কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৬১+৬২

0Shares

খটখটে পদার্থবিদদের মতে ইলেকট্রিক ডিসচার্জ ফটোগ্রাফি ছাড়া আর কিছু নয় ।কোনটা সত্যি বলবো ? সত্যি সেটা মনে হয় যে যে চোখে দেখে ।ধরুন আমরা জীবনের একটা স্টেপে গিয়ে প্রেমে পড়ি। প্রেম নিয়ে আমাদের সে কি আবেগ, কত সাহিত্য ,কবিতা, গান , সিনেমা,  কত বিশেষণ, কত প্রেমাবেগ, লাইলী-মজনু, শিরী-ফরহাদ কত আখ্যান , আবার এই প্রেমাবেগে অনেক প্রেমীযুগলের একসাথে বিষপানে আত্বহনন, একই রশিতে ঝুলে আত্বহত্যা কত কি ।প্রেম স্বর্গীয়, জনম জন্মান্তরের বন্ধন কত কি শুনি আমরা ।এবারে আসি এই খটখটে বিজ্ঞান দিলোতো আপনার আমার খেয়াল ও আবেগের জগতে জল ঢেলে । রসায়ন বিজ্ঞান বলে কাম-প্রেম-আবেগ এ সবই হলো টেস্টোস্টেরন-এস্ট্রোজেন, ডোপামিন, নোরপাইনফ্রাইন, সেরাটোনিন, এন্ড্রোফিন এর খেলা । নামটা রসায়ন, কিন্তু একেবারে রসকসবিহীন ।

         তবে যতই বিজ্ঞানময়  হোক না কেন, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সবকিছু বিচার না করে আমাদের উচিত কিছু জিনিস আমাদের আবেগ ও সাহিত্যে সীমাবদ্ধ রাখা ।ধরুন আপনি আমি বূঝলাম প্রেম-ভালোবাসা তো শুধুই হরমোনের খেলা, সংসার-সন্তান সবকিছুই তো আপনার আমার বানানো সামাজিক সিস্টেম ।স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন পবিত্র কালেমা পড়ে বা হিন্দুদের মত অগ্নি সাক্ষী রেখে সাতপাক ঘুরে সাতজনমের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পর্ক বলে এ সম্পর্ক থেকে একমাত্র মৃত্যূ ছাড়া আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবেনা এ রকম সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে আছে আমাদের সাথে, পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে কি হবে, বাস্তব ভিত্তি থাকুক বা না থাকুক আমাদের বিশ্বাস আছে জন্ম-মৃত্যূ-বিয়ে এই তিন বিধাতা নিয়ে । এই পুরনো বিশ্বাস গুলোকে অকাট্য ভাবে বিশ্বাস করা বোধ হয় যথেষ্ট ভালো মানব সমাজ ও জাতির জন্য।ধরুন বিজ্ঞান মনষ্কতায় ও দৃষ্টিতে আমরা সবকিছু ভাবলাম বা ভাবতে শুরু করলাম, যেমন প্রেম বলে কিছু নেই সবই রাসায়নিক ব্যাপার-স্যাপার, যৌনতা বা ইজ্জত সম্মান বলে কিছু নেই, ফ্রি সেক্স কান্ট্রি বা সোসাইটি তো রয়েছে, তারা যেটা পারে আমরা পারিনা কেন, এক সঙ্গী বা সঙ্গীনির বাহুডোরে একঘেয়ে যৌনজীবনের থেকে রঙিন

(৬১)

যৌনজীবন যেখানে ইচ্ছামত সঙ্গী বা সঙ্গীনি পরিবর্তন করা যায় সেটা ভালো, সন্তান জন্মদান বিবাহ না করেও সম্ভব, পিতৃ বা মাতৃ পরিচয়ের কি দরকার , সন্তান কোলে পিঠে মানুষ না করে বেবি পালনের কোন কেয়ার সেন্টারে পালতে দিলে হয়, টেস্টটিউব বেবি, গর্ভ ভাড়া করে সন্তান জন্মদান তথা সেরোগোসির পদ্ধতি অনেক কিছুই শুনি আমরা ।এতক্ষন আমাদের রক্ষণশীলতার বাইরে যে কথাগুলো বললাম মানে সনাতন নিয়ম ভেঙে আমরা যদি কেউ এ রকম হতে থাকি কোন সমস্যা নেই । আমার লাইফে আমি ইচ্ছামত মাদক নেবো, ইচ্ছামত বহুগামী-সমকামী হবো, অযথা মানবিক বোধ না রেখে কাউকে খুন করবো তাতে কার কি আসে যায় ? তাতে কার কি ।তাতেও অসুবিধা নেই, অসুবিধা নেই ততক্ষন যতক্ষন এটা কিছু মানুষের ভিতর থাকে ।অসুবিধা তখনই যখন সবাই এই মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে যাবে । ধরুন কালো আছে তাই শ্বেত চামড়ার এত দাম, অসুন্দর আছে বলে সুন্দরীর এত দাম, সব প্রাণী পাতা খায়না, সব প্রাণী মাংস খায়না বলেই কিন্তু ভারসাম্য টিকে আছে।

        সবাই যদি আউট অফ কন্ট্রোভার্সাল রুল মানে রক্ষণশীলতার বাইরে চলে যেতাম তাহলেই মানবজাতি ও সমাজের চুড়ান্ত ধবংশ হতে বেশিদিন লাগতোনা ।ধরুন ১০০ ছেলে আছে একটি দেশে, এই ১০০ জনের সবাই চায় উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হতে , ধরুন এই ১০০ জন ছাড়া আর কোন ছেলেই নেই সেখানে, এবং সবাই লক্ষ্য অনুযায়ী উচ্চ পর্যায়ের বিলাসবহুল জীবনের অধিকারী হলো ।এবার এদের খেদমতে লোক পাবে কোথায় ।হয় তাদের সিস্টেমটাই ধবংশ হয়ে যাবে বা অন্য দেশের কম যোগ্যতার  জনগোষ্ঠী থেকে তাদের অধীনে তাদের কলকারখানা চালাবার জন্য শ্রমিক আনবে । আবার তার এই শ্রমিক তার অধীনে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছে । মালিক মনে করছে আমার অধীনে হাজার হাজার লোক আছে , আমি কত বড় একজন শিল্পপতি, আবার আমাদের দেশ থেকে যে শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছে সে মাসিক বেতনেই সন্তুষ্ট । তা দিয়েই সে তার দেশে থাকা স্ত্রী পরিজন ও মা বাবা সন্তান ও নিজের ভবিষ্যত গড়তে পারছে । যে বেতন সে

(৬২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!