কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১৯+২২০

0Shares

দশ লক্ষ বছর ধরে, পৃথিবী জলন্ত আগুণ থেকে কত বছরে সৃষ্টি হলো, পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর কত কি। কিন্তু সেটা সমাজ ও বিজ্ঞানসাপেক্ষে মেনে নিলেও পরম সত্য বলে ধরে নেওয়া আমার মতে নিরেট বোকামী ছাড়া কিছুনা, জানি আপনি এটা পড়ে হাসছেন , কিন্তু হাসবার আগে একবার গভীরভাবে ভাবুন এবং  তারপর যতখুশি হাসুন, আপনার হাসবার অধিকারে বাধা দেবার আমি কে ? আবার ধরুন কিয়ামতের আগে বলা হয় ইয়াজুজ মাজুজ নামক একটা জাতিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আসলেই কি তারা আসবে ? মুসলিম মাত্রই এটা বিশ্বাস করবো ইনশাআল্লাহ, যেহেতু ভবিষ্যদ্বাণীর অনেক কিছুই সংঘটিত হয়ে গেছে , আর অনেক কিছুই হচ্ছে কিন্তু আমাদের মাত্রা বা মানবজ্ঞানের স্বল্পতায় সব কিছু বোঝা সম্ভব হচ্ছেনা , কিন্তু কারা তারা, কোথায় লুকিয়ে আছে ? স্যাটেলাইট বা গুগল ম্যাপের আওতার বাইরে তো এখন কিছু নেই, তাহলে তাদের আমরা পাচ্ছিনা কেন ? এ প্রসঙ্গে আরো একটা তর্ক প্রচলিত আছে, সেটা হলো সিকান্দার জুলকারনাঈন কি সম্রাট মহাবীর আলেকজান্ডার দি গ্রেট কে বলা হয় ?

 আমাদের এই মানব সভ্যতা কিন্তু চরম উৎকর্ষতার সাথে সাথে আমাদের বোঝা ও সীমাবদ্ধতার আড়ালে ধ্বংশের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরা আমাদের বোঝবার ও দেখার সীমাবদ্ধতার কারণে তা বুঝতে পারছিনা। সাময়িক সুযোগ সুবিধা আরাম আয়েশ এর বিনিময়ে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ আমরাই ধ্বংস করে চলেছি । আমার মনে হয় এ রকমভাবে মানবসভ্যতা যতবার উন্নতির চরম উৎকর্ষে পৌছেছে ততবার ধ্বংশ  হয়ে গেছে । গোটাকয়েক মানুষ বেঁচে থেকেছে, তারাই উন্নত সময়ের গল্প বলে গেছে , স্মৃতিচারণ করেছে , মিথ রচনা করে গেছে । এভাবে মানুষ শূণ্য থেকে ধ্বংশ স্তুপের উপর আবার মানব সভ্যতা ও বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ  গড়ে তুলেছে। আবার ধ্বংশ হয়েছে আবার গড়ে তুলেছে শুরু থেকে। এ জন্য এই ভাঙা গড়ার প্রতি চক্রে মানুষ পূর্বের ইতিহাস লিখেছে অনুন্নত, কিন্তু কিছু মিথ আর পুরাতন নমুনা আকস্মিক আমাদের ও ব্যাখ্যাবিহীনভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে আমাদের আগে কি কেউ ছিলো ?।

(২১৯)

         এটা হলো সাময়িক ধ্বংশ, আর কিয়ামাত বা মহাপ্রলয় বা মহাধ্বংশ হলে কি হতে পারে ? অনাদি আর অসীমকালের এই মানব ইতিহাসের ধ্বংশ ঘটবে, আমি আপনি আপনি যা আশা করছি, যা ভাবছি, শত কোটির প্রজেক্ট আর ইনভেস্টমেন্ট মূহূর্তের ভিতর ধ্বংশ হয়ে যাবে। বিজ্ঞান যতই বলুক পৃথিবী ৫০০ কোটি বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে আরো ৫০০ কোটি বছর টিকবে এটা হয়তো বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাবের কথা,  অপরদিকে যে কোন মূহূর্তে ধ্বংশ হবেনা এটাও বলা যাবেনা , পৃথিবী সৃষ্টি বা ধ্বংশ হোক তাতে আমার ও কিছু আসে যায়না, ধ্বংশ হলে তো আমার একার হবেনা, পৃথিবীর সব মানুষের হবে, আমি তো অতি সাধারণ খেটে খাওয়া একটা মানুষ বা বেশি হলে অতি স্বল্প বেতনে দিনাতিপাত করা একটা মানুষ ।আমার বেতনে অনেক ধনী লোকের ছেলের চাইনিজে একঘন্টার বিল ও হবেনা এমন আছে । কিন্তু আমার থেকে বড় বড় ক্ষতি হবে এমন মানুষও অগণিত। অবশ্য লাভ ক্ষতির হিসাবই থাকবেনা মহাপ্রলয়ে  আমাদের অঞ্চলে একটা কৌতুক শুনেছিলাম (হোগল-বোগল ও মিতুল এর কোন অ্যালবাম), বলা হচ্ছে শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করছেন, শোন ফজা, কাল যে ভূমিকম্প হলো তখন তুই কি করলি । ছাত্র বলছে স্যার আমি তখন দেখলাম সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে দৌড়াচ্ছে, আমি কোন দিকে দৌড়ালাম না, সোজা খাটের নিচে পালালাম। এবার স্যার বলছেন খাটের নিচে পালালাম, ঘর ঘাড়ের উপর পড়লে বুঝতে, ছাত্রের উত্তর ঘর পড়ে পড়ুক , ধ্বসে পড়ে পড়ুক, ক্ষতি হয় হোক, আমি তো ভাড়াতে থাকি, ঘর ভাঙলে  বাড়িওয়ালার ভাঙবে”। কৌতুকটা এই জন্য বললাম যে বাড়িওয়ালার  ঘর ভাঙলে আমার মত ভাড়াটিয়ার কোন সমস্যা নেই, কিন্তু আমি বা আমার পরিবার নামক মানুষগুলো বা তাদের জীবন নামক উপন্যাসের পাতা অটোমেটিক্যালি ক্লোজ হয়ে যাবে সেই হারানোর আক্ষেপটা যে যাবেনা। পৃথিবী বা প্রকৃতির ধ্বংশ না হয় হলো কিন্তু এই বিশাল মহাবিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর  এই মূল্যহীন পৃথিবী ছিলো, তাতে ছিলো ছবির মত স্বগীয় প্রকৃতির প্রাকৃতিক দৃশ্য, ছিলো সুন্দর সুন্দর সৃষ্টি, কত রঙের প্রাণী, কত সুদর্শন পুরুষ, অপ্সরীসম নারী, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ, বিদ্রোহী কবি

(২২০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!