কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২২৭+২২৮

0Shares

চোর এই নামের বাইরের কেউ। বলা উচিত চোরের নাম আমরা কয়েকজন জানতাম । কিন্তু ওই চোর সেদিন বদনা ঘুরানোতে ধরা পড়েনি, বদনা ঘোরান টা সঠিক বলে মেনে নিতে হবে ।কারন তিনি তো ঠিক বলেছিলেন, কারন যে চোর, ওই নানার ওয়কম্যানটা জানালা দিয়ে হাত গলিয়ে যে  নিয়ে যাচ্ছিল আর তখন আমরা কয়েকজন বাচ্চা পোলাপান আসছিলাম ঘরের পিছনের মুসুরি ক্ষেত দিয়ে। কিন্তু শত্রুতা হবে ওনাদের ভিতর বলে নাম বলিনি সেই নানাকে, সামান্য ৫০০ টাকার একটা ওয়াকম্যান চুরি করার কারনে কারো ভিতর শত্রুতা হোক এমন কথা বলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় । এখন আপনারা বলুন যে তিনি  কি করে বুঝলেন যে ওই ০৫ জনের ভিতর কেউ চোর নেই  । ব্যাপারটা রহস্য ।এরকম রহস্যময় অনেক কিছু ঘটে যার কোন ব্যাখ্যা আসেনা ।

৪) কালী সাধনা  = ‌ গ্রাম বাংলাতে আর একটা যাদুর সাধনার গল্প কথা আপনারা শুনে থাকবেন যে একটা মরা লাশ নিয়ে কালি সাধনার কথা । ব্যাপারটা হলো এমন যে কেউ একজন একটা কুমারী মেয়ের লাশ কবর থেকে  উঠিয়ে নিয়ে শ্মশ্মানে যেত আর সেখানে গিয়ে লাশটা রেখে কিসব মন্ত্র পরতোআর মন্ত্র পড়তে পড়তে মেয়েটার উপর শয়তান ভর করত, ফলে সে চোখ খুলে তাকিয়ে থাকতো, তখন ছোলা বা বুট ভাজা বা মিষ্টি তার দিকে ছুড়ে মারা লাগতো । আর ওই মন্ত্র হাজারবার পড়তে হবে ভোরের আলো ফোটবার আগে বা আযান পড়ে যাবার আগে ।তখন সেই লোক মন্ত্র পড়তো ওই লাশের সামনে দাড়িয়ে বা বসে,  খাবার যদি  পর্যাপ্ত না নিয়ে যায়  আর মন্ত্র পরা একবারের জন্য ভুল হয়ে যায় তবে তো তাকে ওই লাশের হাতে মরতে হবে, আর ওই লাশ ওই জীবিত হয়ে মানব সমাজে পৌছে গিয়ে মানুষের ক্ষতি করবে ,অপদেবতা হয়ে যাবে সে, এ জন্য নাকি পর্যাপ্ত ছোলা বুট আর মিষ্ট দ্রব্য নিতে হবে।আর এটা সফলভাবে  কাজটা যদি সেরে আসতে পারে তবে সে বেশ কিছু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হবে, খুবই কুসঙস্কার আর আজগুবি ব্যাপার, এটা হয় নাকি, গ্রাম বাংলার প্রাচীন মিথ এ প্রচলিত গল্পটা  ।

৫) কালি সাধনে আয়ু ধরে রাখা — একবার একটা গল্প শুনেছিলাম যে আমাদের ওই গ্রামের পাশের গ্রামে একজন লোক ছিল নামটা বলা মানহানির ব্যাপার তাই বললাম না। তিনি মারা গেলেন একদিন,জীবিত অবস্থাতে তিনি নানারকম তুকতাক,

(২২৭)

ঝাড় ফুক, বশীকরন, বাণ করে বেরাতেন । তো একদিন তিনি মারা গেলেন, সবাই বলতো তিনি নানা রকম শিরকি কুফরি করতেন, একটা জিনিস লক্ষনীয় ছিল যে ওনার গলার কণ্ঠ এর যায়গা দপদপ করছিল, সবাই আশ্চর্য হচ্ছিল,কম বেশি কানাঘুসা চলছিল, লাশ দাফন করতে পারছিলোনা।এমন সময় তার ই এক শিষ্য টাইপ এর লোক এসে বলল আপনারা যদি কিছু মনে না করেন একটা কালো রঙের পাঠা যোগাড় করেন, কারন গলা কাপছে এরকম একটা মানুষ তো আর দাফন করা যায়না । তখন কি একটা জিনিস মনে মনে পরে তিনি ছাগলের কানে ফু দিলেন, ছাগল একেবারে ভয়ানক চেচিয়ে দৌড় দিল যে ছাগলের গায়ে কেউ ধারাল ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে বা ছাগল কে বাঘে দাবড়াচ্ছে এমন দৌড় দিল পাঠাটি  । আওয়াজটাতে উপস্থিত লোকেরা সামান্য ভয়ও অনুভব করলো ।

৬) বিড়ালের হাড় সাধনা –  আর একটা মন্ত্র সাধনার কথা শোনা যায় যে আমরা বিভিন্ন যাদুকরের হাতে বিড়ালের হাড় দেখি, সেই হাড়টা নাকি মন্ত্র সাধনার মাদ্ধ্যমে বিশেষ কায়দাতে সাধনা করে প্রাপ্ত, সাধনাটা হলো এমন যে কোন এক অমাবস্যার শনি বা মঙ্গলবার রাতে একবারে কালো একটা বেড়াল এক বাড়িতে মারতে হবে  ।বিড়ালের গায়ে একটি লোম সাদা হলে হবেনা। এবার বিড়ালটিকে চার রাস্তার মাঝখানে পুতে রেখে আসতে হবে । জনকোলাহলের চৌরাস্তাতে পুতে আসতে গেলে আপনি আটকে হবেন পুলিশের হাতে ।তো গ্রামের মাঠের ভিতর অনেক সময় এরকম চার রাস্তা থাকে ,সেখানে ধরুন সেই লোকটি পুতলো, এবার আবার এক অমাবস্যার শনি বা মঙ্গলবারে রাত একটার পর সম্পুর্ণ নগ্ন হয়ে লোকচক্ষু এড়িয়ে সেই বিড়াল মাটির নিচ থেকে উঠিয়ে একটা স্রোতস্বিনী নদীর পাড়ে যেতে হবে, এ সময় অনেক কিছু শুনবেন, কেউ আপনার পরিচিত জনের গলাতে ডাকবে ,কিন্তু পিছনে ফিরবেন না খবরদার,পিছনে ফিরলে মরবেন, সামনে দেখবেন গলাকাটা ঘোড়া বা মানুষ দাড়িয়ে আছে।ভয় পাবেননা, ছুতে যাবেন না, সোজা হেটে চলে যান, কিছু বলবেননা, এবার নদীতে সেই মরা বিড়ালটার পিছনের দুই পা  ধরে নাড়াতে থাকুন নদীর জলে বিড়ালের মাংশ ধুয়ে হাড় বেরিয়ে পড়বে, তারপর ইচ্ছামত পছন্দের হাড়টি রেখে দিন এবং আবার পিছনে না তাকিয়ে চলে আসুন। এবার এই যাদুর হাড় দিয়ে অনেক অসাদ্ধ্য সাধন করেন নাকি তথাকথিত ফকিররা।

(২২৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!