কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭৭+১৭৮

0Shares

আচ্ছা এত ধুলাবালি এই যে বাতাসে , আপনি এই যে চলাচল করেন নিশ্বাস নেন , সেখানে দেখা যায় দু একদিন আমাদের বাড়ি ঘর ঝাড়ু না দিলে আমাদের ঘরের মেঝে এবং আসবাবপত্রের উপর ময়লা এবং ধুলাবালির পুরু আস্তরন জমে যায় । কিন্তু আমরা অনবরত শ্বাস নিশ্বাস নিচ্ছি তাতে আমাদের ফুসফুস তো ধুলাতে পুর্ণ হয়ে আমাদের দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া উচিত ,কিন্তু আমাদের ফুসফুসে তো কোন ধুলা বালি ঢোকেনা , বা জমা হয়েও নেই । কখনো একটু ভাবুন তো আপনার হার্ট , মস্তিষ্ক এবং কান কত জটিল মেশিন , এর কার্য্য সম্বন্ধে ভাবলে বা বেশ কিছুক্ষণ যদি নিজের হার্ট এর সোজা বুকে হাত দিয়ে হার্ট এর বিট বা স্পন্দনটা কিছুক্ষণ একাগ্রভাবে উপলব্ধি করেন তবে দেখবেন আপনার ভিতর একপ্রকার ভয় আর  ঈশ্বর আছেন বলে উঠবে মন , নাস্তিকতা এমনিতেই মন থেকে চলে যাবে । আচ্ছা এই যে আপনি বা আমি পৃথিবীতে বা পৃথিবির ভূপৃষ্ঠে কত দুষিত পদার্থ রয়েছে  , মানব বর্জ্য ,পশুপাখির বর্জ্য , কলকারখানার বর্জ্য সহ ক্ষতিকর অনেক দুষিত পদার্থ রয়েছে , আমরা টিউবওয়েল দিয়ে পানি উত্তোলন করে খাচ্ছি ।এই পানি তো দুষিত হয়ে যেতে পারে ,দুষিত হয় , দেখা যাই আর্সেনিক দুষণের কবলেও পড়ে । কিন্তু দেখুন এই পানি চক্র অনুযায়ী আমাদের খরচ করা পানি , সাবান মিশ্রিত পানি ,বিভিন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য মিশ্রিত পানি কত সুন্দর করে ফিল্টার হয়ে মাটির নিচে গিয়ে জমা হচ্ছে । মলমূত্র বা টয়লেটে যাওয়া পানি সেটাও তো মাটির নিচে যাচ্ছে সেটাও ফ্রেশ হয়ে আমাদের টিউবওয়েল দিয়ে উঠে আসছে । আমরা বুঝতেও পারছিনা । আবার পানি আকাশেও উঠে যাচ্ছে । মেঘ আকারে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে । আপনার বাসাতে একটা সুমিষ্ট আম বা যেকোন ফলের গাছ রয়েছে । কিন্তু সেই ফলের গাছ বৃদ্ধির জন্য আপনি দেন বিভিন্ন সার । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়ির আঙিনাতে শখ করে লাগানো গাছে আমরা দিই জৈব সার ।মানে বিভিন্ন জিনিশ পচা কম্পোষ্ট , গোবর বা মুরগীর বিষ্ঠা ইত্যাদি । কখনো যদি আপনি গাছের গোড়া গভীর গর্ত করে গোবর পুতেও দেন বা মুরগির বিষ্ঠা পুর্ণ করে দেন , বা আপনার টয়লেটের হাউস এর পাশেও পুতে দেন গাছ টা তবুও আম গাছ আপনাকে দুর্গন্ধ যুক্ত আম আপনাকে দেবেনা । সুমিষ্ট আর সুস্বাদু ,জীবানুমুক্ত আমই দেবে আপনাকে ।

(১৭৭)

         আবার বিজ্ঞানীরা পানি তোলার মোটর আবিষ্কার করেছেন , যার কল্যানে আমরা কষ্টকর পানি বহন ও উত্তোলন থেকে বেঁচে গিয়েছি ।কিন্তু সৃষ্টির শুরু থেকে কিছু গাছ মোটর হিসেবে আমাদের পানি তুলে খাওয়াচ্ছে । যেমন ধরুন একটা  নারকেল গাছ কত উচু হয়ে থাকে , সর্বোচ্চ ০৫-০৭ তলার সমান ও নারকেল গাছ হয় ।সেই ৬০-৭০ ফুট উপরের নারকেল গাছ এর মাথাতে ডাব ঝুলে থাকে , সেই ডাবের ভিতর সচ্ছ ,এবং একই সাথে জীবানুমুক্ত , কাদামাটি ও ধূলাবালি মুক্ত , ইলেকট্রোলাইট ও এন্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ১০০ ভাগ ফ্রেশ পানি তুলে রাখছে ডাব গাছ আমাদের জন্য । খেজুর গাছ শীতকালে কত সুন্দর ভাবে সুমিষ্ট রস নামক পানি তুলে রাখছে আমাদের জন্য ।তাতে খেজুর গাছের বা নারকেল গাছের গোড়াতে যত লবন , বা যত বর্জ্য পরে থাকুক না কেন খেজুর গাছ বা নারকেল গাছ বা পৃথিবীর কোন গাছই আপনাকে দুর্গন্ধ যুক্ত কিছু খাওয়াবেনা ।আপনার অত্যাধুনিক উন্নত পানির ফিল্টার এর উপরের চেম্বারে পানির সাথে মুরগীর বিষ্ঠা দিলে কি সেটা জীবানুমুক্ত পানি আপনাকে দিতে পারবে ? আপনি কি নিঃসংকোচে ও নির্ভয়ে সেই পানি পান করতে পারবেন ? উত্তর হবে মোটেই না এবং এ রকম পানি খেলে ওইদিনই ডায়রিয়াতে মরবেন । তাহলে ভাবুন একেকটা গাছ কত উন্নতমানের ফিল্টার মেশিন ? যেটা আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছেও নেই । আর একটা জিনিস আল্লাহ তায়ালা আমাদের খেদমতের জন্য অগনিত ফেরেশতা নিয়োজিত রেখেছেন ।  আচ্ছা এই ফেরেস্তারা যে নুরের তৈরি বলা আছে । কিন্তু সেই নুর বা আলো কি আমাদের কারো চোখে ধরবার ক্ষমতা আছে ।  আর ফেরেশতাদের কাজ যে শুধু নবী রাসুলের কাছে অহী নিয়ে আসা কাজ তা নয় ।  মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অসংখ্যা অগনিত ফেরেস্তা আমাদের খেদমতের জন্য নিয়োজিত করেছেন ।  ধরুন বিদ্যুৎ শক্তি , চুম্বক শক্তি কাজে লাগিয়ে আমরা কত কিছু করছি । হতে পারে এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে মানবজাতির আরাম আয়েশে থাকবার জন্য মানুষের খেদমতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের বিজ্ঞান সাধনার উছিলাতে অধীন করে দিয়েছেন ।  হ্যাঁ এখন হয়তো বলবেন যে আমি ইচ্ছামত একটা গাজাখুরি কথা বলে দিলাম আর হয়ে গেল তাইনা ।

(১৭৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!