কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯৯+১০০

0Shares

ক্রমাগত বিশ্বাস করতো এখন আর বিশ্বাস করেনা, আবার একজন মানুষ যদি ব্যাপারটা বিশ্বাস করে তবে হয়তো সে এমন কিছু জীবনে পেলো সেটা সে পাবার যোগ্য ছিলোনা, বা অপত্যাশিত ভাবে পেলো, তখনও তার ভিতর ভাগ্য বিশ্বাস এসে যেতে পারে । মানুষের বিশ্বাস এর ভিন্নতা তৈরি হয়  পরিস্থিতি, মন ও তার পারিপ্বার্শিক পরিবেশ ভেদে ।ধরুন আপনার কোন একটা জরুরি কাজ সেরে ফিরতে অনেকটা রাত হয়ে গেলো,  রাত তখন একটা, আপনাকে হেটে আসতে হবে ০৫ কিলোমিটার নির্জন রাস্তা দিয়ে, রাস্তার কোথাও একটা গাড়িঘোড়া নেই, একটা জনমানুষ নেই, আপনার কাছে লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে, অতএব কোন মানুষের এ্যটাকের ভয়ও আপনি পাচ্ছেননা , আপনার যাত্রা পথে বড় একটা কবরস্তান আছে , সেখানে আলোও কম, গল্প শুনেছেন ওই কবরস্তানের সামনে মসজিদের মুয়াজ্জিন সাহেব আজানের আগে কিছু সাদা কাপড়ের লোক কে ঘুরতে দেখেছেন, কোন বাচ্চা কবরে বসে কাঁদে, হঠাৎ করে কালো কাপড় পরা একটা লোক সামনে এসে অদৃশ্য হয়ে যায়, কবরস্তান পার হবার পর আপনার  বাড়ি যেতে একটা তেপান্তরের ফসলের মাঠ পড়ে, মাঠের দু পাশে ফাকা , মাঠের ভিতর বড় একটা শতবর্ষী বট বা শিমুল গাছ আছে । আপনি শুনেছেন মাঝে মাঝে বটতলায় জ্বীনরা রাতে আসর জমায়, বা আগুন উড়ে বেড়াতে দেখা যায়, বা মাঝে মাঝে মাঠের ওই রাস্তা দিয়ে গলাকাটা একজন লোক ঘুরে বেড়ায়, অনেকদিন আগে একটা লোককে দূর্বৃত্তরা গলা কেটে খুন করে রেখে যায় এই মাঠে, হতে পারে সেই লোকের আত্ত্বা, ব্যাস হয়ে গেলো আপনার কর্ম সাবাড় । আপনি ছিলেন সায়েন্স এর ছাত্র, আপনি পড়েছেন ভুত বলে কিছু হয়না, আপনি জানেন রাতের আকাশে যে আগুন উড়ে বেড়ায় সেটা হলো উল্কাপাত, বিল জলাভুমির আগুন মিথেন গ্যাসের প্রভাবে হয়, আপনি শুনেছেন হঠাৎ করে নির্মল পরিষ্কার যায়গায় বোটকা দুর্গন্ধ অপদেবতা বা বাজে আত্বার উপস্থিতি, ব্যাস হয়ে গেলো, আপনি দেখছেননা ওটা ইদুর–ছুচো না টয়লেটের গন্ধ । আপনি তো চিরকাল বুক ফুলিয়ে বলে এসেছেন ও বিশ্বাস করে এসেছেন ভূত বলে কিছু হয়না, এ সব অলস মস্তিষ্কের প্রসূত গল্প । কিন্তু কাহিনী যে পরিবেশ ভেদে ভিন্ন হয়ে যায় সেটা আপনি এই নির্জনতায় খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করছেন ।

(৯৯)

বৈদ্যুতিক বাতির নিচে বসে, নেই বলে যেটা তুড়িতে  উড়িয়ে দেওয়া যায়, সেটা কিন্তু এখন কোনমতে উড়িয়ে দিতে পারছেননা ।হঠাৎ করে মনে হলো কেউ হেসে উঠলো, কেউ মনে হচ্ছে হাত ঘষছে, কেউ মনে হলো হাততালি দিলো, কেউ যেনো পিছনে হেটে আসছে, আবার পিছনে তাকালে কেউ নেই । আপনার হার্টটা খুব লাফাচ্ছে, পা টা গরম হয়ে যাচ্ছে, আমাদের সমাজে এ রকম মানুষ পুরুষ হোক বা নারী হোক শতকরা ৮০ জন এ রকম ভীতু । কারণটা এবার আমার নিজস্ব মতামতে বলি, ধরুন আপনি অশরিরী নেই বলে যে গল্প দেন সেটা আপনি আপনার ঘরে বা চায়ের দোকানে  বন্ধু ও মানব সমাবেশে বলেন । যে বিজ্ঞানী বলেন ও সব গাজাখুরি, বিজ্ঞানের ভাষাতে হ্যালুসিনেশন বা অলীক ভাবনা, ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম তারা কিন্তু ল্যাবের মডার্ণ টেকনোলজি সমৃদ্ধ ঘরে বসে বলেন । কিন্তু কজন আছে যে কোন হন্টেড প্লেসে বাজি ধরে একা রাত্রিযাপন করতে পারবেন ? যার ০৫ কি.মি. এর ভিতর কোন মানুষ নেই, দেখবেন আসর ফাঁকা হয়ে যাবে,সিসি ক্যামেরা সেট করে দিলেও যাবেনা । দেখুন জনসমাগম স্থলে গরম চা খেতে খেতে পাশে দশজন বন্ধু নিয়ে আর পকেটে পয়সা থাকলে অনেক কথা বলা যায় ।কি আছে কি নেই এটা বুঝতে হলে আপনাকে সেই পরীক্ষা ও পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে ।পরীক্ষা কতটা ভয়ংকর, ছাত্রজীবনে ক্লাস পরীক্ষায় ভালো মার্কস পাওয়া কতটা কষ্টের সেটা বুঝতে হলে সাজেশনের বাইরে আসা প্রশ্ন ও হলে শিক্ষকদের কড়া গার্ড ছাড়া বোঝা যাবেনা ।ধরুন সারা বছর আড্ডাবাজি ও ডেটিং এ ব্যস্ত থাকলাম, কোচিং এ গেলাম, বইয়ে প্রশ্ন আছে ২০০, কোচিং বা স্কুল শিক্ষক সাজেশন দিলেন ৩০ টা প্রশ্ন, বা ফাস করা প্রশ্ন পেলাম  যার ভিতর থেকে ১০ টা প্রশ্নই আসবে, আপনিও পড়লেন সেটা, আর পরীক্ষা দিলেন, ভালো মার্কসও পেলেন, আর বলে বেড়াতে লাগলেন পরীক্ষা কঠিন কিছু হলো,যারা পরীক্ষাতে ভলো রেজাল্টের জন্য রাতদিন এক করে পড়ে তারা কি বোকা তাইনা ?আসলে এই দুইরকম পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট ভালো হলেও সমস্যা নেই, পার্থক্য থেকেই যাবে,  ঘাটতি থাকলে জীবনের যে কোন এক স্টেজে এসে আপনাকে কিঞ্চিৎ হলেও ভুগতে হবে।এখনকার জেনারেশনের আপনি আমি এখনকার যুগে সব কিছুই না বুঝে

(১০০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!