কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০৯+২১০

0Shares

অনেক সময় দেখা যায় বিশ্বে এ পর্যন্ত যত মহামানব এসেছেন তাদের অধিকাংশ মহামানবই তাদের সুনাম, খ্যাতি, কর্মের সাথে সমান বিতর্ক ও তাদের সাথে থাকে ।শুধু মহামানব কেন, অতি সাধারন কোন মানুষ এর ছোটখাটো দোষ পেলেই ব্যাস চেঁচামেচি শুরু করবেন না, কুৎসা রটাবেননা, গুরুতর দোষ হলে ভিন্ন কথা ।ধরুন কদিন আগে ফেসবুক এ একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, ভিডিওটার বিষয় বস্তু হল নাটোর জেলার কোন এক গ্রামে স্বামী স্ত্রী আম চুরি করেছিল, তার জন্য গ্রামবাসী তাদের জনসম্মুখে বেঁধে কি মারটা না মারলো। এই সামান্য ব্যাপারে এরকম নৃশংস হওয়াটা ভয়ংকর বাড়াবাড়ি। যত বড় মহামানব হোক না কেন সব শেষে তিনি একজন রক্ত মাংশের মানুষ, আর মানুষ হলে ভুল বা বিতর্ক হওয়া বা থাকাটা স্বাভাবিক ।হতে পারেন তিনি ধর্ম গুরু, হতে পারেন তিনি রাষ্ট্র প্রধান, হতে পারেন বড় একজন সেলিব্রিটি। স্বর্ণে যেমন খাদ থাকে, ধানে যেমন চিটা থাকে, চাঁদে যেমন কলংক থাকে, তেমনি মহামানব হলেই ভুল থাকতে নেই এমন নয়। কোন মহামানবের জীবনে বিতর্ক থাকলে হুজুগে ০৫ জনের সাথে সুর না মিলিয়ে ওনার জীবনের ইতিহাস এবং পরিস্থিতি ঘাটুন, আর ভাবুন ওনার যায়গাতে আপনি থাকলে কি করতেন বা কতটুকু করতেন, দেখবেন আপনার প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়ে যাবেন। অযথা ধর্ম, সমাজ বা আদর্শ নিয়ে বিতর্ক করে সংঘর্ষ বা বাদানুবাদে জড়াবেন না ।              

         এতক্ষন যা লিখলাম তা এজন্য যে আমরা মুক্তমনা লেখা বা কিছু নাস্তিক  যুক্তি পড়ে আল্লাহ বা স্রষ্ঠা বা ঈশ্বরকে অস্বীকার করে বসি, এর মত বোকামি আর নেই। চোখে যেটা দেখা যায়না, বুদ্ধিতে যেটা আসেনা সেটা নেই বলাটা কোন বুদ্ধিমানের কথা হতে পারেনা।আর যুক্তি দেখাবেন যে আপনি আমি না খেয়ে আছি সেটাও আল্লাহর দোষ, এটা আল্লাহ নেই এর প্রমান হতে পারেনা। দেখা যায় আমরাই হয়তো সবকিছু তে আল্লাহ কে যুক্ত করে ফেলেছি,তিনি যে অনিয়মের ভিতর নেই সেটা তে ও আমরা তাকে যুক্ত ফেলেছি আমাদের খেয়াল খুশিমত । দেখুন তিনিও নিয়মের বাইরে কোন কিছু পরিচালনা করেননা

(২০৯)

তা না হলে একটা মানুষ মরে আবার ফিরে আসতে দেখেছেন কখনো ? জগৎ একটা ভয়াবহ আকারের নিয়মের ভিতর দিয়ে পরিচালিত ‌এর নিয়মের দেখুন কোন বাত্যয় নেই।  ধরুন আপনি একটা মেয়েকে ভালবাসন।মেয়েটা কে একদিন না দেখলে থাকতে পারেননা । এখন আপনাকে যদি বলি আপনি যে ভালবাসেন, সেটা কি, আপনি তো আমাকে ভালবাসা কোন বোতলে ধরে দেখাতে পারবেননা, তেমনি ধরুন আপনার একটা সন্তান আছে, তার প্রতি আপনি যে মায়া অনুভব করেন সেই মায়া বা স্নেহ ও কি কোন বোতলে ভরে দেখাতে পারবেন ? আপনার গায়ে বাথা লাগলো, আপনি ব্যাথা কে দেখাতে পারবেন? আপনি ঘুমের ভিতর সপ্ন দেখেছেন, গল্প যদি করেন, আর আমি যদি বলি আপনি যে সপ্ন দেখেছেন তার ভিডিওটা দেখানতো, তা কি পারবেন পারবেননা। আবার আপনার বা আমার যে চোখ সেটা ৩০০ ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যর কম এবং ৭০০ ন্যনোমিটার দৈর্ঘের বেশি আলো দেখতে পায়না। আমাদের এই চোখ অনেক রঙ অনেক রশ্মি ধরতে পারেনা। এই সীমাবদ্ধতার কারনে সৃষ্টি জগতের অনেক কিছু আমরা দেখতে পারিনা শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হয়েও, সেখানে অন্য নগন্য ইতর প্রানীরা যে সে সব অদৃশ্য দেখেনা সেটাই বা বলি কি করে ? সৃষ্টি জগতের বিশালতা এবং এর পিছনের মহাবিজ্ঞান সম্বন্ধে সামান্যতম উপলব্ধি থাকলে সৃষ্টি হয়ে স্রষ্ঠার প্রমান চাইবার আগেই আপনি স্রস্ঠার অস্তিত্ত্ব টের পেয়ে যাবেন এর জন্য আপনার সামনে একটিও  যুক্তিবিদ্দ্যা বা বিজ্ঞানের বই আনবার দরকার নেই । 

কিভাবে ধবংশ হতে পারে পৃথিবী ও সভ্যতা  ? একি প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে চলে আসা অনুন্নত থেকে উন্নত এর চক্র ?

অনেক সময় মানুষ উন্নত জিনিস রেখে সনাতন ধাচে ফেরে কেন বলতে পারেন ?, হতে পারে নতুন জিনিসটা পুরনোটার থেকে উন্নত কিন্তু মানসিক শান্তিদায়ক নয় বা মিমাংসাকারী হিসেবে অকার্যকর সেজন্য ।

(২১০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!