কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০৭+২০৮

0Shares

এত কিছু পাবার পর ও  হয়ত সেখানে সব কিছু ফেলে কোন একজন সৌভাগ্যবান বেহেস্তী ব্যক্তি চাইতে পারেন মহান আল্লাহ তায়ালার দর্শন, নিজের চর্মচোখে মহান স্রষ্ঠা কে দেখে মানব জন্ম ধন্য করা , যে চাওয়ার  কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানীয় , নেশা বা রমণীর সৌন্দর্য বা বেহেস্তের হুর ও মূল্যহীন হয়ে যাবে” ।মানুষের কৌতূহল এবং কোন জিনিস নিয়ে আদিখেতা শুধু জিনিসটা পাবার আগ পর্যন্ত, তারপর সে জিনিসে আর মানুষের ততটা আকর্ষন থাকেনা। এ রকম পরিস্থিতিতে মানুষ পৌছে যায় জাগতিক লোভ বা আবেগ থেকে সরে বাস্তবতা ও আত্বিক মুল্যবোধ এর দিকে । ধরুন আপনার প্রেম বিয়ে নিয়ে  সুখ কল্পনা কিন্তু বিবাহের দিন পর্যন্ত , বিবাহ হয়ে গেলে আপনার ভিতর থেকে পূর্ব সমস্ত আবেগ বা কল্পনা রোমান্টিসিজম বাদ দিয়ে হয়ে যান বাস্তবতাবাদী ও খটখটে। ঈদ নিয়ে আমরা খুব মাতামাতি করি রোজার প্রথম থেকে। কিন্তু ঈদের দিন এলে কিন্তু মনে সেই ঈদ আসবে পুলকটা আর থাকেনা। বরং রোজার ত্রিশটা দিন যখন চলমান ছিল তখন ঈদকে বেশি আনন্দদায়ক মনে হতো ঈদ দুরে ছিলো বলেই। মিষ্টি আপনার আমার প্রিয় হতে পারে , কিন্তু সেটা কাছে  না পাবার কারণে আর দুরে থাকে বলে , মিষ্টির দোকানদাররা কত পদে মিষ্টি তৈরি করে কিন্তু তাদের কাছে মিষ্টি অতটা আকর্ষনীয় কিছু নয়। এ জন্য দেখবেন মানুষ অলৌকিক সাধনা করতো জীবনে যাই খুশি তাই পাবার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে তারা যখন সাধনার মাধ্যমে সব পাবার যোগ্য হতো তখন কিন্তু সংসারত্যাগী বৈরাগী হয়ে যেতো, কারন তখন পার্থিব সকল আনন্দের থেকে বৈরাগে মজা পেয়ে যেতো আধ্যাত্মিক সাধকেরা, এজন্য আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতো যে সাধুরা সন্ন্যাসীরা যদি এত ক্ষমতার মালিক হতেন যে যে কোন কিছু চাইলেই তাদের সামনে হাজির হতো, বহু রাজাবাদশার রাজ্য অটুট থাকার জন্য দোয়া করেছেন, তাদের দোয়াতে গরীব ধনী হয়েছে কিন্তু তারা কেন এত সুখ হাতে পেয়েও ছেড়া কাপড় আর জটচুলে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন আর অধিকাংশ সময় ধ্যানমগ্ন থাকতেন ? পৃথিবীতে পর জগতের সব নিয়ামত নেই, পৃথিবীতে আমরা হিতকরের থেকে ক্ষতিকর জিনিসটা নিয়ে মাতামাতি ও প্রতিদ্বন্দিতা করি আমরা।

(২০৭)

         এই যে পৃথিবীতে আমরা আলেক্সান্ডার, সহ পৃথিবীর যত দিগ্বীজয়ী বীর দের মনে রেখেছি অধিকাংশ লোকই তো অযথা আরেক দেশ দখল করার নিমিত্তে নিষ্ঠুর আক্রমন করে, লাখ লাখ লোক মেরে পৃথিবীর ইতিহাসে অমর হয়ে আছে,  পৃথিবীর ইতিহাসে যারা বীর তারা কি আসলে কি  বীর ,অযথা তারা কেন পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র আক্রমন করেছিল, ‌এমন নয় যে তারা যে সব রাষ্ট্র আক্রমন করেছিল তারা শিক্ষা দীক্ষাতে উন্নত ছিলোনা, চেঙ্গিস খান আর হিটলার, স্টালিন এদের আক্রমনে কি কোন সভ্যতার উন্নতি ঘটেছে ? তারা দু জন  কোটি কোটি  মানুষ হত্যা করেছে,   এই দুজনের আক্রমনে পৃথিবী আরো ৫০০ বছর পিছিয়ে গেছে ? অথচ  তাদের কে তাদের জাতি বীর হিসেবে ,আদর্শ হিসেবে স্মরণ করছে, যে জাতিগোষ্ঠী বা দেশগুলোতে এরকম খুনী রাষ্ট্রনায়ক এসেছে এবং যে জাতি তাদের রাষ্ট্রনায়কেরা কোটি মানুষ খুন করার পরও তাদেরকে আদর্শ মানে তারা মানবতার সঙ্গায় জানেনা ।মানবতার চশমা দিয়ে শুধু নিজ জাতিগোষ্ঠী দেখলে হবেনা সব জাতিগোষ্ঠীকে এক রকম দেখতে হবে। মূলকথা হল এসব কিছুনা, মানুষ হল পরিস্থিতি নামক এক দৈত্যের হুকুমের অধীন, পরিস্থিতি আর কর্ম আমাদের কে নিয়মের বাইরে নিয়ে যায়, বুঝেও অবুঝ এর মত কাজ করতে বাধ্য করে। ধরুন আপনি ১০ বছর ঘুরে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি বা একটা কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেননি, ‌এমতাবস্থাতে, আপনি এই দশ বছরে বিভিন্ন আত্ত্বীয় স্বজন,বন্ধুদের কাছে অবমাননাকর কথা শুনে শুনে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে কোন উপায়ে হক আপনি এই অবস্থা থেকে উঠে আসবেন,  যখন অবৈধভাবে এই লাঞ্ছনা থেকে বাচার উপায় আসবে তখন আপনি ভাববেন আগে তো বেঁচে নিই,  কে জানছে আমি অসৎ পথে কার্যোদ্ধার করলাম ? পৃথিবীতে শতকরা ৯০ভাগ নীতিবান মানুষই পরিস্থিতি দোষে ও জীবন জটিলতাতে এক সময় বিপথগামী হয়ে যায়।আমি একা ভাল হয়ে কি লাভ হয়েছে, আমার মত নগন্য মানুষের একার সততাতে কি এসে যায় ।বাস্তবতার যাতাকলে একসময় সে নীতি হারিয়ে ফেলে। পৃথিবীতে সততা ও নীতি নিয়ে চলবার মত কঠিন কাজ আর নেই এটাই অধিকাংশের অভিমত ।

(২০৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!