কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৯১+১৯২

0Shares

ততক্ষন পর্যন্ত আমরা অনুমান করতে পারতাম মহাবিশ্বের একজন স্রষ্ঠাও ছিল।কিন্তু মহাবিশ্ব যদি সত্যিই পুর্ণরুপে স্বয়ংসম্পুর্ণ হয় এবং যদি এর কোন সীমানা কিংবা কিনারা না থাকে ,তাহলে এর আদিও থাকবেনা অন্তও থাকবেনা , থাকবে শুধু অস্তিত্ত্ব , । তাহলে স্রষ্ঠার স্থান কোথায়?”  । এর অর্থ টা বা উদ্দ্যেশ্য আমি বুঝলাম না , তিনি কি নাস্তিক বলে এটা বললেন ?  আসা করি স্রষ্ঠার অস্তিত্ব বা স্রষ্ঠা কি আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে । মানুষের জানা বোঝা ও দেখার ক্ষমতার বাইরে ও জিনিস রয়েছে । আর একটা বিষয় বলছিলাম যে হারিয়ে যাওয়া মহাদেশ আটলান্টিস নামে একটা মহাদেশের নাম আপনারা শুনেছেন  । এই মহাদেশ নাকি আজ থেকে ১১ হাজার ৫০০ বছর আগের ।আয়তনে এশিয়ার সমান ছিল । দর্শন গুরু প্লেটোর বর্ননাতেও এই মহাদেশের উল্লেখ আছে প্লেটোর টিম্যাউস’ এবং ক্রিটিয়াস’ গ্রন্থে এই মহাদেশের নাম ঊল্লেখ আছেবলা হয় এই মহাদেশ উন্নত ছিল এখনকার আধুনিক যুগের মত জ্ঞান বিজ্ঞানে হতে পারে তার থেকেও বেশি উন্নত ছিল , একটা ইংরেজি কথা আছে আটলান্টিস ,আটলান্টিস  , হোয়্যার ইজ আটলান্টিস , আটলান্টিস ইজ কলিং । এক রাতে নাকি এত বড় মহাদেশটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল । এত বছর আগে উন্নত থাকে যদি তবে পৃথিবির আজকের সভ্যতাও পৌছাতে এত সময় লাগলো কেন ,এই প্রশ্নের  উত্তর আমি এই বইয়ে এর যায়গায় আর একবার দিয়েছি সেটা হলো  বিশ্বায়ন । একটা ক্ষমতা আবিস্কার হলে বর্তমানে সেটা মানব জাতির কল্যানে সব দেশে চলে যাচ্ছে , সবাই এর সুবিধা পাচ্ছে । তারপরে ও এই পৃথিবীতে বুশম্যান , অ্যামাজনের নাম  না জানা , আফ্রিকার জঙ্গলের নাম না জানা নগ্ন জংলি অসভ্য মানুষদের আমরা এত সভ্যতাতে বসবাস করে সভ্য করে তুলতে পেরেছি কি , ওরা তো আমাদের থেকে লাখ লাখ গুন পিছিয়ে সকল দিক থেকে । উন্নত বিশ্বে বিজ্ঞানীদের মাঝে একটা তত্ব আছে যে ,  এখন আমাদের মানব সমাজে অনেক যায়গাতে যে সব দেব দেবীর বা অবতারের প্রচলন আছে তারা কি কোন ওইরকম আটলান্টিস এর মত উন্নত সভ্যতা থেকে এসে আমাদের উন্নত করতে চেয়েছিলেন ¸হতে পারে সেটা ।

(১৯১)

         আমরা যদি এখন অ্যামাজনের আদিবাসীদের আধুনিক অনেক বিজ্ঞানের সংস্পর্ষে নিয়ে আসি আর আধুনিক বিজ্ঞান গ্রহণ না করার গোড়ামী থেকে বের করে আধুনিক বিদ্যা ও যন্ত্র ব্যবহর করাতে পারি তবে তারা নিশ্চয় আমাদের দেবতা জ্ঞান করতে ভুল করবেনা । তবে ঢালাও ভাবে এই মতবাদ আমিও সাপোর্ট করিনা ।কারণ একটা মনগড়া ধারণা তো সত্য হতে পারেনা, হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে, আর এ রকম স্টান্টবাজী বা প্রতারকের দেখা সব ধর্মেই মেলে ।পৃথিবীতে মহান স্রষ্ঠার পক্ষ থেকে  যেমন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে বা জাতিতে নবী- রাসূল –অবতার-দেব-দেবী এসেছে তেমনি মানুষের সমাজের ভিতর ক্ষমতাশালী বিষ্ময় বিজ্ঞানধারী কিছু মতলববাজ ভন্ড গোষ্ঠীও কালে কালে নবী রাসুল বা দেব দেবীর অনেক স্ট্যান্টবাজিও করেছে ।যেমন আমাদের আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওফাতের পর মুসাইলিমা কাযযাবের মত বহু লোক নিজেকে ভন্ড নবী দাবি করেছে এবং দাবীর স্বপক্ষে যুক্তিও দেখিয়েছে, কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হয়নি, আর হিন্দুদের মিথোলজির দেব দেবতার স্ট্যান্টবাজি তো আরো সোজা, কারণ আমাদের নবী সাঃ এর জীবনী নিয়ে যদি কোন সিনেমাও তৈরি হয় তবে সেখানে সরাসরি অভিনেতার মুখ দেখানো যাবেনা, ব্যাপারটা হয়তো আপনারা বিশ্বখ্যাত ইসলামী চলচ্চিত্র দি মেসেজ এ খেয়াল করেছেন, আর হিন্দুদের দেবদেবীর স্ট্যান্টবাজী করে ধোকাতো কঠিন ব্যাপার নয় , কারণ সনাতন ধর্মে সে নিষেধাজ্ঞা নেই বা বিধিনিষেধ নেই, এ জন্য হরহামেশা আমরা ভারতীয় মঞ্চ নাটক, স্টেজ শো এবং টিভি সিরিয়াল ও সিনেমাতে শয়ে শয়ে হরহামেশা রাম, রাবণ,মহাদেব শিব, কৃষ্ণ রূপধারী অভিনেতাদের যেমন দেখতে পাই, তেমনি দূর্গা, লক্ষী,স্বরস্বতী রূপধারী অভিনেত্রীদেরও হরহামেশা দেখতে পাই। এই সব স্ট্যান্টবাজীর কারণে একটু চটুল বুদ্ধি সম্পন্ন মতলববাজদের মানুষের মনের ধর্মভক্তির সুযোগ নিয়ে আখের গোছাতে সূবিধা হয় , এদের স্ট্যান্টবাজীতে আসল ঠাকুর দেবতাই নির্বাসিত হয়ে যায় ।বাস্তব উদাহরণ দেখুন একমাত্র  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আছে এমন কিছু মাথা মস্তিষ্ক আর এমন কিছু বিজ্ঞানের আবিষ্কার যার কারণে বিশ্বের সকল দেশ তাদের কাছে পদানত ।

(১৯২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!