কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯৫+৯৬

0Shares

আর বন্ধুটি সকালে জ্ঞান ফিরে বন্ধুর বাড়ি গিয়ে দেখল সে স্বাভাবিক কাজ করে বেড়াচ্ছে । বন্ধুটির গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। বন্ধুটি নাটক করে বেড়াচ্ছে এই যে সে রাতে সে কোথাও যায়নি । এবং ভুক্তভোগী বন্ধুকে ব্যাপারটা বুঝাতে সক্ষম ও হলো সে । এভাবে দোষী  মানুষের কত দোষ যে ভুত আর নিরীহ নির্দোষী মানুষের উপর পড়েছে তার ইয়ত্তা নেই।আর সুস্থ বন্ধুটি মাছ খাওয়া বন্ধুটির বিকৃত অভ্যাস বা অসুস্থতা স্বম্বন্ধে কোনদিনই জানতোনা।এই না জানাটাই তার কাছে ধরা দিয়েছে ভূতরূপে।আচ্ছা যারা সিরিয়াল কিলার তারা তো তাদের পরিবারের কাছে খুন করে এসেও স্বাভাবিক চলেছে, একসাথে রাতের খাবার খেয়েছে , তারপর যখন একদিন ধরা পড়ে তখন তাদের পরিবারই বিষ্ময়ে ভাবে এই কাজ আমাদের অমুক করতে পারে কখনো ?  ওর রূপ ধরে ভুতে করেছে এসব । যদিও মানুষ সৃষ্টির সেরা তবুও  মানুষের থেকে হিংস্র আর কোন প্রাণী নেই , মানুষের থেকে ভূত বেশি ভয়ংকর নয় ।

এবার আসি কিছু কুসংস্কারের কথাতে 

**** গ্রামে ও শহরে পূর্বে বহুল প্রচলিত একটা ব্যাপার ছিল যে রাতে মাছ কেনা বা বাড়িতে নিয়ে আসা যাবেনা। এর পিছনে গল্প ছিল যে কেউ রাস্তা দিয়ে মাছ নিয়ে এলে তার পিছন পিছন মাছ লোভী ভুতটি ও পিছু নেয়। সাদা কাপড়ে সামনে এসে বা পুরনো গাছ তলাতে লোকটি আসা মাত্রই নাকি সুরে বলে উঠতো এঁই আঁমাকে মাঁছটা দিঁবি ? তো আর কি মাছটা ফেলে হয়তো দিলেন ভো দৌড়, অনেক সময় মাছ না দেওয়াতে ঘাড় মটকে দিল। এটার কি ব্যাখ্যা হতে পারে ? খুবই সহজ এর উত্তর, এখানে ভুত নয়, আছে মানুষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো দেখা যেত যার হাতে বাজারের যে কোন সবথেকে বড় মাছ অথবা ইলিশ মাছ আছে এমন লোকেদের সাথে। তো আপনারা জানেন এই মাছ গুলো সবযুগেই মূল্যবান ছিল এবং সবার এগুলো কিনে খাবার সামর্থ্য সবকালেই নেই , শুনতে খারাপ শোনা গেলেও এটা মানুষেরই কাজ। তৎকালীন বিদ্যুৎ বিহীন যুগের গ্রাম আর শহর গুলো এই চিত্র দৃশ্যায়নের উপযুক্ত মঞ্চ বটে ।

**** দুই তালগাছ এ পা দিয়ে অতি লম্বা ভুত দাড়িয়ে আছে। এটা কোন ব্যাপারই না । রণপা ব্যবহার করে এরকম নাটক মঞ্চস্থ করা কোন ব্যাপারই না ।

(৯৫)

**** রাতে বা সন্ধ্যার পর ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা নখ কাটা ঘোর অমঙ্গলজনক, কারণটা কি ? কারন হল তখনকার দিনে বিদ্যুৎ ছিলোনা, রাতের টিমটিমে বাতিগুলোতে ঘরের মেঝে গুলো আবছা অন্ধকার হয়ে থাকতো বলা চলে।  তো যদি ঘর ঝাড়ু দেবার সময় মহিলাদের কোন স্বর্ণালংকার ঝাড়ুর সাথে চলে যায় তাহলে তা টেরও পাওয়া যাবেনা। আর নখ কাটতে গিয়ে অন্ধকারে হাত বা পায়ের আঙুলে উল্টো পাল্টা ভাবে কেটে যেতে পারে সেজন্য এ সব প্রচলন । আরো কত কুসংস্কার আছে , যেমন কাকের ডাক , পেঁচার ডাক অশুভ ।জমজ কলা খেলে জমজ সন্তান হয় , এ রকম ব্যাপার । কুসংস্কার কিন্তু সমাজের অগ্রগতির জন্য ভয়াবহ বাধা হয়ে যেতে পারে ।এই কুসংস্কারই কিন্তু সতীদাহ প্রথা , জাত পাত বর্ণভেদ , নিরক্ষরতা ,সাস্থ্য অসচেতনতার জন্ম দিয়েছিল । হাল আমলে আফ্রিকার দেশগুলোতে আলবিনো(Albinism) মানুষদের শরীর তাদের কাছে আপনা মাংসে হরিণা বৈরির মত হয়ে গেছে শুধু কুসংস্কার ও কালোজাদুর কারনে ।এছাড়া মানসিক রোগ আর শূচিবাই তো আছে ।

         তাহলে এত ঘটনা যখন আছে , ব্যাখ্যাও যখন আছে তাহলে ভুত কেন দেখা যায়না বা কেন মানুষ এখনো ভুত দেখেনি, বা ভূত না মানুষের কীর্তি এটা উদঘাটন কেন হয়নি ? ।এর কারন হতে পারে ভুত না মানুষ এটা যাচাই করতে গিয়ে যদি সত্যি ভূতের সাথে দেখা হয়ে যায় ? অথবা ভুত বা অতিপ্রাকৃত কিছু দেখার বা সনাক্তকরণের মত কোন যন্ত্র মানুষের এখনো আবিষ্কার হয়নি ।আচ্ছা একটা সময় মানুষ মানুষের ছবি তুলে দেখাতে পারতোনা কোথাও গেলে আনুমানিক আঁকা বা তার সম্বন্ধে বর্ণনা দেওয়া যেত মাত্র কিন্তু তাই বলে কি সেই মানুষ অথবা কোন বর্ণিত জিনিস  ছিলনা ।ঠিক তা নয়, সেই মানুষ তা তখন ছিল, এখন যেমন ক্যামেরা আবিষ্কার হয়েছে বলে আমরা  একজন মানুষ সহজেই তার স্মৃতিকে জীবন্ত ধারন করতে পারছে । এই ব্যাপারটাই তো বড় একটা ভৌতিক ব্যাপার, বড় একটা বিজ্ঞানময় ব্যাপার, বড় একটা কালোজাদু  ।যে আশ্চর্য ব্যাপারটা সবার জানা এবং সবাই ব্যবহার করছে সেটাকে বলি বিজ্ঞান, যেটা সবাই জানেনা, সবাই ধরতে পারেনা সেটাই হলো ভৌতিক বা সেই বিদ্যা হলো কালোজাদু  ।

(৯৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!