কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৬১+২৬২

0Shares

বছর মৃতদেহ সংরক্ষন কৌশল আবিষ্কার করেছিল সেটাই বিস্ময়কর ব্যাপার।মমি করার পর পার্থক্য শুধু এটুকুই পাওয়া যেতো যে সাধারণত সদ্য মৃতদেহ গুলোর সাথে জীবিত ঘুমন্ত মানুষের কোন দৃশ্যমান তেমন কোন পার্থক্য পাওয়া যায়না । কিন্তু মমি হাজার হাজার বছর বিস্ময়কর কৌশলের কারনে টিকে থাকে। কিন্তু একটা প্রাণী দেহ সতেজ থাকতে যে রস থাকতে হয় সেটা শুকিয়ে যায় মমি করার পর। আর মমি গুলোতে একটা জিনিষ কমন দেখা যেতো যে প্রত্যেকটা মমি কাল কোন বস্তুর প্রলেপ দেওয়া। হতে পারে এ পদার্থ টা হল বিটুমিন জাতীয় কিছু । কিন্তু এই ধারনা ও ভুল। কারন বিটুমিন  কোন কিছু সংরক্ষন করতে পারেনা ।যদিও বর্তমানে অন্য প্রযুক্তি আবিষ্কার হয়েছে মৃতদেহ সংরক্ষনের ক্ষেত্রে । এখনকার যুগে যদি আপনি কোন প্রাণী বা মানুষের মৃতদেহ ফরমালিন এ ভিজিয়ে রাখেন বছরের পর বছর সেটা ভাল থাকবে ।ফরমালিন দিয়ে সংরক্ষন করার আরেকটি পদ্ধতি হল এম্বলেমিং। এক্ষেত্রে ফরমালডিহাইড ৩৫% , মিথানল ০৯ % , বাকি ৫৬% হলো গ্লুট্যারালডিহাইড এবং হিউম্যাকট্যান্স। আবার এই মমি গুলোর সাথে জড়িয়ে আছে নানা অভিশাপ। এই অভিশাপ গুলো হলো যারা এই মমি গুলো উদ্ধার কাজে জড়িত থাকতো তারা বিভিন্ন রোগ ,আত্মহত্যা, বা নানাবিধ দুর্ঘটনাতে মারা গিয়েছেন। মমি গুলোর উদ্ধার কাজে যারা যেতেন অনেক সময় তারা পেতেন এরকম একটা বার্তা তাহলো যে যারা এই সব মমির ঘুম ভাঙায় তারা মরুর বুকে বিলীন হয়ে যায় ।আসলেই কি এই মমির ঘুম ভাঙানো মানে হাজার বছর ধরে পিরামিড ও তার আশেপাশে পড়ে থাকা সমাধি ক্ষেত্র থেকে গুপ্ত মমি গুলো উদ্ধারকারীরা ভয়ানক সব অভিশাপে পড়তো ? যদি অভিশাপে পড়তো তবে অভিশাপ ফলতো কি করে ? এর পিছনে থাকতে পারে বৈজ্ঞানিক কোন কারন, থাকতে পারে মানসিক ভয় এর ব্যাপার, থাকতে পারে কোন কেমিক্যাল এর রিএ্যাকশন।তবে বেশ কিছু কাহিনী থেকে এটা প্রমান হয় যে মমির অভিশাপ একেবারে মিথ্যা বা ফেলনা নয়। বিশেষ করে আমেনরার মমি (টাইটানিক জাহাজডুবি সহ পূর্ববতী আরো কিছু দূর্ঘটনা তার রক্ষনাবেক্ষনকারী কতৃপক্ষের সাথে )তুতা খামেন এর মমি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে  (১৯২২ এ আবিষ্কারক প্রত্নতত্ত্ববিদ  ও তার দলের অধিকাংশ সদস্যের মৃত্যূ, ভাগ্যক্রমে শুধু তিনি বেঁচে যান

(২৬১)

         বাকি অধিকাংশ লোক মারা যায়, বিস্তারিত কাহিনীটা এখানে দিলাম না)। এই অভিশাপ এতো বছর পরেও কাজ কেনো করে, কি ভাবে করে এটা একটা বিস্ময়।এর বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। হতে পারে এটা কোন অজানা বিজ্ঞান বা অজানা কোন কেমিক্যাল এর অজানা কোন গুণ। আর ধরুন এই যে পিরামিড এর কথা , পিরামিড গুলো নির্মাণ হয়েছে শত শত যেসব পাথর দিয়ে, সেগুলোর একেকটার ওজন ১০০০ কেজি বা ০১ টন ।তো কথা হল সেগুলো বহন করাটা আসলেই তৎকালীন প্রযুক্তিতে অসম্ভব হতে পারে, আর যদি সম্ভব হয় তবে প্রযুক্তি হতে হবে এখনকার থেকে উন্নত , অনেকে বলেন মানুষ অনেক বড় ছিল , ১০০০ কেজি ওজনের পাথর অনায়াসে বহন করবার মত মানুষ হতে গেলে তাকে হতে হবে সেই রকম দীর্ঘদেহী ।কিন্তু তখনকার ফারাওদের উচ্চতা সব ০৬ ফুট এ সীমাবদ্ধ ।তাহলে এটা কি করে হল, অনেকে বলেন মিসরের পিরামিড গুলো ভিন গ্রহ থেকে আসা এলিয়েনদের সাময়িক বসবাসের কক্ষ, অনেকে বলেন ভিন গ্রহ  থেকে আসা এলিয়েনদের অতি বৃহদাকার মহাকাশ যান গুলো অবতরনের জন্য নির্মাণ হয়েছিল ।মরুভুমির ভিতর এত বৃহদাকার স্থাপনা নির্মাণের কারন হিসাবে আরো বলা হয় , মরুভুমি হল মনুষ্য বসতি থেকে প্রতিকুল ও জনবিরল স্থান ।ফলে মহাশূন্য থেকে সহজে স্থাপনা গুলো চিহ্নিত করা যায় , এবং মানব চক্ষুর আড়ালে বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো সহজ হয় ।আব্বাসীয় খলিফা মামুন এর ৮১৩ সালের একটি ঘটনা এবং ১৯৮৮ সালে মিসরের গিজার পিরামিড এ ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক চ্যাপেরাট এর ঘটনা মিলে যায় ।কথিত আছে এনারা দুজনই এমন একটি মমি আবিষ্কার করেছিলেন যেটা ছিল এলিয়েনের।সেই মমির চেম্বার এ লেখা ছিল এই কক্ষে প্রবেশ নিষেধ, এখানে শায়িত আছেন এমন একজন যিনি দূর আকাশের নক্ষত্র থেকে নেমে এসেছিলেন ।১২৫৮ সালে হালাকু খান এর বাগদাদ আক্রমন(২৯জানুয়ার‍ী-১০ফেব্রুয়ারি ১২৫৮) এর ফলে বাইতুল হিকমা নামের তৎকালীন পৃথিবীর সুপ্রাচীন ও অগ্রসর এবং গুপ্তবিদ্যার বহু গ্রন্থ ধ্বংস হয়ে যায় সম্পূর্ণরূপে ।বলতে পারি যে হালাকু খান এর বাগদাদ ধ্বংস এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধ দুটোই পৃথিবীর অগ্রগতিকে ৫০০ বা ১০০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

(২৬২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!