কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৮১+১৮২

0Shares

তাহলে কি আমাদের বোঝার উপায় আছে যে এই প্রানীটি বা পাখিটা যে এই মাত্র আবিষ্কৃত হল এটা লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনে হলো নাকি রাতারাতি তৈরি হলো এর নিশ্চয়তা কে দেবে । এত জটিল ব্যাপারগুলো দেখা বা শোনার পর এবার আপনি একটু ভাবুন তো , আপনার বিবেক কি বলে , আপনি কি নাস্তিকদের ব্লগ বা  নাস্তিক বই পত্র বা  লেখা পরে   নাস্তিক হয়ে যাবেন না আস্তিক থাকবেন ? এত বিজ্ঞানমূলক ও ছন্দপতনবিহীন প্রক্রিয়াগুলো কি স্রষ্ঠাবিহীন চলছে বা স্রষ্ঠাবিহীন চলা কি সম্ভব  ? কারো ব্যাক্তিগত ব্যাপারে বা ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করা বা প্রভাবিত করবার অধিকার ও আমার নেই । কিন্তু একটু অবসর সময়ে গভীর ভাবে ভাববেন তো একজন সীমাহীন মহাজ্ঞানীর নিয়ন্ত্রন ছাড়া এত কিছু বা এত জটিল বিষয় গুলো চলা কি সম্ভব ? এই গুলো ভাবলে এবং উপলব্ধি করলে আপনি ভাবতে বাধ্য হবেন আমাদের একজন স্রষ্ঠা আছেন ।আপনি যদি নাস্তিক হন এবার হয়তো আপনি ভাববেন বা বলবেন তাহলে স্রষ্ঠা যদি থাকেন তাহলে স্রষ্ঠাকে কে সৃষ্টি করলেন , তিনি কি অমর ? তিনি কি অনাদি অনন্ত , তার কি শুধুই শুরু আছে  শেষ বলে কিছু  নেই ? এই রকম অন্যায় নানা রকম অবান্তর প্রশ্ন আমাদের মনে জেগে ওঠে ।কিন্তু এই প্রশ্নের কোন মনমতো উত্তর আমরা পাইনা । সৃষ্টি সম্বন্ধে আলোচনা করতে গেলেই দেখা যাবে কোন কিছু সৃষ্টি হতে গেলে তার স্রষ্ঠা লাগে , একজন স্রষ্ঠা ছাড়া কোন কিছু সৃষ্টি হয়না এটাই সৃষ্টির নিয়ম । কিন্তু একসময় দেখা যাবে প্রশ্ন করতে করতে যে একজন স্রষ্ঠা আছেন যাকে কেউ সৃষ্টি করেননি । তিনি হলেন পরম স্রষ্ঠা ,মহা স্রষ্ঠা , ধরুন আপনার পিছনে গেলে আপনি পাবেন আপনার বাবা কে , এরকম করতে করতে একসময় পৃথিবীর সকল প্রানী পশুদের গোড়া পাওয়া যাবে যে একজন স্রষ্ঠা তাদের সৃষ্টি করেছেন , এখন যদি আপনি আপনার জানার কৌতুহলের খাতিরে আপনি প্রশ্ন করেন যে এই যে সকল প্রানীজগতের স্রষ্ঠাকে কে সৃষ্ঠি করেছেন ? এবারেও যদি ধরে নিই উত্তরের খাতিরে যে এই স্রষ্ঠাকে কে  সৃষ্টি করেছেন ? তখন যদি উত্তরে বলি ওনাকে আরেক জন স্রষ্ঠা সৃষ্টি করেছেন , তাহলে আপনি আবার প্রশ্ন করবেন তাহলে ওনার সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছেন ?

(১৮১)

         এভাবে প্রশ্ন করলে একসময় একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি , তিনি আপনা থেকে সৃষ্টি হয়েছেন , তিনি সৃষ্টি যখন থেকে তখন থেকেই আছেন , আমাদের মানব জ্ঞান অবশ্যই এটা বলে , আপনা থেকে একজন কে উদয় বা সৃষ্টি হতে হবে যিনি এই অসীম মহাজগতের বা মহাবিশ্বের একমাত্র স্রষ্ঠা ।আমরা নিজেরা যেহেতু অজ্ঞ এবং অতি ক্ষুদ্র জ্ঞানের অধিকারী  সেহেতু এ ব্যাপারটা “ঈশ্বরের স্রষ্ঠা কে এবং তিনি কি অনাদি অনন্ত হলেও কেন তিনি অনাদি অনন্ত ” সেটার ব্যাখ্যা বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ ,  যুক্তি ও  রেফারেন্স ও উইকি বা বিশ্বকোষ এর আলোকে দিতে চেষ্টা করবো ।এখানে কোনটাই আমার মনপ্রসূত নিজস্ব উক্তি বা চিন্তা নয় ।কোন ধর্মের মানুষই বিষয়টা নিয়ে উগ্রতা খুজবেন না এবং ধর্মীয় ভেদ খুজবেননা আশা করি যেহেতু সকল মানুষই এক আল্লাহর সৃষ্টি , পৈতৃক বা জন্মসুত্রে পরিচয়ে কেউ মুসলমান , কেউ হিন্দু , কেউবা খ্রিষ্টান , কেউবা বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ , এখানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে মিলেমিশে বসবাস করে  এবং আশা করি এবং ভূল হলে ক্ষমাসূন্দর দৃষ্টি রাখবেন সেটাও আশা করি । তো শুরু করা যাক ,আমাদের ইসলাম ধর্মমতে তাওহিদ বলা হয় এই বিশ্বাসকে যে মহান আল্লাহতায়ালা ইবাদাতের যোগ্য একক সত্ত্বা , তিনি স্ত্ত্বাও গুণগতভাবে একক , মহান আল্লাহতায়ালার কোন শরীক নেই , তিনি মানুষের চিন্তা ও ধারণার ঊর্ধে , তিনি অনাদি অনন্ত , তিনি চিরঞ্জীব ও  চিরস্থায়ী ।কয়দিনে কি সৃষ্টি হলো সেটা লিখে সময় নষ্ট করলামনা । আবার  হিন্দু ধর্ম বলে ব্রহ্মা বা ব্রহ্মান্ডের স্থায়ীত্বকাল একপ্রকার সীমিত , কিন্তু সেই সীমিত বা সীমাকাল  সেটা এতটাই সুবিশাল যে  সেটা আমাদের কল্পনার ও অতীত । হিন্দু ধর্ম মতে ব্রহ্মার একেকটি দিন কে একটি কল্প বলা হ্য় ।এই এক একটি কল্প হল সত্য ,ক্রেতা ,দ্বাপর ও কলি নামক চারটি যুগের সমষ্টি ।সত্য যুগ ১৭ লাখ ২৮ হাজার বছর , ক্রেতা যুগ ১২ লাখ ৯৬০০০ বছর , দ্বাপর ৮ লাখ ৬৪ হাজার বছর , কলিযুগ ৪ লাখ ৩২০০০ বছর ।এরকম ভাবে ১০০০ বার এই চার যুগের আবর্তনে স্রষ্ঠার এক কল্প হয় , এই রকম এক কল্প হল ব্রহ্মার এক দিনের সমান ,

(১৮২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!