কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৬৩+২৬৪

0Shares

আর পিরামিড শুধু মিশরে ছিলোনা , চীনা সভ্যতাতে মিশরের পিরামিড এর আগে পিরামিড ছিলো ।অনেকে দাবি করেন বরফে ঢাকা এন্টার্কটিকাতেও ছিলো পিরামিড ও উন্নত মানব সভ্যতা।ইনকা সভ্যতাতেও পিরামিড ছিল ।আমাদের জানা ও ব্যবহৃত অনেক দ্রব্যের গতানুগুতিক ব্যবহারের বাইরে অনেক ব্যবহার আমাদের অজানা। হতে পারে তখন মিশরীয়রা বিজ্ঞানের এমন একটা পর্যায়ে পৌছেছিলো যে রসায়ন বিদ্যাতে তারা সিদ্ধহস্ত হয়ে গিয়েছিল ।অনেক দ্রব্যের ব্যাবহার সম্বন্ধে তারা সচেতন ছিল। আচ্ছা একটা কথা  ভেবে বিস্ময় লাগে যে প্রাচীন ভারতীয় এবং মিশরীয় সভ্যতাতে স্বর্ণের ব্যাবহার ছিল অবারিত পরিমাণে । তখন তো এতো স্বর্ণও ছিলোনা । স্বর্ণের খনিও ও ছিলোনা । তাহলে এতো স্বর্ণের যোগান কোত্থেকে আসতো ।তাহলে কি এই দুটি সভ্যতার রাজপুরুষেরা পরশ পাথরের আবিষ্কার করে ফেলেছিল। সেই পাথরের ছোঁয়াতে তারা এই সব মূল্যবান ধাতু যখন খুশি তৈরি করতো ।হতে পারে, অসম্ভব বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। অনেকদিন আগের একটা হেয়ালী মনে পড়লো এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে। হেয়ালী টা হলো এই যে, যৌবন রক্ষাকারী ঔষধ আবিষ্কার করতে গিয়ে মানুষ আবিষ্কার করেছে যৌন শক্তি বর্ধক ঔষধ , পরশ পাথর আবিষ্কার করতে গিয়ে আবিষ্কার করেছে রসায়ন শাস্ত্র। তার পর ধরুন হীরক বা হীরা সেটার ইতিহাস ও অনেক পুরাতন। ধরুন কোহিনূর নামক হীরাটি এটা হিন্দুরা বিশ্বাস করে এটা অর্জুন এর হাতে শোভা পেতো। মহাভারতের পঞ্চপান্ডব এর অন্যতম অর্জুনের হাতে এই আংটি শোভা পেত বলে শোনা যায়। আবার শোনা যায় রাজা কর্ণ গোদাবরী নদীর তীরে এটি পেয়েছিলেন, এগুলো হল হিন্দু মিথোলজির কথা। তবে নিকট অতীতে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় এটির অন্ধ্রপ্রদেশের কাকাতীয়া রাজবংশের(১১৬৩-১৩২৩)কাছে ছিল।সেখান থেকে হাত বদল হতে হতে ৭৫৬ ক্যারেটের হীরাটির ওজন বর্তমানে ১০৫ ক্যারেটে এসে ঠেকেছে। কাকাতীয়া রাজবংশের হাত থেকে হাত বদল হয়ে তুর্কী ,মোঘল,পারস্য ,আফগান সকল শাসকের হাত ঘুরে এটি বর্তমানে ব্রিটিশ দের কাছে রক্ষিত আছে ।

(২৬৩)

         এই হীরাটি নিয়ে প্রচলিত একটা মিথ আছে কি জানেন ? মিথ টা হল এই হীরাটি যাদের কাছেই ছিল , যার হাতে গিয়েছে বা যে এই হীরাটি ধারন করেছে তার বা সেই রাজবংশের পতন হয়েছে। সেটা কর্ণ থেকে তুর্কী ,মোঘল ,পারস্য ,আফগান, ব্রিটিশ সবার ক্ষেত্রে কাকতালীয় ভাবে একই মিল পাওয়া যায় ।যার হাতে এই কোহিনুর হিরা গেছে তারই পতন হয়েছে কোন না কোন সময়। এই অভিশাপের আপনি কি ব্যাখ্যা দেবেন । আসলে এই অভিশাপ কি করে ফলে, যদি ধরি ফারাও দের মমি যেই উদ্ধার করতে গিয়েছে তারাই প্রথমত কোন না কোন অভিশাপ এ পতিত হয়েছে । হতে পারে এটা ফারাউ দের আবিষ্কৃত কোন অজানা মৌলের বা পদার্থের অপগুন বা মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ।আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ নানা রকম দুরারোগ্য রোগ বিশেষ করে ক্যান্সার , টিউমার, পঙ্গু সন্তান জন্মগ্রহন, মস্তিস্ক বিকৃতি  সহ অজানা অনেক রোগের জন্য দায়ী ।হতে পারে এরকম কোন অজানা তেজস্কর পদার্থের সন্ধান তারা সেকালে পেয়েছিলো আর সেগুলো তাদের মমি করা চেম্বার এ রেখেছিল । ফলে যদি কেউ কখনো তাদের ওই চেম্বার গুলোর সন্ধান পায় তবে সে নিজের অজান্তে ওই সব ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং বিষ এর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্মুখীন হবে ।ফলে তাদের করা ভবিষ্যৎ বানী ফলে গেল, ফলশ্রুতিতে মানুষের তাদের প্রতি ভীতি বাড়লো, মানুষ মনে করলো ফারাউরা অলৌকিক শক্তির অধিকারী।আসলে অলৌকিক, ভৌতিক বা কালো জাদু বা সাদা জাদু বলে কোন কথা হয়না, সবকিছুর পিছনে থাকে বৈজ্ঞানিক বা গানিতিক সুত্রের খেলা ।সবটাই বিজ্ঞান, জানা অথবা অজানা। আমরা বিজ্ঞানের যে অংশটুকু জানি, যেটুকু ব্যবহার করতে পারি, যে টুকুর ব্যবহার সার্বজনীন বা সবার হাতে হাতে আছে সেটুকু আমরা বিজ্ঞান বলি। আর বিজ্ঞানের যে অংশটুকু  আমরা জানিনা, যে টুকুর ব্যবহার সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ , যে টুকুর ব্যবহার সার্বজনীন নয় তাকে যাদু বলি , আর সেই বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান যদি কারো কাছে থাকে তবে আমরা তাকে মহা শক্তিশালী, অলৌকিক গুনধর বলে মনে করি , কামরুপ-কামাখ্যা সিদ্ধ তান্ত্রিক বলে মনে করি ।

(২৬৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!