কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০৩+২০৪

0Shares

এই কথাটা আমার সম্পুর্ণ গাজাখুরি বলে মনে হলো, ‌ দুঃখিত আমি এজন্য যে ব্যস্ততার কারনে আমি পেপার কাটিং বা স্ক্রিনশটটা  সংরক্ষন করতে পারিনি। জীবনের সঙ্গা যে হুবহু মানুষের সাথে মিলতে হবে এমনটা নয় বা পৃথিবীর প্রানীর সাথে মিলবে এমন নয়। ধরুন গাছকে আমরা ২০০ বছর আগে জানতাম এক জড়বস্তু বলে । স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু প্রমান করেন এটা জীব, এর খাদ্য গ্রহন এবং অনুভুতি আছে । তাহলে জীবনের সঙ্গা যে মানুষের গঠনের সাথে মিলতে হবে এমন নয় অথবা যদি মানুষের সাথে মিলাতে যান তবে সেটা হবে মানব এর মত মানব অন্য কোন গ্রহে আছে কিনা এরকম খোজা। সমুদ্রতলে অত্যন্ত সুন্দর দেখতে গাছের মত প্রানিগুলো কি, বা বক্স জেলি ফিশ গুলো দেখে হঠাৎ কে প্রানী মনে করবে তারপরেও তারা প্রানী। অন্য গ্রহে জীব থাকলেও আপনি আমি শুধুমাত্র খালি চোখে বা টেলিস্কোপ এ দেখতে না পারি। ধরুন একটা গ্রহে একটা জীব ,আছে যে ভাত না খেয়ে আগুন খায়, থাকে এসিড এর ভিতর, সেই গ্রহটার ভিতর এমন এক রশ্মি আছে যেটা মানুষের চোখ ধারন বা সনাক্ত করতে  পারেনা। জীব হতে গেলে মানুষের মত সব কিছু করতে হবে, মানুষের সব কাজের সাথে মিলতে হবে এমন কথা নেই । তাহলে আপনি কিভাবে বুঝবেন যে সেখানে জীব আছে বা মানুষ ছাড়া আর কোন জীব কোথাও নেই এটা কি বলা সম্ভব হয় যদি সঠিক বিজ্ঞান দৃষ্টিকোন থেকে ভাবেন ? ।

২) পুরো সৃষ্টি জগত কে তিনি কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন ,সেই নিয়মের বাইরে কিছু হয়না কদাচিৎ হয়তো কিছু ব্যাতিক্রম ঘটতে পারে” –ঈশ্বর ভয়ানক ভাবে নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ।আমরাই উপযাচক হয়ে নিয়মের বাইরে তার কাছে অনেক কিছু দাবি করে বসি ।একটা উদাহরণ দিই-তিনি নিয়ম করে দিয়েছেন পড়িলে পাশ না পড়িলে ফেল কিন্তু আমরা অধিকাংশই পড়াশোনাতে ফাঁকিবাজ, পড়াশোনার থেকে আমাদের অন্যান্য কাজ যেমন পড়ার সময় নষ্ট করে সিনেমা ,গান, গল্পের বই, বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি, অকালে প্রেম এগুলো করে সময় নষ্ট করি, যখন হুশ হয় তখন আমরা তাড়াহুড়ো করে পড়তে বসি আর নামাজ পড়ে বা পুজা দিয়ে বা পীরের দরবারে মানত করে আল্লাহ বা ভগবানের কাছে সাহায্য চাই।

(২০৩)

         ফলশ্রুতিতে যখন ফাকিবাজির কারণে এত নামাজ, পূজা বা মানতের পর আমরা ফেল করি তখন বলা শুরু করি আল্লাহ বা ভগবান দিলেননা। কিন্তু কথা হলো তিনি চাইলেই আপনাকে পাশ করিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি অগণিত সৃষ্টি অথবা অগণিত মানুষের রিযিকদাতা ।আল্লাহ তিনি সবার জন্য আল্লাহ, সবার কাছে আল্লাহ। সবাই ই নিঃসংকোচে সবকিছু আল্লাহর কাছে চাইতে পারে ।তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে চাইলে যদি আল্লাহ আপনাকে পাশ করিয়ে দেন তাহলে আপনার বড় যে ফাকিবাজটা আছে সে কি দোষ করলো? কারণ সেই ফাকিবাজটাকে যদি না পাশ করানো হয় তাহলে হয়ে যাবে সে আল্লাহর কাছে বঞ্চনার শিকার , আল্লাহর কাছে সব বান্দা সমান । এজন্য কোন বান্দা যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য পড়াশুনা বা কর্ম নামক সুযোগ দিয়ে দিয়েছেন যাতে কোন বান্দা বঞ্চিত না হয় ।তোমাকে সময় এবং সূস্থ মস্তিষ্ক আল্লাহ দিয়েছেন ।যে বান্দা যতটুকু পড়বে সে ততটুকু নাম্বার পাবে , যে যতটুকু সু কর্ম বা কু কর্ম করবে সে ততটুকু ফল পাবে।এতে আল্লাহকে দায়ী করার কিছু নেই।আল্লাহ এরকম কঠোর নিয়মানুবর্তিতার ভিতর সৃষ্টিজগৎ পরিচালনা করছেন। আমরাই ফাকিবাজি করি ,ঘটা করে  প্রার্থনা করি , পূজা করি আর আল্লাহর বা ভগবানের কাছে চাই আর কাঙ্খিত বস্তু না পাবার জন্য আল্লাহকে বা ভগবানকে দায়ী করি ।কিন্তু মূল কর্ম বা পরিশ্রমটাই করিনা। দেখুন পৃথিবীতে তিনি প্রত্যেক জীবের একেকটি জোড়া  ও গাছ পালা সৃষ্টি করে স্ব প্রজনন এর ক্ষমতা দিয়েছেন এজন্য যে বার বার যাতে না গড়তে হয় , আপন থেকে গাছ এবং প্রানী যাতে তৈরি হয় সে জন্য এ ব্যাবস্থা। কখনো মরা মানুষ বাঁচতে দেখেছেন বা মরা গাছে পাতা গজাতে, না দেখেননি, হয়ত ২০০-৫০০ বছরে ও শোনা যায়না, লাখ বছরেও শোনা যায়না, নিয়মের একচুল এদিক সেদিক হয়না। তিনি কি পারেননা মরা গাছ বা মানুষ কী মুহুর্তে জীবিত করতে, অবশ্যই পারেন, তিনি কি পারেননা গরীব কে ধনী করে দিতে, অবশ্যই পারেন, কিন্তু কেন নয়, এজন্যই নয় যে সবাই ওনার বান্দা ,সৃষ্টির পিছনের উদ্দেশ্য উনিই মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ভাল জানেন, একজন কে দিলে আরেকজনকে না দেওয়াটা অন্যায় যেহেতু সবাই আল্লাহর বান্দা|

(২০৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!