কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১১৩+১১৪

0Shares

 হঠাৎ করে কোথাও মনে হলো বাচ্চাদের মত ঝুনঝুনি(গ্রামে প্রচলিত বাচ্চাদের খেলনা বিশেষ) বাজালো আশেপাশে কেউ,বা হাল্কা ঝাড়ু দেবার মত শব্দ। এবার একটু সাবধান হোন ।হয়তো বইয়ে পড়েছেন rattle স্নেক জাতীয় সাপেদের লেজে ঝুনঝুনি জাতীয় একটা ব্যাপার থাকে বা হতে পারে ভাইপার  । লেজ ঝাকা দিলে ঝুনঝুনির মত শব্দ হয় । তো আশেপাশে সাপ থাকতে পারে । হঠাৎ দেখলেন ভূতের গল্পে পড়া জলন্ত চোখের মত দুটো জলন্ত চোখ আপনার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে কোন ঝোপের আড়াল থেকে । আপনি জানেন হয়তো নিশাচর প্রাণীদের চোখ রাতের অন্ধকারে জ্বলে ।হতে পারে সেটা কুকুর, বিড়াল, বাঘ বা  মেছো বাঘ ।হয়তো দেখলেন সামনে দিয়ে কেউ হেটে চলেছে ।কোন কথা বলছেনা । চুল উস্কোখুস্কো । হতে পারে কোন পাগল ।দেখলেন কালো কাপড় পরা মানুষের বাচ্চা সাইজের একটা কিছু উড়ে গেলো ।হতে পারে সেটা কোন বড়সড় বাদুড় ।গাছের ডালে হুতোম পেচার তাকানো ও ডাকের শব্দেও আপনি ভয় পেতে পারেন ।ছাদে বা টিনের চালে ঢিল পড়ার শব্দ বা কারো হেটে যাবার শব্দ ।এটার কারণ হতে পারে টিনের চালে বা ছাদের উপর দিয়ে বিড়াল ইদুর ধরতে উঠলো, বা বাদর বা হনুমান জাতীয় কিছু হেটে গেলো, টিনের চালে ঢিল পড়ার শব্দ সেটাও হতে পারে, আশেপাশে নারিকেল গাছ থাকলে তার ছোট ছোট ফল পড়ার শব্দ । হয়তো দুর থেকে ভেসে আসছে করুন সুরে বাঁশির শব্দ ।এটা ভূতের মনে না করাই ভালো । হয়তো গ্রামের কোন উদাসী বা রোম্যান্টিক লোকের বাজানো বাঁশির সুর । এই প্রসঙ্গে আমার শোনা একটা ঘটনা বলবো ও সাথে কিছু ভৌতিক অভিজ্ঞতার কথা বলবো ।তার আগে বলে নিই, ভূত বা অশরিরী কি, আপনি আমি সাধারণত ভূতে ভয় পাই কেন ,আসলে ভূত বলুন আর যাই বলুন সেটা হতে পারে আপনার আমার অপরিচিত এই রাতের প্রকৃতির চির অপরিচিত নির্জন রূপ ।অজানা ব্যাখ্যাবিহীন ব্যাপারটাই হলো ভূত। আপনার এই রাতের পরিবেশটা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অপরিচিত হবার কারণে যৌক্তিক ভয় ।এ রকম কোন সিচুয়েশনে পড়লে চিরকাল মাথা ঠান্ডা রাখবেন ।ভয়ও পাবেননা, দৌড় বা তাড়াহুড়া করবেননা । দেখা গেলো হিতে বিপরীত হতে পারে।

(১১৩)

         আশেপাশে কুকুর থাকলে আপনাকে তাড়া করলে নির্ঘাত জখম ও ইনজেকশন দেবার ব্যবস্থা হতে পারে ।আসলে আমরা আমাদের সকল হিতৈষী বেষ্টিত বা চিরকাল জনকোলাহলে বেষ্টিত থেকে আমাদের হইহুল্লোড়ের বাইরে নির্জন প্রকৃতির একটা রূপ আছে সেটা সম্পর্কে ধারণা না থাকাটাই হয়তো আমাদের সামনে ভূত হয়ে দেখা দেয় ।রাতের নির্জন জঙ্গল, জ্যোৎস্না রাতের নদীর রূপ, রাতচরা পশু পাখি কীটপতঙ্গ এর অজানা এক নতুন পরিবেশে কজন বেড়িয়েছেন ।আবার সবকিছু কোলাহল বাদ দিয়ে আপনার ঘরের দরজা, জানালা হালকা  বন্ধ করে দিন ।ঘরটা গাড়ি চলাচল ও মনুষ্য চলাচলের রাস্তা থেকে দুরে হতে হবে, এবং ঘরটা হতে হবে নীচতলা, বাড়ির চারপাশে গাছপালা থাকতে হবে, বাড়িতে কেউ থাকবেনা, বাসা একেবারে ফাকা, এবার ঘরে আসুন, মেঝেতে বসে  চুপচাপ চোখ বন্ধ করুন ।পৃথিবীর সবকিছু ভুলে যান। ভুলে যান আপনার নাম পরিচয় থেকে আপনার প্রিয় মুখগুলোকে ।চোখ বুজে আপনি দেখছেন অন্ধকারটাকে আর কান শুনছে কিছু শোনা যায়  কিনা ।এভাবে আধঘন্টা থাকুন । শুধু অনুভব করুন বন্ধ চোখ আর কান কি শুনছে ও দেখছে ।গভীর রাতেও একই পরিবেশে একই কাজটা করুন । নতুন কিছু অনুভব হবে ।এটা মেডিটেশন, বোগাস বা হেয়ালি যাই বলুননা কেন, যে শব্দ শুনতে পারেননা স্বাভাবিক কানে, যে অনুভব হয়না স্বাভাবিক চলনে সেটা হয়তো অনুভব হবে যদি কনসেনট্রেশন বা মনযোগ ঠিক থাকে ।  দিনের কোলাহলে রাতের রহস্যময় অন্ধকার থাকেনা, নিশাচরেরা বের হয়না, যদি কোন সুক্ষ্ণ কিছু থাকে তবে সেটাও দৃশ্যমান হতে হয়তো একটা পরিবেশের দরকার হয়, যেমন সাদা রঙের কিছুর দৃশ্যময়তা ফুটতে কালো ক্যনভাসের দরকার হয় । সুতরাং ভূত ও যুক্তির বাইরে কিছু নয় । সবই অজানা যুক্তির যুক্তিযুক্ত খেলা,  ভূত মানেই পথ আটকানো সাদা কাপড় পরা পেত্নী নয়, মামদো-হামদো-ব্রক্ষ্মদৈত্য নয়।রাতের অন্ধকারে যৌক্তিক কাজ, দিনের বেলার স্বাভাবিক কাজ, দিনের বেলার হাস্যকর অনেক কাজ, দিনের বেলাতে খেয়াল না করা কাজ, রাতে হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক ও অতিপ্রাকৃত, অনেক ক্ষেত্রে মহা ভয়ংকর।

(১১৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!