কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪৩+২৪৪

0Shares

         আরো একটা বিশ্বাস আছে একশ্রেণীর লোকের ভিতর, যারা কালজাদু সাধনা করেন তাদের ভিতর, যে বজ্রপাতে নিহত মানুষের কংকাল তাদের ঝাড়ফুঁকের কাজে ভাল কাজ দেয় । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা একটা মিথ, বিজ্ঞানীদের মতে সাধারন মৃত মানুষের হাড়ের সাথে এর বিন্দুমাত্র পার্থক্য নেই, ম্যাগনেট বা অলৌকিক শক্তি থাকাটা তো পুরাই বোগাস একটা কথা ।এই বজ্রপাতের সাথে সম্পর্কিত আরও একটি জিনিস আছে সেটি হল ব্রিটিশ সীমানা পিলার ।ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশ শাসকেরা লোহা ,তামা , পিতল , চুম্বক এবং টাইটেনিয়াম ধাতুর সহযোগে তৈরি একজাতীয় পিলার মাটিতে পুতেছিল উপজেলা এবং মৌজার সীমানা নির্ধারণের জন্য ।এটা বজ্রপাত শোষণ করতেও সহায়তা করতো , মানে আকাশ থেকে পতিত বজ্র বা বিদ্যুৎ কে শোষণের ক্ষেত্রে আরথিং বা আর্থ ইন  এর কাজ করতো , কিন্তু ব্রিটিশ শাসন শেষে এটা টাকার লোভে মাটির নিচ থেকে তুলে বিক্রি করে দেবার কারনে নাকি বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে । ২০১৭ সালের একটা আন্তর্জাতিক হিসাব মতে সারা বিশ্বে যত মানুষ মারা বজ্রপাতে যায় তার এক চতুর্থাংশ বাংলাদেশে ।প্রতি কোটিতে মৃত্যুর হার বাংলাদেশে ০৯ থেকে ১০ জন । এছাড়া মাঝে তক্ষক নিয়ে কোটি টাকা দামের গুজব ছড়িয়ে গেলো ।

মানুষ হন্যে হয়ে তক্ষক খুজতে লাগলো , কোটি টাকা দাম হতে হলে শর্ত হলো হাস পা হতে হবে , ওজন ৩০০ গ্রাম হতে হবে আরও কত কি । কিন্তু তক্ষক কেন এত মুল্য । এর পিছনে নাকি আছে অনেক কারন , কেও বলেন এর থেকে ক্যান্সার এর ঔষধ তৈরি হয় , কেউ বলেন এর তেল পুরুষদের জন্য উত্তম মালিশ , কিন্তু আসল কারন বের হলনা । এরকম মাঝে মাঝে কত অদ্ভুত হুজুগ আসে, আর কেনইবা আসে  কে জানে ! একসময় শুনেছিলাম এক টাকার সোনালি মুদ্রা বিক্রি ও  পাচার , দুই টাকার চকচকে নোট পাচার  হয় , কালো বিড়াল , হুতোম পেঁচা আরো কত কি। কি জানি এগুলোর রহস্য। এ জন্যই বোধ হয় বলে হুজুগে বাঙালি। আমরা যখন স্টেজ এ কোন যাদু শো দেখতে যায়, তখন যাদুকরেরা কিন্তু শুরুতেই বলে নেন আপনারা এটা কে যাই বলুন না

(২৪৩)

         কেন জাদু কোন ভেল্কিবাজি নয়, এটা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত এবং এবং দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস এর মাধ্যমে অভ্যাস করা একটা খেলা মাত্র, এতে ভুত প্রেতের কোন ব্যাপার নেই, অতিপ্রাকৃত কোন ব্যাপার নেই। আসলে যাদু কি আর বিজ্ঞান বলতে আমরা কি বুঝি । এই দুই এর ভিতর পার্থক্য কি ? বিষয় হল আমাদের সকল সৃষ্টি জগত এর আবিষ্কৃত সকল রহস্য , সৃষ্টি জগতের অগণিত এবং অসীম শক্তির যে ক্ষুদ্র শক্তি বা অংশটুকু আমরা আবিস্কার এবং করায়ত্ত করতে পেরেছি, এবং যে জ্ঞানটুকু সবাই জানি, যে জ্ঞানটুকু এবং যে শক্তিটুকু আমরা সবাই ব্যবহার করতে পারছি, মানবকল্যানে এবং এবং আমাদের সাচ্ছন্দের জন্য ব্যবহার করতে পারছি, যার ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত সেটাই হল বিজ্ঞান, আর যে জ্ঞানটুকু আমাদের অজানা, যে শক্তিটুকু আমাদের করায়ত্ত নয় সেটাই যদি কারো হাতে থাকে , কারো আয়ত্তে থাকে তবে সেটা হয়ে যায় জাদু , তাকে বলা হয় জাদুবিদ্যা , কালজাদু , ভুডু বিদ্যা, শামান, ডাকিনী বিদ্যা, ইন্দ্রজাল যাই বলিনা কেন । কালো যাদু কোন সূত্র মানেনা, কিন্তু ম্যাজিক বিজ্ঞানের সুত্র মেনে চলে । আমরা আসলে রহস্যের ব্যাখ্যা দিই এ রকমভাবে যে যে যুক্তির বা ব্যাখার ঘটবার সম্ভাবনা বেশি সেটাই , আর সেটাই বইপত্র পড়ছি, হয়তো হতে পারে সেটা বেমালুম ভুল , কিন্তু সেটা সত্য বলে মেনে দিনের পর দিন মেনে চলছি, হতে পারে এমন সব উদ্ভিদ আমরা আমাদের উপকারে ব্যবহার করছি, সেগুলোর উপকার জানি কিন্তু ক্ষতিকর দিক আছে কিন্তু আমাদের চোখে পড়েনি, এই যে ধরুন সয়া বড়ি বা সয়া নাগেট আমরা খাই প্রোটিনের ব্যাপক সোর্স হিসেবে, কিন্তু এক সমীক্ষায় প্রকাশ হয়েছে এটা অত্যাধিক পরিমানে দীর্ঘদিন খেলে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন কমতে থাকে, তেলে ভাজা, গরু-খাশির মাংস মানে রেড মিট ক্ষতিকর জেনেও তো খাচ্ছি ।তাই আমাদের বিজ্ঞানলব্ধ কিছু  জ্ঞান আগামীতে বিতর্কে যাবেনা বা রহস্য সমাধান হয়েছে বলা যাবেনা। ধরুন আজকের এই মোবাইল বা সিসি  ক্যামেরা, বন্দুক, যদি কারো হাতে কুক্ষিগত থাকতো, অর্থাৎ বিজ্ঞানী, গবেষক বা কোন গোষ্ঠীর হাতে এটি আবিষ্কার হলো এবং এগুলোর ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলোনা। এগুলোর আবিষ্কারের পর ব্যবহার সীমাবদ্ধ রইল

(২৪৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!