কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৫৯+১৬০

0Shares

সব রকম তথ্য উপাত্ত প্রমান থাকা স্বত্তেও কে কি করেছেন ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা , রাজাকার )তার বিতর্ক থেকেই যায় আমাদের , ঘটনা তো মাত্র অর্ধ শতাব্দীর তারপরও মুক্তিযুদ্ধের  অনেক সত্য বা মিথ্যা জিনিস প্রমাণে বা জানতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের , আবার ধরুন ওই যে বললাম যে সম্রাট যখন যে শতকে যে জনকল্যাণ মূলক কাজ করেছেন , যে যে মহামানব এসেছেন পৃথিবীতে তারা সকলেই একই সাথে যেমন খ্যাতিমান তেমন সমানে তারা বিতর্কিতও । এর মুল কারন হল একটা ঘটনা ঘটবার সময়ের পরিপ্রেক্ষিত যেমন থাকে পরবর্তীতে সেই পরিপ্রেক্ষিত একরকম থাকেনা ।আবার মানুষের মনের খবর সবাই জানেনা যে তিনি কি উদ্দ্যেশ্যে কি করেছেন । এজন্য মহামানব বা ধর্ম প্রবক্তা বা অবতারদের সম্বন্ধে কাদাছোড়াছুড়িরত একদল লোকের উদ্দ্যেশ্যে অটোমান সুলতান মুরাদের সময়ের একটি কথিত কাহিনী বলি , কথিত আছে তবে ঐতিহাসিক সত্যতা আছে কিনা জানিনা , তবে বহুল প্রচলিত এই  গল্পটি । গল্পটি এ রকম যে , একদিন অটোমান সুলতান মুরাদ (মুরাদ যেহেতু অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন ইতিহাসে ০৪ জন আছেন , এই কারনে গল্পটির ঐতিহাসিক সঠিক তথ্য দেওয়া গেলোনা  ) তার অনুচরদের সাথে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন । হঠাৎ দেখলেন একজন মহিলা রাস্তায় একজন পুরুষ লোকের লাশ নিয়ে বসে আছেন আর আহাজারি করছেন  । তখন সুলতান মুরাদ বললেন আমার রাজ্যে কি এত অভাবী ব্যাক্তি আছে যে যার লাশ নিয়ে তার স্ত্রী কে পথে বসে কাদতে হবে ? তার কি স্বামীর লাশ দাফনের টাকাটা ও নেই ? তখন তিনি মহিলার সামনে গেলেন , নিজের পরিচয় না দিয়ে বলতে শুরু করলেন , কি হয়েছে এভাবে স্বামীর লাশ নিয়ে পথে বসে কাদছ কেন ? তখন মহিলাটি বলতে শুরু করলেন আমার স্বামী কে সবাই জানে তিনি চরম মদখোর ও চরম ভাবে নারী আসক্ত ব্যাভিচারি । তাই তাকে সমাজ বেশ আগেই বয়কট করেছে , আর মৃত্যুর পর ঘৃণায় কেউ দাফন করতে আসছেনা , তাই আমি পথে বসে কাদছি । কিন্তু বিশ্বাস করুন তিনি এরকম টি ছিলেন না , আমার স্বামী যথেষ্ট সম্পদের অধিকারী ছিল , এবং তিনি  যে টুকু সম্পদ রেখে মারা গেছেন   সেটুকু সন্তানাদি নিয়ে আমার বাকি জীবন কাটাবার জন্য যথেষ্ট ।

(১৫৯)

-আমার স্বামী প্রত্যেক দিন মদের দোকানে যেতেন , এবং বেশ কয়েক বোতল মদ কিনে নিয়ে আসতেন । আর বাড়িতে এসে মদের বোতল গুলো নর্দমাতে ফেলে দিতেন আর বলতেন হে আল্লাহ আপনাকে ধন্যবাদ আমাকে আর্থিক সামর্থ্য দেবার জন্য  , আপনার দেওয়া আর্থিক সামর্থ্য দিয়ে আমি আজ আপনার ০৫ থেকে ০৬ জন বান্দাকে মদ পান থেকে বিরত করেছি , কারন ১০ জনের জিনিস একজন কিনলে কেউ না কেউ এসে পকেটে টাকা নিয়ে এসেও জিনিস পাবেনা । আর তিনি প্রত্যেক দিন পতিতালয়ে এসে একজন করে মেয়েকে কিনে নিয়ে যেতেন চড়া দাম দিয়ে হলেও ।  আর সেই মেয়েটিকে বাসায় নিয়ে আসতেন , ঘরে নিয়ে এসে তিনি মেয়েটিকে পবিত্র কোরআনের বানী আর পরকালের কথা শোনাতেন ।সকালে মেয়েটিকে কিছু টাকা দিয়ে হয়তো তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হতো বা সুস্থ জীবনে ফেরবার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো । প্রথম প্রথম আমি খুব বিরক্ত হতাম । কারন কোন স্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয় অন্য একটা মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে দেখা । তো এলাকার মানুষেরা আমাকে নানা কটু কথা বলতো , সমাজ আমাদের একঘরে করে দিয়েছে । আমার সন্তানদের কথা ভেবে আমি স্বামীকে বলতাম তুমি এগুলো বাদ দাও বা লোকেদের বল যে তুমি কেন কর এসব , তখন স্বামী বলতেন আমি ভালো কাজ সমাজে লোক দেখাবার জন্য করিনা , আমার আল্লাহ শুধু জানলে হবে আমি ভালো । আমি অবশ্য সবাইকে আসল ব্যাপারটা বলতাম , কিন্তু গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া আর কেউ আমার কথাগুলো বিশ্বাস করতোনা । আর তার মৃত্যুর পর কয়েকজন আমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী ছিল , কিন্তু তারা সমাজের অন্য মানুষের ভয়ে আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারেনি । কিন্তু আমার স্বামী মরবার আগে একটি কথা মাঝে মাঝে বলতেন কেউ যদি আমার মৃত্যুর পর সাহায্যের জন্য এগিয়ে না আসে তবে তুমি মহান সুলতান মুরাদের কাছে যেও , তিনি নিশ্চয় আমার ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করবেন । আমার লাশ দাফনে সহায়তা করবেন । সুলতানের কাছে ব্যাপারটা হৃদয়বিদারক লাগলো , সাথে সাথে তিনি তার কয়েকজন বিশ্বস্ত সৈন্য দিয়ে ওই মহিলাকে স্বামীর মৃতদেহ সহ এলাকাতে লাশ দাফনের জন্য পাঠিয়ে দিলেন ।  

(১৬০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!