কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৯৫+১৯৬

0Shares
map of India

(১৯৫)

বর্তমান ভারতের মানচিত্র , পুরনো মানচিত্র আর বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দেখুন একটু সব ম্যাপ এ আপনি বঙ্গ বা বাংলাদেশ এর অবস্থান বুঝতে পারছেন, অঙ্গ(বিহারের ভাগলপুর ,মুঙ্গের এবং বাংলার কিছু অংশ)বঙ্গ(বাংলাদেশ আর পশ্চিম বঙ্গ), কলিঙ্গ(বর্তমান উড়িষ্যা ও অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ এর সামান্য কিছু অংশ  ,গান্ধার বর্তমানে আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে পাকিস্তানের তক্ষশীলা, কুরু বর্তমানের হরিয়ানার একটি শহর, মগধ বর্তমান বিহার),  এছাড়া প্রাচীন ভারতে বর্তমানের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ নিয়ে ছিল গঙ্গারিডি, তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত গ্রীক মণিষী প্লুটার্ক(৪৬-১২০ খ্রিস্টাব্দ অথবা ৪৫-১২৭ খ্রিষ্টাব্দ) এর মতে গঙ্গানদী প্রস্থ্যে ছিল ০৬ কিলোমিটার আর গভীরতাতে ছিল ৫৮০ ফুট  ।আবার পুরানে  সরস্বতী নদীর উল্লেখ আছে ।কিন্তু বর্তমান ভারতে সরস্বতী নদীর বলতে গেলে অস্তিত্ব নেই।ঋগবেদ, স্কন্ধপুরান ও দ্বাদশ শতকের বাঙালি কবি কানা হরিদত্তের মনসামঙ্গলে সরস্বতী নদীর উল্লেখ আছে ।এই নদি নাকি ৩৫০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন নাকি এই নদী পৌরাণিক কি একটা কারনে মরুভুমিতে অদৃশ্য হয়ে যায়, মানে মরুভুমির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় ।এটাকে বলে ফল্গু নদী (মাটির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যদি আরেক যায়গাতে গিয়ে দৃশ্যমান হয়)।এত গুলো পৌরাণিক বড় গ্রন্থে উল্লেখিত নদী কি তাহলে কি শুধুই মিথ। আবার উল্লেখ আছে এই সরস্বতী নদী নাকি গঙ্গা এবং যমুনা থেকেও বড় ছিল ।তাহলে এত বড় একটা নদী শুধুই মিথ এটা কি হতে পারে ।হুগলীর সপ্তগ্রামে নাকি ষোড়শ শতাব্দী তেও সরস্বতী নদী প্রবাহিত ছিল।সপ্তম শতাব্দীতে এই সরস্বতী নদীর সংযোগ মোহনাতে পলি পড়া শুরু করে ।আস্তে আস্তে পুর ১০০০ বছরে এই নদী পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।১৬৬০ সালের ভ্যান ডেন ব্রুকের পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রেও সরস্বতী নদী ছিল ।কিন্তু তারপর থেকে আর নেই ।তাহলে পুরান আর বাস্তবের ইতিহাসে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সরস্বতী নদী ছিল।তবে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার আন্দুল নামে একটা শহরাঞ্চল আছে, সেখানে আন্দুল কলেজ এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বলতে গেলে মজে যাওয়া যে একটা নদীর ধারা দেখা যায় সেটাই সেই স্বরসতী নদী ছিল(সরস্বতী রেল ব্রিজ যেটার উপর) ।

(১৯৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!