কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩৩+১৩৪

0Shares

         মানব জাতি সৃষ্টির পূর্বে জ্বীনদের সৃষ্টি । জ্বীনরা বৃদ্ধ বয়সে পুনরায়  যুবক বয়সের শুরুতে ফিরে আসে ।বলা হয়ে থাকে সাপ এবং কুকুর একপ্রকার জ্বীন ।প্রাপ্ত বয়স্ক হতে মানুষের লাগে ২৫ বছর আর জীনদের লাগে ৩০০ বছর ।মোটামুটি একটা হিসাব করলে দাড়ায় যে জ্বীনরা মানুষের থেকে বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে কয়েক লক্ষ বছর এগিয়ে। তথা কথিত এলিয়েন হয়তো এই জ্বীনেরাই ।জ্বীন দেখার মত বিজ্ঞান এর জ্ঞান অর্জন করতে মানব সভ্যতার আরো অনেক বছর লেগে যাবার কথা। হযরত সুলাইমান আঃ এর সেনা  বাহিনীতে জ্বীন ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায় এবং জ্বীন জাতি হযরত সুলাইমান আঃ বশীভূত ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। পবিত্র কুরআনের সুরা   জ্বীন এ জ্বীন জাতি সম্বন্ধে বলা হয়েছে। আমাদের পিছনে লেগে থাকে বা সঙ্গী হয়ে থাকে এমন জ্বীন কে বলা হয় কারিন নামক জ্বীন।এরা সবসময় আমাদের কে নিয়ে খারাপ বা নিষিদ্ধ কাজ গুলো করতে ওয়াসওয়াসা দেয় । নাম ভেদে মারিদ, সিলা, ঘুল,  ইফ্রিদ, খাঞ্জাব, অলহান বিভিন্ন প্রকার জ্বীন রয়েছে । জ্বীন থাকে একটা ভিন্ন ডাইমেন্সনে। পথে ঘাটে হাটে মাঠে আমরা যত মানুষ দেখি তারা সবাই আমাদের পরিচিত নয়। এর ভিতর কে কি, কার কি নাম, কোথায় যাবে আমরা কেউ জানিনা পথে চলতে গেলে একজন মানুষ সম্বন্ধে। সেই সুযোগটা নিয়ে আমাদের সাথেই জ্বীনদের চলে ফিরে বেড়ানো বিচিত্র কিছু নয়। জ্বীন দের অস্তিত্ব প্রমানের জন্য কার্যকরী কোন তত্ত্ব না পাওয়া গেলেও দিন দিন এন্টিম্যাটার এর ধারনা যত প্রগাঢ়  হচ্ছে তত  বেশি ভাবে জ্বীনদের অস্তিত্ব এর সপক্ষে প্রমান মিলছে। পার্টিকেল ফিজিক্স এ এন্টিম্যাটার এর ধারনা প্রতিপদার্থের ধারনাতে রুপ নিয়েছে ।ডায়নামো বা ক্রিস অ্যাঞ্জেল এর যাদু দেখলে আপনি বুঝবেন কালযাদু বলে কিছু একটা আছে, প্রচলিত স্টেজ ম্যাজিক নয় এগুলো, কোন ট্রিক্স থাকবার প্রশ্নই আসেনা তাদের যাদুতে, ডায়নামোর কয়েকটা যাদুর কথা বলি, হাজার হাজার মানুষের সামনে টেমস নদীর উপর দিয়ে হেটে যাওয়া, অন্তত ৫০ জন লোকের সামনে খোলা মাঠে খালি বালতি থেকে অনবরত মাছ বর্ষণ, জিম এ গিয়ে তার শরীর এবং তার থেকে ১০ গুন শক্তিশালী ও কয়েকগুণ বেশি আয়তনের বডিবিল্ডার দের থেকেও বেশি ভার অনায়াসে তোলা যেটা এককথাতে ট্রিক্স ব্যবহার অসম্ভব ।

(১৩৩)

         তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে এনারা যদি এত ক্ষমতাবান হন তবে পৃথিবীতে এত অভাব, অভিযোগ বা যুদ্ধ কি এনারা ম্যাজিক করে দূর করে দিতে পারতেন না, অভাবী লোকেদের ঘরে ঘরে গিয়ে কি এনারা পারতেন না তাদের অভাব দূর করে দিতে? জগতের কল্যাণ করতে? না ইচ্ছা থাকলেও তা পারবেননা, কারন অনেকগুলো হতে পারে ০১ নং কারন হতে পারে – জোরদার ভাবে বলা হয় এনারা প্রাচীন সেই সব গুপ্তবিদ্যার উচ্চস্তরের সাধক, যে সাধনা গুলো শয়তানের উপাসনার মাধ্যমে প্রাপ্তি ঘটে, সকল ধর্ম মতে শয়তান মানবজাতির ভালো চাইবেনা, শুধু মাত্র তার উপাসনার খাতিরে তার সাধকদের এইসব ক্ষমতা সে দিয়ে থাকে, যেটা দিয়ে নিজের আরাম আয়েশ ও বিলাসবহুল জীবনের জন্য ম্যাজিক দেখাতে পারে, নিজেকে বিস্ময় হিসেবে অমর করে রাখতে পারে, কিন্তু পৃথিবীতে স্রষ্ঠার সাথে শয়তানের প্রতিজ্ঞা পরিবর্তন হয়ে যায় এমন কিছু তার সাধক কে সে করতে দেবেনা , একটু অনিয়মে সাধকের মৃত্যু হতে পারে , সুতরাং মানুষের প্রবৃত্তি হল পাঁচ জনের কল্যাণ করতে গিয়ে যদি নিজেকে বিপদে পড়তে হয় নিজের ক্ষতি হয় তার থেকে যদি নিজের কর্মে নিজে ভালো থাকা যায় সেটাই ভালো, এরকম হতে পারে , দেখুন আর একটা বাস্তব উদাহরণ দিই, আমাদের সমাজে এমন ধনী মানুষ আছে যারা ০৭ পুরুষ বসে খাবার মত ধনসম্পদ সঞ্চয় করে ফেলেছে, কিন্তু মানুষের উপকার বা এলাকার উন্নয়ন কিছুই করেনা কেন ? যাদুকর দের ব্যাপার টাও সেরকম, তারা যাদের কাছ থেকে ক্ষমতা পায় তাদের নিষেধাজ্ঞা থাকে, আবার তারা যে জ্বীন বা শয়তানের কাছ থেকে ক্ষমতা পায় তাদের ও আছে পরিবেশ এবং কাল ভেদে সীমাবদ্ধতা । এসব কারনে যাদুকর রা ক্ষমতা থাকলেও সবকিছু করতে পারেনা । আপনারা হয়তো বলবেন এসব যদি সত্য হয় তবে জ্যোতিষী সবার ভবিষ্যৎ বলতে পারে, কিন্তু নিজের ঘরে আগুন লাগবে কবে সেটা জানেনা কেন ? কাওকে হেয় করতে এটাই কিন্তু একমাত্র প্রশ্ন নয়, কয়েকটি প্রশ্ন রাখি, একজন চিকিৎসক তো সারা জীবন অন্যের চিকিৎসা করে বেড়ান, কিন্তু নিজে রোগাক্রান্ত হলে তাকে অন্য চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হয় কেন, একজন রাজমিস্ত্রি ,

(১৩৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!