কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২২৫+২২৬

0Shares

 পেলাম। তার মুখটা বেশ মলিন এবং অস্বস্তির আভাসযুক্ত দেখাচ্ছিল, কিন্তু তার গলাতে সহ কারো গলাতে যেহেতু মন্ত্রপুত পড়া চাল আটকে যায়নি তো সেখানে চোর থাকা সত্ত্বেও কেউই চোর সাব্যস্ত হলনা।তো এখানে মুল রহস্যটা কি জানেন এই মন্ত্র পড়া চাউল দিয়ে বাস্তবিক কেউ চোর হিসেবে ধরা পড়ুক আর না পড়ুক, এই চাউল পড়া দিয়ে চোর ধরবার ভিতর একটা ব্যাপক মাইন্ড গেম রয়েছে।গেম টা হল এই যে মুলত যে কোন অপরাধের বিষয়ে যে মুলত অপরাধী হয়ে থাকে স্বাভাবিকত সে তদন্ত বা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেই একটা ভীত, নার্ভাস ভাব, ঘেমে ওঠা, গলা শুকানো ভাব এসে যায় , কালে ভদ্রে ঠাকুর ঘরে কেরে আমি কলা খাইনির মতো ঘটনা ঘটে। এই গলা শুকানো ভাবটা ব্যবহার করেই এই চাল পড়া দিয়ে চোর ধরা হয়। ধরুন যে চোর সে চাল পড়া খেতে ভয় পাবে। এই ভয় পাবার কারন হল সে এর আগে শুনেছে নির্ঘাত তারই গলায় বেঁধে যায় চাল শুধুমাত্র যে চুরি করেছে। অতএব সেই চোর বেটা ভাববে যে আমি তো চুরি করেছি, আমি ধরা পড়বো , এতে তার শরীরের আভ্যন্তরীণ হরমোনের পরিবর্তন হয়। মুখ গহ্বর ভেজা রাখতে সাহায্য করে যে স্যালিভারি গ্ল্যান্ড থেকে ক্ষরিত স্যালাইভা সেটার ক্ষরণ উত্তেজনা এবং ভয়ে কমে আসে। ফলে গলা শুকিয়ে যায়, আর চাউল হল একটা কঠিন খাদ্য, শুকনা চাউল স্বাভাবিক কারনেই চিবাতে এবং গিলতে গেলে গালে পর্যাপ্ত লালার দরকার আছে । ঠিক এই কারনেই চোরের গলাতে চাউল বিধে যায়, ভয়ে মুখ, গলা শুকিয়ে যায় , স্যালাইভার অভাবে । এখন আমরা যারা এটা জানবোনা তারা এটাকে যাদু বলে জানবো । আর যদি যাদু বলি তবে এর ভিতর এই যে অজানা যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা দিলাম সেটা না জানাটাই হল যাদু ।

২) গাছের ডাল ভাঙ্গা এক কথিত ভুত তাড়ানো ফকির এর কাছে শুনেছিলাম কারো ঘাড়ে  জ্বীন বা ভুত লাগলে তিনি ছাড়িয়ে দেন  ।তার কথা হলো ভুত বা জ্বীন যে চলে গেছে তা কি করে বুঝবো, তিনি বললেন গাছের ভুত বা জ্বীন চলে যাবার সময় কোন এক গাছের ডাল ভেঙে রেখে যাবে বাড়ির আশেপাশের কোন গাছের । এটা হয় কি না সামনে প্রমান দেখিনি, কিন্তু আমি পরপর আমার বাসার পাশের দুটো গাছের ডাল ভেঙ্গে আমার বাসার পাশে পড়তে দেখেছি ।একটা গাছের আম গাছের ডাল অবশ্য বেশ পুরনো, গাছ মরে গেছে, সে জন্য ভেঙ্গে পড়তে পারে ।

(২২৫)

 আর একটা ডাল ভেঙ্গে পরল একটা মেহগণি গাছের, এই ডালটা ভেঙ্গে পড়ার কোন

যুক্তি পেলামনা ,আপনারা জানেন মেহগণি গাছের অনেক উচুতেও ডাল থাকে, তো সে ডালটাতে ভারি কিছু তো উঠে বসা সম্ভব নয়। এটা ভেঙ্গে পরলো কেন।না কোন বানর ,না কোন হনুমান কিছুই তো বসেনি।তারপরেও হয়ত বিনা কারনে এমনিতেই  ওরকম কাচা ডাল ভেঙ্গে পড়াটা অদ্ভুত লাগে। আমি এখন এই যুক্তিতে ভাবি হয়তো আমার বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে কেউ কালোজাদু অভ্যাস বা প্রয়োগ  করছিল।কারো ঘাড়ে লাগা জ্বীন ভুত তাড়াচ্ছিল কেউ। চরম হাসি লাগার একটা গল্প বললাম না । এটা স্বাভাবিক প্রকৃতির নিয়ম বা গাছের ডাল ভাঙ্গা হিসেবে নিন। অন্য কিছু নয় ।

৩)চোর ধরার বদনা ঘোরান  — আমার নানা বাড়ির গ্রামে (পুখুরিয়া -বাঘারপাড়া, যশোর) একজন বেশ শতবর্ষী মানুষ ছিলেন।ওনার আসল নামটা ধরে কাউকে ডাকতে শুনিনি।সবাই ওনাকে ওনার ছেলের নাম ধরে অমুকের আব্বা বলে ডাকতো  ।তিনি খুব ইবাদাত  ধর্ম কর্মে ব্যাস্ত মানুষ ছিলেন। সারাদিন ঘরের ভিতর থেকে বের হতেননা । সব সময় জায়নামাযে তসবিহ নিয়ে বসে থাকতেন ।তো একদিন গ্রামের আমাদের এক পরিচিত নানার ওয়াক ম্যান চুরি হলো ওয়াক ম্যান হলো আগের যুগের ক্যাসেট এর ছোট সংস্করণ।ওটা পকেটে রেখে নেওয়া যেতো ।তো হলো কি এখন সেই ওয়াকম্যান চোর কে ধরতে হবেই। সেই নানা গেল ওয়াকম্যান চোর ধরতে, কোথায় যেতে হবে, গেল সেই বয়স্ক মানুষটির কাছে, উনি চোর ধরতেন এক বিশেষ কায়দাতে,  বদনা ঘুরিয়ে ওনার কাছে একেবারে ছোট হাতের পাতার সাইজ এর একটা বদনা ছিল।এই বদনাটা তে মন্ত্র পরে তিনি ফু দিতেন আর চারদিকে থাকতো সন্দেহমুলক চোরদের নাম কাগজে লেখা । যে চোর তার নাম লেখা কাগজের দিকে  বদনার নল ঘুরিয়ে গিয়ে স্থির হয়ে যেত । অনেক টা কম্পাসের মত ।তো সেই নানা ০৫ টা সন্দেহভাজন নাম লিখে ওনার কাছে দিল  ।উনি ঘরের ভিতর দরজা বন্ধ করে বদনা ঘোরালেন। একটু পর বেরিয়ে এসে দেখালেন বদনা কারো নাম নির্দেশ করছেনা ,দুটো নামের মাঝে নল স্থির হয়ে আছে।তার মানে এই ০৫ জনের ভিতর কেউ চোর নয় । সে দিন তিনি বদনা ঘুরিয়ে এসে বললেন যে কয়টা নাম দিয়েছিস তারা কেও চোর নয় ।

(২২৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!