কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭৯+১৮০

0Shares

আচ্ছা ভাবুন তো আপনি আমি ক্যান্সার বা এইডস এর প্রতিষেধক খুজছি , এগুলো নিয়ে কয়েক বিলিয়ন ডলার ও খরচ করে ফেলেছি  । হয়তো আমাদের বিজ্ঞানীদের অনবরত পরিশ্রম একসময় এটা আবিস্কার ও করে ফেলবে । এই যে রোগের প্রতিষেধক গুলো ও কি হতে পারেনা আমাদের খেদমতের জন্য নিয়োজিত অসংখ্যা ফেরেশতা বাহিনীর একজন । বিষয়টা বোঝালাম রুপক অর্থে । সরাসরি নিশ্চিত ফেরেশতা বলছিনা না । শুধু আপনার আমার ভেবে দেখার জন্য বললাম । জ্বীন বা ফেরেস্তা বলতে শুধু যে মহান আল্লাহ তালা শুধু আলিফ লায়লার দৈত্যর মত মানবাকৃতির বা দানবাকৃতির মত কিছু সৃষ্টি করে রেখেছেন এমন নয় ।এগুলো তো অন্য রুপেও থাকতে পারে । যেমন জ্বীন , সাপ , বা কুকুর এসব রুপে থাকতে পারলেও আল্লাহতায়ালার নিয়ামত বিভিন্ন শক্তি মানুষের খেদমতে বিভিন্ন রুপে থাকতে পারেনা ? জ্বীন মানেই যে আপনার সামনে আগুনের গোলা বা মাথাতে দুটো শিং নিয়ে হাজির হওয়া কেউ হবে এমন কথা নেই ।আপনি রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন ।পথে চলতে আমরা কত নারী পুরুষ দেখি । শতকরা ৯৯ জন থাকে আমাদের অপরিচিত । কেও কাউকে চিনিনা । কে কোথায় যাচ্ছে ও জানিনা আমরা ।একসময় শুনতাম আমরা যে খালে বিলে মাঠে ঘাটে বা গভীর রাতে বাড়ির আশেপাশে ও বিভিন্ন আজগুবি জিনিষের কথা । কিন্তু সেগুলো এখন নেই বলা চলে   । বলা হয় বিজলি বাতি আবিষ্ককারের পর থেকে এগুলো নেই । হতে পারেনা মানব রুপ ধারন করে আমাদের সাথেই মানববসতি করে এরা আছে আমাদের সহকর্মী ,বন্ধু বা প্রতিবেশীর রুপ ধারন করে । ভাল ভুতের গল্প হয়ে গেলো তাইনা । হতে পারে । শোনা যায় যে নোংরা যায়গাতে বিভিন্ন ক্ষতিকর জ্বীন থাকে । হতে পারেনা নোংরা যায়গাতে যে সব ময়লা বা বিষ্ঠা থাকে বা পচা কাদাতে যে সব ডায়রিয়া জীবানু থাকে বা ক্ষতিকর জীবানু থাকে এরা এক কায়দার জ্বীন । হতে পারাটা বিচিত্র কিছু নয় । কারন এগুলো জীবন্ত আর অনুবীক্ষন যন্ত্রের নিচে থেকে এগুলোর নড়াচড়া বোঝা যায় । এজন্য বলি আমাদের মানবজ্ঞানের সল্পতায় আমরা আল্লাহ কে খুজি আকাশে তাকিয়ে , জ্বীন খুজি মাঠে আর অন্ধকারে , ভুত খুজি বাঁশবাগানে , ভুত তো থাকে আমাদের মনে|

(১৭৯)

         আল্লাহ তো আছেন আমাদের ভিতরেই , আমাদের ভিতরেই মহান স্রষ্ঠার অস্তিত্ব বিরাজমান । এজন্য পবিত্র কোরআনে  লেখা আছে আমি তোমার সাহ রগের ও কাছে আছি ।নাহনু  আক রাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারিদ –সুরা কাফ – আয়াত-১৬ , অর্থ হে আমার প্রিয় বান্দা আমি তোমার সাহরগের কাছে থাকি ।আমরা মানুষেরা সবকিছু ভুল যায়গাতে খুজি বলে স্রষ্ঠার অস্তিত্ব , জ্বীন ,ভুত , কালোজাদু এগুলো খুজে পাইনা । খোজার যায়গাতে খুজিনা বলে আমরা কিছু দেখিনা । স্রষ্ঠা কে খুজতে বনে বাদাড়ে বৈরাগী হয়ে খুজে বেড়ানো লাগেনা ।কিছু সময় পৃথিবীর সকল খেয়াল ছেড়ে দিয়ে একাগ্র মনে ধ্যানে বসে নিজেকেও যদি ভুলে গিয়ে স্রষ্ঠা কে নিয়ে ভাবা যায় , নিজের হৃদস্পন্দন অনুভব করা যায় তাহলে আপনি অনেককিছু উপলব্ধি করতে পারবেন । আমরা যাদু খুজি , অলৌকিকত্ব খুজি ।কামরূপ কামাক্ষা আর সাধু সন্তুদের কাছে , আরে ভাই কালো যাদু কি মুর্খদের কাজ , আমরা নিজেরাই তো সাইন্স নামক এক মহাযাদুর যুগে বাস করছি । সাইন্স নামক এক মহাযাদুর মধ্যে ডুবে আছি , মোবাইল ,টিভি  , ইন্টারনেট , বিমান এগুলো যাদু মনে হয়না আপনার ?।পৃথিবী আর মহাজগত হল এক মহাশক্তির ভাণ্ডার সাধনা আর সময় নিয়ে খুজলে এটা কিছু না কিছু সাইন্স নামক নতুন কাল যাদু আপনাকে উপহার দেবে ।অং ভং মন্ত্র পরে কোন কাজ হবেনা ।  তাহলে  গাছের বয়স বোঝার জন্য গাছের ভিতর বর্ষবলয় থাকছে । প্রকৃতি কত মহাবিজ্ঞানের সাথে মহাজ্ঞানের ভাণ্ডার রেখেছে আমাদের জন্য । সেখানে দেখুন এটা কার নিয়ামত । এই যত উদাহরন দিলাম সবকিছু সকল প্রানী এবং সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । কোন প্রানী কখন সৃষ্টি হল , কার থেকে কি সৃষ্টি হল এই নিয়ে আমাদের তর্কের শেষ নেই , কিন্তু সঠিক  করে কি বলা যায় কখন কি হলো । আমাদের কাছে কি পৃথিবীতে যত পশু পাখি আর গাছ আছে তার তালিকা আছে ? আমার জানামতে আছে , কিন্তু তালিকা থাকা সত্বেও মাঝে মাঝেই খবর পাওয়া যায় অমুক প্রানী বিলুপ্ত , আবার খবর পাওয়া যায় হঠাৎ করে যে এক জাতীয় পাখি বা পশু পাওয়া গেছে যেটা এর আগে কখনো দেখা যায়নি , আচ্ছা এটা যদি স্রষ্ঠা মাত্রই  সৃষ্টি করে ততক্ষনাৎ এটা ছেড়ে দেন হঠাৎ করে

(১৮০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!