কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১১+২১২

0Shares

         ধরুন দুটো মানুষকে মানব সীমাবদ্ধ ক্ষমতার বাইরে নিয়ে অসীম ক্ষমতা দেওয়া হলো আর কোন লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়া হলো, কিন্তু তাতে হবে কেউ কাউকে হারাতে পারবেনা, তখন বাধ্য হয়ে উন্নত ক্ষমতা বাদ দিয়ে সনাতন মানব ক্ষমতায় আসতে হবে যার শেষ আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। একটা সময়ের কথা বলছি , সময়টা ৯০ দশকের শেষ দিকের কথা, ১৯৯৬-১৯৯৭ এর কথা বলছি । ওই সময়ে শৈশবকাল পেয়ে আমরা যারা ৯০ দশকের প্রজন্ম তারা সত্যিই ভাগ্যবান। এখনকার মত ইন্টারনেট ব্যবহার করে অবাধ ভিডিও গেমস বা ফেসবুক ইউটিউব ব্যবহার করে ঘরে বসে বিশ্বের সব দেশে বিচরণের আমরা পাইনি ঠিকই কিন্তু ওই সময়ের অত্যন্ত সাধারণ মানের বিনোদন গুলো তখনকার বাচ্চাদের মনে যে উৎসব আর উত্তেজনার ভাব তৈরি করতো, সেই উত্তেজনাটা কিন্তু এখনকার চার দেয়ালে বন্দী, স্কুল, কোচিং আর বই এর বোঝাতে বন্দী বাচ্চারা কল্পনাও করতে পারবেনা । তখন বিনোদন বলতে শুক্রবারের বাংলা সিনেমা আর আলিফ লায়লা। ধরুন বিকাল সাড়ে তিনটার কয়েক মিনিট  আগে বাংলা সিনেমা শুরু হবে, সেজন্য টিভি সেটের সামনে সে কি ভীড়, আমাদের  যশোর শহরের বাড়ি গুলোতেও সব বাড়িতে টিভি ছিলোনা ।প্রতি চার পাঁচ বাড়ি প্রতি একটা টিভি সেট ছিলো, এর ৯০% ই ছিলো সাদাকালো , রঙিন টেলিভিশন কদাচিৎ দেখা যেতো, ন্যাশনাল, নিপ্পন , সনি এগুলো ছিল তখনকার টপ টেলিভিশন ব্রান্ড । আর গ্রামে তো এক গ্রামে একটা থেকে দুইটা টেলিভিশন থাকাটা বিরাট ব্যাপার। তো গ্রামে ওই যে সারা গ্রামের বাচ্চা থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ যে আলিফ লায়লা দেখে মজা পেতো, সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতো সেই আলিফ লায়লার এনিমেশন ও গ্রাফিক্সের কাজ দেখে এখনকার বাচ্চারা হাসবে, চাইলে এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন সেটে ছোটখাটো সফটওয়্যার এর মাধ্যমে আলিফ লায়লার ওই ইফেক্ট ও দিতে পারবে , তৈরিও করতে পারবে । কিন্তু প্রতি শুক্রবারের ওই আমেজ বা উৎসবটার আবহটা আর আসবেনা । কারন টা হল আকর্ষণীয় / বিনোদনমূলক/ উত্তম জিনিস যদি বার বার ব্যবহার হয় তবে সেটা তার আকর্ষণ, আনন্দ দেবার ক্ষমতা এবং উপযোগিতা হারায় ।

(২১১)

         ধরুন সাধারনত আমরা অধিকাংশ মানুষেরা স্বাস্থ্য গত কারনে সপ্তাহে ০১ দিন মাংশ খাই(গরু-খাসি-মুরগী)। সকল খাবারের ভিতর মানুষের কাছে প্রাণীজ মাংশের তৈরি বিভিন্ন খাবার আইটেম গুলো বেশি পছন্দের , কিন্তু স্বাস্থ্যগত কারন হোক আর আর্থিক কারনে হোক মাংশ আমাদের প্রতিদিন খাওয়া হয়না বলেই মাংশ আমাদের মুখে রসনার পূর্ণ পরিতৃপ্তি এনে দেয় ।কিন্তু এটা যদি প্রতিদিন খেতাম তাহলে মাংশতে আর এত স্বাদ পেতাম না ।তখন শাকপাতা বা সবজি আমাদের কাছে ভালো লাগতো ।ঠিক এরকম আগের যুগের এবং ৯০ দশকের বিনোদন গুলো ছিল মানুষের সীমিত ধরাছোঁয়ার ভিতরে। বিনোদন সবসময় পাবার মত সহজলভ্য ছিলনা, এখন যেমন স্মার্ট ফোনের কল্যাণে বাসায়, স্কুলে, অফিসে, শুইতে বসতে সবসময় যে কোন ধরনের বিনোদন ইন্টারনেট ব্যবহার করে পাওয়া সহজ, তখন কিন্তু বিনোদন পাওয়াটা এত সহজ ছিলনা, সে জন্য মানুষ অল্প বিনোদন এ অনেক আনন্দ পেতো। কিন্তু এখন বিনোদন মাধ্যমের সহজলভ্যতা এবং বিনোদনের আধিক্য এর কারনে মানুষ বিনোদন এ সেই অকৃত্তিম ও সামাজিক মজা হারিয়েছে ।ধরুন আমি একটা টেবিলে ইন্টারনেট লাইন সংযোগ দেওয়া পিসি নিয়ে বসি, আর পাশের টেবিলে টেলিভিশন রেখেছি। এবার পিসিতে ফেসবুক আর ইউটিউব নিয়ে আছি , আর টেলিভিশনে সনি আট এর ক্রাইম পেট্রোল বা সিআইডি বা স্পোর্টস চ্যানেল বা ডিসকভারীতে দিয়ে ননস্টপ বিনোদন চলছে । হঠাৎ বিজ্ঞাপন শুরু হলো তো অন্য চ্যানেল এ দিলাম। এ ভাবে কোন প্রোগাম থেকে  পূর্ণ মজা নিতে পারছিনা ।এটা হলো বিনোদন বা সুখ বেশি করবার সুযোগের বিড়ম্বনা বা কুফল যাই বলুন না কেন। এটাই আমাদের এখনকার অবস্থা । এখন ঘরে ঘরে গ্রামে বিনোদন মাধ্যম থাকার কারনে একসাথে বসে হইহুল্লোড় করেও অনুষ্ঠান দেখেনা। মানুষে মানুষে সামাজিকতা কমছে ও দুরত্ব বাড়ছে। শিল্পের যায়গাটা যান্ত্রিকতা এসে দখল করে নিচ্ছে। আধুনিকতার হাজারটা উপকার ছাপিয়ে এই সমস্যাগুলোও মানুষের চোখে প্রকট হয়ে দাড়াচ্ছে ।ধরুন মানুষ আগে সিনেমা শুটিং একটা রহস্য মনে করতো, সব সত্য মনে করতো , এজন্য এগুলোর দর্শক ও ছিল।

(২১২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!