কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৬৭+২৬৮

0Shares

আর আমাদের তৃতীয় নয়নের নমুনাটা আমরা কিছুটা পাই যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি। ঘুমের সময় আমরা চোখ বুজে ঘুমাই। চোখ বুজে ঘুমালে আমাদের চর্ম চক্ষু দুটো বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও আমরা কি কিছু তখন দেখিনা । দেখি অবশ্যই তবে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে নয়, কেমন যেন ইতস্তত, খাপছাড়া বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু দেখি ।ঘুমালে আমার দেহটা পড়ে থাকে বিছানাতে, কিন্তু আমি বা আপনি কোথায় যেন চলে যাই। ঘুমের ভিতর আমার আর মনে থাকেনা কে আমি, থাকেনা আমার সেই বাধাধরা গণ্ডি । আমি তখন মুক্ত  ও স্বাধীন, আমি তখন কখনও হয়ে যাই উড়বার ক্ষমতা সম্পন্ন এক মানুষ। কখনো দেখি আমি অচেনা কোন স্বজন দের ভিতর মহা আদর যত্ন পরিবেষ্টিত হয়ে আছি, পরম যত্নে তারা খাওয়াচ্ছে, কখনো বাল্যকালের ৩০ বৎসর আগে ফেলে আসা কোন স্কুলের বাল্যবন্ধু এসে হাজির হল সপ্নে, কিরে সোহেল কেমন আছিস, বা দেখছি হুবহু সেই দিন এ ফিরে গেছি , ভুলেই গেছি ৩০ বৎসর আগে সেই স্কুল ফেলে এসেছি, কখনো সপ্নে দেখি কেও আমাকে তাড়া করছে, অতঃপর মেরে ফেলছে, কখনো অপরিচিত কোন নারীর সাথে সপ্নে ভ্রমন করছি, কথা হচ্ছ , সিনেমার থেকে বর্ণিল কোন রোম্যান্টিক দৃশ্যের অবতারনা হচ্ছে।  এগুলো কি শুধুই সপ্ন নাকি এটাও সেই তৃতীয় নয়নের খেলা ।যখন ঘুমিয়ে পড়ি তখন আমদের দু চোখ ঘুমিয়ে যায়। জেগে ওঠে আমাদের তৃতীয় নয়ন। কিন্তু আমরা যেহেতু সাধক নই ,সেহেতু আমাদের তৃতীয় নয়ন নিয়ন্ত্রণ এ থাকেনা। নিওন্ত্রনহীন ভাবে ঘোড়া ফেরা করে। স্থান, সময়, কাল কোনটার সীমারেখাতে সে বাঁধা থাকেনা। সুফি-দরবেশ,মুনিঋষিদের থেকে আমাদের পার্থক্য এখানে। অধিকাংশ আধ্যাত্মিক মানুষদের জীবনী পড়লে আপ্নারা দেখবেন ওনারা নির্জনে ধ্যানমগ্নই থাকতেন সবসময়।এবং ওনারা নানা রকম অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীও ছিলেন।তাদের সময় থেকে ৫০০ বছর পরের ভবিষ্যদ্বাণী  তারা করে গেছেন, যার অনেক কিছুই পরবর্তীতে ফলে গিয়েছে বা সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে। ওনাদের থেকে আমাদের পার্থক্য হল

(২৬৭)

         আমরা যখন চোখ বুজি বা ঘুমাই তখন আমাদের মন বা মস্তিষ্ক ও ঘুমিয়ে পড়ে ফলে আমরা যা দেখি সেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকেনা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্মরণ ও থাকেনা ঘুম থেকে ওঠার পর। কিন্তু ওনারা যখন চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন হতেন তখন হুশ হারান না। চোখ বন্ধ থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কিন্তু জাগ্রত অবস্থাতে অন্ধকার দেখেন তারা, আর আমরা চোখ বন্ধ করলে ঘুমিয়ে যায়। যা দেখি তা ঘুমিয়ে দেখি, আর ওনারা চোখ বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে থাকেন, সচেতন মনে সব দেখেন, বন্ধ চোখে অন্ধকার জগতের সব দেখেন, সজ্ঞানে, সচেতন অবস্থাতে । চোখ বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে এক নিবিষ্টে দৃশ্যমান জগতের সব কিছু ভুলে মস্তিষ্ক সচেতন রেখে যাওয়ার নামই মেডিটেশন বা ধ্যান ।এর ফলে অজানা কোন কিছু দেখা বা পাওয়া বোধ করি যেতে পারে। হয়তোবা মহা রহস্যময় মানব শরীরের কোন অজানা ক্ষমতা এর মাধ্যমে জাগ্রত হয়ে যায় । থার্ড আই রেডিয়েশন এর পাওয়ার বোধ হয় এভাবে পায়। ইতিহাস বা ধর্মগ্রন্থগুলোর মহামানবেরা সবাই কিন্তু এই ধ্যান দিনের পর দিন করতেন, কেন এটা তারা করতেন, এর মাধ্যমে যদি কোন কিছু না মেলে, তবে কি শুধু রিলাক্সিং বা টেনশন মুক্ত থাকতে এটা করতেন তারা ? তবে অবশ্যই তারা ধ্যান করতেন দীর্ঘদিনের ধৈর্য্য, একাগ্রতা, ও অভ্যাসের মাধ্যমে, কোন সাইকোডেলিক ড্রাগ দিয়ে নয় । সাইকোডেলিক ড্রাগ ভ্রম তৈরি করতে পারে, মেডিটেশনের অভ্যাস ও ক্ষমতা অর্জন করাতে পারেনা ।মানসিক ভ্রম এক জিনিস আর মেডিটেশন সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেক জিনিস । আসলে কি আমরা দিন কে দিন কর্মব্যস্ত হতে হতে আমাদের নিজের ভিতর লুক্কায়িত মানবক্ষমতার বা রহস্যের বিরাট একটা কিছু মিস করছি না তো ? ত্রাটক , ব্ল্যাক ম্যাজিক , ভুডুইজম , জম্বি , তন্ত্র মন্ত্র সত্যিই কি আছে বা ছিল কি এগুলোর অস্তিত্ব কখনো ?আসুন বেশ ক বছর আগে মানে  ১৪ থেকে ১৫ বছর আগের কথা , একটি গল্প পড়েছিলাম , গল্প নয় বলা চলে সত্য কাহিনি , আফ্রিকার  কোন এক দেশের কাহিনী ছিল এটা ।

(২৬৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!