কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩৭+১৩৮

0Shares

এ নিয়ে বেশি তর্ক না করে না হয় বললাম ভুত বলে কিছু নেই, আর একা বাড়িতে বা অন্ধকারে ভুতের কথা ভেবে একটু ভয় ভয় ফ্লেভার না হয় নিলাম তাতে কি আর এত মহাভারত অশুদ্ধ হবে বলি!! ।  ভৌতিক মানে শুধু অদৃশ্য ভূত নয় , বাস্তব অস্তিত্বের মানুষের দ্বারা করা ক্লুলেস বিকৃত কাজও তো ভৌতিক বলা যায় , ভূত মানে বাস্তব আর অবাস্তবের ক্লুলেস কাজ ।মানুষের মনের বিকৃত বা নিষ্ঠুর দিকের থেকে ভয়ংকর ভূত আর নেই ।আবার মিথ্যা বললে সব মিথ্যা হয়ে যায়না ।আসলে আসল ঘটনাটার রহস্য প্রায়শ ঘটনার ক্ষেত্রে জানা হয়না আমাদের ।আমাদের জীবনটা খুব ছোট ।আমাদের সবার জীবনটা যায় রুটি  রুজির চিন্তা আর ভবিষ্যতের যোগাড় যন্ত্রতে ।আমরা ঘরে বসে বই পড়ে বলে ফেলেছি অনেক কিছু নেই।আমাদের এই টুকু মানব জীবন, মাত্র ৬০-৭০ বছরের জীবন মাত্র। তার ভিতর কোন নিশ্চয়তা নেই যে আপনি বেঁচে থাকবেন, যখন তখন আপনি আমি যে কোন দুর্ঘটনাতে বা অসুস্থতাতে আমরা অকালে  মারা যেতে পারি। কি দেখা যায় এই টুকু জীবনে, কি দেখেছি আমরা ।আমরা যা বলি, যা নিয়ে অহংকার করি সবই ঘরে বসে, আরামদায়ক বিছানাতে শুয়ে শুয়ে ।জীবন এবং জীবনের ভয়াবহতা আমরা দেখিনি ।আপনি কখনো পাথর ফাটা রোদ দেখেছেন ? আপনি শুয়ে আছেন, হঠাৎ আপনার ঘুম ভেঙ্গে গেলো, বুকের উপর দিয়ে দেখলেন বিষধর একটা সাপ বেয়ে অন্য কোন দিকে চলে গেলো,  আপনি কখনো মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে দেখেছেন যে মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে জীবনটা কত অমূল্য মনে হয়, ধরুন আপনি একটা জাহাজে করে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছেন, সমুদ্রের মাঝামাঝি এসে পড়েছে আপনাদের জাহাজ, যেখান থেকে ডাঙ্গা বা স্থলভাগ অন্তত কম করে হলেও ২০০ মাইল দূরে, হঠাৎ প্রলয়ঙ্করী একটা ঝড়  উঠলো সমুদ্রে, আপনাকে বহনকারী জাহাজটি ডুবে গেলো, আপনি একাই বেঁচে রইলেন, আপনার হাতে কোন একটা অবলম্বন সম্বল করে আপনি পানিতে ভেসে রয়েছেন, হতে পারে সেটা একটা কাঠ এর টুকরা বা যে কোন কিছু , ৫০০ মাইল এর বিস্তৃত কুল কিনারা বিহীন সমুদ্রের উত্তাল জলরাশির ভিতর সামান্য চাঁদের আলোময় রাতে আপনি একা ভেসে রয়েছেন, বাঁচবেন কিনা সে নিশ্চয়তা নেই আপনার, ২০০০ ফুট গভীর জলরাশি, অসংখা হিংস্র জলজ প্রানিতে পরিপূর্ণ, তাহলে আপনার তখন কি অনুভূতি হতে পারে, কখনো হাজার মাইল এর ধুধু মরুভুমিতে ভ্রমণকারী হিসেবে গিয়ে দেখেছেন|

(১৩৭)

         পানির পিপাসাতে ছুটোছুটি করে দেখেছেন, সেই পানি যার উপর নির্ভর করছে আপনার জীবন, কখনো যুদ্ধের ভয়াবহতা কি জিনিস একবার বিছানাতে শুয়ে ভেবে দেখেছেন, আপনি কখনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বা যুদ্ধের ভিতর জীবন অতিবাহিত করেছেন ? আপনি কি ১ম বিশ্বযুদ্ধ বা ২য় বিশ্বযুদ্ধ এর ভিতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে দেখেছেন ? বা ১৯৭১ এর যুদ্ধের ভিতর টাইম মেশিনে যাওয়া সম্ভব হলে যদি বিভীষিকা নিজ অভিজ্ঞতাতে দেখতে পেতেন বা ভুক্তভোগী হতেন তাহলে কি হতে পারতো একবার কল্পনা করুন তো ? মানুষ নামে হায়েনারা তো গ্রামের পর গ্রাম জালিয়ে দেয়, নির্বিচারে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করতো, জাহান্নামেও এতটা বিভীষিকা আছে কিনা আমাদের জানা নেই যতটা বিভীষিকা একটা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা যুদ্ধের দেশে সংঘটিত হয় ।দুইতি বিশ্বযুদ্ধ মিলে ১৫ কোটি প্রানহানি,  কলিঙ্গ যুদ্ধে ০১ লক্ষ লোক এর মৃত্যু, ইরাকে হালাকু খানের অভিযানে ২০ লাখ লোকের মৃত্যু, ১৯৭১ এ আমাদের দেশের ৩০ লাখ লোকের মৃত্যু, এ গুলো কি সোজা কথা মনে হচ্ছে? এরকম অভিশাপ যে দেশের উপর পড়বে তারা কি বিভীষিকা দেখেনি, সর্বক্ষণ ঘাড়ের উপর মৃত্যু দূতের নিশ্বাস, এবার কার পালা আসে এরকম একটা বোধ, ক্ষুধা তৃষ্ণা, ঘুমানোর যায়গার অভাব, ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা, শরণার্থী শিবিরের মহা মানবেতর জীবন যাপন, নিজের চোখের সামনে আপনজনদের হারানোর চিরবেদনার স্মৃতি, নারীর অস্মমান কি দেখেনি তারা ।একবার বর্তমানের ইরাক বা সিরিয়ার মত দেশের নাগরিক, বা মায়ানমারের রোহিঙ্গা হিসেবে নিজেকে গভীরভাবে ভাবুন নিজেকে,  কল্পনা করলে তো আর মারা যাবেন না , জীবনে কত সময় তো আমরা বাজে কাজে নষ্ট করলাম, এরকম একটা ভাবনা বা কল্পনা করে না হয় ১০ মিনিট সময় অপচয় করলেন। এভাবে একটু ভেবে না দেখলে আসল ব্যাপারটা প্রকৃত উপলব্ধি করতে পারবেন না বলেই কল্পনা করতে বললাম। তা না হলে তো ৭১ এর পাকিস্তানিদের টর্চারিং সেল, নাৎসী হিটলারের টর্চারিং সেল বা কোরিয়ার টর্চার সেল বা আবু গারিব কারাগারের নৃশংস টর্চার সেলের নৃশংস কায়দায় মানুষ মারার বর্ণনা দিতে পারতাম, বা নারী নির্যাতনের গল্প গুলো ও বেশ রসালো কায়দাতে লিখতে পারতাম|| স্বর্গ-নরক-রাক্ষস-পিশাচ-দানব সবই মানুষের মাঝে । ।রূপকথার চরিত্র নয় , মানুষ ও তার কর্মের ভিন্ন রূপ এগুলো ।

(১৩৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!