কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০১+২০২

0Shares

         ধরুন এমন জিনোম আছে যেটার বদৌলতে একজন মানুষ একঘন্টা ঘুমিয়ে ০৮ ঘণ্টা ঘুমানোর মত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। আবার এমন জিনোম আছে যা মানুষের হাড় এত শক্ত করতে পারে যে লোহার হাতুড়ি পেটা করেও হাড় ভাঙ্গা যাবেনা । আবার যদি বর্তমানের বিজ্ঞান ক্রম উন্নত হচ্ছে যেহেতু এবং এর সাথে যদি মানবজাতি টিকে থাকে আরো ০৫ হাজার বছর মাত্র,  তাহলে মানুষ হয়ে উঠবে তথা কথিত জ্বীন জাতির থেকে উন্নত বা সুপারম্যান এর থেকে উন্নত কিছু। কিন্তু মানবজাতি দিনে দিনে যে যুদ্ধবাজ,  স্বার্থলোভী, মায়ামমতাহীন ও প্রফেশনাল হচ্ছে তাতে করে আগামী ১০০ বছরের ভিতর ৩য় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়ে মানবজাতি ধ্বংশ হবেনা এর নিশ্চয়তা কি ? এ রকম হলে আমাদের আবার সেই গরুর গাড়ি আর মশালের যুগে চলে যেতে হবে পৃথিবীটা রহস্যময় ভাঙ্গা গড়ার খেলার চক্র ছাড়া আর কিছু নয়, এই চক্রটাই অকাট্যভাবে মেনে চলে পৃথিবী,সব যায়গাতে এর নিদর্শন পাবেন, পৃথিবীতে আজ যে রাজা কাল সে ফকির, জন্ম গ্রহন করে বাচ্চা হিসেবে , নিজে নড়তে পারেনা, কোন কাজ করতে পারেনা, ঠিক সেই বাচ্চা সক্ষম যুবক বয়স পার করে আবার ফিরে আসে সেই শিশু বয়সের মত অক্ষম বয়সে মানে বার্ধ্যকে, নদীর যেমন এক কুল ভাঙ্গে আরেক কুল গড়ে, তেমনি শূন্য(০) থেকে ১০০ তে পৌঁছালে ১০১ এ যাওয়া যাবেনা, ১০০ এর পর শূন্যতে ফিরতে হয় এটাই পৃথিবীর নিয়ম, রাতের অন্ধকার শেষ করার জন্য উদয় হয় সূর্য, আবার সূর্য রাতের  অন্ধকার এ বিলীন হয় সন্ধাতে ,তেমনি মানব সভ্যতা ও সমাজ ব্যবস্থা অনুন্নত থেকে উন্নত হয় আবার উন্নত থেকে আবার অনুন্নত তে নেমে আসে, এটা যে কোন কারনে হতে পারে , মানব সভ্যতা ও সমাজ ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান বার বার এই একই চক্রে ঘুরতে থাকে। আর যদি বর্তমান ধারাতে টিকে থাকে, পৃথিবীতে কোনরকম ধ্বংসযজ্ঞ বা ব্যাঘাত ছাড়াই যদি মানুষ আরো ১০ হাজার বছর বিজ্ঞান চর্চা করতে পারে তবে ৩য় মাত্রার মানুষ তখন আরো কয়েক মাত্রা অগ্রসর হয়ে যাবে । কি হবে তখন ভেবেছেন ? তখন জিনোম এর এডিটিং মানুষ নিজে ঘরে বসে নিজের উপরই অ্যাপ্লাই করবে, মানুষ উড়তে পারবে বিমান ছাড়াই, সর্বগুণের অধিকারী হতে পারবে|

(২০১)

         কম্পিউটারর বাদে নিজের ব্রেন দিয়ে সব করতে পারবে, যাদু করার মত নিজের দেহ বদলে মূহূর্তের মধ্যে যে কোন প্রাণীর রূপ ধারণ করবে, চোখের পলকে যে কোন দূরত্ব, স্থান এবং কাল অতিক্রম করবে, মরে গিয়ে আরেকজনের স্মৃতি আরেকজন জীবিত মানুষের মস্তিষ্কে ঢোকান যাবে,  ফলে একদেহে না হোক স্বাভাবিক নিয়মে জন্ম নেওয়া আরেকজন মানুষের শরীরে মানুষ বেচে থাকতে পারবে, ফলে মৃত্যুটা হবে নামে মাত্র, যত মানুষ জন্ম গ্রহন করে সবার ই দেহ একরকম থাকে, পার্থক্য শুধু ফেস আর মস্তিস্কের। তো ফেস তো এখন প্লাস্টিক সার্জারি করে ইচ্ছামত রুপ দেওয়া সম্ভব , শুধু স্মৃতির ব্যাপারটা বাকি থাকে , সেটা নিয়ে বিস্তর গবেষনা চলছে, তবে পৃথিবীর সমাজ ও সভ্যতার ভাঙাগড়ার সুত্রানুযায়ী বিজ্ঞান গবেষনা এগোবার সুযোগটা পেলে হয়। কারণ সব থেকে বড় সমস্যা মানবঘটিত যুদ্ধ ও প্রকৃতির উপর মানুষের নিয়ন্ত্রন না থাকা । তো মস্তিষ্কের স্মৃতির ব্যাপারটা অনেকটা হিন্দু ধর্মের পুর্নজন্মের মত,একজন নতুন মানুষের মাথাতে আরেকজনের স্মৃতি প্রবেশ করাতে করাতে একসময় সে পঞ্চাশ বার মরার পর (স্মৃতি ভরা মস্তিষ্ক নতুন দেহে প্রবেশ করালে)  বলবে আমার বিগত পঞ্চাশ জন্মের কথা আমার মনে আছে । হাত পা দেহ তো সব মানুষের এক,  স্মৃতি(মস্তিষ্ক) আর চেহারার(মুখমন্ডল বা ফেস এর ভিন্নতা) কারণে মানুষ একজন থেকে আরেকজন আলাদা । তাহলে যদি জ্বীন জাতি থাকে তাহলে তারা কত টা উন্নত হতে পারে আন্দাজ করুন তো, আবার তারা মানুষ থেকে লাখ বছর আগে সৃষ্ট সেটাও উল্লেখ পাওয়া যায়, এমন হতে পারে যে জ্বীন জাতিদের আগে হয়তো মানুষ দেখতো এজন্য যে তাদের পৃথিবীতে দরকার ছিলো , এখন হয়তো তারা এতটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ যে মানবজাতি বা পৃথিবীর দিকে তাদের কোন কিছুর প্রয়োজনে না তাকালেও চলে ।এটা তো গেল জ্বীন জাতির কথা যারা মোটামুটি আচার ব্যবহারে মানুষের কাছাকাছি। দৃশ্য আর অদৃশ্য বলে কথা বা পার্থক্য। কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে দেখলাম যে কোন এক বিজ্ঞানী গবেণাতে বলেছেন, পুরো মহাবিশ্বে মানুষ ছাড়া আর কোন বুদ্ধিমান প্রানী থাকা সম্ভব নয় , মানুষই একমাত্র প্রানী ।

(২০২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!