কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৬৭+১৬৮

0Shares

কারণ সেই খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ থেকেই মিশরীয়রা এটা শুরু করে , তারা যা হোক কোন এক বিশেষ সাধনার মাধ্যমে বা কোন গুপ্তবিজ্ঞানের জোরে হোক তারা জ্বীন আয়ত্ব করা শুরু করে এবং অদৃশ্য সেই সব জ্বীনদের মাধ্যমে খবর পেতো । ফলে একজন লোকের ভবিষ্যত বা আসন্ন বিপদ বা সে এখান থেকে শত মাইল দুরে কি করছে সহজে বলে দিতো ।যেহেতু ইবলিশ এর সিজদা না করার ঘটনা থেকেই জ্বীনেরা মানবজাতিকে বিপথে চালানোর শপথ নিয়েছে সেহেতু বিশেষ কিছু অবমাননাকর কাজের পর জ্বীনেরা সাধক বা জ্যোতিষীদের কিছু কিছু উপকার করে । হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবুয়্যতের পূর্ব পর্য্যন্ত জ্বীনরা প্রথম আসমান পর্যন্ত পৌছাতে পারতো , এবং ফেরেশতারা পৃথিবী এবং পৃথিবীর ব্যাক্তিদের সম্বন্ধে কি বলা হচ্ছে জেনে নিত এবং সে মোতাবেক হিসাব করে খবর দিতো এবং ভবিষ্যদ্বাণী করতো , ফলে জ্যোতিষীদের প্রভাব এতটাই বেড়ে গেলো যে কোথাও কোথাও  তাদের পূজা হতো পর্য্যন্ত ।কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)  ইসলাম প্রচারের কাজ শুরুর পরই আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানের কাছে জ্বীনদের চলাচলের ক্ষমতা নষ্ট করে দেন । কারণ তারা সেখানে পৌছাতে গেলেই তাদের দিকে(জ্বীনদের দিকে) উল্কা ছুটে আসে । তবুও কিছু কিছু জ্যোতিষী বা তাবিজ প্রদানকারী কবিরাজ এখনো হয়তো জ্বীনদেরকে খুব কষ্টে ও অপমানজনক পথে সামান্য পরিমানে বশ করে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন ।জ্যোতিষবিদ্যা যে ভয়াবহ সত্য ছিল এটা অস্বীকার করা যাবেনা , কারণ হলো এর সাথে ভারতবর্ষের খনা(৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) , বরাহ- মিহির(খনার শ্বশুর ও স্বামী , আবার বরাহ মিহির নামে একজনকেই শুধু মাত্র পাওয়া যায় যিনি (৫০৫-৫৮৭)প্রাচীন গুপ্ত সাম্রাজ্যের একজন জ্যোতির্বিদ , সেক্ষেত্রে খনা ৮০০ নয় ৫০০ সালের ভিতরের বিদ্বুষী  রমণী , যার স্বামীর নাম পরাশর , পরাশরের বাবার নাম বরাহমিহির , এই কিংবদন্তী মনিষী বরাহমিহির কিভাবে বলেছিলেন সেযুগে যে মঙ্গল গ্রহে পানি আছে , লোহার অস্তিত্ব আছে , আর এই মনিষীই নাকি রাজসভাতে প্রতিপত্তি হারাবার ভয়ে নিজ পুত্রকে আদেশ দেন পুত্রবধু খনার জিহ্বা কেটে নেবার জন্য এই মিথ বা ঐতিহাসিক সত্য বা বিতর্ক যা বলুন বরাহমিহিরকে নিয়ে আছে )

(১৬৭)

        মিশরের জ্যোতিষী ব্যাবিলাস , গ্রীসের গণিতবীদ পিথাগোরাস(খ্রিস্টপূর্ব ৫৭০-৪৯৫ অব্দ) , জন এফ কেনেডীর মৃত্যূ , প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যূ(ডেবি ফ্রাংক রিড নামে এক জ্যোতিষীর গণণামতে মৃত্যূ) , ভারতবর্ষের বুযুর্গ শাহ নিয়ামতউল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী(১১৫২ সালে রচিত একটি কবিতাতে বিবৃত যা কাশফ যোগে ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান , যেটাকে জ্যোতিষশাস্ত্রের সাথে মিলানো অন্যায় , তবুও এটা অনেক জ্যোতিষী উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে , মহান এই বুযুর্গের প্রত্যেকটি ভবিষ্যদ্বাণী ফলেছে বলা হয় ), নস্ট্রাদামুস(১৫০৩-১৫৬৬) , মায়ান ক্যালেন্ডার (১১ আগষ্ট ৩১১৪ BCE- ২১শে ডিসেম্বর ২০১২ ইং , মোট ১৮,৭২,০০০ দিন ) এর মত প্রমাণিত সত্যের নাম জড়িয়ে আছে ।

আর একটা কথা রত্নপাথর কি সত্যিই উপকার করে ? কিছু কিছু বিজ্ঞানমূলক গবেষনা বলে কিছু কিছু ধাতু বা পাথর শরীরের উপর উপকারী বা অপকারী যে কোন প্রভাব ফেলতে পারে ।যেমন স্বর্ণের পুরুষের উপর ক্ষতিকর প্রভাব আছে হয়তো সেজন্য পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার ইসলামে ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে । তেমনি হীরা ও রুবির উপকারী প্রভাব থাকতে পারে । তবে আপনার ভাগ্য বা আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে কিনা সেটা সবার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা দেওয়া যাবেনা ।আসলে ব্যাপার হলো একেবারে কোন উপকার না পেলে মানব সমাজে কোন কিছু টিকে থাকতে পারেনা । ধরুন হোমিও ঔষধে সবাই উপকারিতা পায়না , এবং এটা কাজ করে বেশ ধীরে , কিন্তু তাতে কি হোমিও ডাক্তার এর পসার কমে গেছে ? কিছু লোক উপকার পায় বলেই তো সেটা টিকে আছে , তেমনি কবিরাজি বা আয়ুর্বেদিক ঔষধ ও তাই , আবার হাতুড়ে ডাক্তার বা গ্রাম্য ডাক্তার যাদের বলি তাদের থেকে আমাদের কে সাবধান থাকতে বলা হয় এবং এটাও বলা হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে , কিন্তু বিশেষজ্ঞ বা এম বি বি এস ডাক্তার এর থেকে হাতুড়ে বা গ্রাম্য ডাক্তার এর কাছে দশগুণ বেশী রোগী যায় , একেবারে অকেজো হলে পৃথিবীতে সেই জিনিসটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে , মোটেই সেটাকে আপনি সমাজে দেখতে পাবেননা , জ্যোতিষবিদ্যার ব্যাপারটাও ঠিক তাই ।  

(১৬৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!