কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৬৫+১৬৬

0Shares

আর astrophysics-এ্যাস্ট্রোফিজিক্স– জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান হল নক্ষত্রের ভৌত এবং রাসায়নিক অবস্থার বিদ্যা ।এটি আধুনিক যুগে নক্ষত্র সম্বন্ধে বিস্তারিত গবেষনার একটি শাস্ত্র । জ্যোতিষবিদ্যার রত্ন পাথর নির্নয়র সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই , এখানে এর বিস্তারিত আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক তাই ফিরে আসছি মূল আলোচনায় ।মানব জন্ম অনুযায়ী এবং গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী মানুষের ১২ টি রাশিতে বিভক্ত করা আছে

         বর্তমান অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমান করেছে মানুষের জন্ম মাস অনুযায়ী মানুষের আচরন , বাক্তিত্ত্ব এবং খাদ্যাভ্যাস এ ভিন্নতা দেখা যায় । আসুন দেখি জন্ম তারিখ অনুযায়ী রাশি গুলোর নাম আর আপনার যদি সঠিক জন্মতারিখ মনে থাকে তবে মিলিয়ে নিতে পারেন আপনার রাশি ।

মেষ ২১ মার্চ-২০ এপ্রিল //  বৃষ ২১ এপ্রিল-২১ মে // মিথুন ২২ মে-২১ জুন // কর্কট ২২ জুন-২২ জুলাই// সিংহ ২৩ জুলাই-২৩ আগস্ট// কন্যা ২৪ আগস্ট-২৩ সেপ্টেম্বর// তুলা ২৪ সেপ্টেম্বর-২৩ অক্টোবর// বৃশ্চিক ২৪ অক্টোবর-২২ নভেম্বর// ধনু ২৩ নভেম্বর-২১ ডিসেম্বর//মকর ২২ ডিসেম্বর-২০ জানুয়ারি// কুম্ভ ২১ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি// মীন ১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ// তবে এখানে ভুল হতেও পারে তারিখে , আপনারা দেখবেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রাশিফল থাকে । সেখান থেকে সঠিকভাবে

আপনার রাশি মিলিয়ে নিতে পারেন ।

        তো প্রাচীন মিশরে তৎকালীন উদ্ভাবিত আইডিয়াকে প্রচলন করে মানুষের জীবনের সাথে ছক মিলানো হলো । আশানরূপ ভাবে অনেকের সাথে মিলতেও লাগলো । ফলে এই শাস্ত্র টিকে যায় । এবং আজো চলছে । ভবিষ্যতেও চলবে বলে মনে হয় । পৃথিবীতে জ্যোতিষবিদ্যা এবং তাবিজ বা কালোজাদু টিকে থাকার একটা বিশেষ কারণ আছে ।কারণটা হলো  পৃথিবীর প্রাণীজগৎ এবং মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট ইকো সিস্টেম আছে বা একটি চেইন সিস্টেম বা চেইন অফ কমান্ড আছে । সেই সুত্রানুযায়ী একটা ক্লাসে পড়াশুনাতে সবাই প্রথম হবেনা , তবে সবাই প্রথম হতে চাইবে , কিন্তু প্রথম সেই হবে যার পড়াশুনা ও সাধনা এবং ইচ্ছা ক্লাসের সবার থেকে বেশি হবে ।

(১৬৫)

        তদ্রুপ সমাজে সবাই ধনী ও আর্থিক সচ্ছল  জীবন চাইবে , কিন্তু সবাই পাবেনা , পৃথিবীটাই প্রতিযোগীতার ভয়াবহ মাঠ , টিকে থাকবার শক্তি না থাকলে পৃথিবী নকআউট করে দিতে কারো জন্য সময় দেবেনা , প্রমত্তা-খরস্রোতা নদী স্রোত হারিয়ে ফেললে সাথে সাথেই বিন্দু বিন্দু বালিকনা আর কোথ্থেকে কচুরিপানা এসে জড়ো হয়ে যায় তার কাছে , ব্যাপারটা আমাদের হার্টের যখন রক্ত পাম্প করার তেজ বয়সের সাথে কমে যায় তখন ভেইনে কোলস্টেরল জমে যেমন মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকি তেমন। সমাজে আমরা সবাই সবক্ষেত্রে শীর্ষস্থান দখল করবার চেষ্টা করি , কিন্তু চেষ্টা করলে কি হবে , আমাদের ৯৯% এর চিন্তা ও কর্ম সফলতাকে ধরবার জন্য সম্পূর্ণ অকেজো , ০১% পুরুষ বা মহিলা সেই সফলতাকে বন্দী করার আইডিয়া নামক মণির সন্ধান  পায় । আর এই ০১% রাষ্ট্রের ও সমাজের কর্তাস্থানীয় ব্যাক্তি ও সেলিব্রিটি ।আমরা এনাদের জীবন কাহিনী জানি , কি করে সফল হলেন তাও জানি । কিন্তু কিসের যেন আমাদের একটা ঘাটতি থেকে যায় , সে কারণে সুত্র জেনেও সফল হতে পারিনা । যখন মানুষ নিজ কাজের ভুলে ও প্রকৃত পরিশ্রম অভাবে সফল হতে না পারে তখন ভাগ্য ও তাবিজের বিশ্বাস এসে যায় । কেউ কেউ হয়তো এই জ্যোতিষ বা তাবিজে সফল হয়ে যায় তখন এই জিনিসগুলোর পসার বেড়ে যায় । এভাবে জ্যোতিষবিদ্যা টিকে থাকবে ।

এবার দেখি আমাদের ইসলাম ধর্ম  কি বলছে এব্যাপারে , ইসলামে জ্যোতিষচর্চা ও জ্যোতিষবাণী বিশ্বাস সম্পূর্ণ হারাম । এটা শিরক ও কুফর এর আওতাতে পড়ে ।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ “তিনি আলিমূল গায়েব (অদৃশ্যের জ্ঞানী) বস্তুতঃ তিনি স্বীয় গায়েবের (অদৃশ্য) বিষয় কারো কাছে প্রকাশ করেন না” (আল জ্বিনঃ ২৬)তাহলে জ্যোতিষশাস্ত্র কি মিথ্যা , একেবারে মিথ্যা বলা যাবেনা । এর স্বপক্ষে ইসলামিক গ্রন্থগুলোতে কিছু ঘটনার বর্ণণা আছে ।বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবুয়্যতের পূর্ব পর্যন্ত জ্যোতিষিরা যা বলতো সবই প্রায় ফলে যেতো বাস্তবে ।

(১৬৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!