কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৭৭+২৭৮

0Shares

-বিদ্যুৎ কখনো তার কার্যকরীতা হারাবেনা ?। হয়তো এজন্য পৃথিবীতে তন্ত্র মন্ত্র গুপ্তবিদ্যা টিকে আছে। কিন্তু তাদের অদৃশ্য প্রভাবক এর অনুপস্থিতি বা পরিবর্তন এর কারণে এগুলো আর কাজ করেনা বা লুপ্ত হয়ে গেছে এখন । আবার বর্তমানে আমরা যত প্রযুক্তি ব্যাবহার করছি তার থেকে অনেক ভালো প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের বিশেষ কোন শ্রেণীর হাতে থাকতে পারে ।যেটার ব্যাবহার শুধু তারা ছাড়া কেও জানেনা ।আমি আপনি সাধারন জনগণ ।আজকে যত প্রযুক্তি আমরা ব্যাবহার করছি সারা পৃথিবীতে সেগুলো বিজ্ঞানিরা না দিলে আজকে আমাদের কার সাধ্য ছিল আমাদের নাগালের মদ্ধে থাকা অতি অসাধারন এই সব যন্ত্রপাতি গুলো ব্যাবহার করার ক্ষমতা ।কয়েক বছর আগে একটা পত্রিকাতে পড়েছিলাম জাপানি বিজ্ঞানীরা  এমন  একটা পদার্থ আবিষ্কার করেছেন যেটার প্রলেপ কোন পদার্থের উপর দিলে যেটুকুর উপর প্রলেপ দেওয়া থাকবে সেটা আর দেখা যাবেনা । যা ব্যাবহার করছি না জানি তার থেকে আর কত কিছু মানুষের থেকে গোপন বা গুপ্ত আছে কে জানে । ইলমুনাতি , সম্রাট অশোকের দি নাইন এগুলো যদি সত্যিই থেকে থাকে তবে আপনি আমি ভাবতেই পারবনা যে কত ক্ষমতাবান জিনিস আমাদের হাতে নেই ,আমরা আধুনিক যে সব প্রযুক্তি ব্যাবহার করে গর্বিত সেটা গুপ্ত ওই বিজ্ঞান এর তুলনাতে কিছু নয় ।  কারন সাধারনের হাতে দেওয়া জিনিস যদি এত পাওয়ারফুল হয় তবে গোপন যেটা করে রাখা আছে সেটা প্রকাশ্য ক্ষমতাবান ডিভাইস এর থেকে অনেক ক্ষমতাবান এবং বিপদজনক এতে সন্দেহ নেই । আচ্ছা মঙ্গোলরা যখন বাগদাদ আক্রমন করে বাইতুল হিকমা ধংশ করে সেখানকার হাজার হাজার প্রাচীন বিজ্ঞান গ্রন্থ ধংশ করে সেই  বই গুলো থাকলে মানব সভ্যতা অনেক উন্নত হতো সন্দেহ নেই ।কি ছিল সেই সব বইয়ে এটা কি আমরা জানি ? এমন হতে পারে তখনকার মানুষের বিলাশ জীবনের জন্য এত যন্ত্রের দরকার হয়নি , আমরা এখন যে বিজ্ঞান এর উপর দাড়িয়ে আছি সেটা কিন্তু বিভিন্ন কেমিক্যাল , ধাতু উপর নির্ভর এবং বিদ্যুৎ শক্তি এর চালিকা শক্তি ।

(২৭৭)

কিন্তু যদি তখনকার কিছু গোষ্ঠীর মানুষ ধ্বনি বিজ্ঞান বা বিজ্ঞানের অন্য কোন শাখা আয়ত্ত্ব করে কাজ চালিয়ে নিত তাহলে কি এখনকার মত ধাতু-রসায়ন-বিদ্যুৎ নির্ভরতার দরকার আছে উন্নত জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ?ধ্বনি বিজ্ঞান, টেলিপ্যাথি , মেস্মেরিজম , হিপনোটিজম ,রেইকি ,আকুপাংচার ,জ্যোতিষবিদ্যা, তন্ত্র-মন্ত্র  এগুলো কি তখনকার বিজ্ঞান নয় ।এগুলো হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞান। আপনি এখন অবশ্যই  ভাবছেন যে এবার এই বই পড়া বাদ দেওয়া যাক । উদ্দেশ্য আপনি বুঝতে পেরেছেন । আপনি হয়তো বুঝেছেন আমি যত ভণ্ডামি এবং কুসংস্কারের পক্ষে ।এবং মানুষ কে জ্যোতিষ এর কাছে টানছি আমি, জ্যোতিষ বিদ্যা এবং ভণ্ড সাধুদের কাছে নিয়ে যেতে আসছি আমি আপনাদের। তবে বলছি আপনাদেরকে দাঁড়ান এখনো কথা আছে , এখন যত সাধু বাবা, পীর বাবা, জ্যোতিষ বাবা, আছেন এনাদের কাছে এসব বিদ্যা নামে মাত্র টিকে আছে । এগুলো মোটামুটি আজ থেকে অন্তত পক্ষে ২০০-৩০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন আপনি বাবা, তান্ত্রিক , সাধু যাকে বিশ্বাস করবেন নিজ দায়িত্বে করবেন।এর জন্য আমি লেখক দায়ী নই। আপনার  যে কোন সমস্যা তে ডাক্তার আছেন , সাইকোলজিস্ট আছেন সেখানে যান এটা আমি বলতে পারি ।বর্তমানে এনারা খাটি। আমি যা বলছি সেটা কোন একটা সময়ের কথা বলছি।ধরুন প্রশ্ন জাগতে পারে তন্ত্র-মন্ত্র বলে কি কিছু আছে ।তন্ত্র মন্ত্র কি ? তন্ত্র মন্ত্র হল এমন কিছু কথা বা ছন্দের সমষ্টি যার মাধ্যমে যে ছন্দ-শব্দ-বা ধ্বনি সমস্টির মাধ্যমে কোন কিছু হাতের স্পরশ ছাড়া কোন যুক্তি ছাড়াই সম্পন্ন করা , কোন অসাধ্য কাজ সাধন করা যায় , দূর থেকে কে কি করছে সেটা জানা যায় , মানে মুখে মুখে কোন কাজ কে উদ্দেশ্য করে  কিছু পড়লাম আর হয়ে গেলো সেই কাজ ।মানে কেউ সারাদিন খেটে ১০ কেজি মিষ্টি বানালো আর আপনার কাছে মন্ত্রশক্তি আছে , আপনি একটা ০৪ থেকে ০৫ লাইনের ‘’আয় মিষ্টি ঝেপে ,পারবনা ধান দিতে টাইপের একটা মন্ত্র পরলেন ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুলে বিছানাতে চিত কাত হয়ে , আর ওমনি সামনে হাজির হয়ে গেলো পানতোয়া , সন্দেশ ,রসগোল্লা ,ছানার জিলাপি ইত্যাদি ইত্যাদি ।

(২৭৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!