কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৭+২৫৮

0Shares

এক গোত্রের লোকেরা বিবি হযরত হাযেরা আ. এর সাথে চুক্তিসাপেক্ষে এই কুপ নিয়ন্ত্রণ করতো । কালের আবর্তনে দীর্ঘ প্রায় ২০০০ বছর এই গোত্রের লোকেরা নিয়ন্ত্রনের পর এই জারহাম গোত্রের লোকেরা হয়ে যায় অত্যাচারী ও পাপাচারী। এই সময় তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে খোজায়া গোত্রের লোকেরা তাদের ধ্বংশ করে দেয় এবং তাদেরকে বিতাড়িত করে।ফলে কেউ বলেন এ সময় কুপটি আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতে শুকিয়ে যায়, কেউ বলেন খোজায়ারা বন্ধ করে দিয়ে যায়। সূদীর্ঘ ৫০০ বছর এই কুপটি বন্ধ থেকে নাম নিশানা হারিয়ে ফেলে ।আরবের মানুষের  গল্পকথাতে বা মিথে স্থান পায় কুপের কথাটি। কিন্তু পঞ্চম খ্রিস্টাব্দে বিশ্বনবী  হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব নিজর কৌতুহল থেকে ও মহান আল্লাহর  ইচ্ছাতে ও মহান আল্লাহর তরফ থেকে স্বপ্নযোগে পাওয়া নিশানা অনুযায়ী তার বড়ছেলে হারেসকে নিয়ে স্বপ্নের ইঙ্গিতযুক্ত যায়গাতে খনন করে এই কুপ পুনরায় চালু করেন। যা অদ্যাবদি চালু আছে, যার এক আজলা পানি পান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সারাজীবনের স্বপ্ন। কিন্ত এবার ভাবুন যদি নবী সাঃ এর দাদা নিশ্চিহ্ন হবার ৫০০ বছর পর এই উদ্যোগটি না নিতেন তাহলে এই জমজম কুপ কি হযরত ইব্রাহিম আঃ, হযরত ঈসমাঈল আঃ এবং বিবি হাজেরার জীবনীতে উল্লেখিত জমজম নামক একটি কুয়ার মিথ হিসেবে রয়ে যেতোনা।অনেক বিজ্ঞানীরা একে ফল্গু নদী বলে থাকেন।সাধারণত নদী আমরা ভূপৃষ্ঠের উপরিপৃষ্ঠে প্রবাহিত দেখি , কিন্তু ফল্গু নদী হলো বালি বা মাটির নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া অন্তঃসলিলা নদী, কিন্তু ফল্গু নদীর সাথে জমজম এর পার্থক্য হলো এর পানি নদীর পানির মত ময়লা নয় বা ঘোলা বা দুষিত নয় এবং এর পানি উদগত হবার স্থানে অবস্থিত পাথরটিতে স্পষ্টভাবে আরবীতে বিসমিল্লাহ লেখা আছে এবং এই কুপের পানি যেখান থেকে আসে সেখানকার মাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধনের কাজ করে এবং ৪০০০ বছর ধরে একই কাজ করে চলার পর এখনো পানি দুষিত হয়নি বিন্দুমাত্র ।

         আসল প্রসঙ্গে ফিরি আবার , ধরুন  যুগ পরিবর্তনের সাথে ধর্মের যুগের উল্লেখিত কাজের বা প্রযুক্তিরও পরিবর্তন হয় । সেটাই স্বাভাবিক , নবী (সাঃ)এর যুগে ঢাল তলোয়ার যুদ্ধাস্ত্র হলেও বর্তমান কালের যুদ্ধ এক মহা বিজ্ঞানের

(২৫৭)

খেলা।এই বিজ্ঞানে কি নেই বলতে পারেন ?মহা শক্তিশালী সব অস্ত্র এর  অসুরিক

ধ্বংশের খেলা এখন আমরা দেখতে পাই সকল যুদ্ধে।ভোগান্তি হয় শয়ে হাজারে লাখে সাধারন মানুষের ।আমার কি মনে হয় জানেন এই যে আজকের এই যুদ্ধাস্ত্র গুলো , আজকের এই উন্নত সব যন্ত্রপাতি বা আবিষ্কার গুলোর মত ব্যাপার সুদুর ০৫ থেকে ১০ হাজার বছর আগে থেকে ছিল। এই কথাটা শুনেই আপনার গাজাখুরি বলে মনে হচ্ছে ।কোনভাবেই এটা হতে পারেনা বলে মনে হচ্ছে ।সুদুর অতীতের সেই কোরআনের ইরাম শহর , মিশরের পিরামিড ও মমির রহস্য  ,মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, ইলিয়ডের ট্রয় নগরী এগুলো যদি বিজ্ঞানীদের গবেষণাতে প্রমাণিত না হতো তাহলে এগুলো আমাদের কাছে গাজাখুরি হিসাবে চিরকাল থেকে যেতো । এটা বুঝতে হবে যা রটে তা কিছুটা বটে ।মাঝে কোথাও বলছিলাম সম্রাট অশোকের কথা ।ওনাকে নিয়ে কয়েকটি মিথ এর ভিতর শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে চলে আসা  একটি মিথ হল উনি ‘দি নাইন বা নয় নামে একটি গুপ্ত সংঘের প্রতিষ্ঠাতা। নয় জন মহাজ্ঞানী ব্যাক্তি যারা  বিজ্ঞানের নয়টি বিষয়ে মহাজ্ঞানী ছিলেন ।কিন্তু পার্থক্য ছিল ওনারা তাদের দীর্ঘকালের গবেষণালব্ধ সেই জ্ঞান গুলো সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করতেন না। অতি সন্তর্পণে সেই জ্ঞান গুলো গ্রন্থকারে অতি গোপনীয় যায়গায় লুকিয়ে রাখতেন। বলা হয় বর্তমান পৃথিবীর যত আধুনিক আবিষ্কার তার সুত্রের সুত্রপাত ওই নয়জন জ্ঞানী বাক্তিত্বের সংকলিত গ্রন্থের সামান্য কিছু অংশ মাত্র। ওই মিথ এর সুত্র ধরে আরো বলা হয় যে মহাভারত নামে আমরা হিন্দুদের বর্তমানে যে গ্রন্থ দেখি তাতে নাকি সুদুর অতীতে একটি পর্ব মানে বিমানা পর্ব নামে একটি পর্ব ইচ্ছাকৃত ভাবে মুনি ঋষি দের দ্বারা হোক আর সম্রাট অশোক এর দ্বারা হোক মানবজাতির কল্যাণে আলাদা করে রাখা ছিল। যদি বলি যে তখন যদি বিমানা পর্বের সুত্র থেকে যদি বিমান আবিষ্কার হতো তাহলে মানবজাতির ক্ষতিটা কি হতো । মানবজাতি অনেক আগেই উড়াল দেওয়া যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারতো । ফলে মানবজাতি অনেক অগ্রসর হতে পারত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু তখন কার মাস্টার মাইন্ড রা ভেবেছিলেন হয়তো যে এটা যদি আবিষ্কার হয় এবং সর্বসাধারণে এটা পেলে কি হতে পারে সেটার একটা ক্ষতিকর দিক বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে কয়েকটা উদাহরন দিয়ে বোঝায় ।

(২৫৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!