কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৮৯+১৯০

0Shares

আমরা মনে করি মানবজাতির সামনে সামনে যা দেওয়া হোক সে বূঝবে , কিন্তু আমাদের বোঝার ক্ষমতার বাইরের জিনিসও আছে , আমাদের বোঝার ক্ষমতাও সীমিত ,  ধরুন আমরা পৃথিবীতে যত জ্ঞান আছে সেটাই তো আমরা বুঝিনা । সবাই পদার্থবিজ্ঞান ভালো বোঝেনা , কেউ রসায়ন ভালো বোঝেনা , গণিত আর ইংরেজীতো আমাদের বেশিরভাগ লোকেরই মাথাতে ঢোকেনা , এগুলো তো সামান্যতর ব্যাপার । তাহলে স্রষ্ঠা যে আপনার বোঝা বা উপলব্ধির সামর্থ্যের বাইরের কিছু নয় সেটা বোকার মত কথা হয়ে যায়না ? আমাদের দেখার ক্ষমতার বাইরের রং , রশ্মি ও জিনিস রয়েছে ।ধরুন বাতাস আমাদের গায়ে লাগে আমরা সেটা অনুভব করি মাত্র , দেখতে পারিনা , গাছের পাতা নড়ে ,কাপড় ওড়ে বাতাসে , এসব দেখে বুঝি বাতাস বইছে , কিন্তু বাতাস  কে আমরা দেখতে পারিনা , তাহলে কি বলব বাতাস বলে কিছু নেই , এরকম হলো আমাদের মানবের ক্ষমতা , আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে , সেজন্য সবকিছু , দেখা ,বোঝা বা অনুধাবন সম্ভব নয় আর ঈশ্বর তো নয়ই  । স্রষ্ঠার অস্তিত্ত্ব নিয়ে আর একটা প্রচলিত প্যারাডক্স হল শূন্য(জিরো) নামক সংখা । শূন্য কি ? একটা আবিষ্কৃত গানিতিক সংখ্যা ।আর্যভট্ট ৫০০ খ্রিস্টাব্দে শূন্য আবিষ্কার করেন । মুলত প্রাচীন গনিতবীদেরা এমন একটি সংখ্যা আবিষ্কার করতে চাচ্ছিলেন যার মান শূন্য এবং এটি সংখ্যার পিছনে বসে প্রয়োজনে মান বৃদ্ধি করতে পারে । মুলত ইনফিনিটি বা অসীম একটা ব্যাপার বা রহস্যময় একটা সংখ্যা বা প্রতীক বলতে পারেন শূণ্যকে আপনি ।  শূন্য মানে কিছু নেই , শূন্য মাত্র শূণ্যতা , আবার এই শূন্য ছাড়া কোন সংখ্যা হয়না । শূণ্যকে যা দিয়ে গুন দেন তার ফল আসবে শূন্য , যা দিয়ে ভাগ দেন ফল আসবে শূন্য , আর কোন সংখ্যার পিছনে যত বসাবেন তার মান তত বাড়বে , শূণ্যের কোন মুল্য নেই কিন্তু আবার তাকে ছাড়া ক্ষমতাবান সংখ্যা হয় না । না থেকেও থাকা যায় , হেরেও জেতা যায় , মরেও মানুষের মাঝে জীবিত থাকা যায় ।এরকম  রহস্যময় আর অদ্ভুত না শূন্য সংখ্যাটা , ঠিক তাই না ! ।কোন সংখ্যার আগে কোটিবার থাকলেও শূণ্যের দাম নেই আর কোন সংখ্যার পিছনে প্রতি একটা শূণ্যের জন্য মান কত বাড়ে ভালোভাবে বোঝা যায় ।

(১৮৯)

         আর নাস্তিকদের একটা তুলনা আছে তা হল ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হন তাহলে তিনি কি এমন কোন পাথর বানাতে পারবেন যেটা তিনি নিজে তুলতে পারবেননা ? আর যদি এমন ভারি পাথর বানাতে পারেন তবে তিনি কেমন সর্বশক্তিমান যে সেটা  কখনো তুলতে পারবেন না , এই প্রশ্নটাও এসে যায় একই সাথে ? তাহলে তার ইনফিনিটি বা অসীম শক্তি কোথায় থাকলো , এর উত্তর একজন মার্কিন নাস্তিক গনিতবিদ আলবার্ট রবিনসন দিয়েছিলেন , তিনি বলেছিলেন এর উত্তরতা হবে এমন যে ঈশ্বর হবার প্রথম শর্ত হলো তিনি যা খুশি করতে পারবেন বাস্তব ও অবাস্তব সবকিছু সৃষ্টির ক্ষমতা থাকতে হবে , এবং যা খুশি সৃষ্টিও করতে পারবেন ।  এ শর্তমতে তিনি প্রথমে আপনার শর্তমতে তিনি নিজে উচু করতে পারবেননা এমন একটা পাথর বানালেন ।  এখন তিনি সেটা উচু করতে পারবেননা এ কারনে যে আপনি বলেছেন যে ওই পাথরটি ঈশ্বর নিজেই উচু করতে পারবেননা এমন ভার বানানো হোক তাই তিনি বানিয়েছেন ।  কিন্তু যখন আপনি বলবেন এটা যদি তিনি উচু করে দেখাতে পারেন তবেই তিনি ঈশ্বর , তখন ঠিকই তিনি উচু করে ফেলবেন । যুগের শ্রেষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস এর ÔÔ a brief history of short time ÕÕ (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) বইএর বাংলা অনুদিত(ইফতেখার রসুল জর্জ প্রকাশকাল- সাল ২০০২ ইং) গ্রন্থের , ১১৩ পৃষ্ঠাতে মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও পরিনতি অধ্যায়ের শেষের হুবহু কয়েকটি লাইন আপনাদের জন্য তুলে ধরি – “স্থান এবং কাল একটি সীমানাহীন বদ্ধ পৃষ্ঠ(closed surface)গঠন করতে পারে , মহাবিশ্বের ব্যাপারে ঈশ্বরের ভুমিকা বিষয়ে এই চিন্তনের ফলশ্রুতি হতে পারে গভীর । ঘটনাবলী ব্যাখ্যাতে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলির সাফল্যের ফলে অধিকাংশ লোকই এখন বিশ্বাস করেন ঈশ্বর একগুচ্ছ বিধি অনুসারে মহাবিশ্বের বিবর্তন অনুমোদন করেন এবং এই বিধি ভঙ্গ করে তিনি মহাবিশ্বে হস্তক্ষেপ করেননা ।  কিন্তু শুরুতে মহাবিশ্বের চেহারা কি রকম ছিল সে বিষয়ে এ বিধি গুলো কিছু বলেনা । এই ঘড়ির মত গতি বন্ধ করা ঈশ্বরের দায়িত্ব এবং কি করে এটি তিনি আবার শুরু করবেন সে পদ্ধতি নির্বাচনের দায়িত্ব ও ঈশ্বরেরই যতক্ষন পর্যন্ত মহাবিশ্বের শুরু ছিল

(১৯০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!