কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১১৫+১১৬

0Shares

         কেন জানেন দিন আর রাত একই জিনিস, আশ্চর্য কিছু নয়, প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবী জীবের উপযোগী হবার শুরু থেকেই দিন রাতের এই খেলা চলে আসছে ।দিন ও রাত মানে হল পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারনে পৃথিবীর এক পিঠে যখন রোদ পড়ে সেই পিঠে দিন আর যে পিঠে রোদ পড়েনা সেই পিঠ হল রাত ।পৃথিবীর এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মানে দিন রাতের এই খেলা নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই ।কিন্তু দিন নিয়ে তত কৌতূহল না থাকলে ও যত আজগুবি আর রহস্য কথা, উপকথা, মিথ সব এই রাত নিয়ে ।কারন হল রাত একটা কালো কানভাস, কালো পর্দার অপর নাম, না পড়া এক মহা রহস্য উপন্যাসের নাম ।কালো ক্যানভাসে যেমন যা কিছু ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়, যে কোন কিছু আঁকলে সেটা সুন্দর হয়ে ফোটে, সামান্য আঁচড় ও বোঝা যায় খালি চোখে, কালো পর্দার আড়ালে যেমন কোন কিছু চলে গেলে তা আর দৃশ্যমান থাকেনা, চোখের আড়াল হয়ে যায়, তেমনি রাত এই লুকোচুরি খেলা আর সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসা সেই ভুত পেত্নী, আত্মার সেই লীলাভূমি । এই নিয়ে আমরা কত ভয় পাই, কত মন্ত্র পড়ি, কত সাবধানতা নিয়ে থাকি ।সারা পৃথিবী, সারা মানবজাতি যখন, সমস্ত প্রাণীকুল যখন ঘুমে মগ্ন ,তখন কি আসলেই আর একটা জগতের প্রানীরা নেমে আসে ? এ প্রশ্নের উত্তর আজ পর্যন্ত বিজ্ঞান ও  দিতে পারেনি । যে টুকু আমরা জানি সেটুকু হল লোকমুখে  শোনা জনশ্রুতি, বিভিন্ন দেশের রুপকথা আর আধুনিক যুগে স্বীকৃত কয়েকটি হন্টেড প্লেস ছাড়া আর কিছু এ সম্বন্ধে শোনা যায়না । বিজ্ঞান পরিষ্কার বলে দিয়েছে এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই, এ নিছক মনের দুর্বলতা, অবচেতন মনের অলস চিন্তা মাত্র ।তার পরেও মানুষ ভয় পায় রাতকে, রাতের অন্ধকার কে ।রাতের অন্ধকারে সঠিক বা ভুয়া যেকোন দৃশ্য  দৃশ্যায়ন করা যায় ।ওই যে বলেছিলাম ভুত – প্রেত- অদৃশ্য যা কিছু তা সবাই দেখেনা ।সেগুলো দেখে মানুষ তখন যখন মানুষ খুব ভীত থাকে, তখন সে বাস্তবতা ভুলে কল্পনার জগতে চলে আসে।কল্পনার ভিতর সে ডুবে গিয়েছে কখন সে নিজেও টের পায়না ।এটা হল সেই হ্যালুসিনেশন।আর এক জাতীয় মানুষ আছে যারা থাকে জন্মগত ভাবে অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী ।আপনি বা আমিও হয়তো অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী ।

(১১৫)

         কিন্তু আপনি বা আমি সেটা হয়তো কোনদিন জীবনেও বুঝতে পারবনা বা উপলব্ধি করতে পারবোনা যে আপনার বা আমার ভিতর বিশেষ কোন প্রতিভা অথবা বিশেষ কোন ক্ষমতা লুকিয়ে আছে যেটা আরেকজনের ভিতরে নেই ।এই বুঝতে না পারবার জন্য আমাদের পরিবেশ এবং পরিস্থিতি দায়ী।ধরুন আপনার কখনো পানিতে নামা হয়নি ।দেখা গেলো আপনি পানিতে ডুব দিয়ে স্বাভাবিক একজন মানুষের থেকে ০৩ গুন সময় পানির নিচে থাকতে পারেন ।কিন্তু চিরকাল শহরে বসবাস আর গ্রামের পুকুরে কোন দিন বন্ধু বান্ধব দের সাথে খেলাধুলার অভ্যাস না থাকার কারনে আপনি নিজে এবং জগতবাসী কোনদিনই আপনার এই অতিমানবীয় ক্ষমতা সম্বন্ধে জানতে পারলোনা ।আবার আপনি ধরুন কোন মানুষ কে একবার দেখে হুবহু সেই লোকটিকে আকতে পারেন, কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপটে এটা দরকার না হওয়াতে এবং মোবাইল কামেরার সহজলভ্যতার কারনে হাতে অঙ্কন একপ্রকার উঠে গিয়েছে ।ফলে দেখা যাচ্ছে আপনার প্রতিভা নিজের অজান্তে হারিয়ে যাবার সাথে সাথে পৃথিবী থেকে মানব ক্ষমতার অনেক শিল্প নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।একসময় শুনেছি শিশু-কিশোর-যুবারা প্রতিদিন ০৫-১০ কিলোমিটার হেটে স্কুলে যেতো আবার ০৫-১০ কিলোমিটার হেটে বাড়ী ফিরত।এটাতো এখনকার পিডিয়াসিওর, কমপ্ল্যান খাওয়া বাচ্চা, বা এনার্জি ড্রিংকস খাওয়া যুবকদের ভিতরও দেখতে পাওয়া যাবেনা । আবার দেখুন আগে মানুষ ব্যবসার বড় বড় যোগ বা গুন অনায়াসে হাতের আঙুলের কর গুনে করে দিতে পারতো। কিন্তু এখন দোকানদার বা ব্যবসায়ীরা ক্যালকুলেটর ছাড়া এরকম বড় হিসাব নিকাশ ভাবতেই পারেন না ।এখন বলব এরকম অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী একজন মেয়ের সম্বন্ধে ।

নাটালিয়া নাতাশা নিকলায়েভনা ডেমকিনা ওরফে নাতাশা ডেমকিনা ।১৯৮৭ সালে রাশিয়া তে জন্ম গ্রহন করেন ।এনার একটি বিশেষ ক্ষমতার কথা সবার সামনে আসে যখন ওনার বয়স মাত্র ১০ বছর । নাতাশার ভাষ্য মতে ১৯৯৭ সালের কোন একদিন তিনি তার মায়ের সাথে বসেছিলেন । হঠাৎ নাতাশা খেয়াল করেন তিনি তার মায়ের শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গ ও টিস্যু কলা দেখতে পাচ্ছেন ।এর আগে তিনি নিজের ভিতর এই ক্ষমতার কোন নমুনা উপলব্ধি করতে পারেননি ।

(১১৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!