কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৮৫+১৮৬

0Shares

         আর যে ৩১১,৪,০০০,০০,০০,০০০(৩১লক্ষ১৪হাজার কোটি) বছরের হিন্দুধর্মে বর্ণিত মিথ এর  কথা বলা হল সেটা হওয়াটা বিচিত্র কিছু নয় বরং স্বাভাবিক । কারন বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর বয়শ ৫০০ কোটি বছর ।৫০০ কোটি বছর এ কত কি হতে পারে তাইনা ।যেহেতু স্রষ্ঠার সৃষ্টির একটা পৃথিবীর বয়স যদি ৫০০ কোটি বছর হয়ে থাকে তবে অনন্তকাল আর অনাদি অনন্তের হিসাব টাও  বিচিত্র কিছু নয় একেবারে স্বাভাবিক । একেবারে জিরো বা শূণ্য  থেকে শুরু বা শেষ সীমানা বলে একটা কিছু থাকে , কিন্তু সেটা ক্ষুদ্রের কাছে অনাদি অনন্ত বটে , এবং সেই অনাদি আর অনন্ত চিরকাল অনন্ত থাকবে , সেটা কখনো শেষ হবেনা ,শক্তির নিত্যতার সুত্রের মত রুপ বদল করবে মাত্র , এজন্য লক্ষ লক্ষ সৃষ্টি সৃষ্টি হবে , শেষ ও হয়ে যাবে , কিন্তু স্রষ্ঠা থেকে যাবেন তার নিজের স্থানে ।তার ধংশের কোন সম্ভাবনা নেই ।একটা উদাহরন দিই , যদিও পৃথিবীর কোন রুপ , কোন ,সৃষ্টি , কোন কিছুই স্রষ্ঠার রুপের , অস্ত্বিত্বের বা সত্ত্বার সাথে তুলনীয় নয় , (আল্লাহ মাফ করুন ,আস্তাগফিরুল্লাহি রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি) তবুও সামান্য জ্ঞানে বোঝার সুবিধার্থে বলছি , ধরুন মিস্টার এক্স  পৃথিবীর সব থেকে ধনী ব্যক্তি , এখন  ধরুন ওনার এত সম্পদ আছে যে আজ থেকে তিনি সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়ে শুধু আরাম আয়েশে জীবন অতিবাহিত করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন । এত পরিমাণ সম্পদ ওনার যে প্রতিদিন ০১ কোটি টাকা খরচ করলেও ওনার সম্পদ শেষ হতে প্রয়োজন ৫০০ বছর সময় । মানে বছরে ৩৬৫ কোটি টাকা খরচ করবেন , তাহলে ৫০০ বছর গুন ৩৬৫ কোটি টাকা = ১৮২৫০০,০০০০০০০/= (০১ লক্ষ ৮২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা )  এই হলো আপনি তার সম্পদের না হয় একটা সীমা পেলেন , কিন্তু তারপরেও এটা অসীম সম্পদ বলতে হবে ? তাহলে এই অসীম সম্পদের শেষ আছে , যুক্তিতে আসে এটা , কিন্তু হবেনা সম্পদের শেষ , কারন ওটা তো কতদিন খরচ করলে শেষ হবে তার একটা হিসাব , কিন্তু ওইভাবে তো শেষ হবেনা ভাই ।কারন মিস্টার এক্স  তার জীবনযাত্রাতে  যত বিলাসীতা করুক অত খরচের দরকার নেই , প্রবৃত্তি ও প্রকৃতি গত কারনে কেউ এভাবে টাকা খরচ করবেনা এবং তার মৃত্যূর সাথে ওই সম্পদ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিস্থানে হোক আর

(১৮৫)

         ওনার সন্তানদের ভিতর হোক বেঁচে থাকবে ।আপনার প্রতিদিন ৫০ কেজি খাবার কেনার সামর্থ্য থাকতে পারে , কিন্তু প্রতিদিন ৫০ কেজি খাবার খেতে তো পারবেননা , খাবেনও না  । স্রষ্ঠা এবং মহাশক্তি হল বোঝার সুবিধার্থে একটা প্রায় এই সুত্রের কাছাকাছি একটা বিষয় ।যদিও আপনি স্রষ্ঠার আদি বা অন্তের একটা শেষ সীমা অজ্ঞতার কারণে বেধে দেন তবুও সেই সীমাটাকেই আপনি অনাদি অনন্ত বলতে বাধ্য হবেন ।কারন এই অনাদি সময়ের শেষ(৩১১,৪,০০০,০০,০০,০০০(৩১লক্ষ১৪হাজার কোটি) বছর) দেখার জন্য আপনার আমার মত ক্ষুদ্র সৃষ্টি মানুষ  বেঁচে থাকবেনা ,  সে যুক্তিতে সময়ের সীমা থাকা সত্ত্বেও এটি অনাদি এবং অনন্ত বলা চলে এবং যিনি এত কোটি বছরের চক্র নিয়ে মহাকাল নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি নিঃসন্দেহে অনাদি এবং অনন্ত হবার যোগ্যতা রাখেন এবং মহাস্রষ্ঠার শেষ বা শুরু বলে কিছু নেই এটা নিঃসন্দেহে ধর্ম ও তত্ব নির্বিশেষে প্রমানিত হয়ে যায় । আপনি যদি হিন্দু মিথোলজির ৩১১,৪,০০০,০০,০০,০০০(৩১লক্ষ১৪হাজার কোটি) বছরের তত্বটাও মেনে নেন , বা বিজ্ঞানের বিগব্যাঙ তত্ব ও মেনে নেন তবেও এই সময়টাও অনাদি অনন্ত ও আদি অন্ত বিহীনতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দেবে আপনার চোখে , এই কথাটার ভিতর আপনি যদি কোন অর্থ খুজে পান বা প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেন তবে আপনি অনেক কিছু বুঝতে পারবেন সৃষ্টি ও স্রষ্ঠাতত্বের । একজন ধনী লোক দেউলিয়া হতে পারে বা ধবংশ হতে পারে , কিন্তু টাকা ধবংশ হয়না , হাত বদল হয় মাত্র , যেমন ধনসম্পদে বিল গেটসকে টপকে বর্তমানে অ্যামাজন ডট কম এর মালিক জেফ বেজোস শীর্ষস্থান দখল করেছেন । পৃথিবীতে শক্তির নিত্যতার সূত্র এমন যে পৃথিবীতে মোট শক্তির পরিমাণ অপরিবর্তনীয় , শক্তির কোন ধবংশ নেই , শক্তি এক রূপ থেকে আরেকরূপে রুপ বদল করে মাত্র আর টাকা পৃথিবীতে এক রকম থেকেই যায় যুগে যুগে ধনীর হাতবদল হয় মাত্র ।তাই ধনীরা পৃথিবীতে আসবে যাবে , কিন্তু টাকা থেকে যাবে , সম্পদ বা টাকা মরবেনা , যুগে যুগে কালে কালে সে দরকার বা যোগ্যতা অনুযায়ী মানুষের হাতে শোভা পাবে ।

(১৮৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!