করোনা শেষে | MEHBUB.NET

করোনা শেষে

করোনা ভাইরাস মধ্য চীনের উহান শহর থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২০ এর মধ্যে প্রথম একজনের মৃত্যুর মাধ্যমে শান্ত এই পৃথিবীতে অশান্তির বার্তা নিয়ে আসে।প্রথম প্রথম রোগটা তার পূর্ববর্তী সার্স (Severe Acute Respiratory Syndrome

)ভাইরাস এর মত মনে করা হয়েছিল।মনে করা হয়েছিল সামান্য ফ্লু এর মত উপসর্গ নিয়ে আত্মপ্রকাশকারী এই রোগ এমনিতেই দ্রুত বিদায় নেবে এই পৃথিবী থেকে।কিন্তু সমস্ত ধারনাকে মিথ্যা প্রমান করে দিয়ে এই সামান্য ফ্লু আজ অদ্য নভেম্বর এর ১৪ তারিখ ২০২০ পর্যন্ত প্রবল পরাক্রমে বিশ্ববাসীকে কার্যত ঘরবন্দী করে রেখেছে।বিশ্ব ইতিহাসে যত যুদ্ধ আর মহামারী ইতিহাসে কালো স্থান দখল করে নিয়েছে সেই তালিকাতে আরো একটি নাম যোগ হল করোনা।০৫ কোটি ৩৫ লাখ+  আক্রান্ত আর ১৩ লাখ+  মৃত্যু এখন পর্যন্ত করোনার সর্বশেষ আপডেট।প্রথম মনে করা হয়েছিল এই করোনা ভাইরাস বিশ্বের কয়েক্ টি দেশে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।কিন্তু সেই বিশ্বাস ভুল প্রমান করে করোনা আমাদের দেশে পর্যন্ত চলে এলো।সবার মনে মৃত্যু আতংক ভর করে গেল ,সাথে প্রতিদিন টেলিভিশন এ বিশ্ব সংবাদে যুক্তরাষ্ট্র ,ইটালি আর ব্রিটেন ,স্পেন এর প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষের মৃত্যু আমাদের আতংকিত করতে লাগলো।মার্চের প্রথম সপ্তাহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম আমাদের দেশে পাওয়া গেল।০২ সপ্তাহ পর সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করে দেওয়া হল।সাথে সাথে প্রথম মাসখানেক জনবিরল রাস্তাঘাট আর নীরবতা আর মৃত্যুভয়ের চাদরে ঢেকে গেল আমাদের চিরাচরিত চেনা জনকোলাহল পূর্ণ পরিবেশ।প্রথম প্রথম করোনাতে মৃত্যুবরণকারী ব্যাক্তির জানাজাতে আর দাফনে পর্যন্ত তার স্ত্রী ,সন্তান ,ছেলেমেয়ে কেউ এলোনা।করোনা এমন ট্র্যাজিক উপাখ্যানের সৃষ্টি করলো। ০২ মাস যেতে যেতে আস্তে আস্তে মানুষ আতংকের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে লাগলো।স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে লাগলো।  আমাদের মত বেশির ভাগ স্বাস্থ্য অসচেতন মানুষের দেশে যে পরিমানে করোনা ভাইরাস আক্রমন করার কথা ছিল সেটা বিস্ময়কর ভাবে হলোনা।এর কারন হিসেবে বলা যেতে পারে আমাদের উপর আল্লাহর রহমত , উষ্ণ প্রধান আবহাওয়া , হার্ড ইমিউনিটি(মানে অনেকের করোনা হয়েছে কিন্তু সে নিজে টের পাইনি আবার নিজ থেকে সেই আক্রান্ত ব্যাক্তির বিনা ওষুধে সেরে গেছে ,এটাকে বলে হার্ড ইমিউনিটি) ।কিন্তু সারাবিশ্ব কিন্তু অচল রয়েই গেছে সম্পূর্ণ ভাবে।প্রত্যেকটি দেশই গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে।দেশে দেশে সীমান্ত আর বিমান যোগাযোগ সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ।আমদানি রপ্তানিও বলতে গেলে বন্ধ। চাপা নিরব মানসিক অশান্তি আর আর্থিক দৈন্যতা বিরাজ করছে সারাবিশ্বের সাধারন আপামর জনতার মাঝে।বিশ্বের সকল দেশের সরকারপ্রধানদেরও তাদের জনগনের জন্য কিছু করার নেই ।কবে আসবে ভ্যাক্সিন সে আশাতে দিন গুনছে সবাই। প্রথমে অক্সফোর্ড এর বিজ্ঞানী সারাহ গিল্বার্ট এর ভ্যাক্সিনটি আশার আলো দেখালেও সেটা আশানুরূপ ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যায় ,যদিও এখনো এই ভ্যাকসিনটি করোনার আবিষ্কার হতে যাওয়া শীর্ষ ভ্যাকসিন এর তালিকাতে নিজের নাম ধরে রেখেছে।বিভিন্ন সুত্র মতে ২০২১ সালের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের ভিতর ভ্যাকসিন পাবে বিশ্ব।আমাদের দেশের গ্লোব বায়োটেক তাদের উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিন ব্যানকোভিড আবিষ্কারের দৌড়ে এগিয়ে থেকে বিশ্ব দরবারে বাংলাদশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।এ পর্যন্ত আমাদের দেশে করোনাতে আক্রান্ত ০৪ লাখ+ আর মৃত্যু ০৬ হাজার+ ।

এটা গেলো করোনার পুরো ০১ বছরকালের সারাংশ।এখন করোনা থেকে কিছু প্রশ্নের উদ্ভব হলো।মানবজাতি ও বিশ্বশান্তির অস্তিত্তের প্রয়োজনেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজে পাওয়া বড় জরুরি।জানি এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর মিলবেনা।

০১)পৃথিবীতে এইডস ,করোনা ,সালমনেলা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ গুলো অবাধে সকল অনিরাপদ প্রাণী ভক্ষন জনিত কারনে উদ্ভূত।এখন কথা হল পরীক্ষিত প্রাণী তথা হাস মুরগি গরু ছাগল উট মাছ এসব বাদ দিয়ে মানুষ বাদুড় ,তেলাপোকা ,সাপ , এগুলো খাওয়া কবে বন্ধ করবে? করোনা নাকি বাদুড় অথবা প্যঙ্গোলিন থেকে ছড়িয়েছে গুজব আছে আবার এইডস রোগ যার উদ্ভব এইচআইভি ভাইরাস থেকে তো এই এইচআইভি এইডসও নাকি শিম্পান্জি থেকে উদ্ভূত একটি ভাইরাস ।তাহলে দেখা গেলো মানুষের দীর্ঘকালের গৃহপালিত গবাদি পশু  বাদে সকল প্রাণীই মোটামুটি খাদ্য হিসেবে মানুষের জন্য বিপদজনক ।মানব জাতি তাদের খাবার কে কবে ধর্ম বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে একটা নির্দিষ্ট নিরাপদ এবং হালাল খাদ্যঅভ্যাস এর আওতাতে নিয়ে আসবে ?বডিবিল্ডারদের কাচা ডিম খাবার স্টাইলটাও সমান একটা বিপদজনক ব্যাপার।

০২) করোনা এবং এইডস এই দুটো রোগই ল্যাব থেকে দূর্ঘটনাবশত  সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বলে একটা পক্ষের কাছে প্রমান এবং বিতর্ক আছে।এখন কথা হল জীবানু অস্ত্রের এই খেলার কথা যদি সত্য হয় তবে বিশ্ব এইডস এবং করোনার পর নতুন করে আবারো আরো বি্ব্ধংশী ভাইরাস  ভবিষ্যতে আসবে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন আবারো কেড়ে নেবে এটা নিশ্চিত ।দেখুন এই পৃথিবীতে মানব সৃষ্ট কারণে হোক আর প্রাকৃতিক কারণেই হোক প্লেগ-ডায়রিয়া-কলেরা-যক্ষা-এইডস-ক্যান্সার ও সর্বশেষ করোনা দেশে দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ ও বিশ্বযুদ্ধ সারাবিশ্বে বর্ধিষ্ণু মানব জনসংখ্যা কমিয়ে বা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য কোন মাস্টারপ্ল্যান নয় তো ? এইডস প্রসঙ্গে প্রপাগান্ডা আছে এটা আফ্রিকার দেশগুলো জনশূন্য করে সাদা চামড়ার মানবজাতির আধিপত্যবাদ সৃষ্টির জন্য ,দ্বিতীয়ত পোলিও টিকা আবিষ্কার করতে গিয়ে ভূলক্রমে এই এইডস ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে ।

আর করোনার ক্ষেত্রে দেখা গুজব বা প্রোপাগান্ডা দেখা যায় চীন তাদের ল্যাবে এটা উদ্ভাবন করে চেয়েছিল তাদের প্রতিদ্বন্দী কিছু দেশকে বিনাযুদ্ধে ঘায়েল করতে। এখন এটা সত্য না মিথ্যা সেটা বড় কথা নয়।বড় কথা হলো এরকম ঘটনগুলো যদি সত্যি হয় তথা এইডস আর করোনার মত ভাইরাস গুলো যদি এভাবে মানব দ্বারা সৃষ্ট হতে থাকে আর এগুলোর যদি ১০০% কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার না করা সম্ভব হয় তবে এরকম আর দুইটা ভাইরাস পৃথিবীতে তৈরি হলে মানবজাতি ধবংশ হতে সময় লাগবেনা ।হোক সে ভাইরাস মানবসৃষ্ট অথবা মানবসৃষ্ট নয় ।জাতিসংঘ অথবা বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার পুতুলের মত অথর্ব সংস্থা হয়ে সে না থেকে উচিত এরকম সন্দেহভাজন দেশগুলোর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে প্রমাণ মিললে অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক অবরোধ আরোপ করা ।

০৩)শুরু থেকেই দেখা যায় এইডস এবং করোনা এসব রোগগুলো সম্বন্ধে বিশ্বসাস্থ্য সংস্থা জনসাধারণের জন্য সঠিক গাইডলাইন দিতে পারেনা।বিশ্বের দেশে দেশে যুদ্ধে ও গৃহযুদ্ধে ও বিশ্বযুদ্ধে জাতিসংঘও তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেনা ।তারাও নির্দিষ্ট কিছু সাম্রাজ্যবাদী দেশের ক্রীড়নক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।যে জাতিসংঘের ক্ষমতা হলো তারা বিশ্বের যে কোন দেশের দ্বারা ঘটিত অন্যায় প্রতিহত করতে পারবে ,মোড়লের ভূমিকা নিতে পারবে।কিন্তু জাতিসংঘ করে টা কি ,বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত ,ক্ষুধার্থ মানবগোষ্ঠীর জন্য? ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ অব নেশনস ভেঙে জাতিসংঘ গঠিত হয়েছিল এজন্য যে লীগ অব নেশনস বিশ্বযুদ্ধ প্রতিহত করতে পারছিলনা সেজন্য।জাতিসংঘের অবস্থাও লীগ অব নেশনসের মত ,WHO(WORLD HEALTH ORGANIZATION) এর অবস্থাও বিশ্বের সাস্থ্যক্ষেত্রে ও সাস্স্থ্য গবেষনাতে মানহীন ।১৯৮১ সালে এইচআইভি ভারাস প্রথম শনাক্তের পর এ পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ লোকের  মৃত্যূ ঘটছে , বিভিন্ন রকম  ক্যান্সারে প্রতিবছর এক(০১) কোটি মানুষের মৃত্যূ হচ্ছে ।করোনার ভিতর এইচআইভিকে টেনে নিয়ে আসার কারণ হলো প্রথমত করোনা এইচআইভি এগুলো হলো RNA(Ribonucleic Acid)ভাইরাস।দ্বিতীয়ত ,এই ভাইরাসগুলো মানব শরীরে আক্রমণের পর প্রথমদিকে মানব শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তথা ইমিউন সিস্টেম প্রথমে বাধা দেওয়ার মত এন্টিবডি তৈরি করলেও কিছুদিন পর এই ভাইরাসগুলো মানব শরীরের এন্টিবডি রেজিস্ট্যান্স(resistance)তথা এন্টিবডির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে।ফলে তখন কোন ঔষধ বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোন কাজ করেনা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে,মানে এরা মিউটেশনক্ষম তথা প্রয়োজন অনুযায়ী বিবর্তনক্ষম ,নিজেকে শক্তশালী করতে সক্ষম ।এইচআইভি নামক RNA ভাইরাসের আজ তিন দশকেও কোন টিকা আবিষ্কার হয়নি ,সেটার সমাধান হতে না হতেই করোনার মত বিদ্ধ্বংশী আরেকটি ভাইরাসের আগমন ।সত্যিই যদি এটা মানবসৃষ্ট তথা ল্যাবে সৃষ্ট ভাইরাস হয় তবে ভবিষ্যতে অন্য কোন দেশ যদি এ রকম আবার কিছু আবিষ্কার করে তবে ভবিষ্যতে আবার কি আছে পৃথিবী ও মানবজাতির ভাগ্যে কে জানে?।এজন্য RNA ভাইরাসের এন্টিডোট আবিষ্কার মানবজাতির রক্ষাকল্পে আবিষ্কার ফরজ বা আবশ্যিক হয়ে পড়েছে বলা চলে। এইচআইভি টেস্টের এন্টিবডি যে নিশ্চিত হতে  মানে ব্লাডে আসতে মানে ভাইরাল লোড ও DETECTABLE ANTIBODY পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে মানে যেটাকে উইনডো পিরিয়ড(HIV WINDOW PERIOD) বলে সেটা কিন্তু বেশিরভাগ লোকই জানেনা ।বেশিরভাগ লোকই মনে করে আজকে অনিরাপদ সেক্স করলো আর আগামীকাল এইচআইভি টেস্ট করালো দেখলো তার রক্তে এইচআইভি নেই ।এবং সে খুশি মনে ঘুরে বেড়ালো আর অনেক লোককে নিজের অজান্তে আক্রান্ত করে দিলো https://www.webmd.com/hiv-aids/hiv-window-period & https://i-base.info/guides/testing/what-is-the-window-periodমানে মোটকথা হলো আপনার শরীরে যৌনমিলনের মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস  প্রবেশ করলে সেটা রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়তে কমপক্ষে তিনমাস সময় দিতে হবে । তিনমাসের আগে রক্ত পরীক্ষাতে যত নেগেটিভ টেস্ট রেজাল্ট আসুক সঠিক বলে মেনে নেওয়া ঠিক নয় । এই তথ্যটা কজন জানে ?আপনি যে কোন সাস্থ্য ক্লিনিকে বা এনজিও পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে যাবেন এই কথা বলবে যে ০৩ মাস ও ০৬ মাসে টেস্ট করতে ,কিন্তু সাধারণ লোক কজন জানে ব্যাপারটা। আর এর থেকে অল্প সময়ে চিন্হিত করবার মত টেস্টগুলো ব্যয়বহুল এবং প্রায়ঃশই ল্যাবগুলোতে নেই বললেই চলে। এজন্য রক্ত পরিসঞ্চালনের ক্ষেত্রে নিজ পরিচিতজনদের ভিতর থেকে নেবার প্রচেষ্টা ভালো ,রক্ত পরিসঞ্চালনের পূর্বে ভালোভাবে স্ক্রিনিং টেস্টগুলো করে নিতে ভুলবেন না ।আশার কথা এই যে ব্লাড ব্যাংকগুলো বর্তমানে নিজেদের সুনাম ও গ্রহীতার বিশ্বাস ধরে রাখতে দাতার রক্ত নেবার ক্ষেত্রে কড়াকড়িভাবে কিছু সাস্থ্যবিধি মেনে চলে ও শর্ত আরোপ করে ।দাতা সেই সকল শর্ত মেনে রক্ত প্রদান না করতে পারলে তারা রক্ত গ্রহণ করেনা ।তবুও নিজেরা সচেতনার স্বার্থে অবশ্যই ব্যাগের রক্তের rapid  এইচআইভি ও হেপাটাইটিস টেস্ট করে নেবেন ।৫০০ টাকা বাঁচাতে গিয়ে পরীক্ষাবিহীন রক্ত নেবেন না ।ধন্যবাদ দিতে হয় আমাদের রক্তদাতাদের ,বিনামূল্যে রক্ত প্রদান করেন তারা।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহীতার পরিবার তাদের আসা যাওয়ার যাতায়াত ভাড়াটাও বা নুন্যতম ধন্যবাদটাও দেন না ।  

আবার মহামারী করোনার ক্ষেত্রে দেখুন মাস্ক পরে ঘরে থেকে সাস্থ্যবিধি মেনেও আক্রান্ত আর মৃত্যূর সংখ্যা কমছেনা।বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেও যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য্‌,ইতালি ,ব্রাজিল ,স্পেন মত্যূহারে শীর্ষে।আবার জার্মানি ,সুইডেন ,সুইজারল্যান্ড , নেদারল্যান্ড ,নিউজিল্যন্ড,মধপ্রাচ্য , বাংলাদেশ অবিশ্বস্যভাবে করোনার প্রকোপে পড়েনি ।একটা জিনিস বলা হচ্ছিল শীত প্রধান দেশগুলোতে এর প্রকোপ বেশি ।কিন্তু যে দেশে করোনা নেই সেখানে শীত বা গরম কোন প্রভাব ফেলেনি ।এখন বিশ্ব সাস্থ্যসংস্থার এরকম একক সময় একেক রকম কথা বলার ভূমিকা সত্যিই দুঃখজনক।কারণ আগের যুগের ৫০ বছরের অগ্রগতি এখনকার যগে এক বছরে হয় ।সে হিসেবে চলমান একটা বিশ্বের ব্যবসা বাণিজ্য ,স্কুল কলেজ তথা শিক্ষা , পর্যটন ,সীমান্ত যোগাযোগ সব কিছু স্থবির করে দেবার ডিরেকশন সত্যিই ই প্রতিষ্ঠানটির দৈন্যতা আর অর্থব ইমেজ এর বহিঃপ্রকাশ মাত্র ।মানে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা করোনাকে ভালোভাবে বুঝতেই পারলোনা।করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো পারমাণবিক বোমা , মেসি নেইমার ,আইপিএল আর সিনেমা থেকে আমাদের বেশি দরকার  সাস্থ্যবিজ্ঞান গবেষণাগার আর বিশ্বের সাস্থ্যখাতে বিলিয়ন ডলারর বিনিয়োগ । সিনেমা ,খেলাধুলা আর নগ্ন নারীদেহের প্রদর্শনীতে যে বিশ্বে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে ধনকুবেররা ঝাপিয়ে পড়ে অপরদিকে বড় বড় বিজ্ঞানীরা বসবার জন্য , গবেষণার জন্য ভালো মানের একটা ল্যব পায়না সেই বিশ্বে যে এইডস,ক্যন্সার আর করোনার টিকা মিলবেনা সেটাই কি স্বাভাবিক নয় ।আর করোনাটাকে বিশ্ব মিডিয়া এতটা হাইলাইট করে রেখেছে যে মনে হচ্ছে একমাত্র করোনা ছাড়া আর মানবমৃত্যূ আর কোন কিছুতেই হয়না ।করোনার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনা ,ডায়াবেটি্‌স,ক্যান্সার ,হার্ট অ্যাটাকে পৃথিবীতে যে প্রতিবছর কোটি মানুষের মৃত্যূ হয় সে ঘটনা । বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা আর বিশ্ব মিডিয়ার উচিত ছিল করোনাকে রিঊমার না বানিয়ে মানুষকে কঠোরভাবে সাস্থ্য সচেতন করে সারা বিশ্বকে সচল রাখা ।আজ না হয় আগামী ০৬ মাস পর করোনা ভ্যাকসিন এসে বিশ্বকে করোনামুক্ত করে দিলো , কিন্তু কে বলতে পারে দুই এক বছরের ভিতর এরকম নতুন কোন রোগ আবার আসবেনা ।তখন কি আবার পুরো বিশ্বের ব্যবসা বানিজ্য ,সীমান্ত , শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে ?এ রকমটা কি কোন সমাধান হতে পারে ? বিশ্বকে কত বছর পিছিয়ে দেওয়া হলো কে জানে ? মাত্র ০২ থেকে ০৫% মৃত্যূহারের রোগটিকে নিয়ে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা এত দিশেহারা বা শুধু ঘরে বসে থাকাই একমাত্র সমাধান বা সব রোগের ঔষধ প্যারাসিটামল লেখা ডাক্তার না সেজে কঠোর সাস্থ্যবিধি মেনে এবং সবার জন্য যে কোন একটা ঔষধ এর সাময়িক অনুমোদন দিয়ে বিশ্ব সচল রাখার বিধান দিতে পারতো ।ভবিষ্যতে আবার করোনার মত কোন রোগ এলে কি আবার প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে এরকম ঘরে বসে থাকার দাওয়াই দেওয়া হবে,বিশ্বের মানুষকে কাজ কর্ম ফেলে ঘরে বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে পুনরায়?এটা কি অতি উন্নত আধুনিক বিজ্ঞান ও অতি উন্নত মানব সভ্যতার অপমান নয়? ? একজন অতি সাধারণ মানুষ হিসেবে বলছি বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মত একটি সংস্থা ঠিকমত করোনাকে বুঝতে পারলোনা , করোনা শীতে না গরমে বৃদ্ধি পায় ,হ্যান্ড স্যানিটাইজার ,মাস্ক কতটুকু কার্যকরী সেটাই তারা ঠিকমত বলতে পারলোনা ।আজ বলছে এই মাস্ক করোনা প্রতিরোধী ,তো কাল বলছে আরেক জাতের মাস্ক করোনা প্রতিরোধী।এখনকার যুগে একটা বছর বিশ্ব স্থবির থাকা মানে বিশ্বের অগ্রগতি ৫০ বছর পিছিয়ে যাওয়া নয় কি?।করোনা বুঝিয়ে দিলো আমরা মানবজাতি যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কারে যতটা এগিয়েছি ঠিক ততটা পিছিয়েছি সাস্থ্যবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণাতে।

উপরের স্ক্রিনশটগুলো দেখুন ,বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার প্রধান করোনার এক বছর পর কি বলছেন

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%8F%E0%A6%87%E0%A6%9A%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8/a-55622864?fbclid=IwAR1APhRMOQOcmwjAZzkhIEOUVtcxt3N-dlsBTlBozkxZQsaQrh_mYk_mhoE

আমাদের দেশ বাংলাদেশ অবশ্য করোনার শীতের রূপটা এখনো ফেস করেনি তাই আমাদের উচিত এই শীতে সাবধান হওয়া ,করোনাকে হালকাভাবে না নিয়ে পূর্ণ সাস্থ্যবিধি মেনে চলা ,মাস্ক পরে বের হওয়া।ভেঙে না পড়ে সাহস না হারিয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছা পোষন করা । শীতে করোনাকে হালকাভাবে নেবার মত ভুল আমাদেরকে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকার সর্বনিম্ন থেকে শীর্ষে নেবার মত বিপদ ডেকে আনতে পারে।এমনিতেই পত্র পত্রিকা আর মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী ০৩ থেকে ০৬ মাসের ভিতর  নিশ্চিতভাবে করোনার ভ্যাকসিন এসে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়।ততদিন আসুন আমরা খেয়াল রাখি তীরে এসে তরী না ডোবে।পুরো এক বছর করোনা প্রতিরোধে সাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারলেন আর আরো ০৩ মাস মেনে চলতে পারবেন না?এমনিতেই করোনা আক্রমণ করে মানবদেহের ফুসফুসে ,আর জানেন তো শীতে আমদের ফসফুস একটু দূর্বল থাকে বৈ কি ? তাই শীতে বলা চলে শেষ সাবধানতাটুকু দেখাই করোনা প্রতিরোধে।করোনা ভ্যাকসিন আগমনের স্বণালী মূহূর্তের প্রতীক্ষায় যেদিন নিঃসঙ্কোচে মুক্ত বাতাসে সুন্দর এই পৃথিবীতে আবার মানবজাতি বিচরণ করতে পারবে সেদিনের প্রত্যাশাতে পৃথিবীর সকল মানবজাতির প্রতি শূভকামনা জানিয়ে আজকের মত লেখার যবনিকা টানছি ।

error: Content is protected !!