কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০৩+৩০৪

0Shares

কিন্তু মানুষ এগুলো শিখে ফেরেশতাদের নির্দেশ অমান্য করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ও নানা ক্ষতিসাধনের কাজে লেগে পড়ে ।এ দিকে মানুষের প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করা স্বত্তেও দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে অটল থাকবার পরও ফেরেশতাদ্বয় জোহরা নাম্নী নামে এক অতি সুন্দরী মহিলার ছলনার ফাদে পড়ে মদ্যপান , ব্যাভিচার ও মানবহত্যার মত জঘন্য কাজ করে বসেন (নাউযুবিল্লাহ)। মদ্যপ অবস্থায় যোহরা ফেরেশতাদ্বয়ের থেকে এমন একটা মন্ত্র বা কথামালা শিখে নেন যেটা পড়ে ফেরেশতা দুইজন আকাশে উঠতেন । মাতাল অবস্থা কেটে যাবার পর ফেরেশতা দুজন দেখেন আর ওপরে যাওয়া যাবেনা কারণ ওনারা মদ্যপ অবস্থাতে হত্যা ও যেনার মত জঘন্য কাজ করছেন । তখন অপশন এলো দুনিয়ার শাস্তি না আখিরাতে শাস্তি ? ওনারা বেছে নিলেন পৃথিবীর শাস্তি কারণ পৃথিবীর শাস্তি একদিন শেষ হবে , কিন্তু আখিরাতের শাস্তি অনন্ত , সে মোতাবেক ফেরেশতা দুজনের শাস্তি এখনো চলছে ।আর যোহরা ঊর্ধাকাশে ওঠার মন্ত্র পড়ে উঠতে গিয়ে আকাশের তাঁরাতে পরিণত হন । শুক্রগ্রহ বা শুকতারাকে যোহরা বলা হয় । অনেকে আবার বলেন যোহরা শুক্র গ্রহের বা শুকতারার মত সুন্দর ছিলেন বলে ওই রমনির নাম হয় যোহরা ।  তবে অনেক তাফসীরকারক এটাকে বিতর্কিত ঘটনা বা বানোয়াট বলেন । কারণ হিসেবে তরা বলেন ফেরেশতারা সম্পূর্ণ পাপ মুক্ত এসব পাপ কার্য্য ওনাদের দিয়ে হতে পারেনা । তবে যাই হোকনা কেন অধিকাংশ যায়গাতে হারুত মারুত ফেরেশতার বিতর্কিত এই ঘটনাটি প্রচলিত । আসলে যাদুসম্পর্কীত উদাহরণ টেনেছি এবং এ সব যত ঘটনা এই বইয়ে বলেছি সবই বিতর্কিত বলা চলে । প্রসঙ্গক্রমে আবারো বলছি উদাহরণ এর বেশি আর কিছু না ভাবা বা বিশ্বাস না করাটাই আমার মত ।           

****কালো যাদুর শেষ একটা ঘটনা বলি , গল্পটা মজার ও বটে ।ঘটনাটা ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের ভিতরের । মার্কিন হামলাতে আফগানিস্তান আর ইরাক ধ্বংস হয়ে গেলো , আমাদের মত সাধারন মুসলমানদের ভিতর হাহাকার , এই বুঝি পৃথিবী থেকে ইসলাম গেলো গেলো বলে রব উঠলো ।

(৩০৩)

যুদ্ধ পূর্ব সময়ে তাদের অনেক কাজের সাথে মতের অমিল থাকলেও পরে পরে তো তাদের আমেরিকার হাতে মার খাওয়া দেখতে ভাল লাগবেনা ,এটাই স্বাভাবিক ,  কারন যুদ্ধ যে কারনেই হোকনা কেন ভুক্তভোগী ও নির্বিচারে মারা যাওয়া মানুষ গুলোর ৯০% হল নিরীহ নারী –শিশু ও পুরুষ। আর এই নিয়ে পুরো মুসলিম জাতির ক্ষোভ প্রেসিডেন্ট বুশের উপর। পাড়ার মোড়ের দোকানে দোকানে ETV  মানে একুশে টেলিভিশন নামক চ্যানেলে সন্ধ্যার পর দুবার সংবাদে আফগানিস্তানের যুদ্ধের ভিডিও  খবর দেখে লোকজন মুখে মুখে বুশ কে শাপ শাপান্ত করতে ছাড়েনা । এমন সময় আমাদের গ্রাম থেকে এক গ্রাম পরের এক গ্রামে একজন ফকির এর সন্ধান পেল আমাদের একজন পাগলাটে টাইপ এর একজন বড় ভাই । সেই পাগলাটে বড় ভাই ফকিরের বাড়িতে হাজির হলোও ।ফকির যথারীতি একজন ভুক্তভোগী মক্কেল পেয়ে মুস্কিল আসান , সব সমস্যার সমাধান টাইপ এর বক্তৃতা দিতে শুরু করলো । তখন বড় ভাই এর প্রথম প্রশ্ন আচ্ছা আপনি তো যে কাউকে বান মেরে শেষ করে দিতে পারেন তাইনা। ফকির বাবার চটজলদি উত্তর শুধু বাপের নাম আর ওই বদমাশ টার নাম বল । আর কি রকম বান মারতে চাস বল , গলায় ফাস দেওয়া বান মারব , নাকি সরশে পড়া বান মারব , এমন বান মারব পেটের নাড়ী গলে গলে বের হয়ে যাবে । বল বল চটপট বল , বদমায়েশ টার বাপের নাম আর বদমায়েশ টার নাম বল । বড় ভাই বলল বাপের নাম জর্জ হারবাট  ওয়াকার বুশ , আর ছেলে জর্জ ওয়াকার বুশ । এই বুশ জুনিয়র কে মারতে হবে । দরকার হয় ০১ লাখ টাকা দেব কিন্তু একে মারতেই হবে । বার কয়েক ঢোক গিলে ফকির হা করে চেয়ে রইলো বড় ভাইয়ের দিকে ।হ্যাঁ বা না কিছু আর মুখ দিয়ে বের হচ্ছেনা । আর কন রকম সময় না দিয়ে বড় ভাই এর সমস্ত রাগ গিয়ে পরল ফকির বাবার উপর ।ইচ্ছা মত অশ্রাব্য ভাষাতে গালাগালি দিয়ে বলল আর কখন তোকে এই সব ভণ্ডামি আর বুজরকিতে  দেখলে আমার ঝাঁটা , জুতা পড়া বাণ একটাও মাটিতে পড়বেনা । অদ্ভূত কিছু নকশা সংগ্রহ করলাম তাবিজ আর কালোজাদু বিষয়ক , এর ব্যবহার বা অর্থ কোনটাই জানিনা

(৩০৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!