কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯+৩০

0Shares

দি নাইন  নামক এই সংগঠনের বৈশিষ্ট্য হলো  এই রহস্যময় মিথ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা নয়(০৯) জনের বেশি হবেনা । কোন একজনের মৃত্যু ঘটলেই তবে তার জায়গা নেয় নতুন আরেকজন ।এবং এই নয়জনই ওই পূর্ব নয়জনের দ্বারা পূর্ব থেকে পর্যবেক্ষন ও পরীক্ষার মাধ্যমে গোপনে মনোনিত । এভাবে চিরকাল  এই নয় রহস্যময়ের সদস্য সংখ্যা নয়জনই  থাকে  এবং এই নয়জনের বাইরে তাদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কখনোই কোন মানুষ অবগত ছিল না , বর্তমানে ও নেই আর  ভবিষ্যতেও থাকবে না এটাই স্বাভাবিক , এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকাটা এই সংগঠনের সদস্যদের প্রধান শর্ত । এবং অবশ্যই গোপন এই সংগঠনের সদস্যদের মানসিক ভাবে সৎ , নির্লোভী , মানবতাবাদী , সংযমী , এসব মহৎ গুনে ভরা পূর্ব জীবনের রেকর্ড থাকা লাগবে ।কারন এরকম সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা যদি কোন সামান্যতম দুনিয়ার প্রতি মোহ আছে এমন লোকের হাতে পড়ে তবে মানবজাতির ক্ষতি মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র ।

যদিও কারা এই গুপ্ত সংগঠনের সদস্য সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলার কোন উপায় নেই , নিশ্চিত ভাবে আঙ্গুল তোলা যায় কারো দিকে এমন কোন প্রমান পত্র ও নেই । তারপরও যুগ যুগ ধরে এর অতীত ও বর্তমান সদস্যদের ব্যাপারে নানা গুজব প্রচলিত রয়েছে। ধারণা করা হয় , দি নাইন এর সদস্যরা বর্তমানে সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে , এবং তাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্ব ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি মানুষের জন্য কতটুকু নিরাপদ এরকম নিয়ন্ত্রণ এর  খুবই উঁচু পদে আসীন রয়েছে ।

আজ পর্যন্ত অসাবধানতা বা অসতর্কতা বশত নয় রহস্যময়ের সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে এখন পর্যন্ত যাদের নাম উঠে এসেছে বা ফাস হয়েছে , তাদের মধ্যে দশম শতকের প্রভাবশালী পোপ দ্বিতীয় সিলভেস্টার ও উপমহাদেশে রকেট বিজ্ঞানের জনক বিক্রম সারাভাই , কিংবদন্তী বাঙালী বিজ্ঞানী যিনি গাছের জীবন ও রেডিও তরঙ্গের উদ্ভাবক জগদীশ চন্দ্র বসুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য । এছাড়া দি নাইনের গবেষণায় বা অনুসন্ধানে ফরাসী অতিপ্রাকৃত গবেষক লুইস জ্যাকলিয়ট এবং ফরাসী physician এবং ব্যাকটেরিয়া গবেষক আলেকজান্ডার ইয়েরসিনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়না , এনাদেরকে সন্দেহভাজন এর তালিকাতে রাখা হয় । আমি আপনি চিরকাল দেখে

(২৯)

আসছি এমন গোবেচারা মানুষদের ভিতরও লুকিয়ে থাকতে পারে অনেক আশ্চর্য ক্ষমতা ।হয়তো আমরা বুঝতে পারিনা । কিন্তু আপনার দেখা দিনের গোবেচারা মানুষটি তো হতে পারে রাতের অন্ধকারে এক অপরাধজগতের সম্রাট ।একটা ঈদের নাটকে ১০ বছর আগে এ রকম একটা অভিনয় দেখেছিলাম সেজন্য বললাম প্রাচীন বিশ্ব ইতিহাস এর একটু গভীরে বা মিথ পর্যায়ে পড়াশোনাতে গেলে   আপনারা একটা জিনিষ দেখতে পারবেন যে  নিজস্ব জ্ঞানকে কুক্ষীগত বা গোপন করে রাখাই হলো গুপ্ত সংগঠনগুলোর বা অতি ক্ষমতার মানুষদের প্রধান কাজ বা  অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য । এমনটি আমরা শুধু দি নাইন বা ইলুমিনাতির ক্ষেত্রেই দেখিনি, দেখেছি প্রাচীন মিশরীয় ফারাউ , নিষিদ্ধ দেশ তিব্বতের তিব্বতীয় মংক বা সন্ন্যাসী গোষ্ঠী , মায়ান পুরোহিত , মুক্ত বা ফ্রি ম্যাসন , রোসিক্রুসিয়ান ও আরো অনেক ব্যাক্তি বা সংগঠনের ক্ষেত্রেই। তারা তাদের অর্জিত ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান অন্য কারও সামনে প্রকাশ করত না বা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করতনা বলেই হয়ে উঠেছিল বা গোপনে হয়তো হয়ে উঠেছে দূর্দমনীয় ও দূর্বোধ্য শক্তি বা সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতার অধিকারী। এবং এরকমটিই  আমরা দেখতে পাই দি নাইন  এর  ক্ষেত্রেও। এখন তাদের সংগঠনের বর্তমান অবস্থান বা সে সম্পর্কে আমরা হয়তো জ্ঞাত নই , কিন্তু এতটুকু অনুমান আমরা করতেই পারি যে,  যতই দিন যাচ্ছে, তাদের গুপ্ত জ্ঞান ও ক্ষমতার সীমা ততই আকাশ ছোঁয়া হচ্ছে  বা বেড়েই চলেছে আপনার আমার চোখের আড়ালে থেকে । একটা ছোট উদাহরণ আপনাদের কে দিই , এখনকার যুগে এই যে কোকা কোলা কোম্পানি যে কোক তৈরি করে , বা সেভেন আপ তৈরি করে , বা মিরিন্ডা তৈরি করে এদের স্বাদ দেখবেন পুরো পৃথিবীর অন্যান্য সকল সফ্ট ড্রিংকস থেকে ভিন্ন , অন্যরা তৈরি করলে এদের কাছাকাছি হয় কিন্তু এদের সমান হয়না ।এ রকম বিখ্যাত  অনেক খাবার  পণ্য , ইলেকট্রনিক্স পণ্য , মোবাইল অনেক কিছুই আপনি পাবেন যেগুলো ফর্মুলা জানা স্বত্তেও এবং একই পার্টস দিয়ে তৈরি পণ্য কোম্পানীভেদে দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সার্ভিস কম বেশি হয়ে থাকে । ঔষধ ও কসমেটিক্স এর উপাদান বা ফর্মুলা সব কোম্পানীরই একরকম , কিন্তু কোন কোম্পানীর ঔষধ বা কসমেটিক্স এ মানুষ উপকার একটু বেশি পায় কেন ? সার্বজনীন সুত্রের বাইরে গিয়ে তারা কিন্তু আলাদাভাবে তাদের গবেষকদের দিয়ে চিরকাল সুত্র অতি গোপনীয় রেখে কোম্পানীকে শীর্ষ অবস্থানে রাখে । তেল মসলা

(৩০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!