কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭৫+১৭৬

0Shares

         কিন্তু শরীরের ভিতর যে মুত্রথলি আর মলাশয় এ বর্জ্য জমা হচ্ছে সেখানে কোন জীবানুনাশক বা স্যাভলন দিয়ে জীবনে কি একবার ও আপনার বা আমার মুত্রথলি বা মলাশয় ধুয়ে ফেলতে হয়েছে , এই দুই যায়গা তো জীবানুর মহা কারখানা , আপনি বা আমি হলুদ , লাল ,সবুজ নানা রঙের ফলের জুস খাই , সেটা যখন প্রসাব আকারে বের হয় তখন কিন্তু হলুদ বা সবুজ হয়ে বের হয়না ,বের হয় স্বচ্ছ পানির রঙ এ , তাহলে আপনার কিডনি টা কত বড় নিয়ামত , কত উন্নত ছাকনি , যে ,  যে ছাকনি রঙ পর্য্যন্ত আলাদা করে রাখে , আপনি ভাত-মাছ –তরকারি সহযোগে ০৫-০৭ পদে খেয়ে পানি পান করেন ,একবার ভাবুন তো আপনি গোশ , মাছ ,ভাত ,তরকার ,ডাল , মিষ্টি , দই একসাথে যদি একযায়গায় একটা পাত্রে ভাল করে চটকে মেশান তবে সেটা কেমন দেখা যাবে , কি বিশ্রী না , এবার ভাবুন তো আপনি বা আমি যখন ০৫-০৭ ভাগে মজা করে খাবার গ্রহন করি তখন এটাতো আমাদের পেটেও এই ভাবে থাকে , আর এই জিনিস গুলো ওই অবস্থাতে সরাসরি রক্তে মিশে যায়না , একটা কল যদি মাটিতে পোতা থাকে আর সেই কলের পাশ দিয়ে পচা নর্দমা থাকে সেই নর্দমার পানি পর্যন্ত মাটি ছুয়ে ঠিকই কলের পানির সাথে মিশে যায় । কিন্তু আপনার শরীরটার ভিতর পুরাটাই পানি ভেদ করবার মত মাংশের স্তর হওয়া সত্তেও খাবার ওই চটকান অবস্থাতে আপনার হার্ট এ বা ফুসফুসে ঢুকে পড়েনা , নির্দিষ্ট ভাবে তৈরি হয়ে , নির্দিষ্ট রুপান্তর শেষে তারপর আপনার সেই খাবারগুলোর বিভিন্ন উপাদান যেটুকু রক্তে যাবার দরকার রক্তে যাচ্ছে , যেটুকু যে হারে যাবার দরকার সে হারে শোষিত হয়ে যাচ্ছে , যেটুকু রক্ত হবার দরকার রক্তে রূপান্তর হচ্ছে ,  যেটুকু বীর্য্য হবার দরকার হচ্ছে , উচ্ছিস্ট টুকু চলে যাচ্ছে মলাশয়ে । কিন্তু আপনার শরীরের ভিতর বিষাক্ত প্রসাব বা মল কখনোই আপনার রক্তে বা শরীরের ভিতর ছড়িয়ে পড়ছেনা , যদি পড়তো দু একদিনের ভিতর অসহ্য যন্ত্রনার সাথে পচন ধরে আমরা মরে যেতাম । ইচ্ছা মত তো শরীরটা নিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন , ইচ্চা মত চলন শক্তি নিয়ে বেড়াচ্ছেন , ইচ্ছা মত মেকাপ করছেন , রুপ প্রদর্শন করছেন , কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার এই যে সুন্দর চেহারা কিসের ভিত্তিতে , নাক মুখ চোখ তো সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দিয়েছেন ,

(১৭৫)

         কিন্তু আপনি কেন অতি রুপবতী , আপনার রুপে পুরুষ কেন একটু বেশি মাতাল হয় , অন্য নারীদের থেকে আপনার রূপ দর্শনে তারা অনেক বেশি প্রশান্তি পায় কারন আপনি সুন্দরী বলে , ওই যে বললাম আপনি সুন্দরী , কিন্তু কেন , অন্য মেয়েদের থেকে আলাদা কেন , নাক মুখ চোখ তো সবার আছে , তাহলে কি ? কারন টা হল স্রষ্ঠার উপহার , আপনার মুখের ত্বকের নিচে উপরে এবং চোয়ালের হাড়ে আর মুখের মাংশপেশীতে স্রষ্ঠা এমন জটিল এক বিন্যাস করে সাজিয়ে দিয়েছেন যে সেজন্য আপনি ঐশ্বরিয়া ,মাধুরী ,শ্রীদেবীর  মত বা ক্ষেত্রবিশেষে তাদের থেকে সুন্দরী , হ্যাঁ ওনাদের থেকেও সৌন্দর্য্যের অধিকারী বাস্তবে হয় ।সেলিব্রিটি মানে সৌন্দর্যের শেষ কথা নয় সেলিব্রিটি হতে হলে সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি  অভিনয় প্রতিভা বা ক্ষেত্র অনুযায়ী গুণাবলী থাকতে হয়  ।জানেন একটা মানুষের জীবনে ০৯ বার তার চেহারার বা রূপের পরিবর্তন ঘটে ?আপনি সুদর্শন বা শক্তিশালী  পুরুষ     ইচ্ছা মত ধুমপান করছেন , জগত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন , কজন ভেবে দেখেছেন কত জটিল প্রক্রিয়াতে আপনার শরীরের এই শক্তিদায়ী , যুবকত্বদায়ী প্রয়োজনীয় হরমোন এল ।শুক্রাণু থেকে কত জটিল প্রক্রিয়াতে মানবজন্ম হল সেটা কি কখনো ভাবেন , ব্যাপারটা  নারীপুরুষের মেলামেশার কারণে স্বাভাবিক ফলাফল মনে হলেও কত জটিল প্রক্রিয়ার ভিতর দশ মাস দশদিনে একটু একটু করে মানবশিশু পূর্ণতা পায় , আকৃতি পায় , লিঙ্গ পরিচয় পায় সেটা কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও বিস্ময়কর এবং একই সাথে রহস্যময় ব্যাপার ।আপনি ঘুমিয়ে যান আবার স্বাভাবিক নিয়মে উঠে যান , কিভাবে সেটা হয় ভাবেন কখনো , ঘুমের ভিতর আপনার টয়লেটে যাবার দরকার হলে ঘুম ভেঙ্গে যায় কখন ভাবেন সেটা , যদি ঘুম না ভাঙ্গত কি হতো ? আপনি যে হাড়িতে ভাত খাচ্ছেন সেই একই হাড়ির ভাত খেয়ে আপনি দিনকে দিন বুড়ো হচ্ছেন আর একই খাবার খেয়ে আপনার ছেলে জোয়ান মরদ হচ্ছে , আপনার সেই ছোট্ট মেয়েটি সবুজ লাউডগার মত সতেজ হয়ে বেড়ে উঠছে , দিনকে  দিন গোলাপের মত রুপবতী হচ্ছে কেন ভাবেন একবার , যদিও স্বাভাবিক চোখে উত্তরটা  সহজ , বয়স বাড়ছে আর আপনার ভিতরের কলকব্জা উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে যদিও বলে দেওয়া যায় , কিন্তু তারপরেও ভাবার ও জানার অনেক কিছু বিস্ময় হয়েই থেকে যায়  ।

(১৭৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!