কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৩৩+২৩৪

0Shares

         তো এরকম সময়ের দুমাস আগে থেকেই আমরা টিয়াটা ছেড়ে দিয়ে পোষা শুরু করেছিলাম।এ ঘর ও ঘর হেটে বেড়াতো, কিন্তু একদিন দেখি উড়ে গাছের ডালে চলে গেল, আর ফেরাতে পারলাম না। কয়েকদিন এলাকাতে যাদের বাড়ি টিয়া আছে তাদের ওখানে খোঁজখবর নিলাম, কিন্তু কোথাও আমাদের টিয়া পেলাম না। এক বন্যাতে যেমন এসেছিল তেমন আরেক বন্যাতে চলে গেল। এরকম বন্যার সময় টিয়া পাওয়াটা তখন স্বাভাবিক ছিল, কারন তখন মিনা কার্টুন এর মিঠু নামক টিয়া দেখে শখের বশে মানুষ টিয়া পুষত। আর বন্যার সময় ছেড়ে দিত এজন্য যে নিজেদের যেখানে থাকবার যায়গায় নেই, সেখানে অবলা প্রানিটিকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত হত মানুষ । টিয়াটার কথা চিরকাল মনে থাকবে, কারন টিয়াটা একটা কথা বলতে পারত, বলতো “মিঠু আমি টিয়াপাখি”। অনেকে এগুলো অনেকে বানান গল্প মনে করতে পারেন, কিন্তু ভাই জানেন তো প্রত্যেক মানুষের জীবন একেক্তা রহস্য , একেকটা উপন্যাস এর থেকে বেশি কিছু, স্রষ্ঠার অস্তিত্ব, জীবনের সৌন্দর্য, ভুত প্রেত, স্বর্গ-নরক সবই মানুষের মাঝে খুজে পাবেন, ভয়াবহ কর্মব্যাস্ততার কারণে আপনি নিজের পিছনের জীবনে বা নিজের ভিতর কখনো ডুব দেবার সুযোগই পাননা ,সুযোগ পেলে দেখবেন কত গল্পের নায়ক আপনি নিজে। সিনেমা নাটক তো মানুষের জীবন থেকে নেওয়া। তবে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন কাহিনি নামক উপন্যাস এত ব্যাপক ও সীমাহীন যে সিনেমা বা নাটকে বা উপন্যাসে মানুষের জীবনকে চিত্রায়িত করা সম্ভব নয়। হয়ত কিছুটা  কল্পনা আর ছোট একটা কাহিনী নিয়ে দর্শক কে সিনেমা হল বা টেলিভিশন এর রুপালী পর্দায় সাময়িক আটকে রাখা যায় মাত্র। যাক এসব, তো সাদা রঙের খরগোশও আমার অসম্ভব প্রিয় একটি প্রাণী।সাদার সাথে ঝিক করে জ্বলা লাল কমলা রঙের কি সুন্দর চোখ ।কোলে নিয়ে পুষতেও ভাল লাগে, ব্যাপক পোষও মেনে যায়। তো কিনে দেবার কথা বলতে বাবা প্রথমে কিনে দিতে চাইলেননা, যেহেতু শহরের বাসা গুলোতে কিছু পোষা পরিস্কার পরিচ্ছনতার ক্ষেত্রে অন্তরায় আর ঝামেলা।গ্রামের মত শহরের বাসাগুলোতে তেমন একটা খোলামেলা যায়গা নেই বললেই চলে।

(২৩৩)

         তো পরে জোরাজুরিতে বাবা কিনে দিলেন।বেশ ছোট খরগোশের বাচ্চা, একেবারে তুলতুলে, দিব্যি আমাদের ঘরের খাটের উপর উঠে আসতো, মাঝে মাঝে মানুষের ভঙ্গিতে দাড়িয়ে থাকতো, তো একদিন বিড়ালের আক্রমণে মারা গেছিলো বাচ্চা খরগোশটি মাস দেড়েকের মাথায়।একদিন এবার শখ হলো খরগোশের মাংস খাবো । তো বাবাকে এবং মাকে বলতেই বললেন বাজারে পাওয়া যায় যে খরগোশ সেই খরগোশ খাওয়া যায়না, কারন এই খরগোশ হল বিড়াল এর মত পা, আর একটা খরগোশ আছে কুকুর পা মানে বিড়াল পা খরগোশ এর পা খাটো যেটা আমরা বাজারের দোকান গুলোতে দেখি, এর পায়ে নখ থাকে বলে এটা হারাম খাওয়া যাবেনা, আর কুকুর পা মানে ওটা বসলে কুকুরের মত দেখা যায়, পা টা বিড়াল পা খরগোশের থেকে দিগুন লম্বা, এটার ও পায়ে নখ আছে এটাও হারাম, একটা খরগোশ খাওয়া যাবে সেটা যদি কখনো পাওয়া যায় তবে তোকে খরগোশের মাংশ খাওয়াবো। এবার আমি জিজ্ঞাসা করলাম বাবাকে, তাহলে সেটা কোন খরগোশ, এবার বাবা বললেন লাফা(কোন অঞ্চলে লাফারু নামে পরিচিত) নামে এক রকম খরগোশ বাবাদের ছোটকালে গ্রামের মাঠে মাঠে চরে বেড়াতো। খুব ছুটতে পারতো, স্বাভাবিক ভাবে দাবড়ে বা কুকুর দিয়েও ধরা সম্ভব ছিলনা, শুধু যেখানে দেখা যেত সেই যায়গার চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে ধরা যেতো। একেকটা তথাকথিত ছাগল পা  খরগোশ এ  ১০ কেজির মত মাংশ পাওয়া যেতো। তো আমি তখন থেকে বিগত ১৪ বছরের মত সময় হয়ে গেল ছাগল পা খরগোশ খুজছি।  কিন্তু খরগোশের বড় বড় দোকান এবং প্রত্যন্ত গ্রামীণ সমাজের বাগদী সম্প্রদায়ের লোকের কাছেও ০৪ হাজার টাকা আগাম দিয়েও এই খরগোশ পাইনি, যদিও তারা সমস্ত বিরল জিনিস যেমন কচ্ছপ, কুইচা, মাছ,শামুক, ঝিনুক এসব যোগাড়ে সিদ্ধহস্ত । আমি যতই আগের মানুষের কাছে শুনেছি এই খরগোশের ব্যাপারে সবাই কিন্তু অকাট্য ভাবে স্বীকার করেছে এই খরগোশ মানে ছাগলের মত খুর পা খরগোশ আছে। কিন্তু আসলেই কি আছে, এ পর্যন্ত বিজ্ঞান ছাগলের মত পায়ের খরগোশ পায়নি, যদিও জনশ্রুতি এই খরগোশের পক্ষে। আসুন এই মিথের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত বিজ্ঞান কি বলেছে দেখি –

(২৩৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!