কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৫৩+৫৪

0Shares

আবার ইংরেজীতে এটাকে mango বলা হয় । ভাষার একটা ক্ষুদ্র সমষ্টি হলো শব্দ ।আম বা mango হলো শব্দ ।শব্দ গঠিত হয় কয়েকটি ধ্বনির সমন্বয়ে । আম=আ+ম ।এখানে আ ও ম হলো ধ্বনি ।তো বিষয় হলো পৃথিবীতে একেক অঞ্চলের বা একেক দেশের অধিবাসীরা আম ফলটির নাম একেক রকম দিয়েছে ।তো এই ভাষার সংগা হলো একটি বস্তু বা বিষয় বা ভাব বা আবেগকে একেক অঞ্চলের অধিবাসীরা একেক ধ্বনি সমষ্টির মাধ্যমে একেকটা শব্দ বা নাম হিসেবে প্রকাশ করেছে । আর সেটাই হয়েছে ভাষা । অঞ্চল ভেদে একটা বস্তুকে বা বিষয়কে সেই জনগোষ্ঠী একটা বস্তুর যে নাম দিয়েছে সেটাই হলো ভাষার ভিন্নতা । আর ভাষা বা নাম অঞ্চলভেদে যাই হোকনা কেন ভাষার ভিত্তি যে ধ্বনি সেটা কিন্তু সব ভাষাতেই এক ও অভিন্ন । যদি বলেন কেমন, তাহলে আসুন দেখি বাংলাতে এ বর্ণ, ইংরেজীতে A, আরবীতে আলিফ ।লক্ষ্যনীয় তিনটা ভাষাই সম্পূর্ণ আলাদা বর্ণমালাও আলাদা । কিন্তু বেসিক বা মূলভিত্তি ধ্বনি যেটা একটাক্ষুদ্র শব্দের একক সেটা কিন্তু এক ও অভিন্ন । Linguisticsociety of America এর ২০০৯ এর তথ্য মতে পৃথিবীতে স্বতন্ত্র ভাষা আছে ৬৯০৯ টি ।

         এই ৬৯০৯ টির মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা হলো ১১ টি । বাংলা, চীনা, ইংরেজী, আরবী, হিন্দী, স্প্য্যানীশ, রুশ, পর্তুগীজ, জাপানী, জার্মান ও ফরাসী।পাপুয়া নিউগিনিতে খোজ পাওয়া যায় ৮৫০ ট ভাষার, এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭০ টি ভাষার খোজ পাওয়া যায় ।যদি শুনে না থাকেন ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি ভাষার নাম বলি । ইন্দোনশিয়ার প্রধান ভাষা ইন্দোনেশিয়ান তথা মালয় ভাষা । এছাড়া বাকি ভাষা গুলো হলো সান্দানিজ, মুশি, বানজারিস, সাসাক, বাতাক টোবা , মোংগোন্টো, নিয়াস ইত্যাদি । এ ছাড়া আরো অনেক ভাষা রয়েছে । সবগুলোর নাম লেখা এখানে নিস্প্রোয়জন ।পাপুয়া নিউগিনিতে সর্বাধিক প্রচললিত ভাষাগুলো হলো টক  পিসিন, হিরিমোটু, পাপুয়া নিউগিনি সাইন ল্যাংগগুয়েজ । আচ্ছা এত কথা তো বললাম । কখনো কি মনে প্রশ্ন জাগেনা এত ভাষা এলো কোথা থেকে । পৃথিবীর সকল মানুষ তো এক আদম-হাওয়ার বংশধর । তাহলে কেন এত ভাষা হবে ।এক আরবী বা সংস্কৃত ভাষা হবার কথা ।এর পিছনে অনেকগুলো কারন থাকতে পারে ।

(৫৩)

 ধরুন কালের আবর্তে আমাদের মানবজাতির আদি পিতা মাতা থেকে মানব বংশবিস্তার ঘটেছে এটা সবাই মানেন এক বাক্যে । সেটা আপনি আমি ধর্ম বা মতবাদ ভেদে  আদম-হাওয়া / অ্যাডাম-ইভ / মনু-শতরূপা  যাই বলি না কেন একজনই ।এখন দেখা গেলো আমাদের আদি পিতামাতা থেকে বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিক ধারাতে মানুষের বংশবৃদ্ধিতো হয়েছে এটাও স্বাভাবিক । এবারে কালে কালে মানুষের সংখ্যা লাখে তো পৌছালো । লাখ থেকে কয়েক লক্ষ, কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক কোটি । কয়েক কোটি থেকে শত কোটি, শত কোটি থেকে আজকের ৭০০ কোটি । পৃথিবীতে যত মানুষ অদ্যবদি মারা গেছে তার থেকে বেশি মানুষ আজ জীবিত বসবাস করছে পৃথিবীতে । তো যখন আদি পিতামাতা থেকে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলো হতে পারে সেটা কয়েক হাজার বা কয়েকলক্ষ।মানুষের স্বভাববশত মানুষ তার প্রয়োজনে সমাজ গঠন করেছে ও একতাবদ্ধ থেকেছে ঠিকই ।আবার তাদের প্রয়োজনে আলাদা গোষ্ঠী বা গোত্রও গড়ে তোলে । হতে পারে সেটা জমিজমা, খাদ্যের অপ্রতুলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি কারনে মানুষ আলাদা হয়ে গেছে তার মুল বংশ থেকে ।

         এবার সে তার পূর্ববাসস্থান থেকে এসে দেখা গেলো আলাদা কোন সতন্ত্র স্থানে এসে পৌছালো । তার সাথে দশ বিশ হাজার লোক আছে । তাদের নিয়ে সে পৌছালো জনমানবহীন কোন ঘাসময় প্রান্তরে, কোন পাহাড়ী অঞ্চলে বা মরু প্রান্তরে ।সে যদি পূর্বে থাকতো কোন মরু অঞ্চলে তো ঠান্ডা বা নাতিশীতোঞ্চ  অঞ্চলে এসে সে তার পোশাক ,চলাফেরা খাবার সবই চেন্জ করে ফেলবে । কারন ওখানে যেটা পেতো এখানে সে সেই পশু থেকে শুরু করে খাবার, মাছ সবই পূর্ব পরিচিত না পেয়ে আলাদা পাবে । এবারে তার সাথে যত লোক এসেছে, গোত্র প্রধান হিসেবে মানে তাদেরকে তো থাকার যায়গা করে দিতে হবে । তখন তারা ইচ্ছামত তাদের যার যতটুকু যায়গা লাগে দখলে নিয়ে বসবাস করতে শুরু করলো । তার আগে অবশ্য মানুষ যাযাবরের মত বসবাস করতো । যখন দেখলো বার বার এত বৃহৎ জনগোষ্ঠী নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয় ।তখন মানুষের মাথায় স্থায়ী বসবাস, চাষ-আবাদ এর ধারনা এলো ।

(৫৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!