কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪১+২৪২

0Shares

         ১ম বিশ্বযুদ্ধ(২৮ জুলাই ১৯১৪-১১ নভেম্বর ১৯১৮ ইং) তে পৃথিবীতে ৯০ লক্ষ যোদ্ধা এবং ৫০ লক্ষ সাধারন মানুষ নিহত হয় এবং যুদ্ধ পরবর্তী নানা রোগে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা তে ০৫ কোটি সাধারন মানুষের মৃত্যু হয়|এবং ২য় বিশ্বযুদ্ধ (০১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ – ০২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ ইং) তে ০৮ কোটি মানুষ প্রান হারায় আর যুদ্ধ পরবর্তী হিসাব তো বাদই দিলাম ।এগুলো তো মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যান আর নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা এবং স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপার তো বেহিসাবী ।তো পৃথিবীতে বেশ কবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠতে গেছে ।এর পিছনে ছিল বেশ কিছু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরব ইসরায়েল যুদ্ধ, সোভিয়েত ইউনিয়ন এর ভাঙ্গন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, পৃথিবীতে অনেক দেশের স্বাধীনতা লাভ, গণহত্যা, জাতিগত বিরোধ, চীন ,কোরিয়া , কিউবার মত মার্কিন বিরোধী শক্তির উথান অনেক কিছু হয়ে গেছে ।এর যে কোন একটিই হতে পারতো ৩য় বিশ্বযুদ্ধের কারন, কিন্তু রহস্যজনক ভাবে এই মহাযুদ্ধ আর হয়নি। আচ্ছা যদি হয় কখনো তবে কি হতে পারে ? আসুন একটা কল্পিত চিত্র কল্পনা করে নিই ।তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এবার তার পরিনতি হবে ভয়াবহ ।কারন পরাশক্তি গুলোর কাছে যে পরিমান পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ আছে তা পৃথিবীকে প্রাণী বেচে থাকার মত অক্সিজেন শূন্য করে দিতে যথেষ্ট।আর সাধারন সামরিক শক্তিধারী দেশগুলোর কাছেও যে পরিমাণ বিভিন্ন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফায়ারিং অস্ত্র , রাসায়নিক এবং জীবাণু অস্ত্র মজুদ আছে সেটা পৃথিবীকে বিরানভূমি বানিয়ে দেবে। ব্যাপারটা এমন হবে যুদ্ধে জয়ী হয়ে মজা নেবার কেউ থাকবেনা। পক্ষ এবং বিপক্ষ দুজনই ধ্বংস হয়ে যাবে । যদি যুদ্ধে জয়ী হয়ে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক হবার ইচ্ছা কারো থাকে তবে অবশ্যই অস্ত্রের ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে, এমন অস্ত্র ব্যবহার করা যাবেনা যা শত্রু আর মিত্রের পার্থক্য বোঝেনা ।আগের যুদ্ধাস্ত্রের কাছে সাধারন মানুষ তো পালিয়ে বাচতে পারতো, কিন্তু এখনকার যুদ্ধাস্ত্র গণহত্যাতে ব্যবহার করলে কারো পালানর সুযোগ নেই। আর যদি খেয়াল খুশি মত অস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধ শুরু হয় তবে হয় পুরো মানব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে আর না হয় |

(২৪১)

         যদি কিছু মানুষ বেঁচে থাকেও তবে মানুষদের আবার প্রাচীন আমল থেকে সব কিছু শুরু করে আবার ০২ হাজার বছর চেষ্টা করে বর্তমান অবস্থাতে ফিরে আসতে হবে ।আবার গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ভাণ্ডার আর ডাটা সেন্টার গুলো যুদ্ধের আওতার বাইরে রাখতে হবে ।কারন যুদ্ধে হয়তো পক্ষ বিপক্ষ আছে কিন্তু পৃথিবীর লাইব্রেরী গুলোতে সংরক্ষিত বই আর জ্ঞান এবং এবং গুগল , ইউটিউব ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া গুলো দেশ, জাতি, ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে মানবজাতির  সম্পদ । যুদ্ধ শেষে যদি এগুলো টিকে থাকে তবে মানব জাতি আবার দ্রুত দাড়াতে পারবে ।এখনকার যুদ্ধাস্ত্রের কাছে এরকম আসা করাটা বোকামি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানে ধরে নিতে হবে মানব জাতির শেষ পরিনতি এক মহাধংশ, ৭০০ কোটির ৫০ কোটি মানুষ বেঁচে থাকবে কিনা সেটাই বলা যাবেনা ।এই হল সংক্ষেপে আমার দেওয়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিনতি সম্বন্ধে বর্ণনা ।জটিল সব তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান দিয়ে লেখা বড় করতে পারতাম , কিন্তু সেসবে আর গেলাম না সাধারন ভাষাতে আর অতি সাধারনভাবে আপনাদের বোঝালাম তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি কল্পিত ভয়াবহতা আর পরিনতি । 

১১) চোরাচালানে কিছু মিথ –     

বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের কংকালে কি ম্যাগনেট বা চুম্বক ক্ষমতা  থাকে – সত্যজিৎ রায় এর ফেলুদা সিরিজের রয়েল বেঙ্গল রহস্যের কথা মনে আছে ? এতে তড়িৎ নামে একজন চরিত্র থাকে , যিনি হাতে তরবারি থাকার কারনে বৃষ্টির ভিতর জঙ্গলে গুপ্তধনের সন্ধানে বের হলে বজ্রপাতে মারা যান । সাধারনত বজ্রপাতে যারা মারা যান তাদের মৃত্যুর জন্য কিছু অসচেতনতা যদিও দায়ী , কিন্তু তা বলে তাদের অতটা দায়ী করা যায়না। কিন্তু একতা মিথ আছে যে যদি কোন মানুষ বজ্রপাতে মারা যায় তার শরীরের হাড় নাকি চুম্বক হয়ে যায়। আর এই মিথ এর কারনে বজ্রপাতে নিহত মানুষের কঙ্কাল বা মৃতদেহ চুরির ঘটনার অভাব নেই, এখনো এমন হয় যে রাত জেগে বজ্রপাতে নিহত বাক্তির কবর পাহারা দিতে হয় যদি লাশ চুরি হয়ে যায় এই ভয়ে।

(২৪২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!