কালোজাদু-ভূমিকা

0Shares

ভূমিকা

পৃথিবীতে আর বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডে যে বিষয়গুলো রহস্যাবৃত আর অমিমাংসীত সেগুলোর সন্তুষ্টিজনক উত্তর পেতে আমাদের মনে একটা আলাদা অব্যক্ত কৌতুহল জাগে ।আসলে ভূত বলে কিছু কি আছে ? আমরা আধুনিক মানুষরাই কি শুধু উন্নত ? মানব সমাজ ক্রমশ বিবর্তনে উন্নত নাকি মানুষ তার সৃষ্টি ও জন্মলগ্ন থেকেই উন্নত জ্ঞানের অধিকারী, মানুষের পৃথিবীতে আগমনের শুরুটা ঠিক কত আগে থেকে ১০ লাখ বছর আগে থেকে নাকি ০৬ হাজার বছর আগে থেকে? কালোজাদু বাণ টোনা, জ্যোতিষ বাণী এ এগুলো কি সত্যি নাকি স্রেফ ভন্ডামী?  স্রষ্ঠা ও তার সৃষ্টি সম্বন্ধে অবারিত কৌতুহল, স্রষ্ঠা কে, তাকে কেন অনাদি অনন্ত বলা হয়? এসব রহস্যঘেরা প্রশ্ন আমাদর মনে কখনো কখনো কোন ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে মনে প্রবল দোলা দিয়ে যায় ।মন খোজে মন মানার মত প্রশ্নোত্তর । কিন্তু কোন উত্তরই কেন জানি মনকে সন্তুষ্ট করতে পারেনা , জিজ্ঞাসু মনের তৃপ্তি বা পিপাসা  মেটাতে পারেনা । এ সব অতি জটিল প্রশ্নের উত্তর নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে ও অতি স্বল্পজ্ঞানে দেবার চেষ্টা করেছি মাত্র, অকাট্য ও ১০০ ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত কোন মতবাদ দিইনি বা বলছিনা এগুলো ১০০ ভাগ সত্য এবং প্রমাণিত ।শুধুমাত্র কিছু প্রচলিত প্রাচীন ও আধুনিক বই পত্র, উইকি, বিদেশী কিছু ওয়েবসাইট এর সামান্য সহায়তা,  জনশ্রুতি ,সাধারণের ভিতর অসাধারণ যে বিষয় আমাদের অজানা বা দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায় এবং  নিজ জ্ঞানে ও ভাবনাতে সকল জাতি ও ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রেখে যেটুকু যৌক্তিক মনে হয়েছে সেটুকু লিখেছি ও ব্যাখা দাড় করানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। মনে রাখবেন সবকিছুর উপর স্রষ্ঠা একমাত্র সত্য আর আপনি যে ধর্মের হোননা কেন জানবেন যে মানবতা আপনার ধর্মের কেন সকল ধর্মেরই মূলভিত্তি । লেখার কোথাও কোথাও ছন্দহীন ও খাপছাড়া মনে হতে পারে, এটা এ কারণে হতে পারে যে বইটা লেখা শুরু করেছি প্রায়  বছর তিনেক আগে থেকে ।সাথে অত্যাধিক কর্মব্যস্ততা, পড়াশোনা, নানা কারণে মুড সুইং করার কারণে নিয়মিত লিখতে বসা হয়নি ।

(০৬)

পাঠক ও যে কোন ধর্মাবলম্বী জ্ঞানী ও গুণী মানুষের প্রতি অনুরোধ রইলো লেখার কোন প্রকার ভুলে আমার প্রতি রুষ্ট  না হবার জন্য ।

আচ্ছা কোন কিছু কি নেই বললেই নেই হয়ে যায় ? প্রবাদ আছে যা রটে তা কিছুটা বটে ।পুরাকালবর্তমান কালভবিষ্যত কাল এই তিনই কালোজাদু এর উপজীব্য ।বলতে পারেন এটা পাস্ট ফিকশন টাইপের বই । সায়েন্স ফিকশন নামটির সাথে আপনারা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ফ্যানরা পরিচিত ।তবে পাস্ট ফিকশন নামক আজগুবি নামটি হয়তো আমিই প্রথম কোথাও ব্যবহার করলাম এ জন্য যে আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে যতটা আগ্রহ আছে অতীত নিয়ে ততটা আগ্রহ আমাদের নেই ।এর যৌক্তিক কারণ ও আছে কারণ দিনতো চলে যাচ্ছেই ।যা অতীত হয়ে গেছে তাতো এক কায়দাতে গেছেই ।কিন্তু চিন্তা হলো ভবিষ্যত নিয়ে ।কারণ বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতকে ফেস করতে/মোকাবেলা করতে হবে আপনার ।বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ ।তবে অতীত নিয়ে যদি মানুষের আগ্রহ একেবারে না থাকতো তবে ইতিহাস(HISTORY) নামে কোন বিষয় (SUBJECT) থাকতোনা ।প্রত্নতত্ববিদ, নৃতত্ববিদ, ঐতিহাসিক এনারা থাকবার প্রশ্নই থাকতোনা ।আমি উচ্চমাধ্যমিক পর্য্যন্ত বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম ।পরবর্তী শিক্ষাজীবনটুকু মানবিক বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেছি ।ইতিহাস বিষয়টা আমার বরাবরই প্রিয় । স্নাতকোত্তর এ ইসলামের ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করতে গিয়ে কেন জানি মনে হলো বিজ্ঞান আর ইতিহাসের(প্রাচীন হোক বা ইসঃ ইতিহাস হোক)মধ্যেও কেমন একটা সুনিবিড় সংযোগ আছে ।মানুষের অতীতের কাহিনী বা  সমাজ ব্যবস্থা যেমন ইতিহাসের আওতা বা অবদানের বাইরে  নয় তেমনি বিজ্ঞানের ও বাইরে নয় । অতীতের বা মহাকালের গর্ভে ডুব দেওয়ার ভিতর অদ্ভুত একটা রহস্যময়তা ও সাসপেন্স আছে, হয়তো অতীত কে অতীত ভেবে বা “পাস্ট ইজ পাস্ট” ভেবে এসব আমরা ভাবনাতে ও নিয়ে আসতে চাইনা। আচ্ছা আজ আমরা যে খ্রিস্টাব্দ অতিবাহিত করছি, তার থেকে অনেক অনেক শতাব্দী আগে ধরুন আজ থেকে দশ বা বিশ হাজার বছর আগেও তো এই পৃথিবীতে মানুষ বসবাস করতো। অনেকের হয়তো জানতে ইচ্ছা করে তারা কি করতো, কেমন ছিল তাদের জীবন, আমরা যেমন পড়েছি আসলে কি তারা কতটা উন্নত বা অনুন্নত ছিলো এটা নিয়ে দন্দ -সন্দেহ – বিতর্ক চলে আসছে অনেক কাল

(০৭)

আগে থেকে। মানুষের জানার এই অপার আগ্রহ থেকেই বোধ হয় এইচ জি ওয়েলসের টাইম মেশিন, আর্থার সি ক্লার্ক এর সায়েন্স ফিকশন কালজয়ী হয়ে যায় । অপার আগ্রহ, কৌতুহল, কল্পনা আছে বলেই আধুনিক বিজ্ঞানের স্বর্ন যুগে আমরা বসবাস করছি ।কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা না থাকলে ও  অনর্থক অবাস্তব হলেও তা আমাদের কে এক প্রকার আনন্দ দেয়। এই যেমন ধরুন বিজ্ঞান বলে ভূত বলে কিছু নেই , কিন্তু তারপরেও ভূতের বই আমাদের অবসরে প্রিয়, সারা পৃথিবীর উন্নত সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে, এফ এম রেডিও গুলো তে, গুগল প্লে স্টোরে ভুতের পিডিএফ বই, হরহামেশাই ভূত এফ এম, আহট, এলিয়েনের কাহিনী, তুমুল দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে প্রচারিত হচ্ছে ।মানুষের অজানাকে জানার দূর্বার ইচ্ছা, রহস্যের প্রতি দূর্নিবার আকর্ষন আছে বলেই তো এই প্রোগ্রামগুলোর দর্শকেরও অভাব হয়না , হোকনা অবাস্তব, অযৌক্তিক আর সামান্য বাস্তবের মিশেল, কিন্তু সিনেমা আর ভুতের গল্প মিথ্যা জেনেও অদ্ভুত এক আকর্ষন কাজ করে আমাদের ভিতর !।    

এই বইটি পড়বার সময় আপনার মনে হতে পারে অনেক কথাই মন গড়া বা অযৌক্তিক অথবা স্রেফ আবহমান বাংলার গ্রাম ও শহরে চলে আসা জনশ্রুতি বা কুসংস্কার অথবা স্থানে স্থানে  স্রেফ ভূতের গল্পের বই  ।এটা এজন্য হতে পারে যে বইয়ের নামের সাথে বিষয়বস্তু ও কাহিনীর মিল রাখার জন্য এগুলো উদাহরণ এবং সাথে আমার লেখার মৌলিকত্ব ধরে রাখার প্রচেষ্টা ও কপি পেস্ট থেকে দুরে থাকা । স্রেফ পাঠক মনে কৌতুহল ও চমক জাগানো বইটির উদ্দেশ্য নয় । যুক্তিযুক্ত উদাহরন, যুক্তি, ও ইতিহাস দিয়ে আমরা ঘুরে আসবো অতীত –বর্তমান –ভবিষ্যত । সাথে সাথে দাড় করানোর চেষ্টা করবো অনেক অমিমাংসীত প্রশ্নের যুক্তিপূর্ন উত্তর । তবে বলবোনা যা লিখছি যা বলছি সবই ১০০ % সত্য, এটা হলো যুক্তি বিজ্ঞান ইতিহাসের আলোকে অথবা শুধু আমার ছোট মাথায় স্বল্পজ্ঞানে কৌতুহল নিবৃত্তির প্রচেষ্টা মাত্র । হতে পারে ভারতের আদালত সিরিয়ালের সেই বিখ্যাত সংলাপের মত যেটা দেখা যায় সেটা হয়না , আর যেটা হয় সেটা দেখা যায়না । গতানুগতিক ভাবে সাধারণত একটা বইয়ের যে সূচীপত্রের সাথে লেখার যে মিল থাকে , আমার বইয়ে তা পাবেননা,দায়সারা গোছের একটা সূচীপত্র তৈরি করেছি মাত্র।মূলত এটা করেছি এ কারণে যে ,এই বইটির মূল থিম হলো বিজ্ঞান স্বীকার করেনা যে যাদু ,যার উদ্ভব প্রাচীন ব্যবিলন থেকে তা কি সত্যিই ছিলো নাকি এখনো আপনার আমার মাঝে স্বরূপে এই একাবিংশ শতাব্দীতে বিদ্যমান তার পক্ষে বিপক্ষে কথার পিঠে কথা বলে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছি বলে আলাদা আলাদা অধ্যয় সৃষ্টি সম্ভব হয়নি ,সূচীপত্র বিহীন এই বইটি পড়তে গেলে পুরোটাই পড়তে হবে । আমি যেহেতু অতি সামান্য একজন মানুষ তার উপর আহামারি জ্ঞান বা সার্টিফিকেট এর অধিকারী নই এবং যেহেতু মানুষ মাত্রই ভুল করে , সেহেতু আমার লেখার ভুল স্বাভাবিক ও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আবারো এ অনুরোধ রইলো ।

বিনীত

                                                   সৈয়দ মেহবুব রহমান

(০৮)

পড়তে শুরু করুন প্লিজ

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!