কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩৫+১৩৬

0Shares

সারা জীবন অন্যের ০৫ তলা বিল্ডিং তৈরি করে দেয়, কিন্তু নিজে ০৫ তলা বিল্ডিং নির্মান এর সামর্থ্য অর্জন করতে পারেনা, একজন নাপিত বা নরসুন্দর কত সুন্দর করে কতজনের চুল কাটে, কিন্তু নিজের চুল কাটতে অন্য নাপিতের কাছে যেতে হয় , শিক্ষকদের উপর সমান শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, শিক্ষকদের ছোট করতে নয় একজন শিক্ষক এর কত ছাত্রই তো শিক্ষকের থেকে কম জ্ঞান নিয়ে বড় বড় পেশা বা ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হয় তার ছাত্ররা, কিন্তু তিনি শিক্ষক এত কিছু জেনেও কেন ছাত্রদের মত বড় পেশাতে যেতে পারেননি ? সিনেমার অভিনেতা অভিনেত্রীরা কত দম্পতির বা প্রেমিক যুগলের সুখী  ও রোমান্স জীবনের   অনুপ্রেরণা, কিন্তু দেখা যায় নিজের জীবনে নিঃসঙ্গ ও রোমান্সবিহীন জীবন কাটাতে হয় তাদের, এ জন্য কারো ক্ষমতার স্বল্পতা বা সীমাবদ্ধতা জেনে তাকে হেয় করা ঠিক নয়, মনে চাইলেই সব প্রশ্নের উত্তর খুজে পাওয়া যায়না ।সব নেই মানে নেই নয়, সব হ্যা মানে হ্যা নয় ।

         কেউ কেউ জ্বীন জাতিকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ দ্বারা ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করে থাকেন । উল্লেখ আছে যে কুকুর, উট, গাধা এরা নাকি জ্বীনদের দেখতে পারে । মানুষ যেমন মাটির তৈরি হলেও তার ভিতর আগুন, পানি, বাতাস এর ও  সংমিশ্রণ আছে তেমনি  জ্বীন আগুনের তৈরি হলেও জ্বীন এর ভিতর জলীয় বস্তুর সংমিশ্রণ লক্ষণীয় । জ্বীন আমরা যেমন অতিমানবীয় মনে করি তা নয়, তাদের ও সীমাবদ্ধতা আছে জ্বীন বিশেষজ্ঞদের মতে । বিশেষ করে লোহা, বিদ্যুৎ, বজ্রপাত, কিছু দোয়া কালাম বা মন্ত্র, লেবু, বৃষ্টির সময় আয়নাইজেশন এরকম কিছু জিনিস প্রতিরোধ করে চলা নাকি জ্বীনদের জন্য সো টাফ ।

         পবিত্র কুরআনের সুরা জ্বীন এর আয়াত ০১ এ বলা হয়েছে বলুন আমার প্রতি অহি নাজিল করা হয়েছে যে , জ্বীনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে , অতঃপর তারা বলেছে আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি । জ্বীনের আক্রমন থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আয়াতুল কুরসি এবং সুরা নাস এর কথা বলা আছে । এতক্ষন যে গুলো বলা হল জ্বীন সম্বন্ধে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বই , মনিষীদের কথা এবং তথ্য উপাত্ত থেকে নেওয়া ।

(১৩৫)

আর ভুত এর ব্যাপারটা একটু ভিন্ন ভুত বলতে সাধারনত বুঝি এমন কোন মানুষের রুপধারী কোন জিনিস বা সৃষ্টি যে কিনা কোন মানুষ মারা গেলে সেই মরা মানুষ টা যদি কারো সামনে দেখা দেয় সেটা হল প্রচলিত ভাষাতে ভুত ।আপনার বাসাতে একটা উঠান আছে সেখানে একটা গাছ আছে, আর সেই গাছে আপনি রাতে দেখলেন একটা সাদা বা কালো কাপড় পরা কেউ বসে আছে । আপনাকে দেখে রক্তাত্ত মুখে বিকৃত অথচ নিঃশব্দ একটা হাসি দিল, আপনি বাড়িতে একা, আবার হতে পারে আপনি ধরুন বাড়িতে একা, রাতে বাথরুমে গেলেন, বাথরুমের আয়নাতে তাকাতেই দেখলেন আপনার মত একজন বেশ রক্ত চোখে আপনার দিকে আয়নার ভিতর থেকে তাকিয়ে আছে, এই আয়নাতে ভুত দেখার ব্যাপারটা নিয়ে দুটো মিথ আছে, ১ম টা হল  ব্লাডি মেরি-  ১৫৫৩ সালের ইংল্যান্ডের রানি মেরি টিউডরই ছিলেন ব্লাডি মেরি, যিনি রাজা ফিলিপের স্ত্রী ছিলেন তখন, ক্ষমতার প্রভাবে তিনি প্রটেস্টাণ্ট দের পুড়িয়ে হত্যা করতেন, তার কোন সন্তান না হওয়াতে এবং দু বার মৃত সন্তান হওয়াতে তাকে রাজা ফিলিপ ত্যাগ করেন ।হতাশা তে তিনি ১৫৫৮ সালের নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন ব্লাডি মেরি । তার নিষ্ঠুরতার কারনে নাম হয় ব্লাডি মেরি ।মেরির মৃতূ্যর পর থেকে জন্ম হয় এই মিথের যে একাকী অন্ধকার ঘরে গভীর রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে তিনবার ব্লাডি মেরি বললে চোখ দিয়ে রক্ত পড়ছে এ রকম একজন মহিলা হাজির হয়, অনেক সময় আয়নার সামনের লোকটিকে হত্যাও করে ।ব্লাডি মেরির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকে মৃত্যূবরণ করেছে । আর একটা প্রচলিত মিথ হলো রাত বারোটার পর থেকে আয়নাতে তাকানো ঠিক নয় । এতে অদৃশ্য জ্বীন বা শয়তান প্রবেশ করে । ভুত নিয়ে আসলে আমরা চিরটি কাল এ রকম অনেক কিছু শুনে আসছি। সত্যি হোক আর মিথ্যা হোক এগুলো আমাদের সমাজে সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবহমান কাল থেকে একা বাড়িতে, একা পথে চলতে আমাদের মনে স্থান দখল করে নিয়েছে, সমৃদ্ধ করেছে হরর সিনেমা, ভৌতিক সাহিত্য, বাচ্চাদের বিছানাতে শুয়ে নানী – দাদীদের কাছে ভুতের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে দুর্দান্ত সেই স্মৃতির যায়গাটা । কোথাও আবার মৃত আত্বা আহবানে প্ল্যানচেট নামক একটি বিতর্কিত পদ্ধতির আশ্রয় নেয়ার কথা শুনতে পাওয়া যায় ।রহস্যময় জিনিসগুলো ভুল বিশ্বাস করলাম কিন্তু এগুলো তারপরেও মানুষের মাঝ থেকে বিলুপ্ত হচ্ছেনা ।

(১৩৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!