কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯৭+৯৮

0Shares

হ্যা এটা রহস্য ও বিজ্ঞানের সর্বশেষ স্বীকারোক্তি । বেশিরভাগ ভুতের গল্পগুলো এ রকম হয় গভীর রাতে একা পথে চলছেন, মনে হচ্ছে কেউ যেন পিছনে আসছে , কারো যেন পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, কিন্তু পেছনে তাকালে কেউ নেই, হঠাৎ রাতে টিনের চালে কেউ যেন হেটে বেড়াচ্ছে, টিনের চালে ইট পড়ার শব্দ, সাদা শাড়ি পরে কেউ যেন দাড়িয়ে আছে,হঠাৎ করে রাতে দেখলেন কোন আগুন উড়ে চলেছে , পোড়োবড়িতে কাদের যেন হেটে চলে বেড়াতে দেখা যায়।

         বিলে বা নদীতে গভীর রাতে মাছ ধরছেন দেখা গেল আপনার বন্ধু রূপধারী যে আপনার সাথে ছিলো সে হয়তো আপনার  এতক্ষণ ধরে রাখা মাছগুলো সব কাচাই খেয়ে ফেলেছে যেটা একটু আগে বললাম,কারো মৃত্যূর পর তাকে আবার কোথাও দেখা গেল, একা বাড়িতে ভুতের ভয় পেয়েছে কেউ । এ রকম কত কি শুনি আমরা । এ গুলো সব কিছুর একটা ব্যাখ্যা আছে, সত্যতা কতটুকু আছে জানিনা ।আগেই বলেছি মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ হার্জ থেকে শুরু । তার নিচের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না ।একে বলে ইনফ্রাসাউন্ড । এই সাউন্ডটা আমরা শুনতে পাইনা । কিন্তু অনেকের মস্তিষ্ক অবচেতন মনে এই সাউন্ড ধরে ফেলে, এই সাউন্ড ধরে ফেলার কারণে আপনার হঠাৎ করে ভাল লাগা বা অসস্তির বোধ হতে পারে । ধরুন আমরা যখন বাসে চড়ি তখন দেখা যায়, অনেকের মাথা ঘোরায় ও বমিভাব হয় । এটাকে বলা হয় মোশন সিকনেস ।এর কারণ দুইটা একটা হলো অপটিক্যাল ইলিউশন, যখন মস্তিষ্ক দেখে বাইরে সবকিছু চলমান এবং গাড়ির ভিতরে দেখে সবকিছু স্থির । আমাদের অনেকের মস্তিষ্কের নার্ভ এই ইলিউশানটা নিতে পারেনা । মূলত স্নায়ুর এক প্রকার অনভ্যস্ততা থেকে এটা হয় ।আরেকটা কারণ হলো ইনফ্রাসাউন্ড । ২০ হার্জের নিচের শব্দটা হলো ইনফ্রাসাউন্ড ।এই মাত্রার শব্দ শোনা যায়না । কিন্তু অবচেতন মন মস্তিষ্ক বা ধ্যানমগ্ন মন এটা ধরতে পারে ।এই শব্দ আমাদের অন্ত্র ও স্নায়ুকে প্রভাবিত করে আর সাথে গাড়ির ধোয়া ও গন্ধ যোগ হয় , ফলশ্রুতিতে বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা সমস্যা হয় ।আবার যারা নিয়মিত যানবাহনে চড়ে অভ্যস্ত তাদের এই ধরনের সমস্যা হয়না বললেই চলে ।তো যেটা বলছিলাম বিজ্ঞানীরা যেখানে মানুষ ভূত দেখেছেন বা হন্টেড প্লেস এর কথা শোনা

(৯৭)

যায়, সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে শক্তিশালী বা মৃদূ তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের অস্তিত্ব পেয়েছেন ।আসলে ভৌতিক বা আধিভৌতিক অবৈজ্ঞানিক যাই ঘটুক না কেন সব কিছুর একটা ব্যাখ্যা দাড় করানো যায় ।একটা ব্যাখ্যা দিয়ে দিলেই জিনিসটা মিমাংসা হয়ে যায় তা নয় ।নেই বললে নেই হয়ে যায় তা নয় । বর্তমানে দেখা যাচ্ছে পূর্বের অনেক মতবাদ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে । দেখা গেলো ২০ বছর আগের বিজ্ঞানী বলছেন ডিম ওজন বাড়ায় এবং হার্টের জন্য ক্ষতিকর । ২০ বছর পর বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ডিম ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং এর কোলেষ্টরল ও ক্ষতিকর নয় । আসলে জ্বীন বা ভুত অথবা অশরীরি আছে কিনা এর অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক সুপ্রাচীন । প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগন , আশিরীয় সভ্যতার লোকজন জ্বীন জাতির অস্তিত্বে বিশ্বাস করতো ।ভারতীয় ও মিশরীয় সভ্যতায় তো অনেক গল্পকথা বা উপকথায় উল্লেখ পাওয়া যায় অশরিরী ও প্রেতাত্বাদের ।প্রাচীন প্রচলিত অনেক তন্ত্র মন্ত্র ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যে গুলো অশরিরী হাজির, বশীকরণ ও বিতাড়নের জন্য । সকল সভ্যতায় ছড়িয়ে আছে এ রকম হাজার হাজার  তন্ত্র মন্ত্র । আজকের এই বিজ্ঞান যুগেও আমরা এসব বৈজ্ঞানিক ভাবে সম্পূর্ন না করে দিলেও এসবে মনে মনে  বিশ্বাস করেন এমন শিক্ষিত লোকেরও অভাব নেই ।তা যদি  না হয় তা  হলে টেলিভিশন খুললেই কোন কোন চ্যানেলে সব সমস্যা নিশ্চয়তা  সমাধানে সিদ্ধহস্ত বিভিন্ন বাবাদের বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়া যায় এটা তো দেখেছেন তাইনা? তো বিশ্বাস যদি মানুষ নাই করে তবে এদের পসার হয় কি করে ? আবার জ্যোতিষবাণী বা জ্যোতিষবিদ্যা ভুয়া বলে সবাই বলছি , তারপরও দেখুন সবকয়টি জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকা গুলোতে আজকের রাশিফল নামে একটা অংশ থাকে । জ্বীন-ভূত-প্রেত-জ্যোতিষ এসবে স্বীকৃত ভাবে বিশ্বাস করিনা বলা হয় সমাজে বা বলা হয় বিশ্বাস করবার মত যৌক্তিকতা বা বৈজ্ঞানিক ভাবে এর কোন ভিত্তি নেই।তবে সাধারণত  মানুষ তার কোন দূর্বল মুহূর্তে এগুলো বিশ্বাস করে অধিকাংশে ।ধরুন যার হাতে প্রচুর অর্থ আছে সে কিন্তু ভাববেনা তার কালকের দিনটা কেমন যাবে , যাত্রা শুভ কিনা, আবার লাগাতার দারিদ্র কষাঘাতে পড়া মানুষটা হয়তো এ সবে

(৯৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!