দেহ অবয়ব খুব সহজে নিশাচরী প্রাণীরা
দেখতে পায় । এর কারন নিশাচরদের আছেTapetum Lucidum । আর এর উপর ভিত্তি করে
আবিষ্কৃত হয়েছে Infrared Technology ।




০৯) মিলানোফীলা(MILANOPHILA) নামক এক জাতের গূবড়ে
পোকা আছে যারা ১২ কিলোমিটার দূর থেকে বনের আগুণ লাগা বুঝতে পারে ।




১০) অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মধ্যে ২০০ এর বেশি ভাষা
আছে কিন্তু লিখিত কোন রূপ নেই ।




১১) অক্টোপাসের কোন মস্তিষ্ক নেই কিন্তু একাধিক হৃদপিণ্ড
আছে ।




১২) রেড ফ্লাট বার্ক বিটেল নামক লাল রঙের সুন্দর একটি পোকা
মাইনাস ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও মারা যায়না ।




১৩) উটের দুধ থেকে দই তৈরি করা যায়না ।




১৪) সাপের ছোবলে ঘোড়া এবং বেজি মরেনা ।ঘোড়ার রক্তে
সাপের বিষ ঢুকিয়ে তৈরি হয় সাপে কাটা মানুষ কে বাঁচানোর ইনজেকশন এন্টিভেনম ।ঘোড়া না
থাকলে তাহলে কিভাবে সর্প বিষ প্রতিরোধী ইনজেকশন বানাতাম আমরা ।




১৫)লেজ কাটলে ঘোড়া মারা যায় ।




(১৬)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭+১৮


১৬)হাতি ০৩ থেকে ১২ মাইল দূর থেকে পানি কোথায় আছে জেনে ফেলে
। কিভাবে পানির সন্ধান এত দূর থেকে পায় জানেন ? এর রহস্য লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর
ভাবে হাতির শুঁড়ে । হাতি তার শুঁড় দিয়ে একপ্রকার তরঙ্গ সৃষ্টি করে
। যে পানি শনাক্তকারী তরঙ্গ পানিতে গিয়ে ফিরে এসে জানান দেয় পানির উপস্থিতি ।




১৭)মশার ৪৭ টি দাঁত আছে ।মিলিপডের
plenipes প্রজাতির ৭৫০ টি পা থাকতে পারে ।




১৮)একটি মশা মাত্র এক সেকেন্ডে ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটাতে
পারে ।আর এই এক সেকেন্ড এ যখন ৩০০-৬০০ বার ডানা ঝাপটাতে শুরু করে তখনি আমরা শুনতে
পায় মশা কানের গোঁড়ায় ভন ভন করছে ।মশা
কামড়ায় রক্তের গ্রুপ দেখে ।ব্লাড গ্রুপ O
রা কে সবথেকে বেশি মশার কামড় খায় । ব্লাড গ্রুপ A সবথেকে কম কামড় খায় ।
তাহলে মশা কোন বিজ্ঞান বা বুদ্ধির উপর নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ চেনে সেটা আমাদের
অজ্ঞাত ।




১৯) আমাদের পৃথিবী ঘন্টায় প্রায় ৬৭০০০ মাইল বেগে সামনের
দিকে ছুটে চলেছে




২০) ইলেক্ট্রিক ইল মাছ ৬৫০ ভোল্ট এর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে





২১)প্রতি ঘন্টাতে আমাদের বিশ্বজগত চতুর্দিকে ১০০ কোটি মাইল
বিস্তৃত হচ্ছে মানে     আমাদের বিশ্বজগতের
আয়তন প্রতিদিন চারদিকে ১০০ কোটি মাইল বাড়ছে ।




২২)মানুষের চাইতে কুকুরের নাসিকা দিয়ে  গন্ধ নেবার ক্ষমতা ১০০০ থেকে ২৮০০০ গুন বেশি ।




২৩) আপনি যদি আকশে উড়তে চান কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই তাহলে
আপনাকে সেকেন্ডে ০৭ মাইল দৌড়ে যাবার মত শক্তি থাকতে হবে ।




২৪)আমাদের হৃদপিণ্ড দিনে এক লক্ষ বার স্পন্দন বা বিট তৈরি
করে ।




(১৭)




২৫)পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কফি কফি লুয়াক হল সিভেট বিড়ালের কফি
বিজ খেয়ে ত্যাগ করা মল , কফি বীজ খেয়ে যে মল ত্যাগ করে সিভেট বিড়াল সেই মলই হলো সব
থেকে দামি কফি কফি লুয়াক ।




২৬) মরুভুমির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৭৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস উঠতে
পারে ।




২৭) একটা বজ্রপাতে ১০ মিলিয়ন ভোল্ট বিদ্যুৎ সৃষ্টি হতে পারে





২৮) আপনার ঘরে আলো দেওয়া বাতিটি সেকেন্ডে ৫০ বার জলছে আর
নিভছে কিন্তু আপনি সেটা দেখতে পাচ্ছেননা ।




২৯)মানুষ শুনতে পায় ২০ হাজার হার্জ এর শব্দ ,কুকুর ৪০ হাজার
, ডলফিন দেড় লাখ ,বাদুড় ০২ লাখ  হার্জ
কম্পনের সব্দ শুনতে পায় । তাহলে অনেক অজানা শব্দ আমরা শুনতে পায়না ।কি জানি কত
অজানা কথা লুকিয়ে আছে সেই মানুষের শোনার সামর্থ্যের বাইরের শব্দে ।




৩০)যে প্রানীর আকার যত ছোট সে আশে পাশের গতিশীল বস্তুকে তত
ধীরে দেখে । এজন্য মাছির দিকে আপনি যত জোরে হাত নিয়ে যান না কেন সে দেখে ফেলে
,আপনার হাতের গতির কারনেও আপনার হাতটা সে দেখতে পায় , সাধারনত আমরা গতিশীল বস্তু
আবছা দেখতে পাই । কিন্তু সে সব পরিষ্কার দেখে ।




৩১) সকল পোকামাকড় থেকে পিপড়ার মস্তিষ্কে  আড়াই লাখ বেশি কোষ আছে ।




৩২) পৃথিবীর সকল নদী নালা খাল বিল  সাগর মহাসাগর এ যত পানি আছে   তার তিন
গুন বেশি পানি আছে পৃথিবীর ভিতরে ।




৩৩) পৃথিবীর মাটির নিচে এত স্বর্ন রয়েছে যে তা দিয়ে পুরো
পৃথিবী কে ১.৫ ফুট পুরু স্বর্নের আস্তরন দিয়ে মুড়ে দেওয়া যাবে ।




(১৮)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৯+২০


৩৪)চাঁদ না থাকলে পৃথিবীতে ২৪ ঘন্টার বদলে দিন হত মাত্র ০৬
ঘণ্টায় ।




৩৫)আমরা যতবার হাচি দিই ততবার আমাদের মস্তিস্কের বেশ কিছু কোষ
মারা যায় , যদিও সেই কোষ গুলো দ্রুত তৈরি হয়ে আবার আমাদের মস্তিষ্ক এর ক্ষয় কে
পুরন করে ফেলে ।




৩৬) মধু হল মৌমাছির বমি ।




৩৭) আমাদের চোখের কর্নিয়া হল এমন একটা অঙ্গ যেটাতে শরীরের
রক্ত মোটেই পৌছায়না ।রক্ত বাদেই এই অঙ্গটি তার কাজ করে যাচ্ছে , তাহলে এটা কি করে
চলে ,আর বিষ্ময়কর বাপার হল এটি বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন নেয় ।




৩৮) আমাদের হৃদপিন্ডের রক্ত পাম্প করার যে শক্তি তা দিয়ে
অনায়াসে তিনতলা বাড়ির ছাদে পানি তোলা যাবে ।




৩৯)প্রজাপতি তার পা দিয়ে খাবারের স্বাদ গ্রহন করে ।




৪০)আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া এর হোয়াইট পাহাড়ের একটি পাঈন
গাছ(বিরিষ্টলকন পাইন –PINUS
LONGAEVA) আজ পর্যন্ত দীর্ঘতম জীবিত গাছ , গাছটির বয়স ৫০০০ বছর
প্রায় ।




৪২)আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ২৫
ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে ।




৪৩)প্রতি বছর চাঁদ পৃথিবী থেকে দেড়
ইঞ্চি দূরে সরে যাচ্ছে ।




৪৪) মানুষের শরীরে  নার্ভ বা স্নায়ুর পরিমান ১০০ বিলিয়ন ।




(১৯)




৪৫) ম্যামথ নামে হাতির পূর্ব পুরুষ
যেটি সেই প্রানি টি কিন্তু মিসরের পিরামিড তৈরির সময়ে পৃথিবীতে বিদ্যমান ছিল ।




৪৫) মধু সহজে নষ্ট হয়না । তিন হাজার বছরের পুরনো মধুও খাবার উপযোগী থাকে





৪৬) টিভিতে সিগন্যাল না থাকলে আমরা
যে ঝিরিঝিরি বা জোনাকি পোকার মত দাপাদাপি দেখি সেটা কিন্তু বিগ ব্যাঙ বা যে  মহাবিস্ফোরনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি তার তেজস্ক্রিয়তা
, বর্তমানের এল ই ডি টিভিতে এগুলো দেখা যায়না বললেই চলে , ‌আগের ক্যাথোড রে টিভিতে
দেখা যেতো বেশি ।




৪৭) গোল্ড ফিশ তার স্মৃতি ০৩ সেকেন্ড আগের স্মৃতি ধরে রাখতে
পারে ,তার দেখা কোন কিছু ০৪ সেকেন্ড হয়ে গেলেই সে ভুলে যায় ।




৪৮) আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মহাকাশচারীরা দিনে প্রায়  ১৫ বার সূর্যোদয় ও সুর্যাস্ত দেখেন ।




৪৯) একটা প্রজাপতির ১২ হাজার চোখ থাকে ।




৫০)পাখিদের মধ্যে একমাত্র নিশাচর পেঁচা নীল রঙ দেখতে পায় ।




৫১) উট পাখির মগজ তার চোখের থেকে ছোট ।




৫২) মাছ চোখ খুলে ঘুমায় ।




৫৩) তেলাপোকা তার মাথা ছাড়া ০৯ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে ।




(২০)





কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১+২২


৫৪) এক ধরনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার আবিষ্কার
এর চেষ্টা করছেন আমেরিকান করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ।এটা দিয়ে ধরা
যাবে যে ব্যাপারটা তাহলো আপনি যদি বাঙালি হয়ে চাইনিজ ভাষা লেখেন তবে আপনি যে
বাঙালি সেটা ধরা যাবে ।  





৫৫) একটা অভিযোগ বা কথা প্রায়ই শোনা যায় দাদা নানাদের মুখে
যে , আগের  মত খাবারে আর স্বাদ নেই ,
আমাদের সময়ের খাবারে ব্যাপক স্বাদ ছিল ।কথাটা আসলে বলা ভুল । কারন হল মানুষ
জন্ম গ্রহন করে ০৯ থেকে ১০ হাজার স্বাদ কোরক নিয়ে ।এটা হলও একেবারে ছোটবেলার কথা ।আপনি এই যে
৪০ বা ৫০ বছর বয়ষে এসে অভিযোগ করছেন কোন কিছুতে আগের মত স্বাদ নেই , এখনকার জিনিষ
ভেজাল এটার কারন হল আপনার স্বাদ কোরক গুলো বয়সের সাথে সাথে জিহ্ববা থেকে কমতে থাকে ।এ কারনে ছোটবেলাতে
থেকে তরুন বয়ষ পর্যন্ত স্বাদ কোরক গুলো সম্পুর্ণ 
থাকা এবং কার্যকরী তরতাজা থাকাতে যে কোন খাবারের স্বাদ আমরা ভালভাবে পাই । কিন্তু দেখা
যায় একটা বয়সে এসে আমাদের জিহ্ববার এই স্বাদ কোরকগুলো কমে যেতে
থাকে এবং কার্যকরীতা হারাতে থাকে , সে জন্য দাদা নানারা যখন যুবক থেকে বার্ধক্যে
পৌছান তখন তারা এই অভিযোগ করেনে যে খাবারে আগের মত স্বাদ নেই ,আসলে খাবারের স্বাদ
ঠিক আছে কিন্তু ওনাদের যে জিহ্ববার কোরক ক্ষতিগ্রস্ত বা বয়সের সাথে সাথে কমে গেছে
সেটা ওনারা বা আমরা কেউ বুঝতে পারেননা ।





৫৬) আচ্ছা প্রায়শই আমরা শুনে থাকি জ্যোতিষ বিদ্যা , ভুত
প্রেত , যাদু এগুলো একেবারে ডাহা ভুয়া ।কিন্তু ভুয়া বলুন আর যাই বলুন ঐতিহাসিক
ভাবে এগুলো ০২-০৪ হাজার বছর ধরে মানুষের সাথে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে আছে ।এবং আপনি যত
যুক্তিই দিননা কেন জ্যোতিষ বিদ্যার উপকার ভোগী আর আর ভূতের দর্শনধারী লোকের অভাব তো
নেই বরং শতকরা হিসেবে বেশ ভাল সংখ্যাতে পাবেন আপনি এদের ।





(২১)





- পৃথিবীতে আপনি ভৌতিক যেমন অনেক বাস্তব
উদাহরন পাবেন তেমনি জ্যোতিষ বানী অনেকের জীবনে ফলেছে এমন লোক আপনি সমাজের খেটে
খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের ধনী ও উচ্চ পর্যায়ের মানুষেও পাবেন ।এর পিছনে
বৈজ্ঞানিক কোন যুক্তি থাকুক আর নাই থাকুক ।বৈজ্ঞানিক
যুক্তি না থাকলেও ভাগ্য বিশ্বাস মানুষের মাঝে থাকবে ।পৃথিবীতে কিছু জিনিষ চিরকালই
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার বাইরে থাকবে ।





৫৭) এই মহাবিশ্বের বয়স যতদিন আপনার বয়স ও ততদিন ,মানে মহাবিশ্ব
যদি ১০০০ কোটি বছর বয়সের হয়ে থাকে তো আপনার বয়স ও তাই ।এটা কোন যুক্তিতে
বলা হয় জানেন ? এটা বলা হয় এই যুক্তিতে যে আপনি বা আমি তো পৃথিবী বা মহাবিশ্বে বিদ্যমান
ধাতু বা বস্তু দিয়ে তৈরি , আমাদের শরীর যেসব পদার্থ বা ধাতু দিয়ে তৈরি সেই সব
পদার্থ , বা ব্যাকটেরিয়া ,বা ধাতু গুলো আমাদের শরীরে আসার আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি
শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে  ।সে জন্য আপনি
বা আমি হলাম পদার্থের ভিন্ন অবস্থার রুপান্তর মাত্র , কিন্তু আমাদের দেহ তৈরির  কাঁচামাল ঠিকই মহাবিশ্ব সৃষ্টির সম পুরাতন , সেই
হিসেবে আমাদের বয়স কম নয় !!! ।





৫৮) কালোজাদু আর বিজ্ঞান একই জিনিষ , বিজ্ঞান যদি অশিক্ষিত ,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিবিহীন মুনি ঋষিদের হাতে গিয়ে পড়ে আর
তাদের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকে তবে সেটা হয়ে যায় তন্ত্র ,মন্ত্র ,কাল যাদু । আর যদি
বিজ্ঞান এর আবিষ্কার ল্যাব এ বসা ‌উচ্চশিক্ষিত ডিগ্রিধারী ব্যাক্তির দ্বারা আবিষ্কার
হয়ে মানুষের কল্যানে ছড়িয়ে যায় তবে সেটা হয় বিজ্ঞানের আশীর্বাদ বা বিজ্ঞানের
আবিষ্কার ।মুলত বিজ্ঞান আর কালজাদু তন্ত্র মন্ত্র সবই
বিজ্ঞানের ভেরিয়েসন বা  রুপ , যদি সত্যিকারের কার্যকরী
তন্ত্র মন্ত্র থাকে ।এই মূহূর্তে খেয়াল আসছেনা কিন্তু কোথায় যেন
পড়েছিলাম ভারতের কোন এক উপজাতিরা কোন রকম শিক্ষাজ্ঞান ছাড়াই বংশপরষ্পরাতে প্রাপ্ত
জ্ঞান দ্বারা নিখুতভাবে কাটা নাক জোড় লাগাতে পারতো । ধরুন আপনি এমন একটা শক্তির
সন্ধান পেলেন যেটা পৃথিবীতে সবার অজানা , আপনি এটা যদি নিজের নামে পেটেন্ট করে
বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশ্যে ব্যবহার করেন তবে মোবাইল , কম্পিউটার , টেলিভিশন এর মত সারা
পৃথিবীর মানুষ ব্যবহার করে উপকৃত হবে , সাথে আপনি হয়ে উঠবেন মানব ইতিহাসে অমর এবং আর্থিক
ভাবে সম্পদশালী।





(২২)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৩+২৪


কিন্তু যদি এমনটা  হয়  আপনি অজানা যে শক্তির সন্ধান পেয়েছেন সেটা গোপন রাখলেন আর সেটার ব্যবহার একমাত্র আপনি জানলেন তাহলে আপনি অতিমানব বা সুপার ম্যান হয়ে থাকবেন , বা বংশানুক্রমে বা বিশেষ কোন গোষ্ঠী গঠন করলেন , বিষয়টা এমন যে শুধুমাত্র গোপন সেই গোষ্ঠীর সদস্যরা আপনার সেই বিদ্যার ব্যাপারে জানলো এবং বংশানুক্রমে সেই গুলো তাদের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকলো বা উপযুক্ত উত্তরাধিকার বা সংরক্ষন অভাবে আবিষ্কৃত বিদ্যা হারিয়ে গেল এরকমটা  হতে পারে । অবিশ্বাস্য হলেও এরকম কেউ বা কিছু আপনার চারপাশে বা আধুনিক পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু যায়গা , কিছু মন্দির , চীনের সাওলিন টেম্পল ও মার্শাল আর্ট , ইলুমিনাতি , মায়ান পুরোহিত , ফ্রী মেসন , রথসচাইল্ড পরিবার , ভ্যাটিকান এর গোপন লাইব্রেরী , ষোড়শ শতকের অজ্ঞাত ভাষাতে লেখা ভয়নেচ পান্ডুলিপি (কি কারনে , কি বিষয়ে বা কেন লেখা হয়েছিল কেউ জানেনা , তবে ধারনা করা হয় রসায়ন শাস্ত্রের বর্তমান বিজ্ঞানেও নেই এমন কিছু বিশেষ বিদ্যা এতে বিশেষ কোন ভাষায় লেখা , যেটা প্রচলিত কোন ভাষা নয় , কারো বানানো বাক্তিগত ভাষা ), সম্রাট অশোকের দি  , তিব্বতের(তিব্বত তো এ যুগেও মানুষের কাছে খুব বেশি কিছু না জানা একটা যায়গা ) ভিক্ষুরা এসবই কালযাদু বা






রহস্যময় সেই ভয়নেচ পান্ডুলিপি




(২৩)





- গুপ্তবিদ্যার উদাহরন ,  কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক চিন্তা করলেন তিনি আর যুদ্ধ বিগ্রহ করবেননা ।যতদিন বেঁচে থাকবেন মানব কল্যান , জ্ঞান সাধনা আর ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকবেন ।দেশের সকল জ্ঞানীদের থেকে বেছে শ্রেষ্ঠ নয়জন কে তিনি নির্বাচন করলেন ।এইচ জি ওয়েলস বলেছিলেন তার ‘’Outline Of World History’’ গ্রন্থে যে সকল ভারতবর্ষের ইতিহাসে হাজার সম্রাট থাকতে পারেন কিন্তু , অশোক এক আকাশে এক তাঁরা হিসেবে আলাদা ভাবে জ্বলবেন ।রক্তপিপাসু চণ্ডাশোক যিনি কিনা কলিঙ্গ যুদ্ধ দেখে রক্তপাত ছেড়ে দেন। ১৯২৩ সালে আমেরিকান লেখক Talbot mundy এর the nine unknown  নামে একটা উপন্যাস লেখেন যেটা মুলত এই মিথ নিয়ে লেখা প্রথম কোন উপন্যাস। এবার আসুন দেখে নিই সম্রাট অশোকের দি নাইন বা নয়জন মহাজ্ঞানী ব্যক্তিরা কতটুকু জ্ঞানী ছিলেন সে বিষয়ে, এই নয়জনের কাজ ছিল নয়রকম , নয়টি বিষয়ে তাদের যে জ্ঞান সেটা শুনলে এই আধুনিক যুগেও আপনি শিউরে উঠবেন , বলা হয় আধুনিক যুগের এত আবিষ্কার এ এই নয়টি বইয়ের অবদান অবশ্যই স্বীকার করতে হবে





রহস্য সংগঠন ইলুমিনাতি




(২৪)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫+২৬


১। প্রথম বইটিতে আলোচনা
করা হয়েছিল , প্রোপাগান্ডার(প্রচার – হোক সত্য বা মিথ্যা , সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করা  ) কলাকৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ সম্পর্কে। মান্ডি নামক একজন মনিষীর মতে, ‘বিজ্ঞানের সবচেয়ে
ভয়ংকর ট্রিকস হলো জনগনের
অভিমত কে  নিয়ন্ত্রণ করা। কেননা
এর সাহায্যে যে কারো  পক্ষে সম্ভব সমগ্র বিশ্বকে
নিজের মত করে শাসন করা যুদ্ধ বা
চাপ প্রয়োগ না করেই মানুষ কে নিজের করে নেওয়া ।’





দ্বিতীয় বইতে আলোচনা
করা হয়েছিল শারীরবিদ্যা(ANATOMY) সম্পর্কে , মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রম এবং বর্তমান শারীরবিদ্যা(ANATOMY) থেকে বাতিক্রম অনেক কিছু ছিল, একটি উদাহরণ হল, সেখানে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল যে কীভাবে স্রেফ স্পর্শের মাধ্যমে একজন
মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া সম্ভব । নির্দিষ্ট কিছু স্নায়ুর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা পরিবর্তন করে
দেয়ার মাধ্যমে মানবহত্যার এই বিরল পন্থাকে বলা হতো স্পর্শমৃত্যু।মার্শাল আর্ট কিংবদন্তী ব্রুসলীর মৃত্যূ ও নাকি এই একই
কায়দায় হয়েছিলো ।যদিও মৃত্যূর জন্য কারন বলা হয়েছিল ঔষধের প্বার্শ প্রতিক্রিয়া ও
মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে ফোলাভাব। আপনারা হয়তো প্রাচীন চীনে আজ থেকে কমপক্ষে
২৫০০ বছর আগে আবিষ্কৃত আকুপাংচার পদ্ধতির কথা জানেন নিশ্চয়। এটা হল এমন এক পদ্ধতি যেটার মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু
স্থানে চাপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি গুলোর কার্যক্রম গুলো সঠিক ও পূর্ণ ভাবে
পরিচালনা করে , এই প্রেশার গুলো দিয়ে মানুষের ভালো করাও যায় , ক্ষতিও করা যায়। ধরুন আকুপ্রেসার মতে আপনার পায়ের তলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি
পয়েন্টে নির্দিষ্ট মাত্রার চাপ দিয়ে আপনার লিভার, চোখ, কিডনি এই অঙ্গগুলোর
কার্যক্রম এর উন্নতি ঘটানো সম্ভব , আবার যদি আপনি পায়ের তলাতে জোরে যদি আঘাত করেন
তাহলে , সেটা আবার উপরোক্ত অঙ্গগুলোর ক্ষতি সাধন করবে এটা নিশ্চিত । তাহলে আকুপ্রেসার এর এমন কোন বিন্দু আছে যেটা বর্তমান
আকুপ্রেসার এর বইগুলোতে নেই , সেই পয়েন্ট টা এমন হল যে আপনার সাথে কেউ সৌজন্য
সাক্ষাতের সময় করমর্দন করলো আর আপনার হাতে হোক বা কোলাকুলির সময়ে পিঠেই হোক এমন
কোন একটা ডেডলি আকুপ্রসার অ্যাপ্লাই





(২৫)





করলো যে
আপনার গুরুত্বপূর্ণ নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ বা স্নায়ুর কার্যক্রম সেদিন থেকে বন্ধ হয়ে
আপনি দু মাস পর মারা গেলেন । একপ্রকার
স্লো পয়জন এর কাজ করলো





আকুপ্রেসার এর সেই গুপ্ত বা হারানো মুদ্রাটি । এরকম  কি কোন কিছুর স্বীকার হয়েছিলেন ব্রুস লি ?!!।





রহস্যময় দি নাইন




তৃতীয় বইতে আলোচনা
করা হয়েছিল অণুজীব বিজ্ঞান(microbiology) ও জৈব প্রযুক্তি(biotechnology) নিয়ে । অণুজীব
বিজ্ঞান(microbiology) কাজে লাগে বর্তমান
এর ব্যাকটেরিয়া , ভাইরাস এর গবেষণাতে । এখনকার যত এন্টিবায়োটিক , বিভিন্ন রোগের
ভ্যাকসিন সবই এন্টিবায়োটিক অণুজীব
বিজ্ঞান(microbiology) কল্যানে । আর জৈব প্রযুক্তি (biotechnology) দিয়ে আধুনিক যুগের যে সব কাজ হচ্ছে টা হল
বেকারির কিছু কাজ , brewery(মদ তৈরির কারখানা ) শিল্পে মদ ও বিয়ার তৈরি ,
পেনিসিলিন এর আবিষ্কার এর কাজে ।





(২৬)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৭+২৮


জৈব প্রযুক্তি(biotechnology) এর যাদুকরী দিক টা না বললেই নয় সেগুলো হল ধরুন শুধুমাত্র
একটা গাছের সামান্য কিছু কোষ বা টিস্যু কলা সংগ্রহ করে একটা পাত্রে রেখে দেওয়া হল
আর সেখানে ওই গাছের প্রতিরুপ একটি গাছ তৈরি হতে পারে , হুবহু একজন মানুষ বা
প্রাণীর প্রতিরুপ সৃষ্টি বা ক্লোনিং সবই এই জৈব প্রযুক্তি(biotechnology) এর অবদান । দূর ভবিষ্যতে হয়তো এই জৈব প্রযুক্তি(biotechnology) এর কল্যাণে আমাদের কে গরু বা ছাগলের মাংস খেতে
আর পশু জবাই করা লাগবেনা ল্যাব এ একটুকরো গরুর মাংস বা গরুর মাংশের কোষ থেকে কয়েক
মন মাংস তৈরি সম্ভব হবে  ।





৪। চতুর্থ বইতে আলোচনা করা হয়েছিল রসায়ন ও ধাতুর রূপান্তর বিষয়ে। এক ভারতীয় কিংবদন্তী মতে , ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন ভয়াবহ রকমের খরা দেখা দিয়েছিল, তখনকার  মন্দির গুলো ও ধর্মীয় ত্রান কার্যক্রমের সাথে জড়িত সংগঠনগুলো কোন এক গোপন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণে সোনা পেয়েছিল। কারন তখন স্বর্ণ দিয়ে মুদ্রা তৈরি হতো এবং সর্বোচ্চ মানের মুদ্রা ছিল স্বর্ণমুদ্রা । তাহলে কি তথাকথিত পরশপাথর আবিষ্কারের সুত্র তাদের কাছে ছিল ?






কলিঙ্গ যুদ্ধের (২৬১ খ্রিস্ট পূর্ব) প্রান্তর এর বর্তমান ছবি ভুবনেশ্বর উড়িষ্যা , দয়া নদীর তীর




(২৭)





৫। পঞ্চম বইতে ছিল টেরেস্ট্রিয়াল কিংবা এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল, যোগাযোগের সব ধরণের উপায় সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেয়া ছিল । হয়তো বর্তমানের প্রচলিত সব জ্বীন হাজির করার ব্যাপারটা ছিল এই  সবের অন্তর্ভুক্ত । সেটা তখন বাস্তবে হতো , আর এখন হয়তো শুধুমাত্র তন্ত্র মন্ত্র নামে টিকে আছে । মুল কোন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়তো হারিয়ে গেছে ।   এ থেকে ধারণা করা হয়, নয় নামক রহস্যময় নয়জন মহাজ্ঞানী বাক্তি  এলিয়েন তথা ভিনগ্রহবাসীর অস্তিত্ব সম্পর্কেও অবগত ছিল । হতে পারে এলিয়েন হল প্রাচীন গুহাচিত্রের রহস্যময় মানব বা জ্বীন যাই হোক একটা কিছু।





ষষ্ঠ বইতে আলোচনা
করা হয়েছিল অভিকর্ষ বলের গোপন রহস্য নিয়ে, এবং প্রাচীন বৈদিক বিমান তৈরীর নিয়মকানুন সম্পর্কে । মানে
কিভাবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ভেদ করে বাতাসে ভেসে থাকা সম্ভব এবং কোন উড়ে বেড়ানোর
যন্ত্র আবিষ্কার সম্ভব সেটা বলা হয়েছিল ।





সপ্তম বইতে আলোচনা
করা হয়েছিল সৃষ্টিরহস্য ও মহাজাগতিক নানা বিষয় বস্তু নিয়ে। জীবের প্রান , ইচ্ছামত আয়ু লাভ বা আয়ু
দীর্ঘায়িত করা , পৃথিবীর ও প্রানের সৃষ্টি , ঈশ্বরতত্ব অনেক আধ্যাত্মিক গুঢ় বিষয়ের
আলোচনা ছিল এখানে ।





অষ্টম বইতে আলোচনা
করা হয়েছিল আলোর গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে এবং
কীভাবে আলোকে  ব্যবহার করা যায় একটি
কার্যকরী অস্ত্র হিসেবে । লেসার রশ্মি টাইপের কিছু একটা না হোক অন্তত
আলোর বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্বন্ধে এতে বর্ণনা ছিল ।





নবম বইটির
বিষয়বস্তু ছিল সমাজবিজ্ঞান (social
science)। এতে
আলোচনা করা হয়েছিল কীভাবে সমাজের ক্রমবিকাশ ঘটে , এবং কীভাবেই বা এটি ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বা ধ্বংস
হতে পারে ।  মানে
মানব সভ্যতা কিভাবে উৎকর্ষে পৌছায় আবার ধ্বংস হয়ে , ধ্বংস থেকে শুরু করে আবার
উন্নতির শিখরের চক্রে বন্দি সেটাই আলোচনা করা হয়েছিল ।





(২৮)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯+৩০


দি নাইন  নামক এই
সংগঠনের বৈশিষ্ট্য হলো  এই রহস্যময় মিথ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা নয়(০৯) জনের বেশি হবেনা । কোন
একজনের মৃত্যু ঘটলেই তবে তার জায়গা নেয় নতুন আরেকজন ।এবং এই
নয়জনই ওই পূর্ব নয়জনের দ্বারা পূর্ব থেকে পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষার মাধ্যমে গোপনে
মনোনিত । এভাবে চিরকাল  এই নয় রহস্যময়ের সদস্য
সংখ্যা নয়জনই  থাকে  এবং এই
নয়জনের বাইরে তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কখনোই কোন
মানুষ অবগত ছিল না , বর্তমানে
ও নেই আর  ভবিষ্যতেও থাকবে না এটাই স্বাভাবিক , এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকাটা এই
সংগঠনের সদস্যদের প্রধান শর্ত । এবং
অবশ্যই গোপন এই সংগঠনের সদস্যদের মানসিক ভাবে সৎ , নির্লোভী , মানবতাবাদী , সংযমী
, এসব মহৎ গুনে ভরা পূর্ব জীবনের রেকর্ড থাকা লাগবে ।কারন এরকম সুপার ন্যাচারাল
ক্ষমতা যদি কোন সামান্যতম দুনিয়ার প্রতি মোহ আছে এমন লোকের হাতে পড়ে তবে মানবজাতির
ক্ষতি মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র ।





যদিও কারা এই গুপ্ত সংগঠনের
সদস্য সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলার কোন উপায় নেই , নিশ্চিত ভাবে আঙ্গুল তোলা যায় কারো দিকে এমন
কোন প্রমান পত্র ও নেই । তারপরও
যুগ যুগ ধরে এর অতীত ও বর্তমান সদস্যদের ব্যাপারে নানা গুজব প্রচলিত রয়েছে। ধারণা
করা হয় , দি নাইন এর
সদস্যরা বর্তমানে সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে
পড়েছে , এবং তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি
মানুষের জন্য কতটুকু নিরাপদ এরকম নিয়ন্ত্রণ এর  খুবই উঁচু পদে আসীন রয়েছে ।





আজ পর্যন্ত অসাবধানতা বা অসতর্কতা বশত নয় রহস্যময়ের সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে এখন পর্যন্ত যাদের নাম উঠে এসেছে বা ফাস হয়েছে , তাদের মধ্যে দশম শতকের প্রভাবশালী পোপ দ্বিতীয় সিলভেস্টার ও উপমহাদেশে রকেট বিজ্ঞানের জনক বিক্রম সারাভাই , কিংবদন্তী বাঙালী বিজ্ঞানী যিনি গাছের জীবন ও রেডিও তরঙ্গের উদ্ভাবক জগদীশ চন্দ্র বসুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য । এছাড়া দি নাইনের গবেষণায় বা অনুসন্ধানে ফরাসী অতিপ্রাকৃত গবেষক লুইস জ্যাকলিয়ট এবং ফরাসী physician এবং ব্যাকটেরিয়া গবেষক আলেকজান্ডার ইয়েরসিনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়না , এনাদেরকে সন্দেহভাজন এর তালিকাতে রাখা হয় । আমি আপনি চিরকাল দেখে





(২৯)





আসছি এমন গোবেচারা মানুষদের ভিতরও লুকিয়ে থাকতে পারে অনেক আশ্চর্য ক্ষমতা ।হয়তো আমরা বুঝতে পারিনা । কিন্তু আপনার দেখা দিনের গোবেচারা মানুষটি তো হতে পারে রাতের অন্ধকারে এক অপরাধজগতের সম্রাট ।একটা ঈদের নাটকে ১০ বছর আগে এ রকম একটা অভিনয় দেখেছিলাম সেজন্য বললাম প্রাচীন বিশ্ব ইতিহাস এর একটু গভীরে বা মিথ পর্যায়ে পড়াশোনাতে গেলে   আপনারা একটা জিনিষ দেখতে পারবেন যে  নিজস্ব জ্ঞানকে কুক্ষীগত বা গোপন করে রাখাই হলো গুপ্ত সংগঠনগুলোর বা অতি ক্ষমতার মানুষদের প্রধান কাজ বা  অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য । এমনটি আমরা শুধু দি নাইন বা ইলুমিনাতির ক্ষেত্রেই দেখিনি, দেখেছি প্রাচীন মিশরীয় ফারাউ , নিষিদ্ধ দেশ তিব্বতের তিব্বতীয় মংক বা সন্ন্যাসী গোষ্ঠী , মায়ান পুরোহিত , মুক্ত বা ফ্রি ম্যাসন , রোসিক্রুসিয়ান ও আরো অনেক ব্যাক্তি বা সংগঠনের ক্ষেত্রেই। তারা তাদের অর্জিত ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান অন্য কারও সামনে প্রকাশ করত না বা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করতনা বলেই হয়ে উঠেছিল বা গোপনে হয়তো হয়ে উঠেছে দূর্দমনীয় ও দূর্বোধ্য শক্তি বা সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতার অধিকারী। এবং এরকমটিই  আমরা দেখতে পাই দি নাইন  এর  ক্ষেত্রেও। এখন তাদের সংগঠনের বর্তমান অবস্থান বা সে সম্পর্কে আমরা হয়তো জ্ঞাত নই , কিন্তু এতটুকু অনুমান আমরা করতেই পারি যে,  যতই দিন যাচ্ছে, তাদের গুপ্ত জ্ঞান ও ক্ষমতার সীমা ততই আকাশ ছোঁয়া হচ্ছে  বা বেড়েই চলেছে আপনার আমার চোখের আড়ালে থেকে । একটা ছোট উদাহরণ আপনাদের কে দিই , এখনকার যুগে এই যে কোকা কোলা কোম্পানি যে কোক তৈরি করে , বা সেভেন আপ তৈরি করে , বা মিরিন্ডা তৈরি করে এদের স্বাদ দেখবেন পুরো পৃথিবীর অন্যান্য সকল সফ্ট ড্রিংকস থেকে ভিন্ন , অন্যরা তৈরি করলে এদের কাছাকাছি হয় কিন্তু এদের সমান হয়না ।এ রকম বিখ্যাত  অনেক খাবার  পণ্য , ইলেকট্রনিক্স পণ্য , মোবাইল অনেক কিছুই আপনি পাবেন যেগুলো ফর্মুলা জানা স্বত্তেও এবং একই পার্টস দিয়ে তৈরি পণ্য কোম্পানীভেদে দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সার্ভিস কম বেশি হয়ে থাকে । ঔষধ ও কসমেটিক্স এর উপাদান বা ফর্মুলা সব কোম্পানীরই একরকম , কিন্তু কোন কোম্পানীর ঔষধ বা কসমেটিক্স এ মানুষ উপকার একটু বেশি পায় কেন ? সার্বজনীন সুত্রের বাইরে গিয়ে তারা কিন্তু আলাদাভাবে তাদের গবেষকদের দিয়ে চিরকাল সুত্র অতি গোপনীয় রেখে কোম্পানীকে শীর্ষ অবস্থানে রাখে । তেল মসলা





(৩০)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১+৩২


তো সব
রাধুনীই তরকারিতে ব্যবহার করে থাকে ,কিন্তু 
সবার রান্না কি স্বাদের হয়ে থাকে ? ফ্রাইড চিকেন তো এখন প্রায় প্রতি মোড় এ পাওয়া যায় |কিন্তু কেএফসি কেন অনন্য ? একটা কথা শুনেছিলাম যে কোকা
কোলা
কোম্পানির পানীয় তৈরির সুত্র জানতো মাত্র দুজন , এবং তাদের দুজনের এক
বিমানে চড়া থেকে শুরু করে একসাথে কোন স্থানে যাওয়া বা মিলিত হওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ
। এ সবই এক কায়দার গুপ্তবিদ্যার উদাহরণ।আচ্ছা প্রতিভাবান যে সব লোকেরা আছেন
তারাও কিন্তু এক প্রকার গুপ্তবিদ্যার উদাহরণ তারা নিজেরাও কিন্তু তা বুঝতে পারেননা
।যদি বলেন কেমন , তাহলে বুঝিয়ে বলি ধরুন আপনি শত চেষ্টা করে গলাতে নতুন সুর বা
ভালো সুর আনতে পারেননা ।কিন্তু যিনি একজন ভালো সুরকার বা ভালো কন্ঠশিল্পী তার
ছোয়াতে কিন্তু সাথে সাথেই সেটা সুমধুর হয়ে ওঠে , কিন্তু তিনি নিজেও অ্যাকচুয়ালি
কিভাবে তার কন্ঠে সুন্দর সুর আসে সেটা আপনাকে শেখাতে পারবেননা বা নিজেও বুঝতে
পারবেনা।আবার টিভিতে দেখেন কোন খেলোয়াড় প্রচন্ড গতিতে বল করছে , আপনি কিন্তু
চাইলেই বা ০৫ বছর প্রাকটিস করলেও ওরকম হতে পারবেন এটা মোটেই বলা যাবেনা।কারণ ওই
বোলার এর এমন একটা পেশী বলটা ছোড়বার জন্য প্রচন্ড ফোর্স তৈরি করছে যেটা বোলার নিজে
বোঝাতো  দুরে থাক বিজ্ঞান ও ধরতে পারবেনা ।
আচ্ছা এখনকার বিজ্ঞানীরা  কি
সব আবিষ্কার আমাদের হাতে ব্যাবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন , রসায়নের
সব সুত্র কি স্নাতোকোত্তর পর্য্যন্তর বইয়েও আছে  ? এই প্রশ্নটার উত্তর একটু ভেবে বলুন তো । আমার
মনে হয় যতটুকু মানবজাতির জন্য জানা নিরাপদ ততটুকুই আমরা পাঠ্যবইয়ে পাই  ।    





৫৯) পুনর্জন্ম বলে কি কিছু থাকে ? আচ্ছা যদি থাকে তবে
পুর্বের জন্ম ভুলে যাই কেন , আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন  আজ থেকে ০৫ বছর আগের অমুক তারিখে সকালে কি
খেয়েছিলেন ? দুপুরে কি খেয়েছিলেন এগুলো কেও হঠাৎ করে জিজ্ঞাসা করলে কি বলতে পারবেন
?  অথচ আপনি তো ওই দিনে খেয়েছেন , ওই দিন
ফেলে এসেছেন, তাহলে মনে নেই কেন ? তবে বিশেষ বিশেষ কিছু জিনিস,





(৩১)





বিশেষ কিছু দিন আমাদের মনে থাকে,  তেমন ভাবে আমরা স্বপ্নে মাঝে মাঝে অপরিচিত মানুষের মাঝে নিজেকে দেখি, অপরিচিত সাজে নিজেকে, অপরিচিত মানুষ, অপরিচিত পরিবেশ, অপরিচিত স্থানে দেখি এগুলো কি কোন জনমের ভুলে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া কোন দিন ? সুদুর অতীতে হারিয়ে যাওয়া ফেলে আসা সেই দিন ? কে জানে,শুধু বাজে যুক্তি দেখালাম আর বিনোদন দিলাম মাত্র , বিনোদন নিন পড়ে, বাস্তব না ভাবাই ভালো, কারন একটা কথা আছে যত মত তত পথ, সবার সাথে সবার চিন্তা মিলতে হবে এমন কথা নেই, টিভি, সিনেমা,  নাটক, ইন্টারনেট ফেসবুক ,বই পত্র সবই হলো বিনোদনের জন্য, এগুলোর সব সত্যি হতে হবে এমন কথা নেই। শুনেছি পৃথিবীতে একটা মানুষের মত দেখতে ০৭ টা মানুষ থাকে যাদেরকে বলে Doppelgangers বলে, এই Doppelgangers বা চেহারার মিল আপনার সমসাময়িক সময়ের মানুষ হতে পারে, বা আপনার  সেই Doppelgangers টি হতে পারে আপনার থেকে কয়েক হাজার বছর আগের বা আপনার মত দেখতে মানুষ টি আসতে পারে আরো ৫০০ বা হাজার বছর পর , তো আসুন Doppelgangers দের কয়েকটি ছবি দেখা যাক –






কে বিজয় প্রকাশ আর কে শান আলাদা করুন দেখি




(৩২)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩৩+৩৪






(৩৩)









(৩৪)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩৫+৩৬


খানে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এর নিচের ছবিতে ১৯২০ , ১৯৪১ সালের লোক দুই জন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ , কিন্তু কাকতালীয় ভাবে এই অতীতের দুজন লোকের চেহারার সাথে প্রেসিডেন্ট পুতিনের চেহারার ১০০% মিল




(৩৫)






বামের জন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা , আর ডানের জন ইন্দোনেশিয়ার ইলহাম আনাস




(৩৬)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩৭+৩৮



এই চিত্রকর্মটি পোপ ৯ম গ্রেগরি এর একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জগৎবিখ্যাত ইটালিয়ান চিত্রকর রাফায়েল(১৪৮৩-১৫২০ ইং ) এর হাতে ১৫১১ সালে অংকিত , এই চিত্রের সর্ববামের লোকটি কে সিলভেস্টার স্ট্যালোন এর মত লাগছে কি ? রাফায়েল এবং সিলভেস্টার স্ট্যালোন দুজনই ইটালিয়ান




(৩৭)





akhshay kumar




বিশ্বাস করুন আর নাই করুন আমি কিন্তু বলিউড হিরো ঋত্বিক
রোশনের একজন DOPPELGANGER কে আমাদের যশোর এর ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এ দেখেছি বেশ একটু বড় হয়ে, ২০০৩ থেকে
২০০৫ সালের ভিতর প্রায়ই স্কুলে আসা যাওয়ার পথে অবাক হয়ে  ওনাকে দেখতাম , বেশ স্মার্ট আর ধনী পরিবারের
ছেলে বলে মনে হতো ওনাকে ।আবারও বলছি, ৯০% মিল বলিউড হিরো ঋত্বিকের ফেস এর  সাথে, এখনো উনি আছেন কিন্তু এখন হয়তো বয়সের
কিছুটা ছাপ পড়তে পারে ওনার চেহারাতে। পরিচয় না থাকাতে ওনার ছবিটা দিতে পারলাম না ।
তো এখন কি আর বলবো বলুন, কাকতালীয় ব্যাপার, DOPPELGANGER,
পূর্বজন্ম পরজন্ম যাই বলিনা কেন, সাধারন ব্যাপার হলেই বা কি আর পূনর্জন্ম হলেই বা
কি ? পূর্বের কিছু যেহেতু আমাদের মনে থাকেনা, সেহেতু পূনর্জন্ম হলেই বা কি লাভ
।  আমাদের বর্তমান জীবনের স্মৃতি তিলে
তিলে ক্ষয়ে যায়, এক সপ্তাহ আগের অনেক কিছুই আমরা ভুলে যাই, অতীত জীবনের কিছুই তো
আমাদের মনে থাকছেনা, তার থেকে একটাই মানুষ, একটাই জীবন, একটাই জন্ম, জীবন টা
সূন্দর লাইফ ইজ বিউটিফুল, এটাই মেনে নেওয়া ভালো ।





(৩৮)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩৯+৪০


৬০)একটা তর্ক প্রায়ই লেগে আছে যে মহাবিশ্বে মানুষ ছাড়া আর কোন বুদ্ধিমান প্রানী বা জীব
আছে কিনা ।অবশ্যই আছে, কারন কি জানেন, কারন জীব হতে হলেই
যে মানুষের মত খাওন,চলন এবং বেঁচে থাকার পরিবেশ হতে হবে এমন কারন নেই । সেটা মানুষ
তার জ্ঞান সীমাবদ্ধতা বা মাত্রার সীমাবদ্ধতার কারনে বুঝুক আর না বুঝুক । আর ২য়
যুক্তি হলো আমাদের গালাক্সী তে ৩০০ বিলিয়ন এর মত তাঁরা বা গ্রহ নক্ষত্র আছে । এই গ্রহ
নক্ষত্রের  ০৫ টি গ্রহ বা নক্ষত্রের  যদি প্রতি একটি তেও পানি থাকে তবুও সম্ভাবনার
গ্রহ হয় ৬০ বিলিয়ন ।আমাদের গ্যালাক্সী ছোট তাই এই অবস্থা। এমন এমন
গালাক্সী আছে যাদের তাঁরা ০১ ট্রিলিয়ন ।আমাদের এই মহাবিশ্বে ১৭০ বিলিয়ন (০১ বিলিয়ন =১০০,০০,০০,০০০) গালাক্সী আছে। প্রত্যেক
গালাক্সী যদি এক ট্রিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্র ধারন করে তবে ২৩৮,০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০
টির মত গ্রহ তাঁরা নক্ষত্র আছে ।এর একটিতে ও কি থাকবেনা কেউ ?  ।আর আপনি আমি কোন কিছুর সন্ধান পেতে
পেতে অনেক সভ্যতা ধংশ হয়ে যাবে ।কারন আমাদের অনুসন্ধানী যান দিয়ে পৌছাতে পৌছাতে
দেখা গেল এমন এক গ্রহে জীবন আছে সেখানে পৌছান আমাদের হিসাবে এবং যন্ত্রের ক্ষমতাতে
০৫ বিলিয়ন বছর লাগবে । সেই সভ্যতার আপনি কিভাবে সন্ধান পাবেন , কেউ যদি
থেকে থাকে পৃথিবীর মানুষের মত, অনেক সময় ভিনগ্রহে প্রান খুজতে বা রেসপন্স পেতে
নানা রকম তরঙ্গ ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীর, কিন্তু এটা যে ভিনগ্রহীরা বুঝবে এমন কথা
আছে না কি ?  ধরুন সুর্যের তাপ দিন কে দিন
বাড়ছে ।একসময় দেখা গেল পৃথিবীর তাপ বসবাসের উপযুক্ততা ছাড়িয়ে গেছে , তখন আমাদের কে
অন্য গ্রহ দেখতে হবে । অনেক বিজ্ঞানী বলেন আমাদের মানব সভ্যতা পুরনো
কোন গ্রহের উপনিবেশ মাত্র । আর একটা জিনিস মাত্রা বলে একটা জিনিস আছে ‌সেটা যদি আমরা আয়ত্ত করতে পারি তবেই আমরা অনেক রহস্য ভেদ করতে পারব,নচেৎ
এই সুবিশাল ভাবনার অতীত মহাবিশ্বের কিঞ্চিত পরিমান রহস্য
আমরা ভেদ করতে পারবনা । পরিষ্কার ভাবে আপনাদের সাথে বিভিন্ন মাত্রা
নিয়ে আলোচনা করি, আমরা তৃতীয় মাত্রার আর আমরা তৃতীয় মাত্রার পর্যন্ত দেখতে পাই,
কিন্তু যদি মাত্রা হয়ে যায় ১০টি  মানে ১০ম মাত্রা পর্যন্ত যদি
মানুষ ধরতে পারে তবে কি হতে পারে ? আসুন দেখে আসি –





(৩৯)





প্রথম মাত্রাঃ প্রথম মাত্রার
প্রাণী হলে আপনি শুধু কোন একটি সরলরেখা বরাবর দেখতে ও চলতে পারবেন। আপনার জগত হয়ে যাবে ওই সরলরেখার মধ্যে। আপনার
জগতের বিজ্ঞানীরা তত্ত্ব দিবে যে, আমাদের
এই মহাবিশ্ব সরলরৈখিক। বিগব্যাং এর পর কোন এক কারনে
মহাবিশ্বের সকল পদার্থ সরল রেখাকেই বেছে নিয়েছে। আপনিও
কিন্তু হুট হাট করে বিভিন্ন বস্তুকে আপনার জগতে আসতে এবং উধাও হয়ে যেতে দেখতেন।






দ্বিতীয় মাত্রাঃ অসীম সংখ্যক একমাত্রিক সরলরেখা পাশাপাশি স্থাপিত হয়ে
একটি দ্বিমাত্রিক সমতল তৈরী হয়। দ্বিমাত্রার প্রাণী হলে আপনার কাছে
মহাবিশ্ব হবে দ্বিমাত্রিক। আর মজার ব্যাপার হলো, আপনি তখন চাইলেই শূণ্য ও প্রথম মাত্রার প্রাণীকে
ভয় দেখাতে পারবেন।





আপনি যখন প্রথম মাত্রার প্রাণীর অবস্থিত রেখা বা শূণ্য মাত্রার
প্রাণীর অবস্থিত বিন্দুর উপর দাঁড়াবেন, তখন তারা আপনাকে দেখতে পারবে। কিন্তু
যদি একটু সরে যান তখন আর আপনাকে দেখতে পারবেনা তারা।





তৃতীয়
মাত্রাঃ
ত্রিমাত্রিক প্রাণী সম্পর্কে শুধু
একটি কথা বলাই যথেষ্ট।
মানুষ ত্রিমাত্রিক প্রাণী। আমরা ত্রিমাত্রিক প্রাণী বলেই আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে বুঝতে
পারিনা। কারন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কাজকর্ম আরও বেশী মাত্রায় ঘটে
থাকে। নোবেলবিজয়ী বিখ্যাত মার্কিন পদার্থ
বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান(১৯১৮-১৯৮৮) তার THE CHARACTER OF PHYSICAL LAW -(1965) গ্রন্থে বলেন আমার নিশ্চিত
ভাবে মনে হয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স কোন বাক্তিই বুঝতে পারেনা।
তাহলে বুঝুন ব্যাপারটা কত জটিল যে এই বিদ্যা দ্বারা সঙ্ঘটিত কোন
ঘটনা মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে, এটা নিয়ে আমরা শুধু পড়াশোনা করছি মাত্র,
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত যখন আবিষ্কার হয়েছিল তখন সেটা বুঝত খুব কম লোকেই,
কিন্তু সেটা সর্বসাধারণের বোঝার পর্যায়ে আসতে গিয়ে মানুষের বিজ্ঞান প্রযুক্তি কে
অনেক উন্নত হতে হয়েছে ।যেমন ৪০ বছর আগে মানুষ মোবাইল নামক কিছু
আবিষ্কার হতে পারে এটা চিন্তাও করতে পারেনি,





(৪০)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৪১+৪২


তার বিহীন ভাবে হাজার মাইল দূর থেকে কথা বলাটা বিস্ময় বটে,
যেখানে শুধু আলাদা নাম্বার এর উপর ভিত্তি করে আলাদা নির্দিষ্ট বাক্তির নাম্বার এই
ফোন যাচ্ছে, আকাশ পথে কোথাও সংঘর্ষ হয়ে এক নাম্বার আরেক নাম্বার এর বাক্তির কাছে
যাচ্ছেনা, আপনার আমার পাশের খালি যায়গাটা যে রহস্যময় একটা  কিছুতে পূর্ণ বা আপনি আমি যে অদৃশ্য কোন
মাধ্যমের ভিতর বসবাস করছি সেটা এই মোবাইল বা টিভি না দেখলে বোঝা যেতনা । 






চতুর্থ মাত্রাঃ যদি আপনি চতুর্থ মাত্রার ঘনক তৈরী করতে চান তবে আপনাকে অসীম সংখ্যক ত্রিমাত্রিক ঘনক পাশাপাশি যুক্ত করতে হবে। চতুর্মাত্রিক পদার্থ সময়কে অতিক্রম করতে পারে । অর্থাৎ
আপনি যদি চতুর্মাত্রিক প্রাণী হোন, তাহলে আপনি চাইলেই অতীতে অথবা ভবিষ্যতে যেতে পারবেন।





মানে
সময় ভ্রমন(TIME TRAVELL) সম্ভব হবে। এভাবে আপনি চাইলেই অতীতে গিয়ে কোন
কিছু পরিবর্তন করে বর্তমানকে পরিবর্তন করতে পারবেন । অবশ্য টাইম মেশিন বা টাইম ট্রাভেল এর এই তত্ত্বটা পারষ্পরিক সাংঘর্ষিক ।কারণ
আপনি পিছনে যাবেন সমস্যা নেই , কিন্তু বর্তমান পরিবর্তন করার মতো কিছু করলে পৃথিবী
ধ্বংস হতে সময় লাগবেনা ,কারণ মানব যার যার ইচ্ছামতো পৃথিবীর পরিবর্তন করলে শেটা
নিশ্চয় কারো জন্য হিতকর হবেনা ব্যাপারটা ।





পঞ্চম
মাত্রাঃ
পঞ্চম মাত্রায় গেলে আপনি আপনার
সমান্তরাল ভবিষ্যতগুলোতে যেতে পারবেন। মানে ধরুন আপনার এখন মনে হলো যে, এখন আপনি প্রিয়ার হাতে হাত রেখে সমুদ্রে
জ্যোৎস্না স্নান করবেন, তাহলে এখন আপনি মূহুর্তের মধ্যেই
দেখবেন আপনি প্রিয়াকে নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে বসে আছেন। মানে বাপারটা আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মত । তার জন্যে অতীতকে যেভাবে পরিবর্তন করা দরকার হবে, অতীত নিজেই সেভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ব্যাপারটা খুবই মজার । আরেকটা বিষয়ে বলি তা হলো, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কাজ হচ্ছে পঞ্চম মাত্রায়। যে
কণা পঞ্চম মাত্রার উপর যতো বেশি দখল রাখবে, সেই কণা ততো বেশী তরঙ্গধর্ম প্রদর্শন করে । ফোটন কণা পঞ্চম মাত্রায় থাকে বলেই
একটি ফোটন কণা একই সময়ে ভিন্ন যায়গায় অবস্থান করতে পারে।





(৪১)





ষষ্ঠ
মাত্রাঃ
ষষ্ঠ মাত্রায় আপনি বিগব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণ এর পর এই মহাবিশ্বের যে কোন সময়ে চলে যেতে পারবেন। আপনি হয়তো চিন্তা করতে পারেন, এই কাজ আপনি চতুর্থ মাত্রাতেই করতে পারবেন। হুদাই
ষষ্ঠ মাত্রাতে যাবার কি দরকার? আসলে
আপনি চতুর্থ মাত্রা ব্যাবহার করে অতীতে যেতে পারবেন, কিন্তু
নিজের জন্মের আগে যেতে পারবেন না। নিজের
জন্মের আগে যেতে হলে আপনাকে ষষ্ঠ মাত্রাতেই যেতে হবে । বিভিন্ন
জ্ঞানী স্কলাররা মনে করেন কাউকে যদি হিন্দুদের দেবতা শিবের মত ক্ষমতার অবতার হতে
হয় তবে তাকে কমপক্ষে এই ষষ্ঠ মাত্রার ক্ষমতাবান বা ষষ্ঠ মাত্রার মানুষ বা সৃষ্টি বা এলিয়েন হতে হবে ।






রকমটা ভেবে অনেক বিজ্ঞানীরা বা ভারতীয়রা, 
গ্রীক,  ইনকা, মায়া সভ্যতাতে
অবতারদের সাথে এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল এবং 
প্রাচীন অ্যাটমিক এনার্জির সন্ধান পান ।এ রকম একটা বিস্ফোরক ব্যাপার ঘটে
ভারতীয় বর্তমান সময়ের বিখ্যাত যোগী সাধুগুরু(jaggi vasudev)এর রহস্য অনুষ্ঠান
MYSTIC OF INDIA তে অভিনেত্রী





 কঙ্গনা রণৌত এর উপস্থিতির  একটি c‡e©| এই
অনুষ্ঠানটিতে ভারতের সকল নামী ব্যাক্তিত্বের উপস্থিতি ও আধ্যাতিক আলোচনা লক্ষনীয় ।ইচ্ছা
হলে আর কঙ্গনার নিজ ভাবনার বা মতামতের ভুল কথা ছাড়া কিছু মনে না করলে এই ভিডিও লিংকটি
আপনার ব্রাউজারে পেস্ট করে দেখতে পারেন । মনে হয় নিছক আলোচনা ক্ষেত্রে বেফাস
মন্তব্য করে ফেলেছেন ,যেমনটা হয় আমাদের দেশে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের
উপস্থাপনায় সেন্স অফ হিউমার অনুষ্ঠানে। সঠিক মত হিসেবে বলেননি। লিংকটি https://www.youtube.com/watch?v=rRKMqFPI8sI/হিন্দী ভালো বুঝলে  কঙ্গনা রণৌত এর এই পর্বটি পুরো দেখলে অনেক
জ্ঞানমুলক ব্যাপার সম্বন্ধে আপনি জানতে পারবেন ।





সপ্তম
মাত্রাঃ
সপ্তম মাত্রার প্রাণী হলে আপনি
বা আমি  আমাদের মহাবিশ্ব এমন না হয়ে
অন্য যেমন হতে পারতো সেই সকল মহাবিশ্বে যেতে পারতাম





অষ্টম
মাত্রাঃ
অষ্টম মাত্রায় গেলে আপনি যেতে পারতেন অন্য যে কোন সমান্তরাল
মহাবিশ্বে (PARALLEL UNIVERSE )।





(৪২)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৪৩+৪৪


নবম
মাত্রাঃ
নবম মাত্রায় যদি আপনি কখনো যেতে পারেন তবে আপনি যেকোন মহাবিশ্বের যে
কোন সময়ে চলে যেতে পারবেন। তবে অষ্টম মাত্রা ও
ষষ্ঠ মাত্রা ব্যাবহার করেও কাজটি আপনি করতে পারতেন।
অষ্টম মাত্রা ব্যাবহার করে অন্য কোন মহাবিশ্বে এবং পরে ষষ্ঠ মাত্রা
ব্যাবহার করে সেই মহাবিশ্বের যে কোন সময়ে যাওয়া সম্ভব।
তবে এটি একটু সময় সাপেক্ষ। নবম মাত্রা
দিয়ে আপনি মুহুর্তেই যে কোন মহাবিশ্বের যে কোন সময়ে যেতে পারবেন। ওহ মাই গড, এগুলো কি ভাবা যায়
!!!!!! এগুলো সব স্ট্রিং থিওরি এর কথা ।স্ট্রিং থিওরি এর মতে এই মাত্রা ১০ টি মতান্তরে ১১ টি  ।





তবে
এই বিজ্ঞানের দেওয়া মাত্রার সঙ্গা থেকেই বুঝুন কেন আল
কোরআনে স্রষ্ঠাকে মহাজ্ঞানী বলা হয়, মাত্রার সঙ্গাতেই যদি কোন কিছুর ইচ্ছা বা
কল্পনা করলে হতে পারে তাহলে স্রষ্ঠার বাণী হও বললেই সব সৃষ্টি হয়েছে সেটা সত্য
হবেনা কেন ? এই মাত্রার এই ব্যাপারটা আমি বুঝিনা, আমি বুঝি অন্যভাবে আমি যেভাবে
বুঝি সেটা এই বইয়ের পরবর্তী অংশে আছে ।





আমরা জানি বল (FORCE) হল
চার প্রকার, মহাকর্ষ বল, তাড়িত চৌম্বক বল , 
সবল নিউক্লীয় বল, দূর্বল নিউক্লীয় বল । কিন্তু আরো একটা বল আছে যেটা এই সকল
বলগুলোর একটা কমপ্লেক্স, কিন্তু এই বলগুলোর একটাও না । বলা হয় প্রাচীন মিশরীয়
ফারাউরা এই বল কিছুটা হলে ধরতে শিখেছিল ।





      ২০১৭ তে হাঙ্গেরীর পদার্থবিদ আটিলা ক্রাজনাওর্ক্  প্রোটন কণাকে লিথিয়াম – ৭ নামক লিথিয়ামের আইসোটোপ দিয়ে
আঘাত করে উৎপন্ন হওয়া পরীক্ষার ফলাফলে ফিফথ ফোর্সের কিছুটা আচ পান । হয়তো
দুর ভবিষ্যতে ওনার এই সুত্র ধরে মানুষ রহস্যময় ক্ষমতাধর ফিফথ ফোর্সকে আয়ত্ব করে
ফেলবে ।





চোখ, কান, নাক, জিভ, ত্বক এই পাঁচটি ইন্দ্রিয় মানুষের। কিন্তু
আরও একটা ইন্দ্রিয় আছে মানুষের, ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়, সেটাকে অনেকে বলতে চান আমাদের মন
বা মস্তিষ্ক ।কিন্তু এক্সাকটলি আমাদের মন বা মস্তিষ্ক ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নয়। তবে কী ?
সেটার আলোচনা আমিও করতে পারবো কিছুটা, কিন্তু সেটা করতে গেলে আলোচনার কলেবর অনেক
বেড়ে যাবে। তবে গবেষক দের মতে আমাদের মস্তিষ্কের বিশেষ একটি অংশ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের
কাজ করে। অনেকে এটাকে অবসেন্স মাইন্ড বা অবচেতন মন বলে থাকেন । কিন্তু এটা সেটাও
না। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ক্ষমতা ০৫ টি সুপার ন্যাচারাল





(৪৩)





বিদ্যা/বিষয়ের সমষ্টি(টেলিপ্যাথি, মাইক্রেমেট্রি,প্রিকগনিশন,রিকগনিশ্‌ন, ক্লিয়ারভয়েন্স )। তবে ব্রুস উইলিসের দি সিক্সথ সেন্স (১৯৯৯)মুভি দেখলে এটা সম্বন্ধে কিছুটা অনুমান আপনি পেতে পারেন । সিক্সথ সেন্সের অধিকারীরা ভূত দেখা , মৃত মানুষের আত্বা দেখা,  কারো মৃত্যূ সম্বন্ধে ভবিষ্যতবাণী সহ অসীম স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে পারেন । কেউ বলেন এটা সাইকোপ্যাথ জাতীয় সমস্যা, কেউ বলেন এটা অবিশ্বাস ও করা যায়না , কালেভদ্রে অনেক সময় মেলে ব্যাপারটা বলে ।





৬১) পুরাণ কি ? পুরাণ কি মিথ্যা ? পুরাণ
কি শুধু মিথ ? পুরাণ কি শুধু উপকথা রুপকথা ? মোটেই না পুরাণ সুদূর অতীতের এক হারিয়ে যাওয়া
সত্য, সুদূর অতীতের হারিয়ে  যাওয়া এক অকাট্য বাস্তব ।ইলিয়ড,অডিসি, ট্রয়, রামায়ন মহাভারত,আটলান্টিস
কিছুই মিথ্যা নয় । মিথ্যা যদি হত তাহলে ইরাম, ট্রয়, মহাস্থান গড়, উয়ারি বটেশ্বর,
হেরাক্লিওন পুনরায় আবিষ্কার হতোনা । তাহলে পুরাণ মিথ্যা
কেন হয়ে যায়, গুরুত্ব কেন হারায় ? এই
কারনে হারায় যে পৃথিবীতে চিরকাল আজ চলে
গিয়ে নতুন এক আগামী আসছে, সেই আগামীর
জিনিষের কাছে পিছনের জিনিষ গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে ।গুরুত্ব হারানো সত্য ইতিহাসের নামই পুরাণ ।আমাদের এই সভ্যতায়
একমাত্র চুড়ান্ত উন্নত সভ্যতা নয় , এই সভ্যতার জন্মের আগেও অনেকবার পৃথিবীতে
আমাদের মত বিজ্ঞানময় আধুনিক সভ্যতার জন্ম হয়েছে , ভিন্ন কারনে তা আবার ধ্বংশ ও হয়ে
গিয়েছে ।





         আপনার দাদা আর তার দাদার নাম ঊর্ধে আপনি জানেন কিন্তু তার মানে এই
নয় যে তার দাদার নাম আপনি জানেন না বলে তিনি ছিলেননা,
ব্রিটিশ শাসনের দাপটে আজ থেকে ৪০ বা ৫০
বছর আগের বইয়ে আমরা ব্রিটিশ শাসন
ভালভাবে পড়তাম, তারপর এল পাকিস্তান শাসন,
তারপর আমরা এখন পড়ি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস, আমাদের কাছে কিন্তু ব্রিটিশ ইতিহাসের মুল্য প্রায় উঠে গেছে , মৌর্য ,গুপ্ত ,পাল এসব শাসন ইতিহাসে উল্লেখ আছে, কিন্তু গুরুত্ত হারাতে হারাতে আজ এগুলো পুরাণ এর পাতায় চলে গেছে, আচ্ছা ১৭৫৭ সাল এর
২৩ শে জুন নবাব সিরাজ উদ্দৌলা হেরে যান, কিন্তু পলাশী দিবস তো কেও পালন করিনা,কারন এটা ও গুরুত্ত হারিয়ে
ফেলেছে , এভাবে আমরা ৭১ এ স্বাধীন
হয়েছি তাই ৭১ এর এত দাম, কিন্তু যদি ১০০ বছর পর কোন জাতি আমাদের দখল করে নেয়, আর





(৪৪)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৪৫+৪৬


আমরা ২০ বছর সংগ্রাম করে আমরা স্বাধীন হই তবে ৭১ এর গুরুত্ত নিঃসন্দেহে তখন কমে যাবে বই
কি ? আর ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশ কখন যদি মানচিত্র পরিবর্তিত হয় তবে ইতিহাস তো আরো বদলে যাবে । হয়তো পানির নিচে ডুবে অনেক যায়গা হারিয়ে যাবে, আমাদের বাংলাদেশের অনেক যায়গার পুর্ব নাম তো আমরা ভুলে গেছি সেগুলো
গুরুত্ত হারিয়েছে, আচ্ছা যদি বলি বাংলাদেশের চন্দ্রদীপ যাব,
বা যদি বলি খলিফাতবাদ যাব, এগুলো যথাক্রমে বরিশাল এবং যশোর
এর পুর্ব নাম, এই নাম গুলো কিন্তু পুরাণ এর উদাহরন ।আর গঙ্গারিডি নামটা তো পুরাণ এর খাতাতে চলে গেছে, এই গঙ্গারিডি দখল করতে সম্রাট
আলেক্সান্ডার দ্যা গ্রেট এসে ফিরে গিয়েছিলেন না পেরে সেটা কজন জানে, যশোর এর বর্তমান দড়াটানা মোড়ের ভৈরব নদে  একসময় মিসরীয় নাবিকরা ২০০০-৩০০০ বছর আগে নৌকা ভেড়াতো বাবসার জন্য এগুলো কে জানে, এগুলো ও কিন্তু সেই
পুরাণ এর উদাহরন ।





 পূরাণ হলো সেই সব ঘটনার বা ইতিহাসের সমষ্টি
যেটা বাস্তব সত্য হওয়া স্বত্তেও কালের আবর্তে গুরুত্ব হারাতে হারাতে এক সময় রূপকথা
হয়ে যায় । 





৬২) বর্তমানের বড় বন জঙ্গল ,নদী সাগর মহাসাগর, বর্তমানের বড় মরুভুমি ,বর্তমানের উত্তর মেরু দক্ষিন মেরুর
বরফ ঢাকা অঞ্চল সবগুলো কিন্তু একসময়ের
মহাসভ্যতার কবর মানে একসময় এই যায়গাগুলোতে নির্ঘাত বড় বড় সভ্যতা
ছিল ।দেখা যায় সুন্দরবন এর যায়গাতে ২০০০ বছর আগে সুন্দরবন ছিলনা , ছিল ব্যস্ততম জনকোলাহল এর যায়গা , ০৫ হাজার বছর
আগে সাহারা বা মধ্যপ্রাচ্যের মরুভুমিতে
হয়ত ব্যস্ততম এবং সুজলা সুফলা কোন সভ্যতা ছিল ।আটলান্টিক মহাসাগরের যায়গাতে আটলান্টিস
ছিল ।





         ৬৩)
মহাশূণ্যের গন্ধটা কেমন, মহাশূণ্যে যখন নভোচারীরা বের হন তখন ওই যে ওয়েল্ডিং বা
ঝালাইয়ের দোকানে লোহা পোড়া যে গন্ধ বের হয় সেই রকম গন্ধ ।আর গ্যালাক্সী গুলোর
কেন্দ্রের থেকে রাসপবেরীর গন্ধ আসে । মূলত ইথাইল ফরমেটের(C3H6O2) অস্তিত্ব থেকে ই এই গন্ধ আসে ।   





৬৪)  ভিডিও ব্যাপারটা বা ছবি তোলার
ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হয় না, ব্যাপারটা আপনার
আমার কাছে কত সাধারন একটা ব্যাপার, কিন্তু এটা কত সহজ ভাবে আমাদের সময় কে ধরে
রাখছে , এর পিছনে কত জটিল একটা সমীকরণ কাজ করে





(৪৫)





জানেন ? আপনি যদি কোন ভিডিও দেখেন তবে সেই ভিডিওর
প্রত্যেকটি সেকেন্ড





 অন্তত পক্ষে ২৪ টি
স্থির ছবি বহন করছে ,মানে আপনি এক সেকেন্ড ভিডিও দেখার সময় ভাবতেও পারছেননা যে,
এই  এক সেকেন্ডে আপনার সামনে দিয়ে অন্তত ২৪
টি স্থির চিত্র বা ফটো  চলে যাচ্ছে ।আর সুপার
স্পীড হাই রেজুলেশন ক্যামেরা সেকেন্ডে ০১ মিলিয়ন স্থির চিত্র নিতে পারে ।আপনি আমি এই
ক্যামেরা আবিষ্কার পূর্বে না হওয়াতে সত্যিই দূর্ভাগা, যদি ০২ হাজার বছর পূর্বে
থেকে ক্যামেরা থাকতো, তাহলে আপনি আমি কাদের দেখতে পারতাম, পৃথিবীর সব থেকে স্মরণীয়
সময় গুলো যে গত ০২ হাজার বছরে চলে গেছে ।





৬৫)আমাদের শরীরে ০১ ট্রিলিয়ন ব্যাক্টেরিয়া থাকে {০১
ট্রিলিয়ন =১,০০০, ০০০, ০০০,০০০ টি মাত্র
} ।যার ওজন ০২ কেজি ।মানে আমাদের
শরীরের মোট ওজনের





০২ কেজি ওজন হলো ব্যাক্টেরিয়ার ওজন । এর কোনটা আমাদের জন্য উপকারি, কোনগুলো অপকারী ।এদের যদি আমরা মেরে ফেলতাম শরীর থেকে তাহলে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম /এন্টিবডি একেবারে শূণ্য হয়ে যেত ।দৃশ্যমান যে কোন জীবের শরীরকে বলা যেতে পারে ভিন্ন ভিন্ন জীবের ও ভিন্ন ভিন্ন জটিল যন্ত্রের একত্রিত রূপ মাত্র ।





ভয়েজার থেকে পৃথিবীর ০৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দুর থেকে তোলা ছবি




(৪৬)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৪৭+৪৮


৬৬) আচ্ছা মানুষ কি কোনদিন প্রানের সন্ধান পাবে , আমরা যে
ধারাতে খুজছি সেটা আমাদের জীবন ধরনের সাথের মিল রেখে ভয়েজার নামক মহাকাশ যানটি ০৬
বিলিয়ন কিলো  দূর থেকে পৃথিবীর যে ছবি পাঠিয়েছে তাতে পৃথিবীকে
আলোকজ্জল তাঁরা ছাড়া আর কিছু মনে হয়না , পূর্বের ছবিটা খেয়াল করেছেন কি





৬৭) পৃথিবীতে যত বালুকনা আছে তার থেকে ১০ হাজার গুন বেশি হল
মহাকাশের নক্ষত্রের সংখা ।





৬৮) আমরা পুরো পৃথিবীর মানুষ যতটুকু পানি পান করি সেটা হল
পৃথিবীর মোট পানির মাত্র ০১% !!!!!





৬৯) সাগরে ছড়িয়ে ও খনি হিসেবে  থাকা স্বর্ণের পরিমাণ ৯০ লাখ টন । মানবজাতি আজ
পর্য্যন্ত খনি থেকে মাত্র আধা লাখ টন স্বর্ণ তুলেছে ।





৭০)০৭ কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণী ডাইনোসর কে যারা
শুধু অতিকায় প্রাণী বলে জানি সেই ডাইনোসরের  diplodocus নামের ১১০ ফুট উচ্চতার যেমন প্রজাতি ছিলো তেমনি ANCHIORNIS
নামে মাত্র ১১০ গ্রাম ওজনের ডায়নোসর ও ছিলো । theropod  নামক ডাইনোসর এর একটি প্রজাতি
থেকে পাখির সৃষ্টি বলে মনে করেন বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা ।





৭১) একজন মানুষ দিনে ২৩০৪০ বার শ্বাস প্রশ্বাস নেয় ।





৭২) পৃথিবীর সকল সমুদ্রের মিলে
যতটুকু যায়গা হবে তার ৯৫% যায়গা মানুষের





       কাছে অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে ।





৭৩)  কবুতর অতি বেগুনি রশ্মি বা ইউ ভি রে(ultra violet ray )
দেখতে পায়





৭৪) প্রাকৃতিক মুক্তা ভিনেগারের
মাঝে গলে যায় ।





৭৫) আসল হীরাকে এসিড দিয়েও গলানো
সম্ভব নয় । শুধুমাত্র উচ্চ তাপমাত্রা দিয়ে   





       গলানো যায় ।





৭৬) সেকেন্ডে আলোর গতিতে ছুটলেও
নিকটস্থ ছায়াপথ এন্ড্রোমিডাতে যেতে





       আমাদের ২০ লক্ষ বছর লাগবে ।





(৪৭)





৭৭) একটি মানুষের শরীরের সব রক্ত
খেতে নাকি ১২ লক্ষ মশার প্রয়োজন ।





৭৮) পৃথিবীতে প্রতি বছর ১০ লাখ
ভূমিকম্প হয় । কিন্তু আমাদের টের পাবর মত





       ভূমিকম্প হয় হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র ।





৭৯) আমাদের মস্তিষ্ক ১০ হাজার
বিভিন্ন গন্ধ চিনে ও মনে রাখতে পারে ।





৮০) বাঁশ গাছের কয়েকটি বিরল প্রজাতি
আছে যেগুলো  দিনে ০৩ ফুট বাড়তে





      পারে ।





৮১) পৃথিবীর সব থেকে দূর্লভ মৌল
এস্টেটিন, সারা পৃথিবীতে মাত্র ২৮ গ্রাম আছে ।





৮২) পিপড়ার পাকস্থলী ০২ টি ।





৮৩) পিপড়ার কামড়ে  আমাদের চামড়াতে ফরমিক এসিড(CH2O2) ঢুকিয়ে দেয়





৮৪) ২০০১ সালে ভারতের কেরালাতে রক্ত
লাল রঙের রহস্যময় বৃষ্টি হয়েছিল ।





৮৫) আমরা আসলে খালি চোখে চাদের মাত্র ৫৯% দেখতে পাই ।বাকি ৪১% আমরা দেখতে পাইনা ।আবার এই চাদের ৪১% এ গিয়ে যদি আপনি দাড়ান তবে সেখান থেকে আপনি পৃথিবীকে আপনি দেখতে পাবেন না ।





৮৬) চাদের কারনে পৃথিবীর ঘূর্ণন শক্তি প্রতি ১০০ বছরে ১.৫ মিলি সেকেন্ড করে কমে যাচ্ছে ।









অনেক লম্বা তথ্য কনিকার  পর এবার ফিরে আসি সেই ভাষার প্রসঙ্গে, কিন্তু যদি ওই বাঙালী লোকটি খুব
ভালোভাবে চাইনিজ ম্যান্ডারীন বা তামিল ভাষা জানে তাহলে তার কাছে আরো একটা
জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও অজানা জীবনযাত্রা, ওই ভাষাভাষী মানুষের সুখ দুঃখ,
দিনলিপির মধ্যে তার জন যে একটা পর্দা রয়েছে সেটা সরে নতুন একটা জগৎ তার সামনে
উন্মোচিত হবে । ঠিক এমনই আমাদের সৃষ্টি জগতের সকল সৃষ্টির মাঝে দুরত্ব রয়েছে
।মানুষ হয়ে মানব জাতির সকল ভাষা আমরা বুঝিনা ।





পশু
পাখিদের একটা জগৎ রয়েছে, তাদের একটা নিজস্ব ভাষা ও নির্দিষ্ট নিয়মে আবদ্ধ
জীবনযাত্রা রয়েছে । যেটা আমরা বুঝতে পারিনা, আবার আমরা যেটা করছি, যেটা বলছি সেটা
হয়তো মানুষ ব্যাতীত অন্যান্য সৃষ্টি জগতের কাছে দূর্বোধ্য , অনর্থক, বা ধারনার
অতীত হতে পারে । সুতরাং, এতক্ষন এই কথা ও উদাহরন





(৪৮)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৪৯+৫০


গুলো দিয়ে
সময় নষ্ট করার অর্থ হলো পাঠকের যাতে বইয়ের ভাব বস্তু বুঝতে অসুবিধা না হয়, পাঠক
মাত্রই যেন বুঝতে পারেন জীবন, বুদ্ধি বা সভ্যতার সঙ্গা, পরিবেশ ও কালভেদে ভিন্ন
হতে পারে, জীবন, বুদ্ধি বা সভ্যতার পরিমাপ বিচার আপেক্ষিক, ও মানুষ একেক যুগে তার
প্রয়োজনে একটা না একটা বিদ্যা ও চালিকা শক্তি আবিষ্কার করেছে । সময়ের আবর্তনে সেই
অতি বিদ্যা হারিয়ে গেছে , মানুষ আবার পরিশ্রম করেছে আবার উদ্ভাবন করেছে নতুন অতি
বিদ্যা নতুন চালিকা শক্তি ।কিভাবে মানুষ সুপার এনার্জি ও সুপার নলেজ আবিষ্কার করে
সভ্যতার স্বর্ন শিখরে আরোহন করে, আবার কিভাবে একটা সভ্যতা কালের আবর্তে হারিয়ে
গেছে আবার কিভাবে বর্তমান সভ্যতা হারিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে একেবারে সর্বশেষে
আলোচনা করবো ।তবে বলছিনা এই গ্রন্থের সবকিছু অকাট্যভাবে আপনারা বিশ্বাস করুন, শুধু
মাত্র শক্তিশালী কিছু যুক্তির আলোকে আপনাদের মূল্যবান কিছু সময় নষ্ট করবো ।আপনি
যদি আপেক্ষিকতা বোঝেন তাহলে পরবর্তী লেখাগুলো বুঝতে অসুবিধা হবেনা আশা করি এবং এ
জন্য এত লেখা যে আমরা যে জগতে বসবাস করি সেখানে আমাদের সাথে পাশাপাশি, কাছে, দুরে আমাদের
মতে অসংখ্যা যে সব সাধারন সৃষ্টি(গৃহপালিত বা বন্য পশুপাখি, কীটপতঙ্গ ) বসবাস করছে,
এবং আমরা যাদেরকে বা যে সব কিছুকে, বা যে সব ব্যাপারকে সাধারন ভেবে উড়িয়ে দিই বা
ভাবনায় আনিনা সে গুলোর ভিতর অজানা একটা জগৎ, অজানা কোন রহস্য, অজানা কোন বিজ্ঞান
আছে কিনা একটু ভেবে বা আলোচনা করে সময় কাটাই চলুন  ।





          মানুষের পৃথক চেহারা – পৃথিবীতে বর্তমানে মানব জাতির জনসংখ্যা ৭০০ কোটি । এই ৭০০ কোটি
মানুষের চেহারা এক জনের থেকে আরেক জনের ভিন্ন । এই যে পৃথিবীতে আমরা কত যায়গায়
ভ্রমণ করছি, কত মানুষ পথে ঘাটে চলতে আমরা দেখি, কিন্তু কখনো কি দেখেছেন
হুবহু আপনার কার্বন কপি বা মিরর ইমেজ কাউকে, মানে হুবহু আপনার চেহারার একজন আপনার
মুখোমুখি হতে ?  দেখেননি । তবে বিজ্ঞানীদের
সমীক্ষা মতে প্রত্যেক মানুষর কয়েকজন জন প্রতিরূপ রয়েছে, তবে সেগুলো চেহারার ৬০-৮০%
মিল ।হুবহু নয় আবার মানুষের প্রত্যেকের ফিংগার প্রিন্ট সম্পূর্ন ইউনিক । কারো ফিংগার
প্রিন্ট কারো সাথে মিলবেনা ।





(৪৯)  





তো কথা হলো
আমরা তো একেক জন মানুষ প্রত্যকে প্রত্যেককে আলাদা করে চিনতে পারি, মা এর চেহারার
সাথে বাবার চেহারা গুলিয়ে ফেলিনা । ভাইয়ের সাথে বন্ধুর চেহারা গুলিয়ে ফেলিনা।একজন
মানুষ থেকে আরেক জন মানুষের চেহারা কেন পৃথক করা সম্ভব হয় এটা বোঝাতে একটা ছোট্ট
উদাহরন দিই । আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইল সেটে যদি adobe reader সেট না করা থাকে তাহলে
আপনি নিশ্চই পিডিএফ কোন গল্প বা ফাইল পড়তে পারবেননা । যদি কোন





অডিও বা
ভিডিও প্লেয়ার না থাকে তবে কোন mp3 বা 
video music প্লে করতে পারবেন না ।যারা ওয়েব ডিজাইনার তারা html, css,
javascript এর যে সব কোডগুলো সাজিয়ে একটা প্রিমিয়াম থিম তৈরি করেন বা BBC, CNN ,
দেশ বিদেশের বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলো ডিজাইন করেন, এবং সেগুলো আমাদের
চোখে ইন্টারনেট ও ব্রাউজার সহযোগে দৃশ্যমান হয়ে দেখা দিচ্ছে ।কখনো কি এই সুসজ্জিত
ওয়েবসাইটগুলো প্রোগ্রামার দের করা যে সব হিজিবিজি কোডিং উপর চলছে তা আপনারা কি
দেখেছেন? ড্রিমওয়েভার সফটওয়্যার, ইন্টারনেট কানেকশন, ওয়েব ব্রাউজার ছাড়া এই কোডিং
আমাদের চোখে সুন্দর হয়ে দৃশ্যমান হয়ে ধরা দেবেনা, নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যাতীত শুধুমাত্র হিজিবিজি কিছু লেখা ছাড়া আর কিছু নয় ।তেমনি পৃথিবীর যত
পশুপাখি আছে তারা কিন্তু নিজেদের কে একজন থেকে আরেকজনকে পৃথক করতে পারে
।এটা আপনি আপনার গৃহপালিত পশু পাখি গুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে খুব ভালোভাবে বুঝতে
পারবেন ।একটা মুরগী তার ছানা গুলো বাদে অন্য ছানা গুলোকে ঠিকই পৃথক করে ফেলে বা
আক্রমন করে । একটা গরুর বাছুর ঠিকই দুধ খাবার জন্য দশটা গাভীর ভিতর থেকে তার মাকে
ঠিকই আলাদা করে চিনে তার কাছে এসে দুগ্ধ পান করে । এতক্ষন এটাই বলছি আপনি আস্তিক
হোন আর নাস্তিক হোন মহান স্রষ্ঠা তার সৃষ্টির ভিতর একেক সৃষ্টিতে
একেকটা সফটওয়্যার বা রিডার সেট করে দিয়েছেন । স্রষ্ঠা যে
সৃষ্টির ভিতর যতটুকু ক্ষমতাসম্পন্ন রিডার সফটওয়্যার দিয়েছেন ততটুকুই আমরা অনুধাবন
করতে পারি, ততটুকুই আমরা বুঝতে পারি, আর স্বল্পজ্ঞানের কারনে অন্যান্য মাখলুকাতকে
শুধুমাত্র দু পা বিশিষ্ট বা চার পা





(৫০)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন


কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৫১+৫২


-বিশিষ্ট
শুধু মাত্র খেয়ে দেয়ে জীবনধারকারী কিছু মনে করি ।এ জন্যই আমরা স্বল্প





জ্ঞানে ১০০
গরু / মুরগী এক যায়গায় দেখলে ১০০টি গরুর/মুরগীর চেহারায় ভিন্নতা কিছু দেখিনা ।আপনার
যদি একটা পোষা টিয়া থাকে আর সেই টিয়াকে যদি ১০০ টিয়ার ভিতর ছেড়ে দিলে আপনি তাকে
আলাদা করতে পারবেননা ।কিন্তু পশু পাখিরা তাদের স্ব স্ব প্রজাতিতে এক জন আরেকজনকে
আলাদা করতে পারে  কিন্তু আপনার ভাইকে
একলক্ষ মানুষের ভিতর ছেড়ে দিলেও আপনি তাকে পৃথক করতে পারবেন ।এটাই বলছি যে
মহাবিজ্ঞানী স্রষ্ঠা যে সৃষ্টির রিডারে যতটুকু সীমা দিয়েছেন সে ততটুকু দেখতে পায় ও বুঝতে
পারে ।এটা এক প্রকার চেহারা পৃথককারী সফটওয়্যার।এটা যদি আমাদের ভিতর না থাকতো তো
আমরা মানুষরা অন্যান্য পশুপাখির চেহারায় যেমন কোন পার্থক্য পাইনা তেমনি আমরা
মানুষরাও এক জন আরেকজনকে পৃথক করতে পারতামনা । কারন সবার দুটো চোখ, দুটো হাত, দুটো
পা রয়েছে ।একটু এডাল্ট টাইপের কথায় আসি ,পৃথিবীতে সকল নারী পুরুষের শারীরিক ও যৌন
গঠন একই,, কিন্তু তারপরেও কেন আমরা কোন বিশেষ পুরুষ বা নারীর ভিতর অনেক বেশি
যৌনাকর্ষন অনুভব করি বা কিসের ভিত্তিতে বলতে পারেন ? উত্তরটা হলো তার চেহারা বা
মুখশ্রীর আকর্ষন // এটাই এক প্রাণী আরেক প্রাণীতে আলাদা করে সনাক্ত করতে পারেনা, এ
জন্যই এক প্রাণী আরেক প্রাণীকে বেসিক স্ট্রাকচারে দেখে, পার্থক্য ধরতে পারেনা ।





         তাহলে কথা হলো আমরা যেটা বুঝি বা দেখি
সেটাই কি শেষ কথা ! সৃষ্টি জগতের অগনিত এই সৃষ্টি পশুপাখি কি দেখছে বা তারা কি
বুঝে চলে সেই তাদের চোখে যদি আমরা দেখতে পেতাম তাহলে হয়তো অজানা কোন এক বিজ্ঞান
আমাদের চোখে ধরা দিত । কে বলতে পারে মানব সভ্যতা কোনদিন তাদের বিজ্ঞান কে এই
পর্যায়ে উন্নীত করতে পারবে কিনা ? জগদীস চন্দ্র বসু যদি ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কার না
করতেন তাহলে তো পৃথিবীর মানুষের কাছে গাছের ও জীবন আছে বোধ আছে এটা অজানা থেকে যেতো
।আবার বর্তমানে
আবার এক্তা চাঞ্চল্যকর তথ্য আবিষ্কার হয়েছে গাছের সম্বন্ধে ।ক্রেস্কোগ্রাফ দিয়ে শুধু গাছের জীবন আর স্পন্দন
সম্পর্কে জানা যেত, কিন্তু তার শতবর্ষ পর এসে এখন নতুন একটি গবেষনা বলছে যে আমরা
যে গাছেদের স্থির এবং একজন থেকে একজন কে





(৫১)





পৃথক মনে করি , সেই গাছেরা নাকি একপ্রকার নির্দিষ্ট
ছত্রাকের সাহায্যে একটি গাছ





মাটির নিচ দিয়ে মুলের মাধ্যমে বিভিন্ন গাছের সাথে সোশ্যাল
নেটওয়ার্কিং এর মত বাপক ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, এই কায়দাতে গাছ অন্য প্রজাতির
গাছ কে মেরেও ফেলতে পারে । ওহ মাই গড কি বিস্ময়কর বাপার তাইনা। হয়তো একদিন নবী হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর হাজার হাজার বছর ধরে
চলে আসা কাহিনীর সত্যতা মিলবে, যে তিনি সকল মাখলুকাতের বা সৃষ্টিজগতের সকল প্রাণীর
ভাষা বুঝতেন ।পশু পাখির ডাক বা পাখির কিচিরমিচির যে শুধু কিচিরমিচির নয়, এর ভিতর
লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের মত সমৃদ্ধ সাবলীল ভাষা ও অজানা জ্ঞান তা হয়তো কালের
আবর্তে আবিষ্কার হবে ।জ্বীন নামক অতিমানবীয় ক্ষমতাধর একটা জাতি আছে যারা তার
হুকুমে কাজ করতো । আবার ধর্মগ্রন্থ মতে কিছু পশুপাখি অদৃশ্য কোন কিছু দেখে ডেকে
ওঠে, কুকুর ও গাধার ব্যাপারে এরকমটা শুনতে পাওয়া যায় ।মাঝে মাঝে খেয়াল করবেন বিশেষ
করে গভীর রাতে যখন জেগে থাকেন তখন কখনো সখনো দেখবেন কুকুরের হাড় হিম করা ডাক ।হতে
পারে একদিন বিজ্ঞানের ডাইমেনশন ভেদী উন্নতিতে এগুলোর সত্যতা আমাদের সামনে আসবে
আসলেই কি তারা আমাদের মাত্রা ও দৃষ্টির বাইরের কিছু দেখে ডাক দেয় কিনা ।





         মানব ভাষা – ভাষা বলতে কি বুঝি ? ভাষা হলো
আমাদের ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যম । এই ভাষাতেই আমরা কথা বলছি, আমাদের প্রিয়
সাহিত্য উপন্যাস পাঠ করছি, পথে ঘাটে চলাফেরা করছি, বন্ধুদের সংগে আড্ডা দেওয়া থেকে
শুরু করে সকল কাজ কর্ম যেখানে কিছু বোঝানো বা বলার ব্যাপার রয়েছে সেখানেই ব্যবহার
করছি ভাষা । একেবারে সুক্ষ বিশ্লেষনে আসি । গতানুগতিক ক্লাসের বইয়ের বাইরে আসবো অনেকবার
এই গ্রন্থে । তো ভাষা কি ? আপনি গরমকালে একটা গাছের তলাতে বসে আছেন । গাছ থেকে
একটা ফল পড়লো । ফলটির নাম আম দেওয়া হলো । আপনি বাঙালী । আর এই আম নামটি কবে থেকে
বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে এসেছে এ ব্যাপারে বাংলা ভাষার ইতিহাসে কোন উল্লেখ নেই ।
তো এই আম কে আম নাম না দিয়ে যদি তাল নাম দেওয়া হতো তবে আমকে আমরা আমকে তাল বলে
চিনতাম ।





                                      (৫২)





পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন