কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১৫+২১৬

0Shares

         পৃথিবীটা এ রকম আসা যাওয়ার খেলা বটে। সমাজ পৃথিবী পরিবার নামক স্টেজটা ঠিক থাকে।পরিবর্তন হই আমরা, পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চে যাওয়া আসার খেলায় প্রক্সি দিই আমরা আমরা একেকজন মানুষ নামক অভিনেতা ।কোন এক মনিষী কৌতুক করেই হোক আর বাণীতেই হোক বলেছিলেন পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা ।আর এই আসা যাওয়ার খেলাতেই গৎবাধা অভিনয়ের বাইরে কেউ চায় একটু অমর হতে । বিভিন্ন ব্যাতিক্রম কর্মের কারণে হয়ে যায় সে অমর , কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন যদি কখনো এই পৃথিবী ধবংশ হয়ে যায়, তখন কি হবে ? আপনার আমার অমরত্ব , শিল্প সাহিত্য কোন কিছুরই কি দাম থাকবে ? মানব জাতির এত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য শিল্প সংস্কৃতির কি কোন মূল্য থাকবে ? কখনো কি মনে হয়না যে এই পৃথিবী ধবংশ হয়ে গেলেও পৃথিবীর মানব জাতির ইতিহাস ও কৃতি যদি এই মহাবিশ্বের আর কেউ জানতে না পারে তাহলে কতটা আফসোস লাগে ? এটা কি সংরক্ষিত হওয়া উচিত নয় ? আজকে গুগল আর ইউটিউবে যে পরিমাণ সংরক্ষিত আশ্চর্য্য জ্ঞান ভান্ডার রয়েছে সেগুলো তো বিস্ময়ের এক অষ্টম মহাশ্চার্য বলাও কম হয়ে যায় ।আপনি যদি ইচ্ছা করেন পৃথিবীর সব মানুষকে আমি দেখবো, তাহলেও সেটা এই যুগে সম্ভব । যদি বলেন এটা কিভাবে সম্ভব ? আপনিতো ফেসবুক ব্যবহার করেন, তো পৃথিবীর সব থেকে বড় স্যোশাল মিডিয়া হলো ফেসবুক। ৭৫০ কোটি মানুষের  ভিতর ৩০০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে।এই তিনশত কোটি মানুষের ছবি  দেখতে পারা বা একটা নেটওয়ার্কে থাকাটাও বিষ্ময়ের ব্যাপার বটে। কি নেই গুগল আর ইউটিউবের এই জ্ঞানভান্ডারে।সাধারণ জ্ঞান থেকে অসাধারণ জ্ঞান সবই আছে। কিন্তু এতকিছু মানবজাতির হাতে থাকার পরও আমাদের কাছে কিছুই নেই বলা চলে। আমাদের ব্যাপারটা হলো সেই টিভিসি টার মত। টেলিভিশনের অ্যাডটাতে দেখাতো স্যার গাড়ি একেবারে নতুন, কোন ডিস্টার্ব নেই , শুধু মাঝে মাঝে ব্রেক ফেল করে। আমরা অনেক উন্নত হতে পারি, কিন্তু যখন তখন আমাদের ডাটা সেন্টারগুলো আগ্নেয়গিরির অগ্লুৎপাতে ধবংশ হয়ে গেলে কিছু করার থাকবেনা,

(২১৫)

         যদিও গুগল বা ফেসবুকের রয়েছে মাল্টিপল ডাটা সেন্টার, মানে আপনি গুগল বা ফেসবুকের আমেরিকান ডাটা সেন্টার ধবংশ করলেই বা বন্যার পানিতে ডুবিয়ে দিলেই গুগল বা ফেসবুক ধবংশ হবে তা নয়। এটা ধবংশ করতে গেলে এর বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সব লোকেশনের ডাটা সেন্টার ধবংশ করতে হবে। একটা বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলে সব লোকেশনের গুলো ধবংশ হওয়া বিচিত্র কিছু নয় এবং তখন এই ধবংশের কারণ শুধু বোমা বা দর্যোগ নয়, সাথে যোগ হবে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গুগলের প্রত্যহ ব্যয়ভার বহনের সুবিশাল খরচের যোগান বিহীনতা। বলতে পারেন গুগলের যা টাকা জমা আছে তা আগামী ৫০০ বছরেও শেষ হবেনা। কিন্তু হলে হবে কি, যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ তো আর শত্রু সৈন্যরা অফিস বা মানুষ চিনে করবেনা বা মানবজাতির স্বার্থেও যুদ্ধ করবেনা । যুদ্ধ করবে ধবংশের ভুত ঘাড়ে নিয়ে, উন্মক্ত থাকবে রক্ত আর ধবংশের লীলায়। ফলে যত সুরক্ষা থাকুক না কেন আমাদের সভ্যতার ধবংশ আমরা ঠেকাতে পারবোনা। আর যদি কিছু কিছু দেশ বা অঞ্চল যুদ্ধের বাইরে থাকে তবে সেটা ভিন্ন কথা ।সব থেকে বড় কথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোর কাছে যে পরিমাণ পারমানবিক অস্ত্রের মজুদ আছে সে দেশগুলোর নাম ও বললাম না, পারমাণবিক অস্ত্রের পরিমাণ অজ্ঞাত, সঠিক পরিসংখ্যান তো নেইই, ২৬ শে এপ্রিল ১৯৮৬ তে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে সংঘটিত হওয়া চেরনোবিল দূর্ঘটনাতে (বর্তমানে ইউক্রেনের একটি স্থান) ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া স্থানটির আশেপাশের ৫০ মাইল অন্তত হাজার বছরেও মানব বসবাসের উপযোগী হবেনা ।এটা তো গেলো ছোটখাটো ব্যাপার ।মহা  বড়  একটা ব্যাপারে আসি। ধরুন আপনি একজন বড় মাপের অতি বিখ্যাত মানুষ। আপনার নাম সক্রেটিস বা এরিস্টটলের মত উচ্চারিত হবে হাজার হাজার বছর ধরে। এমন অবস্থায় আপনি নিশ্চিত খবর জানতে পারলেন পৃথিবী ধবংশ হয়ে যাবে , একেবারে নিশ্চিন্হ হয়ে যাবে মানবজাতি, সাথে সাথে ধবংশ হবে GOOGLE বা ইউটিউব এর মত জায়ান্টরা  তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়াবে পরিণতিতে –

(২১৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!