কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১০৯+১১০

0Shares

তার পরিমাণ হল ২০০০ পেটাবাইট(১০০০ কিলোবাইট-০১ মেগাবাইট-১০০০ মেগাবাইট -০১ গিগাবাইট -১০০০ গিগাবাইট -০১ টেরাবাইট -১০০০ টেরাবাইট-০১ পেটাবাইট ,{মুলত ১০২৪ কিলোবাইট হবে, বোঝার সুবিধার্থে ১০০০ করে একক ব্যাবহার করেছি} তাহলে ২০০০ পেটাবাইট মানে কি দাড়াচ্ছে বুঝুন তো । এটা কি কল্পনা করা যায় !! ,হয়না বা নেই বললেই সেটা হয়না বা না হয়ে যায়না । এক সময় বলা হতো চাষার ছেলে চাষা হয়, পরবর্তীতে বহু চাষার ছেলে বড় কিছু হয় দেখিয়েছে, ২০ বছর আগেও ভাবা হতো মেয়েরা পড়ালেখা শিখে কি ল্যন্ডলর্ড হবে, জর্জ ব্যারিষ্টার হবে ? কিন্তু সুযোগ পেলে তারাও যে জর্জ,ব্যরিষ্টার,ডাক্তার,ডিসি,এসপি,পাইলট সবই হচ্ছে, হয়তো সৃষ্টিগত কারনে নারী-পুরুষের সামর্থ্যতে কিছুটা কম বেশি বা সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হতে পারে, সেই সীমাবদ্ধতা থেকেও যাবে, তবে সেটা কথা নয় । একটা মাছ পানিতে থাকে ।পানিতে বসে একটা মাছ যদি বিজ্ঞের মত বলতে থাকে এবং ফাইনাল একটা ডিসিশন দেয় বা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে পানির উপরে আর কোন জগৎ নেই, সেখানে কিভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, কারণ বাঁচতে তো পানির দরকার, মাছ নিয়ে ডাঙার প্রাণীরা রান্না –বান্না করে খায় এটা আমরা শুনেছি সব ভুয়া কথা । আমাদের একমাত্র খায় জলের, সাপ, ব্যঙ কুমিরেরা ।কোন মাছ হয়তো আর একটু জ্ঞানমূলক মতবাদ দিলো যে, যার যখন সময় হয়ে যায় , পানির জগৎ থেকে সে অদৃশ্য হয়ে যায় । হয়তো সেটা সে মাছেদের জগতে বলে বা মতবাদটা প্রচলন করে প্রমাণ দিয়ে অমর হয়ে রইলো । কিন্তু সত্যটা কি সেটা উপলব্ধির ক্ষমতা মাছের আছে কি ? স্থলে মানুষ, হাতি, ঘোড়া, বাঘ, গাড়ি, বাড়ি এসব আছে এটা কি মাছকে দেখালেও বুঝতে পারবে ?হয়তো জলে ও স্থলে চরে বেড়ানো উভচর সাপ ও ব্যাঙের মাধ্যমে কিছু ধারনা পেতে পারে ।কিন্তু তার ভিতরও কথা থাকে ।সাপ ব্যাঙকে খায়। আবার সাপ ও ব্যাঙ উভয়ই মাছেদের খায় । আর সাপ ও ব্যাঙের ও কি মানব জীবন, স্থলের অফিস আদালত, মানুষের দৈনন্দিন জীবন এসবের বোঝবার ক্ষমতা  কি আছে ? এটাকেই আমার মতে আমি মনে করি তথাকথিত ডাইমেনশন বা মাত্রা

(১০৯)

         বলা যেতে পারে ডাইমেনশন বা মাত্রা হলো আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের এমন এক সীমাবদ্ধতা, যার অভাবে আমরা মহাবিশ্বের অন্য প্রাণীর অস্তিত্ব গ্রহ বা পরলোক সম্বন্ধে জানতে পারছিনা । এই যে আমরা অনেকেই  না বুঝে বলে দিই ভুত জ্বীন অশরিরীরী নেই , অনেকে তো নাস্তিক হিসেবে বলে দেন স্রষ্ঠা নেই বা পরলোক নেই এটা বলেন তারা হলেন সব থেকে বড়  বোকা ।হুযুর (সাঃ)এর মিরাজের ঘটনায় স্রষ্ঠা ও নবীর মাঝে পর্দার যে কথা উল্লেখ আছে  বা মূসা (আঃ) তূর পাহাড়ে স্রষ্ঠাকে দেখতে চাওয়ায় যে একটি পর্দা সরার কারণে নুরের তাজাল্লী পতিত হয় তূর পাহাড় ভস্মীভূত হয়ে যায় ।আসলে এই পর্দাটা হলো তথাকথিত মাত্রা বা ডাইমেনশন বা মানুষের  জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ।এর বেশি জ্ঞান স্রষ্ঠা মানুষের ভিতর দেননি । ধরুন আজ ২০১৭ সাল, আজ থেকে ১০০ বছরের কিছু বেশি সময় আগে আমরা ওড়বার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারিনি ।তখন আমরা পৃথিবীর বাইরের এই মহাকাশের এত বিশালতা সম্বন্ধে জানতামনা ।আকাশের তারা যে আমাদের থেকে কয়েকলক্ষ আলোকবর্ষ দুরে । আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ০১ লক্ষ ৮৪ হাজার মাইল বা ০৩ লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে। তাহলে এবার হিসাব করুন আলো ০১ মিনিটে কতটুকু যায়, ০১ ঘণ্টাতে কতটুকু যায়, ০১ দিনে, ০১ সপ্তাহে, ০১ মাসে, ০১ বছরে কতটুকু যায় সেটাই হল আলোকবর্ষ ।মানে ৫৮৭৮৬২৫ মিলিয়ন বা ০৬ ট্রিলিয়ন মাইল এর সমান পথ অতিক্রম করে ।কিলোমিটার এর এর হিসেবে ৯৪৬০৭৩০৪৭২৫৮১ কিলোমিটার, পৃথিবী থেকে চাঁদ মাত্র ১.২৯ আলোক সেকেন্ড, সূর্য ০৮ আলোক মিনিট, পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহ ১২.৭ আলোক মিনিট, সব থেকে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টরাই ৪.৩ আলোক বর্ষ দূরে, পৃথিবী থেকে মিল্কিওয়ে গালাক্সির শেষ প্রান্ত ৫২ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। দুরে অবস্থিত, মহাকাশের শেষ কোথায় সেটা ও কি আমরা জানি ? এটাই হলো পর্দা বা মাত্রা বা ডাইমেনশন । একেকটা পর্দা চোখের সামনে থেকে সরে  যাওয়া মানে নতুন জ্ঞান লাভ করে জ্ঞানী হওয়া, জ্ঞানের একটা নতুন স্তরে উপনীত হওয়া ,আমরা যখন বর্তমান বিজ্ঞানের থেকে উন্নত হবো, তখন আমরা নতুন কিছুর সন্ধান  পাবো, নতুন কিছু জানতে পারবো ।

(১১০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!