কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৯+২৬০

0Shares

ধরুন এখন যুগে যদি বিমান বা উড়ুক্কু কোন যন্ত্র বা ডিভাইস আমাদের সবার হাতে হাতে থাকতো তবে সেটার কি অপব্যবহার হতো একবার ভাবুন তো।উবার কিন্তু উড়ন্ত ট্যাক্সির ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে। ইচ্ছা মত মানুষ যে কোন দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলতো । সীমান্তরক্ষী বাহিনী গুলো কজন কে ঠেকাত তখন ? ইচ্ছা মত দুর্বৃত্ত টাইপের লোকেরা যার তার বাড়িতে ঢুকে পড়তো, বাড়ীর সীমানা প্রাচীর, নিরাপত্তা রক্ষী কোন কাজে আসতো না তখন। নির্বিঘ্নে দুর্বৃত্তরা সামরিক বেসামরিক সকল গুরুত্বপূর্ণ আস্তানা গুলো ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলতো । ব্যাপারটা বুঝতে অসুবিধা হলে আরো পরিস্কার করে দি ব্যাপারটা।মোবাইল আবিষ্কার নিঃসন্দেহে মানবজাতির যোগাযোগ ব্যবস্থাতে রাতারাতি শত শত মাইলের দূরত্ব কে দূরত্ব শূন্য করে দিয়েছে, হাজার মাইলের দূরত্ব আমাদের কাছে কিছুনা । হাজার মাইল ও আমাদের কাছের দুরত্বের ভিতর কোন পার্থক্য নেই ।আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বসেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যে কোন দেশে অবস্থানরত  প্রিয়জন এর সাথে কথা বলা এবং তাকে দেখা যাচ্ছে । স্কাইপি, ইমো , ফেসবুক মেসেন্জার দিয়ে ভিডিও কল করে আমরা যে প্রিয়জন দু বছর পর দেশে না এলে দেখতে পেতাম না তাকে যখন খুশি তখন দেখতে পাচ্ছি । কিন্তু এর অপব্যবহার গুলো কি আপনি জানেননা বা দেখছেন না । অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী বলে যে কথা প্রচলিত আছে  বা বাদরের গলাতে মুক্তোর মালা শোভা পায়না বলে যে কথা প্রচলিত আছে তার স্পষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব তো আমরা আমাদের চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি । মোবাইল এবং ভিডিও কল দিয়ে পরকিয়া, ধর্ষণের ভিডিও ধারন, গোসলের ভিডিও ধারন, টিনেজ মানে একেবারে ক্লাস সেভেন থেকে প্রেম, এডাল্ট সিনেমা নাটক, পর্ণোগ্রাফী সবই তো সহজলভ্যর  থেকে ও সহজলভ্য হয়ে গেছে মোবাইল এর মাধ্যমে।ফলে নীতি নৈতিকতার দিকটা এখনকার প্রজন্মের কাছে অনেকটা ঠুনকো হয়ে গেছে । এখন যদি সরকার এই  সব অনৈতিকতা রোধকল্পে  আঠারো বছরের নিচে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করে দেয় তবে আপনি আমি অনেকেই বলতে শুরু করবো প্রযুক্তির যুগে এটা সম্পূর্ণ অন্যায় ।        এটা আমাদের বাচ্চাদের কে উন্নত বিশ্বের স্টুডেন্ট দের  থেকে পিছিয়ে  দেবে । এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন সরকার কি আঠারো এর নিচে মোবাইল ব্যবহার যদি কখনো বন্ধ করে দেন তবে সেটা কি খারাপ হবে না ভাল হবে ?।

(২৫৯)

ঠিক সেই জন্যই বোধহয় তখনকার যুগে রাজা বা সম্রাট দের নিজস্ব জ্ঞানী লোক বা সভাসদেরা এই গুলো সাধারন জনতার জন্য উন্মুক্ত করতেননা। তলোয়ার বা পিস্তল বন্দুক এর বাবহারের বৈধতা বা সীমাবদ্ধতা যদি নির্দিষ্ট করা না থেকে সর্ব সাধারনের জন্য উন্মুক্ত থাকতো তবে কি হতো একবার ভাবুন তো।আবার যদি প্লাস্টিক সার্জারী সহজলভ্য হলে কি হতো একবার ভেবে দেখুন। তখন  ইচ্ছামত অপরাধীরা রুপ বদল করতে পারতো । একজন অসুন্দর লোক দেখা গেলো শুধুমাত্র টাকার জোরে একজন সুন্দর মানুষের রুপ ধারন করত ।নৈতিক শিক্ষাহীন মানুষের কাছে   প্রযুক্তি বা ক্ষমতা দিলে সে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পশুত্ত্বের পরিচয় দেয়। মিশরের মমি বিদ্যা বা মৃত্যুর পর মৃত দেহ সংরক্ষন কৌশল ও ছিল অসাধারন এক আবিষ্কার। যে কৌশল শুধু জানতো শুধু তৎকালীন ফারাও রাজা ও তাদের চিকিৎসকেরা। এটা আজো বিস্ময় বলা চলে। কারন আধুনিক যুগেও মিশরের পিরামিড এবং মমি দুটোই বিস্ময় ।তবে মমি ও পিরামিড এর পরবর্তীতে চীনা ও ইনকারা সহ অনেক জাতি তৈরি করেছে । এগুলোর তৈরি বিজ্ঞান ও ছিল ভিন্ন ।উদ্দেশ্য ও ছিল ভিন্ন । দুর মহাকাশ থেকে পিরামিডের ভিউটা কিন্তু বলে নির্দিষ্ট জ্যামিতিক গণিতের হিসাবের কথা , অনেকে বলেন এটা নিছক মানব স্থাপত্য নয় ।এটা একটা বর্তমান বিজ্ঞানের অনাবিষ্কত এনার্জি ধারণের প্যাটার্ণ , দুর মহাকাশের কোন অজানা গ্রহের অধিবাসী ও কিছু সংখ্যাক মানবের সিক্রেট প্রজেক্ট ছিল এই পিরামিড ।গবেষনা গুলো দিন দিন এই ধারনায় পরিষ্কার করছে ।  ১৯২২ সালে বৃটিশ প্রত্নতত্ববিদ হাওয়ার্ড কাটার এবং লর্ড কার্নারভন এর হাতে আবিষ্কার হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যাওয়া প্রাচীন মিশরের ফারাও তুতা খামেন এর মমি ।হিসাব করলে দেখা যায় মমিটি আবিস্কারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ওনার মৃত্ত্যু থেকে সময় হিসাব করলে দাড়ায় (১৩৪১-১৩২৩)খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ১৯২২ পর্যন্ত ৩২৫০ বছর সময়। এই ৩২৫০ বছর ওনার মৃতদেহ মমি অবস্থাতে ছিল। এত বছর পর যখন এই মমি উদ্ধার হলো তখনো কিন্তু এই মমি বা মৃতদেহ অক্ষত অবস্থাতে ছিল । যদিও জীবিত অবস্থার মানবদেহের যে অবস্থা থাকে বা সদ্য মৃত অবস্থাতে যে অবস্থাতে মানব

দেহ যে অবস্থাতে থাকে সে অবস্থাতে সম্পূর্ণ রুপে যদিও প্রায় ৩৩০০ বছর পর সেভাবে থাকেনি কিন্তু তারপরেও পচন রোধ করে অজ্ঞাত কোন রাসায়নিক বা দ্রব্য গুনে তারা বছরের পর বছর বললে ভুল হবে, হাজার হাজার

(২৬০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!