কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৩১+২৩২

0Shares

পরিবার, সন্তান ও স্বামীর  কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে  ২০ লাখ টাকা প্রতারক অথবা জ্বীনের বাদশার  হাতে তুলে দেন কিভাবে ?। হোক সেটা নারীর দোষ বা গুন বা পরিস্থিতিতির শিকার , কিন্তু এটা কি সম্মোহন এর ভালো উদাহরণ নয় ? ।

৪) বাটি চালান – বাটি চালান হলো প্রাচীন আমল ধরে চলে আসা এক টোটকা ও ‌এর মাদ্ধ্যমে গ্রামে এমন কিছু করা হয় বা চোর ধরা হয় যে আপনার গয়নাগাটি হারিয়েছে সেটা ধরবার জন্য আপনি বাটি চালক ফকির কে ডাকবেন, বাটি চালক ফকির নির্দিষ্ট রাশির লোক ছাড়া হতে পারেনা  ।একমাত্র তুলা রাশির চালক করতে পারবেন এই বাটি চালানের কাজ।তুলা রাশি না হলে হবেনা, ইঁদুরের গর্তের তোলা মাটি আর কি কি জিনিশ যোগাড় করে মন্ত্র পড়ে তুলা রাশির ফকির বা লোক ওই বাটি ধরলে বাটি টি তাকে চুরি যাওয়া জিনিস যেখানে লুকানো আছে বা যেখানে চোর আছে সেখানে চলে যাবে শর্ত হলো বাটিচালক ফকির বাটিতা কখনো ছাড়বেননা,এই অবস্থাতেই সেখানে তাকে নিয়ে যাবে।আসলে বাটি দৌড়াই নিজ থেকে নাকি ফকির অভিনয় করে কে জানে ?

০৫) কারো উপর জ্বীন ভর করে কথা বলে তা যদি দেখে থাকেন তবে জানবেন তিনি এক উচ্চস্তরের ভোকাল সাধক। কারন তিনি মুখে কথা না বলে গলা দিয়ে কথা বলা রপ্ত করেছেন। আপনিও আজ একটু চেষ্টা করে দেখুন না ‌দেখুন কিছুটা হবে । তাই আবার বলি যাদু বলে কিছু এখন যদি কেঊ বলে সত্যি না হতে পারে, তবে সেটা যে হারানো বিজ্ঞান এটা অনায়াশে বলা যায় । একেবারে কিছু না থাকলে কিছু প্রমান পেতেননা। কিছু কিছু লোকের কাজ হতোনা এই সব এর মাধ্যমে। হয়তো ব্যাপারটা পুরোটাই বিশ্বাসের ব্যাপার, একটা কথা আছেনা বিশ্বাস এ মিলাই বস্তু ।  ‌আবার বলছি তাবিজ আপনার উন্নতি করতে পারবেনা,‌সমস্যা সমাধান বা সচ্ছলতা দিতে পারবেনা ‌যদি আপনার উন্নতি হয় তবে এটা হবে আপনার পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম বলে, তাবিজ নিলে পড়িলে পাশ না পড়িলে ফেল গল্পের মত হতে পারে ।আবার তাবিজ ভূমিকম্প হলে এবং যে বাড়িতে কেউ মারা গেছে সেই মৃত মানুষকে শেষ দেখা দেখতে গেলে নাকি এর কার্যকারিতা হারায় ।অদ্ভুত !!!  

০৬) খুর ওয়ালা বা ছাগল পা খরগোশ ছোটবেলা থেকে একটা ব্যাপার আমার কাছে রহস্য হয়ে আছে, রহস্যটার বিষয়টা অত বড় কিছু নয়। বিষয়টার সুত্রপাত

(২৩১)

 একটা ছোট গল্পের শুরু থেকে, মাধ্যমিক এ পড়ার সময়ে সম্ভবত ক্লাস নাইন এ পড়ি ,আমি তখন একদিন বাবার কাছে বার্ষিক পরীক্ষার সময়ে বায়না ধরলাম বাবার কাছে আমাকে একটা খরগোশ কিনে দিতে হবে বাবা।খরগোশ আর টিয়াপাখি এই দুটো প্রাণী আমার কাছে অসম্ভব প্রিয় ।মাঝে মাঝে ভাবি টিয়াপাখিটা রেখে দোয়েল কে কেন জ্ঞানী গুণীরা বাংলাদেশের জাতীয় পাখি বানালেন ! ।টিয়াপাখিই জাতীয় পাখি হবার উপযুক্ত ক্যান্ডিডেট।কারন তার গায়ে সবুজ আর ঠোটের লাল মিলে যায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সাথে । হা!হা!হা!, না পাঠক জাতীয় পাখি বা ফল জাতীয় কিছু হতে গেলেই তার কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আছে , সেটা আলোচনা করতে গেলে মুল আলোচনা থেকে সরে যেতে হতে পারে।আর টিয়াপাখি নিয়ে একটা ট্র্যাজিক গল্প আছে আমাদের কয়েক ভাইবোনের জীবনে।  ১৯৯৮ এর বিধ্বংসী বন্যাতে যখন সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলা বন্যার করাল গ্রাস এ আক্রান্ত তখনো আমাদের যশোর জেলাতে কোথাও আল্লাহর ইচ্ছাতে বন্যার আক্রমন হয়নি, এমনিতেই যদিও যশোর এ কোন তেমন প্রমত্তা নদী নেই , দূর অতীতের প্রমত্তা ভৈরব মৃতপ্রায়।তো এই ১৯৯৮ এর বন্যার সময় একদিন বিকালে একটা টিয়াপাখি এসে উঠানে পড়ল । হই হই করে আমরা ভাইবোনেরা বাবাকে ফার্মেসী থেকে ডেকে আনলাম।যথারীতি বাবা মা সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে টিয়াটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠলো।একটা খাঁচা এনে টিয়াটা কে আমাদের ভাইবোনদের হাতে ছেড়ে দিলেন। খাঁচাতে ভরে আমরা টিয়াটাকে আদর যত্ন করে ছোলা , কাচাঝাল এসব খেতে দিতাম । তো ২০০০ সালের বন্যাতে যশোর জেলার সদর বাদ দিলে প্রায় সব উপজেলা প্লাবিত হয়। শার্সা, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর থেকে দলে দলে লোক এসে যশোর সদর এ এসে আশ্রয়ের জন্য উপস্থিত হল। যশোর জিলা স্কুলের ছাত্র তখন আমি, আমাদের স্কুলে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যাবহারের জন্য স্কুল প্রায় এক মাসের মত বন্ধ হয়ে গেল। মানুষের দুর্দশা চোখে না দেখলে আন্দাজ করা যায়না । আবার প্রত্যেকটি স্কুল কলেজের মতো আমাদের বাড়ির পাশের বিরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হল।আমার বাবাকেও মাঝে মাঝে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্য্য সহায়তার জন্য যেতে হত।

(২৩২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!