কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩৯+৪০

0Shares

৬০)একটা তর্ক প্রায়ই লেগে আছে যে মহাবিশ্বে মানুষ ছাড়া আর কোন বুদ্ধিমান প্রানী বা জীব আছে কিনা ।অবশ্যই আছে, কারন কি জানেন, কারন জীব হতে হলেই যে মানুষের মত খাওন,চলন এবং বেঁচে থাকার পরিবেশ হতে হবে এমন কারন নেই । সেটা মানুষ তার জ্ঞান সীমাবদ্ধতা বা মাত্রার সীমাবদ্ধতার কারনে বুঝুক আর না বুঝুক । আর ২য় যুক্তি হলো আমাদের গালাক্সী তে ৩০০ বিলিয়ন এর মত তাঁরা বা গ্রহ নক্ষত্র আছে । এই গ্রহ নক্ষত্রের  ০৫ টি গ্রহ বা নক্ষত্রের  যদি প্রতি একটি তেও পানি থাকে তবুও সম্ভাবনার গ্রহ হয় ৬০ বিলিয়ন ।আমাদের গ্যালাক্সী ছোট তাই এই অবস্থা। এমন এমন গালাক্সী আছে যাদের তাঁরা ০১ ট্রিলিয়ন ।আমাদের এই মহাবিশ্বে ১৭০ বিলিয়ন (০১ বিলিয়ন =১০০,০০,০০,০০০) গালাক্সী আছে। প্রত্যেক গালাক্সী যদি এক ট্রিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্র ধারন করে তবে ২৩৮,০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ টির মত গ্রহ তাঁরা নক্ষত্র আছে ।এর একটিতে ও কি থাকবেনা কেউ ?  ।আর আপনি আমি কোন কিছুর সন্ধান পেতে পেতে অনেক সভ্যতা ধংশ হয়ে যাবে ।কারন আমাদের অনুসন্ধানী যান দিয়ে পৌছাতে পৌছাতে দেখা গেল এমন এক গ্রহে জীবন আছে সেখানে পৌছান আমাদের হিসাবে এবং যন্ত্রের ক্ষমতাতে ০৫ বিলিয়ন বছর লাগবে । সেই সভ্যতার আপনি কিভাবে সন্ধান পাবেন , কেউ যদি থেকে থাকে পৃথিবীর মানুষের মত, অনেক সময় ভিনগ্রহে প্রান খুজতে বা রেসপন্স পেতে নানা রকম তরঙ্গ ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীর, কিন্তু এটা যে ভিনগ্রহীরা বুঝবে এমন কথা আছে না কি ?  ধরুন সুর্যের তাপ দিন কে দিন বাড়ছে ।একসময় দেখা গেল পৃথিবীর তাপ বসবাসের উপযুক্ততা ছাড়িয়ে গেছে , তখন আমাদের কে অন্য গ্রহ দেখতে হবে । অনেক বিজ্ঞানী বলেন আমাদের মানব সভ্যতা পুরনো কোন গ্রহের উপনিবেশ মাত্র । আর একটা জিনিস মাত্রা বলে একটা জিনিস আছে ‌সেটা যদি আমরা আয়ত্ত করতে পারি তবেই আমরা অনেক রহস্য ভেদ করতে পারব,নচেৎ এই সুবিশাল ভাবনার অতীত মহাবিশ্বের কিঞ্চিত পরিমান রহস্য আমরা ভেদ করতে পারবনা । পরিষ্কার ভাবে আপনাদের সাথে বিভিন্ন মাত্রা নিয়ে আলোচনা করি, আমরা তৃতীয় মাত্রার আর আমরা তৃতীয় মাত্রার পর্যন্ত দেখতে পাই, কিন্তু যদি মাত্রা হয়ে যায় ১০টি  মানে ১০ম মাত্রা পর্যন্ত যদি মানুষ ধরতে পারে তবে কি হতে পারে ? আসুন দেখে আসি –

(৩৯)

প্রথম মাত্রাঃ প্রথম মাত্রার প্রাণী হলে আপনি শুধু কোন একটি সরলরেখা বরাবর দেখতে ও চলতে পারবেন। আপনার জগত হয়ে যাবে ওই সরলরেখার মধ্যে। আপনার জগতের বিজ্ঞানীরা তত্ত্ব দিবে যে, আমাদের এই মহাবিশ্ব সরলরৈখিক। বিগব্যাং এর পর কোন এক কারনে মহাবিশ্বের সকল পদার্থ সরল রেখাকেই বেছে নিয়েছে। আপনিও কিন্তু হুট হাট করে বিভিন্ন বস্তুকে আপনার জগতে আসতে এবং উধাও হয়ে যেতে দেখতেন।


দ্বিতীয় মাত্রাঃ অসীম সংখ্যক একমাত্রিক সরলরেখা পাশাপাশি স্থাপিত হয়ে একটি দ্বিমাত্রিক সমতল তৈরী হয়। দ্বিমাত্রার প্রাণী হলে আপনার কাছে মহাবিশ্ব হবে দ্বিমাত্রিক। আর মজার ব্যাপার হলো, আপনি তখন চাইলেই শূণ্য ও প্রথম মাত্রার প্রাণীকে ভয় দেখাতে পারবেন।

আপনি যখন প্রথম মাত্রার প্রাণীর অবস্থিত রেখা বা শূণ্য মাত্রার প্রাণীর অবস্থিত বিন্দুর উপর দাঁড়াবেন, তখন তারা আপনাকে দেখতে পারবে। কিন্তু যদি একটু সরে যান তখন আর আপনাকে দেখতে পারবেনা তারা।

তৃতীয় মাত্রাঃ ত্রিমাত্রিক প্রাণী সম্পর্কে শুধু একটি কথা বলাই যথেষ্ট। মানুষ ত্রিমাত্রিক প্রাণী। আমরা ত্রিমাত্রিক প্রাণী বলেই আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে বুঝতে পারিনা। কারন কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কাজকর্ম আরও বেশী মাত্রায় ঘটে থাকে। নোবেলবিজয়ী বিখ্যাত মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান(১৯১৮-১৯৮৮) তার THE CHARACTER OF PHYSICAL LAW -(1965) গ্রন্থে বলেন আমার নিশ্চিত ভাবে মনে হয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স কোন বাক্তিই বুঝতে পারেনা। তাহলে বুঝুন ব্যাপারটা কত জটিল যে এই বিদ্যা দ্বারা সঙ্ঘটিত কোন ঘটনা মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে, এটা নিয়ে আমরা শুধু পড়াশোনা করছি মাত্র, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত যখন আবিষ্কার হয়েছিল তখন সেটা বুঝত খুব কম লোকেই, কিন্তু সেটা সর্বসাধারণের বোঝার পর্যায়ে আসতে গিয়ে মানুষের বিজ্ঞান প্রযুক্তি কে অনেক উন্নত হতে হয়েছে ।যেমন ৪০ বছর আগে মানুষ মোবাইল নামক কিছু আবিষ্কার হতে পারে এটা চিন্তাও করতে পারেনি,

(৪০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!