কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৫৩+১৫৪

0Shares

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার বা চিকিৎসকরা এটা ভালো বলতে পারবেন । তবে এটার স্বপক্ষে উদাহরণ দেখুন শহুরে অফিস করা মানুষ ও তাদের ছেলে বা মেয়েদের শারিরীক গঠন নমনীয় , পরিষ্কার ও কোমল চামড়া এবং পেশীবহুল নয় । কিন্তু গ্রামের কয়েকগোষ্ঠী খেটে খাওয়া মানুষ বা আফ্রিকান নিগ্রোদেরকে দেখবেন জন্মগতভাবেই রুক্ষ , চেহারা , পুরু চামড়া ও পেশীবহুল শরীর জন্মগত ভাবে ওরা পেয়ে যায় । কারণ মাঠে চড়া রোদে খাটুনি , স্বল্প পুষ্টিকর খাদ্যতে প্রচুর ভারবহন , বেশি দম ও অক্সিজেন নেবার জন্য মোটা নাক , মরুভূমিতে চড়া তাপমাত্রা ও খাদ্য পানিবিহীন প্রতিকুল পরিবেশে বেঁচে থাকবার জেনেটিকস টা কিন্তু তারা জন্মগতভাবে পেয়ে যান । আবার বিবর্তন আর অভিযোজন আলাদা হলেও প্রায় এক জিনিস । অভিযোজন হলো প্রতিকুলতার সাথে মানিয়ে নেওয়া আর বিবর্তন হলো প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া । যেমন ধরুন উষ্ণ স্থানে বসবাসকারী ভাল্লুক এর চামড়ার নিচে অত চর্বি থাকেনা , কিন্তু যখন মেরুতে শ্বেত ভাল্লুক বসবাস করছে তখন তার চামড়ার নিচে বেশ কয়েক ইঞ্চি পুরু চর্বির আস্তরন রয়েছে । আবার মানুষের নাকি এক সময় লম্বা ধারালো দাঁত ছিলো । কারণ তখন মানুষ কাঁচা মাংস খেতো । যখন কাঁচা মাংশ খাবার দরকার পড়লোনা তখন আস্তে আস্তে দাঁত ছোট ও ভোতা হলো । এক সময় মানুষ গাছের পাতা ও মুল খেতো , তখন এগুলো যেহেতু হজমের জন্য সেলুলোজ ভাঙার ও হজমের প্রয়োজনীয় ব্যাক্টেরিয়া দরকার , সেই ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হতো মানুষের এপেনডিক্স নামক অঙ্গে , আস্তে আস্তে মানুষ পাতা খাওয়া বাদ দিলে এপেনডিক্স তার কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেয় । ফলে এটি এখন আমাদের কাজবিহীন বিপদজনক অঙ্গ । মানবের আগমনের প্রকৃত সাল খুজতে ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত হবুতি সন দিয়ে প্রথম মানবের গোড়াতে পৌছালেও মোটামুটি মানব আসার ক্ষেত্রে কোরআন হাদীসের তত্ব সত্য হচ্ছে ।অন্যদিকে বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার মতে বত্রিশ লাখ বছর আগের লুসি মানবও আজকালকার মানুষের মতই উঁচু ছিলেন। আজ পর্যন্ত সত্তর ফিট উঁচু কোন মানুষের ফসিল পাওয়া যায়নি। সব’চেয়ে বড় কথা আদম আঃ জন্মের একত্রিশ লাখ চুরানব্বই হাজার বছর আগেও মানুষ পৃথিবীতে ছিল।

(১৫৩)

         এ বিষয়টা হলো এমন যে আমরা বিজ্ঞানের যা অকাট্য বিশ্বাস করছি সেটা কিন্তু অনুমান , তত্ত্ব এবং উপাত্ত নির্ভর একটা সিদ্ধান্ত ।যদি বলি বিজ্ঞানের তিনটি ভাগ আছে একটা হলো আপনি বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত যা কিছু দেখছেন সেগুলো তো অকাট্য সত্য , এতে কোন সন্দেহ নেই , এবং আগামীতে আবিস্কার হবে বলে আশ্বাস দিচ্ছে সেগুলো তে তো আর ভুল নেই , কারন এর প্রমান চক্ষের সামনে উপস্থিত । আর একটা বিজ্ঞান হলো যেটা সুদুর অতীত নিয়ে গবেষণা করে , সুদুর অতীতে কি ছিলনা বা কি  ছিল ,  মানব জাতি বা অন্যন্য প্রাণী কোথা থেকে এলো সেগুলো নিয়ে গবেষণা করে , এই গবেষণা খাতিরে যে তথ্য পাওয়া যায় সেগুলো আমাদেরকে অতীতের কৌতূহল মেটাতে একটা উত্তর জোগাড় করে দেয় বটে , কিন্তু আমাদের আয়ুর সীমাবদ্ধতা , জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা  , দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা আমাদের কে অতদুর ভাবতে দেয়না , আমি আপনি কি ৫০০ কোটি বছর আগে ছিলাম ? পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর এটা গ্রহণযোগ্য কিছু তথ্য , উপাত্ত এবং অনুমানের সমষ্টি মাত্র । কিন্তু কখনো বলা যাবেনা এটাই অকাট্য সত্যি ।কারন যা কিছুই বলা হচ্ছে সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে  বিজ্ঞানের মাধ্যমে সেটা আমাদের মানবজাতির তৈরি করা একটা নির্দিষ্ট স্কেলে , বলা হচ্ছে সেটা যেটা যুক্তিতে টেকে এবং গবেষণালব্ধও ।একটা জিনিস কি জানেন তুরুপের তাস বলে একটা কথা থাকে , আপনার আমার ভাবনা , আপনার আমার যা আইডিয়া সেটা হয়তো শুধু মাত্র আইওয়াশ , মুল সত্যের সন্ধান আমরা কখনো পাবোনা , কারনটা কি জানেন ? আপনি আমি যত বলি ৫০০ কোটি বছর আগে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে , সেটা শুধু আইডিয়া বা যুক্তি বা গবেষণা নির্ভর , সঠিক কিভাবে বলি বলুন তো ।আমরা যেটা বলি সেটা অকাট্য সত্য কিনা সেটা একমাত্র যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি জানেন ।আমরা যেগুলো সৃষ্টির রহস্য উদঘাটন বলে দাবি করি সেগুলো আসলে এমন একটা পরীক্ষালব্ধ ফলাফল যেটার অধিকাংশ নির্দিষ্ট রহস্য ভেদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু এবং বেশিরভাগ যৌক্তিক প্রমান ও দাবির সমষ্টি মাত্র , শতকরা ১০০ ভাগ সত্যি মানুষের দেওয়া সৃষ্টি মতবাদ গুলো এটা বলা বোকামি , তিনি যতবড় বিজ্ঞানী হোননা কেন ।

(১৫৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!